অক্টো. 282013
 

উবায়দুল্লাহ ইবন মুসা (রহঃ)বারা’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিলকাদ মাসে নাবী (সাঃ) উমরার উদ্দেশ্যে বের হলেন। কিন্তু মক্কাবাসীরা তাঁকে মক্কা প্রবেশের জন্য ছেড়ে দিতে অস্বীকার করল। অবশেষে এই শর্তে তাদেও সাথে ফয়সালা করলেন যে, তিন দিন সেখাসে অবস্থান করবেন। সন্ধিপত্র লিখতে গিয়ে মুসলিমরা লিখলেন, এসন্ধিপত্র সম্পাদন করেছেন, ‘আল্লাহর রাসূল (সাঃ) মুহাম্মদ। ’ তারা (মুশরিকরা) বলল, ‘আমরা তাঁর রিসালাত (নামায) স্বীকার করি না। আমরা যদি এ কথাইমনে করতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাহলে আপনাকে বাধা দিতাম না। তবে আপনি হলেন, আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ। ’ তিনি বললেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এবং আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ। ’ তারপর তিনি আলীকে বললেন, রাসূল (সাঃ) লাহ শব্দটি মুছে দাও। তিনি বললেন, না। আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে (রাসূল (সাঃ) শবাদটি) কখনো শুছবো না। ’ আসূলুল্লাহ তখন চুক্তিপত্রটি নিলেন এবং লিখলেন, ‘এ সন্ধিপত্র মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ সম্পন্ন করেন-খাপবদ্ধ অস্ত্র ছাড়া আর কিছু নিয়ে তিনি মক্কায় প্রবেশ করবেন না। মক্কাবাসীদের কেউ তাঁর সঙ্গে যেতে চাইলে তিনি বের করে দিবেন না। আর তাঁর সঙ্গীদের কেউ মক্কায় থাকতে চাইলে তাকে নবাধা দিবেন না। ’ (সন্ধির শর্ত মুতাবেক) তিনি যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন তারা এসে আলীকে বলল, ‘তোমার সঙ্গীকে আমাদের এখান থেকে বের হতে বল। কেননা নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। ’ নাবী (সাঃ) রওয়ানা হলেন। তখন হামযার মেয়ে হে চাচা, হে চাচা, বলে তাদের পেচনে পেছনে চলল। আলী (রাঃ) তাকে হাত ধরে নিয়ে এলেন এবং ফাতিমাকে বললেন, ‘এই নাও তোমার চাচার মেয়েকে। আমি ওকে তুলে এনেছি। ’ আলী, যায়দ ও জা‘ফর তাকে নেওয়ার ব্যাপারে বিতর্কে প্রবৃত্ত হলেন। আলী (রাঃ) বললেন, ‘আমি তার বেশী হকদার। কারণ সে আমার চাচার মেয়ে। জাফর (রাঃ) বললেন, সে আমার চাচার মেয়ে এবং তার খালা অমার স্ত্রী। ’ যায়দ (রাঃ) বললেন, ‘সোমার ভাইয়ের মেয়ে। ’ এরপর নাবী (সাঃ) খালার অনুকূলে ফয়সালা দিলেন এবয় বললেন, ‘খালা মায়ের স্থলবর্তিনী। ’ আর আলীকে বললেন, ‘আমি তোমার এবং তুমি আমার। ’ জাফরকে বললেন, ‘তুমি আকৃতি ও প্রকৃতিতে আমার সদৃশ। আর যায়দকে বললেন, ‘তুমি তো আমাদের ভাই ও আযাদকৃত গোলাম। ’ (এ বিষয়ে আবূ সুফইয়ান (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আওফ ইবন মালিক (রাঃ) নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তোমাদের ও পীতবর্ণীদের (রোমকদের) সাথে সন্ধি হবে। এ বিষয়ে সাহল ইবন হুনায়ফ, আসমা ও মিসওয়ার (রাঃ) কর্তৃক নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। মূসা ইবন মাসউদ (রাঃ) বারা’ ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) হুদায়বিয়ার দিন মুশুরু কদের সাথে তিনটি বিষয়ে সন্ধি করেছিলেন। তা হল মুশরিকরা কেউ (মুসলিম হয়ে) তাঁর কাছে এলে তিনি তাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিবেন। মুসলিদের কেউ (মুরতাদ হয়ে) তাদের কাছে গেলে তিনি তাকে ফিরিয়ে দিবে না। আর তিনি আগামী বছর মক্কায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে তিনি তিন দিন অবস্থান করবেন। কোষবদ্ধ অস্ত্র, তরবারী ও ধনুক ছাড়া অন্যুকিছু নিয়ে প্রবেশ করবেন না। ইত্যবসরে আবূ জানো্দাল (রাঃ) শৃংখলিত অবস্থায় লাফিয়ে লাফিয়ে তাঁর কাছে এল। তাকে তিনি তাদের কাছে ফিরিয়ে দিলেন। আবূ আব্দুল্লাহ {ইমাম বুখারী (রহঃ)} বলেন, মুআম্মাল (রহঃ) সুফইয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আবূ জানো্দালের কথা উল্লেখ করেন নি। তিনি ‘‘কেবল কোষবদ্ধ তরবারী সহ’’ এটুকু উল্লেখ করেছেন। )

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সন্ধি হাদিস নাম্বারঃ ২৫১৯

 Leave a Reply

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

(বাধ্যতামূলক)

(বাধ্যতামূলক)

আপনি যে মানুষ তা পরীক্ষা করে নিন। *