নভে. 212013
 

‘উসমান ইবনু হায়সাম (রাঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে যুল-মাজায ও ‘উকায লোকদের ব্যবসা কেন্দ্র ছিল। ইসলাম আসার পর মুসলিমগণ যেন তা অপছন্দ করতে লাগল, অবশেষে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করাতে তোমাদের কোন পাপ নেই হাজ্জের (হজ্জ) মৌসুমে’ (২:১৯৮)।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৫৬

নভে. 162013
 

মুহাম্মদ ইবনু সিনান(রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারে দাঁড়ালেন এবং বললেন, আমি আমার পর তোমাদের জন্য ভয় করি এ ব্যাপারে যে, তোমাদের জন্য দুনিয়ার কল্যাণের(মঙ্গলের) দরজা খুলে দেয়া হবে। তারপর তিনি দুনিয়ার নিয়ামতের উল্লেখ করেন। এতে তিনি প্রথমে একটির কথা বলেন, পড়ে দ্বিতীয়টির বর্ণনা করেন। এক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! কল্যাণও কি অকল্যাণ বয়ে আনবে? ’ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরব রইলেন, আমরা বললাম, তাঁর উপর ওহী নাযিল হচ্ছে। সমস্ত লোকও এমনভাবে নীরবতা অবলম্বন করল, যেন তাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তারপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুখের ঘাম মুছে বললেন, এখনকার সেই প্রশ্নকারী কোথায়? তাঁকে কল্যাণকর? তিনি তিনবার এ কথাটি বললেন। কল্যাণ কল্যাণই বয়ে আনে। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, বসন্তকালীন উদ্ভিদ(পশুকে) ধংস অথবা ধ্বংসোন্মুখ করে ফেলে। কিন্তু যে পশু সেই ঘার এই পরিমাণ খায় জাতে তাঁর ক্ষুধা মিটে, তারপর রদ পোহায় এবং মলমুত্র ত্যাগ করে, এরপর আবার ঘাস খায়। নিশ্চয়ই এ মাল সবুজ শ্যামল সুশাদু। সেই মুসলিমের সম্পদই উত্তম যে ন্যায়ত তা উপারজন করেছে এবং আল্লাহর পথে, ইয়াতিম ও মিসকীন ও মূসা ফিরের জন্য খরচ করেছে। আর যে ব্যাক্তি অন্যায় ভাবে অরজন করে তাঁর দৃষ্টান্ত এমন ভক্ষণকারীর ন্যায় যার ক্ষুধা মিটে না এবং তা কিয়ামতের দিন তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৬৪৫

নভে. 152013
 

‘উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি রশি নিয়ে সকাল বেলা বের হয়, (রাবী বলেন) আমার ধারনা যে, তিনি বলেছেন, পাহাড়ের দিকে তারপর লাকড়ী সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে এবং দানও করে তা তার পক্ষে লোকের কাছে যাঞ্ছা করার চাইতে উত্তম।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৩৯৪

নভে. 152013
 

মূসা (রহঃ), যুবাইর ইবনু ‘আওয়াম (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ রশি নিয়ে তার পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে আনা এবং তা বিক্রি করা, ফলে আল্লাহ তার চেহারাকে (যাঞ্ছা করার অপমান থেকে) রক্ষা করেন। তা মানুষের কাছে সাওয়াল করার চাইতে উত্তম, চাই তারা দিক বা না দিক।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৩৮৬

নভে. 152013
 

‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যার হাতে আমার জীবন, সেই সত্তার কসম! তোমাদের মধ্যে কারো রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে পিঠে করে বয়ে আনা, কোন লোকের কাছে এসে যাঞ্ছা করার চাইতে অনেক ভাল, চাই সে দিক বা না দিক।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৩৮৫

নভে. 142013
 

হযরত হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) হযরত আউন ইবনু আবূ জুহায়ফা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি আমার পিতাকে দেখেছি যে, তিনি একটি শিঙ্গা লাগানেওয়ালা গোলাম কিনলেন। তিনি তার শিঙ্গা লাগানোর যন্ত্র ভেঙ্গে ফেলতে নির্দেশ দিলে তা ভেঙ্গে ফেলা হল। আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য, দাসীর (ব্যভিচারের মাধ্যমে) উপার্জন করা থেকে নিষেধ করেছেন। আর তিনি শরীরে উল্কি অংকনকারী ও উল্কি গ্রহনকারী, সুদখোর ও সুদ-দাতার উপর এবং (জীবের) ছবি অংকনকারীর উপর লানত করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ২০৯৬

নভে. 142013
 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গনকের পারিতোষিক (গ্রহন করা) থেকে নিষেধ করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ২০৯৫

নভে. 142013
 

হযরত বিশর ইবনু মারহুম (রহঃ) হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা ঘোষনা করেছেন যে, কিয়ামতের দিবসে আমি নিজে তিন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো। এক ব্যাক্তি, যে আমার নামে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে। আরেক ব্যাক্তি, যে কোন আযাদ মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করল। আর এক ব্যাক্তি, যে কোন মজুর নিয়োগ করে তার থেকে পুরো কাজ আদায় করে এবং তার পারিশ্রমিক দেয়না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ২০৮৬

নভে. 142013
 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) হযরত সাঈদ ইবনু আবূল হাসান (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময়ে তাঁর কাছে এক ব্যাক্তি এসে বলল, হে আবূ আব্বাস, আমি এমন ব্যাক্তি যে, আমার জীবিকা হস্তশিল্পে। আমি এ সব ছবি তৈরি করি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে বলেন, (এ বিষয়ে) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমি যা বলতে শুনেছি, তাই তোমাকে শোনাব। তাঁকে আমি বলতে শুনেছি, যে ব্যাক্তি কোন ছবি তৈরি করে মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাকে শাস্তি দিবেন, যতক্ষন না সে তাতে প্রান সঞ্চার করে। আর সে তাতে কখনো প্রান সঞ্চার করতে পারবেনা। (একথা শুনে) লোকটি ভীষনভাবে ভয় পেয়ে গেল এবং তার চেহেরা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। এতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, আক্ষেপ তোমার জন্য, তুমি যদি এ কাজ না-ই ছাড়তে পার, তবে এ গাছ-পেলা এবং যে সকল জিনিসে প্রান নেই, তা তৈরী করতে পার। আবূ আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, সাঈদ (রাঃ) বলেছেন, আমি নযর ইবনু আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) হাদীস বর্ননা করার সময় আমি তার কাছে ছিলাম। ইমাম বুখারী (রহঃ) আরো বলেন, সাঈদ ইবনু আবূ আরুবাহ (রহঃ) একমাত্র এ হাদীসটি নযর ইবনু আনাস (রহঃ) থেকে শুনেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ২০৮৪

নভে. 132013
 

হযরত মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) হযরত খাব্বাব (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, জাহিলিয়্যাতের যুগে আমি কর্মকারের পেশায় ছিলাম। ‘আস ইবনু ওয়াইলের কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল, আমি তার কাছে তাগাদা করতে গেলে সে বলল, যতক্ষন তুমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে অস্বীকার না করবে ততক্ষন আমি তোমাকে তোমার পাওনা দিবনা। আমি বললাম, মহান আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে মৃত্যু দিয়ে তারপর তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আমি তাঁকে [রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে] অস্বীকার করবোনা। সে বলল, আমি মরে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে অব্যাহতি দাও। শীগগীরই আমাকে সম্পদ ও সন্তান দেওয়া হবে, তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব। এ প্রসঙ্গে এই আয়াত নাযিল হল: তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখান করে এবং বলে আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততী দেওয়া হবেই (১৯:৭৭)।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯৬১