নভে. 162013
 

আবূল ইয়ামান ও ইসমাঈল(রহঃ) যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কুরআনের আয়াতসমূহ একত্রিত কতে একটি মুসহাফে লিপিবদ্ধ করলাম, তখন সুরা আসহাবের একটি আয়াত পেলাম না। যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে পড়তে শুনেছি। একমাত্র খুযাইমা আনসারী (রাঃ)-এর কাছে পেলাম। যার সাক্ষ্যকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’ব্যাক্তির সাক্ষ্যের সমান সাব্যস্ত করেছিলেন। সে আয়াতটি হলঃ মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত তাদের ওয়াদা পুরন করেছেন। (৩৩:২৩)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৬১২

নভে. 102013
 

আবূ সাবিত মুহাম্মাদ ইবন উবায়দুল্লাহ (রহঃ) যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন যে, আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট লোক পাঠালেন, ইয়ামামার যুদ্ধে শাহাদত বরণকারীদের করেণে তখন তার কাছে উমর (রাঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ উমর (রাঃ) আমার কাছে এসে বলেছেনঃ যে, কুরআনের বহু সংখ্যক হাফিয ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। এজন্য আমার ভয় হচ্ছে যে, আরো অনেক স্থানে যদি কুরআনের হাফিযগণ এরুপ ব্যাপক হারে শহীদ হন তাহলে কুরআনের বহু অংশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সুতরাং আমি মনে করি যে, আপনি কুরআন সংকলনের নির্দেশ দিন। আমি বললাম, কি করে আমি এমন কাজ করব যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেননি। উমর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! এটা একটা ভাল কাজ। উমর (রাঃ) আমাকে এ ব্যাপারে বারবার বলছিলেন। এক পর্যায়ে আল্লাহ তা’আলা এ বিষয়ে আমার অন্তরে প্রশান্তি দান করলেন। যে বিষয়ে তিনি উমর (রাঃ)-এর অন্তরেও প্রশান্তি দান করেছিলেন এবং আমিও এ বিষয়ে একমত পোযণ করলাম যা উমর (রাঃ) মত পোষন করেছিলেন। যায়িদ (রাঃ) বলেন যে, এরপর আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ তুমি একজন বুদ্ধিদীপ্ত যুবক, তোমার ব্যাপারে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তাছাড়া তুমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওহী লিপিবদ্ধ করতে। সুতরাং কুরআনকে তুমি অনুসন্ধান কর এবং তা একত্রিত কর। যায়িদ (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! কুরআন সংগ্রহ করে একত্রিত করার আদেশ না দিয়ে যদি আমাকে একটি পাহাড়কে সরিয়ে নেওয়ার গুরু ভার অর্পণ করতো, তাও আমার জন্য ভারী মনে হত না। আমি বললাম, কি করে আপনারা এমন একটি কাজ করবেন যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেননি। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! এটি একটি ভাল কাজ। আমার পক্ষ থেকে এ কথা বারবার উন্থাপিত হতে থাকল। এক পর্যায়ে আল্লাহ তা-আলা আমার অন্তরে প্রশান্তি দান করলেন, যে বিষয়ে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর অন্তরে প্রশান্তি দান করেছিলেন। এবং তারা যা ভাল মনে করলেন আমিও তা ভাল মনে করলাম। সুতরাং আমি কুরআন অনুসন্ধান করতে শুরু করলাম। খেজুরের ডাল, পাতলা চামড়ার টুকরা, শ্বেত পাথর ও মানুষের অন্তঃকরণ থেকে আমি কুরআনকে একত্রিত করলাম। সুরা তাওবার শেষ অংশ “ তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে এক রাসুল এসেছেন (৯-১২৮) থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত এই অংশটুকু খুযায়মা কিংবা আবূ খুযায়মার কাছে পেলাম। আমি তা সূরার সাথে সংযোজন করলাম। কুরআনের এই সংকলিত সহীফাগুলো আবূ বকরের জীবনকাল পর্যন্ত তাঁর কাছে ছিল। এরপর আল্লাহ তাঁআলা তাকে ওফাত দিলেন। পরে উমরের জীবনকাল পর্যন্ত তার নিকট ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর তা হাফসা বিনত উমর (রাঃ)-এর কাছে ছিল। মুহাম্মদ ইবন উবায়দুল্লাহ বলেনঃ হাদীসে ব্যবহাত ‘আলিলখাফু’ অর্থ হল চাঁড়া।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭০১

নভে. 102013
 

সাদকা ইবন ফদল (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেছেন, আলী (রাঃ) আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম বিচারক এবং উবায় (রাঃ) আমাদের মাঝে সর্বোত্তম কারী। এতদসত্ত্বেও তিনি যা তিলাওয়াত করেছেন, আমার তার কতিপয় অংশ বর্জন করছি, অথচ তিনি বলেছেন, আমি তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর যবান মুবারক থেকে শুনেছি, কোন কিছুর বিনিময় আমি তা বর্জন করব না। আল্লাহ বলেছেন, আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত হতে দিলে তা হতে উত্তম কিংবা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনয়ন করি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৩৯

নভে. 102013
 

মুআল্লা ইবন আসাদ (রাঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন। তখন চার ব্যাক্তি ছাড়া আর কেউ কুরআন সংগ্রহ করেননি। তাঁরা হলেন আবূদ্ দারদা (রাঃ), মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ), যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) এবং আবূ যায়দ (রাঃ)। আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা আবূ যায়দ (রাঃ) এর উত্তরসুরি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৩৮

নভে. 102013
 

উমর ইবন হাফস (রহঃ) শাকীক ইবন সালামা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, একদা আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ (রাঃ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, আল্লাহর শপথ। সত্তরেরও কিছু অধিক সূরা আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুখ থেকে হাসিল করেছি। আল্লাহর কসম! রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাহাবীরা জানেন, আমি তাঁদের চাইতে আল্লাহর কিতাব সম্বন্ধে সর্বাধিক জ্ঞাত; অথচ আমি তাঁদের চাইতে উত্তম নই। শাকীক (রহঃ) বলেন, সাহাবিগণ তাঁর বক্তব্য শুনে কি বলেন এ কথা শোনার জন্য আমি মজলিশে বসেছি, কিন্তু আমি কাউকে তার বক্তব্যে কোন আপত্তি উত্থাপন করতে শুনিনি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৩৪

নভে. 102013
 

হাফস ইবন উমর (রহঃ) মাসরুক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আদুল্লাহ্ ইবন আমর আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমি তাঁকে ঐ সময় থেকে ভালবাসি, যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমি বলতে শুনেছি যে, তোমরা চার ব্যাক্তি থেকে কুরআন শিক্ষা কর- আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ (রাঃ), সালিম (রাঃ), মুআয (রাঃ) এবং উবায় ইবন কা’ব (রাঃ)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৩৩

নভে. 102013
 

ইব্‌রাহীম ইব্‌ন মূসা (রহঃ) ইউসুফ ইব্‌ন মাহিক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ইরাকী ব্যাক্তি এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলঃ কোন ধরনের কাফন শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আফসোস তোমার প্রতি! এতে তোমার কি ক্ষতি? তারপর লোকটি বলল, হে উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে আপনি আপনার কুরআন শরীফের কপি দেখান। তিনি বললেন, কেন? লোকটি বলল, এ তারতীবে কুরআন শরীফকে বিন্যাস্ত করার জন্য। কারণ লোকেরা তাকে অবিন্যাস্তভাবে পাঠ করে। আয়িশা (রাঃ) বললেন, তোমরা এর যে অংশই আগে পাঠ কর না কেন, এতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। মুফাস্‌সাল সূরা সমূহের মাঝে প্রথমত ঐ সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। যার মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে। তারপর যখন লোকেরা দলে দলে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিণ হতে লাগল তখন হালাল-হারামের বিভিন্ন সম্বলিত সূরাগুলো নাযিল হয়েছে। যদি সূচনাতেই এ আয়াত নাযিল হত যে, তোমরা মদ পান করো না, তাহলে লোকেরা বলত, আমরা কখনো মদপান ত্যাগ করব না। যদি শুরুতেই নাযিল হতো তোমরা ব্যভিচার করো না, তাহলে তারা বলত আমরা কখনো অবৈধ যৌনাচার বর্জন করব না। আমি যখন খেলাধুলার বয়সী একজন বালিকা তখন মক্কায় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি নিম্নলিখিত আয়াতগুলো নাযিল হলঃ #### মানে, ‍অধিকন্তু কিয়ামত তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর”। বিধান সম্বলিত সূরা বাকার ও সূরা নিসা আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে থাকাকালীন অবস্থায় নাযিল হয়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আয়িশা (রাঃ) তাঁর কাছে সংরক্ষিত কুরআনের কপি বের করলেন এবং সূরা সমূহ লেখালেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬২৭

নভে. 102013
 

উবায়দুল্লাহ ইব্‌ন মূসা (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়াতটি নাযিল হলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যায়দকে আমার কাছে ডেকে আন এবং তাকে বল সে যেন কাষ্ঠখন্ড, দোয়াত এবং কাঁধের হাড় রাবী বলেন, অথবা তিনি বলেছেন, কাঁধের হাড় এবং দোয়াত নিয়ে আসে। এরপর তিনি বললেন, লিখ । এ সময় অন্ধ সাহাবী আমর ইব্‌ন উম্মে মাকতূম (রাঃ), রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পেছনে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‌! আমি তো অন্ধ, আমার ব্যাপারে আপনার কি নির্দেশ? এ কথার প্রেক্ষিতে পূর্বোক্ত আয়াতের পরিবর্তে নাযলি হলঃ “মু’মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়” (৪:৯৫)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬২৪

নভে. 102013
 

ইয়াহ্‌ইয়া ইব্‌ন বুকায়র (রহঃ) যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওহী লিখতে। সুতরাং তুমি কুরআনের আয়াতগুলো অনুসন্ধান কর। এরপর আমি অনুসন্ধান করলাম। শেষ পর্যায়ে সূরা তওবার শেষ দু’টো আয়াত আমি আবূ খুযায়মা আনসারী (রাঃ) এর কাছে পেলাম। তিনি ব্যতীত আর কারো কাছে আমি এর সন্ধান পায়নি। আয়াত দু’টো হচ্ছে এইঃ ‘তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের কাছে এক রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসেছে। তোমাদের যা বিপন্ন করে তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী, মু’মিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। তারপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বলবে, আমার জন্য আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নেই। আমি তাঁরই ওপর নির্ভর করি এবং তিনি মহাআরশের অধিপতি”। (৯:১২৮-১২৯)

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬২৩

নভে. 102013
 

মূসা (রহঃ) আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযায়ফা ইব্‌নুল ইয়ামান (রাঃ) একবার উসমান (রাঃ) এর কাছে এলেন। এ সময় তিনি আরমিনিয়া ও আযারবাইজানো বিজয়ের ব্যাপারে সিরীয় ও ইরাকী যোদ্ধাদের জন্য রণ-প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কুরআন পাঠে তাঁদের মতবিরোধ হুযায়ফাকে ভীষণ চিন্তিত করল। সুতরাং তিনি উসমান (রাঃ) কে বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! কিতাব সম্পর্কে ইহুদী ও নাসারাদের মত মত পার্থক্যে লিপ্ত হবার পূর্বে এই উম্মতকে রক্ষা করুন। তারপর উসামান (রাঃ) হাফসা (রাঃ) এর কাছে জনৈক ব্যাক্তিকে এ বলে পাঠালেন যে, আপনার কাছে সংরক্ষিত কুরআনের সহীফাসমূহ আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন, যাতে আমরা সেগুলোকে পরিপূর্ণ মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ করতে পারি। এরপর আমরা তা আপনার কাছে ফিরিয়ে দেব। হাফসা (রাঃ) তখন সেগুলো উসমান (রাঃ) এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর উসমান (রাঃ) যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ), আবদুল্লাহ ইব্‌ন যুবায়র (রাঃ), সাঈদ ইব্‌ন আস (রাঃ) এবং আবদুর রহমান ইব্‌ন হারিস ইব্‌ন হিশাম (রাঃ)- কে নির্দেশ দিলেন। তাঁরা মাসহাফে তা লিপিবদ্ধ করলেন। এ সময় হযরত উসমান (রাঃ) তিনজন কুরাইশী ব্যাক্তিকে বললেন, কুরআনের কোন বিষয়ে যদি যায়দ ইব্‌ন সাবিতের সঙ্গে তোমাদের মতপার্থক্য দেখা দেয়, তাহলে তোমরা তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করবে। কারণ, কুরআন তাদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তাঁরা তাই করলেন। যখন মূল লিপিগুলো থেকে কয়েকটি পরিপূর্ণ গ্রন্থ লিপিবদ্ধ হয়ে গেল, তখন উসমান (রাঃ) মূল লিপিগুলো হাফসা (রাঃ) এর কাছে ফিরিয়ে দিলেন। তারপর তিনি কুরআনের লিখিত মাসহাফ- সমূহের এক একখানা মাসহাফ এক এক প্রদেশে পাঠিয়ে দিলেন এবং এতদভিন্ন আলাদা আলাদা বা একত্রে সন্নিবেশিত কুরআনের যে কপিসমূহ রয়েছে তা জ্বালিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। ইব্‌ন শিহাব (রহঃ) খারিজা ইব্‌ন যায়দ ইব্‌ন সাবিতের মাধ্যমে যায়দ ইব্‌ন সাবিত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা যখন গ্রন্থকারে কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম তখন সূরা আহযাবের একটি আয়াত আমার থকে হারিয়ে যায়; অথচ আমি তা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে পাঠ করতে শুনেছি। তাই আমরা অনুসন্ধান করতে লাগলাম। অবশেষে আমরা তা খুযায়মা ইব্‌ন সাবিত আনসারী (রাঃ) এর কাছে পেলাম। আয়াতটি হচ্ছে এইঃ “মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তাঁরা তাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করেনি”। (৩৩:২৩)

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬২২