নভে. 102013
 

মূসা জাদ (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে (গভর্নর করে) পাঠালেন এবং তার পশ্চাতে মু’আয (রাঃ) কেও পাঠালেন। অন্য সনদে পরবর্তী অংশ আব্দুল্লাহ ইবন সাব্বাহ (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত ষে, এক ব্যাক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পর পূনরায় পূর্ব ধর্ম অবলম্বন করে। তার কাছে মু’আয ইবন যাবাল (রাঃ) এলেন। তখন সে লোকটি আবূ মূসা (রাঃ) এর কাছে ছিল। তিনি মু’আয (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, এর কি হয়েছে? তিনি বললেনঃ ইসলাম গ্রহণ করেছিল। অতঃপর ইহুদী হয়ে গেছে। মু’আয (রাঃ) বললেনঃ একে হত্যা না করে আমি বসব না। আল্লাহ ও তার রাসুলের বিধান (এটাই)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৭১

অক্টো. 212013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃ) কোন কিছু বন্টন করছিলেন। ঘটনাক্রমে আব্দুল্লাহ ইবন যুল খুওয়ায়সিরা তামীমী এল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসুল! ইনসাফ করুন। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য। আমি যদি ইনসাফ না করি তা হলে আর কে ইনসাফ করবে? উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বললেনঃ আমাকে অনুমতি দিন। তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। তার জন্য সাথীবৃন্দ রয়েছে। যাদের সালাত (নামায)-এর তূলনায় তোমরা তোমাদের সালাত (নামায)কে তুচ্ছ মনে করবে। যাদের সিয়ামের তূলনায় তোমরা তোমাদের সিয়ামকে তাহ মনে করবে। তারা দ্বীন থেকে এরুপ বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তীরের পরে লক্ষ্য করলে তাতে কিছু পাওয়া যায় না। তীরের মুখেঁর বেষ্টনীর প্রতি লক্ষ্য করলেও কিছু পাওয়া যায় না তীরের কাঠের অংশের দিকে তাকালেও তাতে কিছু পাওয়া যায় না। বরং তীর তীব্র গতিতে বেরিয়ে যাওয়ার কালে তাতে মল ও রক্তের দাগ পর্যন্ত লাগে না। তাদের পরিচয় এই যে তাদের একটি লোকের একটি হাত অথবা বলেছেন- একটি স্তন্য হবে মহিলাদের স্তনের ন্যায়। অথবা বলেছেনঃ, বাড়তি গোশতের টুকরার ন্যয়। লোকদের মধ্যে বিরোধের সময় তাদের আবির্ভাব হবে। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তা নাবী (সাঃ) থেকে শুনেছি। এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী (রাঃ) তাদেরকে হত্যা করেছিলেন। আমি তখন তাঁর সাথে ছিলাম। তখন নাবী (সাঃ) প্রদত্ত বর্ণনার অনুরুপ ব্যাক্তিকে আনা হয়েছিল। তিনি বলেনঃ ওর সম্পর্কেই নাযিল হয়েছেঃ ওদের মধ্যে এমন লোক আছে যে সাদকা সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে (৯- ৫৮)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৬৪

অক্টো. 202013
 

ইয়াহইয়া ইবন সুলায়মান (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হারুবিয়্যা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ তারা ইসলাম থেকে এরুপ বের হয়ে যাবে যেমন তীর শিকার থেকে বের হয়ে যায়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৬৩

অক্টো. 202013
 

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) আবূ সালামা ও আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তারা আবূ সা ঈদ খূদরী (রাঃ)-এর কাছে এলেন। তারা তাঁকে হারুরিয়্যা সম্প্রদায় সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন যে, আপনি কি নাবী (সাঃ) থেকে এদের সম্পর্কে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হারুবিয়্যা কি তা আমি জানিনা। তবে নাবী (সাঃ) কে বলতে শুনেছি। উম্মাতের মধ্যে বের হবে। তার থেকে সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে কথাটি বলেননি। যাদের সালাত (নামায)-এর তূলনায় তোমরা তোমাদের সালাত (নামায)কে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পড়বে বটে কিন্তু তা তাদের গলদেশ অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়। তীর নিক্ষেপকারী তীরের প্রতি, তার অগ্রভাগের প্রতি, তীরের মুখে বেষ্টনীর প্রতি লক্ষ্য করে! তীরের ছিলার বেলায়ও সন্দেহ হয় যে তাতে কিছু রক্ত লেগে রইল কি না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৬২

অক্টো. 202013
 

উমর ইবন হাফস ইবন গিয়াস (রহঃ) সুয়ায়দ ইবন গাফালা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) বলেছেনঃ আমি যখন তোমাদেরকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর কোন হাদীস বর্ণনা করি আল্লাহর কসম! তখন তার উপর মিথ্যা কথা আরোপ করার চেয়ে আকাশ থেকে নিচে পড়ে যাওয়াটা আমার কাছে শ্রেয়। কিন্তু আমি যদি আমার ও তোমাদের মধ্যকার বিষয় সম্পর্কে কিছু বলি, তাহলে মনে রাখতে হবে যে, যুদ্ধ একটি কৌশল। আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি, শেষ যুগে এমন এক সরদায়ের আবির্ভাব হবে যারা হবে অল্পবয়ষ্ক যুবক, নির্বোধ। তারা সৃষ্টির সবচাইতে শ্রেষ্টতম কথা থেকে আবৃতি করবে। অথচ ঈমান তাদের গলদেশ অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়। তাদেরকে যেখানেই তোমরা পাবে হত্যা করবে। কেননা তাদেরকে হত্যা করলে হত্যাকারীর জন্য কিয়ামত দিবসে প্রতিদান রয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৬১

অক্টো. 202013
 

মুহাম্মাদ ইরন মুকাতিল আবূল হাসান (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ইহুদী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করল। আর বলল, আসসামু আলাইকা। তদুত্তরে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ ওয়া আলাইকা। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদের বললেনঃ তোমরা কি বুঝতে পেরেছ সে কি বলেছে? সে বলেছে, আসসামু আলাইকা- (তোমার মৃত্যু হোক)। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি তাকে হত্যা করব না? তিনি বললেনঃ না। বরং যখন কোন আহলে কিতাব তোমাদেরকে সালাম বলবে তখন তোমরা বলবে, ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরও)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৫৭

অক্টো. 202013
 

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (রহঃ) আবূ হুরায়বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন নাবী (সাঃ) -এর ওফাত হল এবং আবূ বকর (রাঃ) খলীফা নিযুক্ত হলেন আর আরবের যারা কাফির হল, তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আবূ বকর! আপনি কিভাবে লোকদের সাথে যুদ্ধ করবেন? অথচ নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ আমাকে ততক্ষন পর্যন্ত লোকদের সাথে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যতক্ষন না তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই) বলবে। আর যে কেউ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে যথার্থ কারণ না থাকলে সে তার জানো-মাল আমার হাত থেকে রক্ষা করে নেয়। আর তার হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! যারা সালাত (নামায) ও যাকাতের মধ্যে প্রভেদ করবেঁ তাদের সাথে অবশ্যই আমি যুদ্ধ করব। কেননা যাকাত হল মালের হক। আল্লাহর কসম! যদি তারা একটি বকরির বাচ্চাও না দেয় তা তারা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর কাছে দিত। তাহলে তা না দেওয়ার কারণে তাদের সাথে যুদ্ধ করব। উমর (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম! আমি বুঝতে পারলাম যে, এটা আর কিছু নয় এবং আল্লাহ আবূ বকর (রাঃ)-এর বক্ষ যুদ্ধের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। পরে আমি বুঝতে পারলাম যে, এটিই হক। আবূ বকর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্ত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৫৬

অক্টো. 202013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃ) – এর কাছে এলাম। আমার সাথে আশআরী গোত্রের দু’ব্যাক্তি ছিল। একজন আমার ডান দিকে, অপরজন আমার বাম দিকে। আর রাসূল (সাঃ) তখন মিসওয়াক করছিলেন। উভয়েই তাঁর কাছে আবদার জানাল। তখন তিনি বললেনঃ হে আবূ মূসা! অথবা বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন কায়স! রাবী বলেন, আমি বললাম, ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন তারা তাদের অন্তরে কি আছে তা আমাকে জানায়নি এবং তারা যে চাকরি প্রার্থনা করবে তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি যেন তখন তাঁর ঠোটের নিচে মিসওয়াকের প্রতি লক্ষ্য করছিলাম যে তা এক কোণে সরে গেছে। তখন তিনি বললেন, আমরা আমাদের কাজে এমন কাউকে নিয়োগ দিব না বা দেই না যে নিজেই তা চায়। বরং হে আবূ মূসা! অথবা বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন কায়স! তুমি ইয়ামনে যাও। এরপর তিনি তার পেছনে মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ) কে পাঠালেন। যখন তিনি তথায় পৌছলেন, তখন আবূ মূসা (রাঃ) তার জন্য একটি গদি বিছালেন। আর বললেন, নেমে আসুন। ঘটনাক্রমে তার কাছে একজন লোক শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ লোকটি কে? আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, সে প্রথমে ইহুদী ছিল এবং মুসলমান হয়েছিল। কিন্তু পুনরায় সে ইহুদী হয়ে গিয়েছে। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, বসুন। মু’আয (রাঃ) বললেন, না, বসব না, যতক্ষণ না তাকে হত্যা করা হবে। এটাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) -এর ফায়সালা। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর তার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হল এবং তাকে হত্যা করা হল। তারপর তাঁরা উভয়ই কিয়ামুল লায়ল (রাত জাগরণ) সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তখন একজন বললেন, আমি কিন্তু ইবাদতও করি, নিদ্রাও যাই। আর নিদ্রাবস্থায় ঐ আশা রাখি যা ইবাদত অবস্থায় রাখি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৫৫

অক্টো. 202013
 

আবূ নু’মান মুহাম্মদ ইবন ফাযল (রহঃ) ইকরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ)- এর নিকট একদল যিন্দীককে (নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহী) আনা হল। তিনি তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। এ ঘটনা ইবন আব্বাস (রাঃ)- এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, আমি হলে কিন্তু তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলতাম না। কেননা, রাসূল (সাঃ) – এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর শাস্তি দ্বারা শাস্তি দিও না। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। কেননা, রাসূল (সাঃ) – এর নির্দেশ রয়েছে, যে কেউ তার দ্বীন বদলে ফেলে তাকে তোমরা হত্যা কর।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৫৪

অক্টো. 202013
 

খাল্লাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যাক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি জাহিলী যুগের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও হবো? তিনি বললেনঃ যে ব্যাক্তি ইসলামী যুগে সৎ কাজ করবে সে জাহিলী যুগের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও হবে না। আর যে ব্যাক্তি ইসলাম গ্রহনের পর অসৎ কাজ করবে, সে প্রথম ও পরবর্তী (ইসলাম গ্রহণের আগের ও পরের উভয় সময়ের কৃতকর্যের জন্য) পাকড়াও হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৫৩