নভে. 222013
 

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আয়িশা (রাঃ)-কে বলেছেন, তুমি কি জানো? তোমরা কওম যখন কা’বা ঘর নির্মাণ করেছে , তখন তারা ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ভিত্তি থেকে ছত করেছে? তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তা ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভিত্তির উপর পুনঃনির্মাণ করবেন না? তিনি বললেন, যদি তোমার কওম কুফ্‌রী থেকে সদ্য আগত না হতো, (তাহলে আমি তা করে দিতাম।)আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, যদি আয়িশা (রাঃ) এ হাদীসটি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনে থাকেন, তবে আমি মনে করি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতীমে কাবার সংলগ্ন দু’টি কোণকে চুমু দেওয়া একমাত্র এ কারণে পরিহার করেছেন যে, কা’বা ঘর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর ভিত্তিক উপর পুরাপুরি নির্মাণ করা হয় নি। রাবী ইসমাঈল (রহঃ) বলেন, ইবনু আবূ বকর হলেন আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর (রাঃ)।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১২৯

নভে. 222013
 

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর স্ত্রী (সারার) মাঝে যা হওয়ার হয়ে গেল, তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম (শিশুপুত্র) ইসমাঈল এবং তাঁর মাকে নিয়ে বের হলেন। তাদের সাথে একটি থলে ছিল, যাতে পানি ছিল। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা মশক থেকে পানি পান করতেন। ফলে শিশুরু জন্য তাঁর স্তন্যে দুধ বাড়তে থাকে। অবশেষে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় পৌছে হাযেরকে (শিশুপুত্র ইসমাঈলসহ) একটি বিরাট বৃক্ষের নীচে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপন পরিবার (সারার) নিকট ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা কিছু দূর পর্যন্ত তাঁর অনুসরণ করলেন। অবশেষে যখন কাদা নামক স্থানে পৌছলেন, তখন তিনি পিছনে থেকে ডেকে বললেন, হে ইব্‌রাহীম! আপনি আমাদেরকে কার কাছে রেখে যাচ্ছেন? ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহর কাছে। হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এরপর হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসলেন, তিনি মশক থেকে পানি পান করতেন আর শিশুরু জন্য (তাঁর স্তন্যের) দুধ বাড়ত। অবশেষে যখন পানি শেষ হয়ে গেল। তখন ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা বললেন, আমি যদি গিয়ে এদিকে সেদিকে তাকাতাম! তাহলে হয়ত কোন মানুষ দেখতে পেতাম। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, এরপর ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা গেলেন এবং সাফা পাহাড়ে উঠলেন আর এদিকে ওদিকে তাকালেন এবং কাউকে দেখেন কিনা এজন্য বিশেষভাবে তাকিয়ে দেখলেন। কিন্তু কাউকেও দেখতে পেলেন না। (এরপর যখন নীচু ভূমিতে পৌছলেন) তখন দ্রুত বেগে মারওয়া পাহাড়ে এসে গেলেন। এবং এভাবে তিনি কয়েক চক্কর দিলেন। পুনরায় তিনি (মনে মনে) বললেন, যদি গিয়ে দেখতাম যে শিশুটি কি করছে। এরপর তিনি গেলেন এবং দেখতে পেলেন যে সে তার অবস্থায়ই আছে। সে যেন মরণাপন্ন হয়ে গেছে। এতে তাঁর মন স্বস্তি পাচ্ছিল না। তখন তিনি বললেন, যদি সেখানে (আবার) যেতাম এবং এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখতাম। সম্ববতঃ কাউকে দেখতে পেতাম। এরপর তিনি গেলেন, সাফা পাহাড়ের উপর উঠলেন এবং এদিক সেদিক দেখলেন এবং গভীরভাবে তাকিয়ে দেখলেন। কিন্তূ কাউকে দেখতে পেলেন না। এমনকি তিনি সাতটি চক্কর পূর্ণ করলেন। এরপর তিনি মনে মনে বললেন, যদি যেতাম তখন দেখতাম যে সে কি করছে। হঠাৎ তিনি একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, যদি আপনার কোন সাহায্য করার থাকে তবে আমাকে সাহায্য করুন। হঠাৎ তিনি জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেলেন। রাবী ইবনু আব্বাস (রহঃ)) বলেন, তখন তিনি (জিবরাঈল) তাঁর পায়ের গোড়ালি দ্বারা এরূপ করলেন অর্থাৎ গোড়ালি দ্বারা যমীনের উপর আঘাত করলেন। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, তখনই পানি বেরিয়ে আসল। এ দেখে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা অস্থির হয়ে গেলেন এবং গর্ত খনন করতে লাগলেন। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ প্রসঙ্গে আবূল কাসিম (রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) )বলেছেন, হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি একে তার অবস্থায় উপর ছেড়ে দিতেন তাহলে পানি বিস্তৃত হয়ে যেত। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, তখন হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি পান করতে লাগলেন এবং তাঁর সন্তানের জন্য তাঁর দুধ বাড়তে থাকে। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, এরপর জুরহুম গোত্রের (ইয়ামান দেশীয়) একদল লোক উপত্যকার নীচু ভূমি দিয়ে অতিক্রম করচিল। হঠাৎ তারা দেখল কিছু পাখি উড়ছে। তারা যেন তা বিশ্বাসই করতে পারছিল না আর তারা বলতে লাগল এসব পাখি তো পানি ছাড়া কোথাও থাকতে পারে না। তখন তারা সেখানে তাদের একজন দুত পাঠাল। সে সেখানে গিয়ে দেখল, সেখানে পানি মাওজুদ আছে। তখন সে তার দলের লোকদের কাছে ফিরে আসল এবং তাদেরকে সংবাদ দিল। এরপর তারা হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে এসে বলল, হে ইসমাঈলের মা। আপনি কি আমাদেরকে আপনার কাছে থাকা অথবা (রাবী বলেছেন), আপনার কাছে বসবাস করার অনুমতি দিবেন? (হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বসবাসের অনুমতি দিলেন এবং এভাবে অনেক দিন কেতে গেল)। এরপর তাঁর ছেলে বয়ঃপ্রাপ্ত হল। তখন তিনি (ইসমাঈল) জুরহুম গোত্রেরই একটি মেয়ে বিয়ে করলেন। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, পুনরায় ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মনে জাগল (ইসমাঈল এবং তাঁর মা হাযেরার কথা) তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে (সারা) বললেন, আমি আমার পরিত্যক্ত পরিজনের অবস্থা সম্পর্কে খবর নিতে চাই রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, এরপর তিনি (তাদের কাছে) আসলেন এবং সালাম দিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইসমাঈল কোথায়? ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর স্ত্রী বলল, তিনি শিকারে গিয়েছেন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে যখন আসবে তখন তুমি তাঁকে আমার এ নির্দেশের কথা বলবে, ‘‘তুমি ঘরের চৌকাঠখানা বদলিয়ে ফেলবে। ’’ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আসলেন, তখন স্ত্রী তাঁকে খবরটি জানালেন , তখন তিনি স্ত্রীকে বললেন, তুমি সেই চৌকাঠ। অতএব তুমি তোমার পিতামাতার কাছে চলে যাও। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, অতঃপর (তাদের কথা) ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আবার মনে পড়ল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী (সারা) কে বললেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিবারের খবর নিতে চাই। এরপর তিনি সেখানে আসলেন, এবং (পুত্রবধূকে) জিজ্ঞাসা করলেন, ইসমাঈল কোথায়? ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর স্ত্রী বলল, তিনি শিকারে গিয়েছেন। পুত্রবধু তাঁকে বললেন, আপনি কি আমাদের এখানে অবস্থান করবেন না? কিছু পানাহার করবেন না? তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের খাদ্য এবং পানীয় কি? স্ত্রী বলল, আমাদের খাদ্য হল গোশ্‌ত আর পানীয় হল পানি। তখন ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করলেন, ‘‘হে আল্লাহ! তাদের খাদ্য হল গোশ্‌ত আর পানীয় হল পানি। তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করলেন, ‘‘হে আল্লাহ! তাদের খাদ্য এবং পানীয় দ্রব্যের মধ্যে বরকত দিন। ’’ রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, আবূল কাসিম বলেছেন, ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দু’আর কারণেই (মক্কার খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যের মধ্যে) বরকত রয়েছে। রাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ)) বলেন, আবার কিছুদিন পর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মনে তাঁর নির্বাসিত পরিজনের কথা জাগল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী (সারা)-কে বললেন, আমি আমার পরিত্যক্ত পরিজনের খবর নিতে চাই। এরপর তিনি আলেন এবং ইসমাঈলের দেখা পেলেন, তিনি যমযম কূপের পিছনে বসে তাঁর একটি তীর মেরামত করেছেন। তখন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডেকে বললেন, হে ইসমাঈল! তোমার রব তাঁর জন্য একখানা ঘর নির্মাণ করতে আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনার রবের নির্দেশ পালন করুন। ইব্‌রাহিম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে আমি তা করব অথবা তিনি অনুরূপ কিছু বলেছিলেন। এরপর উভয়ে উঠে দাঁড়ালেন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমারাত বানাতে লাগলেন আর ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে পাথর এনে দিতে লাগলেন আর তাঁরা উভয়ে এ দু’আ করছিলেন, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এ কাজ কবুল করুন। আপনি তো সব কিছু শুনেন এবং জানেন রাবী বলেন, এরি মধ্যে প্রাচীর উঁচু হয়ে গেল আর বৃদ্ধ ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতটা উঠতে দুর্বল হয়ে পড়লেন। তখন তিনি (মাকামে ইব্‌রাহীমের) পাথরের উপর দাঁড়ালেন। ইসমাঈল তাঁকে পাথর এগিয়ে দিতে লাগলেন আর উভয়ে এ দু’আ পড়তে লাগলেন, হে আমাদের রব! আপনি আমাদের এ কাজটুকু কবূল করুন। নিঃসন্দেহে আপনি সবকিছু শুনেন ও জানেন। (২:১২৭)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১২৬

নভে. 222013
 

আবদুল্লাহ ইবনুে মুহাম্মদ (রহঃ) সাঈদ ইবনুে জুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত ইবনুে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নারী জাতি সর্বপ্রথম কোমরবন্দ বানানো শিখেছে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মায়ের (হাযেরা) নিকট থেকে। হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমরবন্দ লাগাতেন সারাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নিজের মর্যাদা গোপন রাখার জন্য। তারপর (আল্লাহর হুকুমে) ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর শিশু ছেলে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে সাথে নিয়ে বের হলেন, এ অবস্থায় যে, হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুকে দুধ পান করাতেন। অবশেষে যেখানে কাবা ঘির অবস্থিত, ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের উভয়কে সেখানে নিয়ে এসে মসজিদের উঁচু অংশে যমযম কূপের উপরে অবস্থিত একটি বিরাট গাছের নীচে তাদেরকে রাখলেন। তখন মক্কায় না ছিল কোন মানুষ না ছিল কোনরূপ পানির ব্যবস্থা। পরে তিনি তাদেরকে সেখানেই রেখে গেলেন। আর এছাড়া তিনি তাদের কাছে রেখে গেলেন একটি থলের মধ্যে কিছু খেজুর এবং একটি মশকে কিছু পরিমাণ পানি। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে চললেন। তখন ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা পিছু পিছু ছুটে আসলেন এবং বলতে লাগলেন, হে ইব্‌রাহীম! আপনি কোথায় চলে যাচ্ছেন? আমাদেরকে এমন এক ময়দানে রেখে যাচ্ছেন, যেখানে না আছে কোন সাহায্যকারী আর না আছে (পানাহারের) ব্যবস্থা। তিনি একথা তাকে বারবার বললেন। কিন্তু ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন না। তখন হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, এ (নির্বাসনের) আদেশ কি আপনাকে আল্লাহ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হাঁ। হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। আর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সামনে চললেন। চলতে চলতে যখন তিনি গিরিপথের বাঁকে পৌছলেন, যেখানে স্ত্রী ও সন্তান তাঁকে আর দেখতে পাচ্চেন না, তখন কা’বা ঘরের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি দু’হাত তুলে এ দু’আ করলেন, আর বললেন, ‘‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার পরিবারকে কতকে আপনার সম্মানিত ঘরের নিকট এক অনুর্বর উপত্যকায় যাতে আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। (১৪:৩৭) (এ দু’আ করে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলে গেলেন) আর ইসমাঈলের মা ইসমাঈলকে স্বীয় স্তন্যের দুধ পান করাতেন এবং নিজে ঐ মশক থেকে পানি পান করতেন। অবশেষে মশকে যা পানি ছিল তা ফুরিয়ে গেল। তিনি নিজে পিপাসিত হলেন, এবং তাঁর (বুকের দুধ শুখিয়ে যাওয়ায়) শিশু পুত্রটি পিপাসায় কাতর হয়ে পড়ল। তিনি শিশুটির প্রতি দেখতে লাগলেন। পিপাসায় তার বুক ধরফড় করেছে অথবা রাবী বলেন, সে মাটিতে পড়ে ছটফট করছে। শিশুপুত্রের এ করুন অবস্থার প্রতি তাকানো অসহনীয় হয়ে পড়ায় তিনি সরে গেলেন আর তাঁর অবস্থানের সংলগ্ন পর্বত ‘সাফা’ কে একমাত্র তাঁর নিকটমত পর্বত হিসাবে পেলেন। এরপর তিনি তার উপর উঠে দাঁড়ালেন আর ময়দানের দিকে তাকালেন। এদিকে সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন, কোথাও কাউকে দেখা যায় না? কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। তখন ‘সাফা’ পর্বত থেকে নেমে পড়লেন। এমন কি যখন তিনি নিচু ময়দান পর্যন্ত পৌছলেন, তখন তিনি তাঁর কামিজের এক প্রান্ত তুলে ধরে একজন শ্রান্ত-ক্লান্ত মানুষের ন্যায় ছুটে চললেন। অবশেষে ময়দানে অতিক্রম করে ‘মারওয়া’ পাহাড়ের নিকট এসে তার উপর উঠে দাঁড়ালেন। তারপর এদিকে সেদিকে তাকালেন, কাউকে দেখতে পান কিনা? কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলেন না। এমনিভাবে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এজন্যই মানুষ (হাজ্জ (হজ্জ) বা উমরার সময়) এ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যে সায়ী করে থাকে। এরপর এরপর তিনি যখন মারওয়া পাহাড়ে উঠলেন, তখন একটি শব্দ শুনতে পেলেন এবং তিনি নিজেকেই নিজে বললেন, একটু অপেক্ষা কর। (মনোযোগ দিয়ে শুনি।)তিনি আকাগ্রচিত্তে শুনলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি তো তোমার শব্দ শুনিয়েছ, আর আমিও শুনেছি)। যদি তোমার কাছে কোন সাহায্যকারী থাকে (তাহলে আমাকে সাহায্য কর)। হঠাৎ যেখানে যমযম কূপ অবস্থিত সেখানে তিনি একজন ফিরিশ্‌তা দেখতে পেলেন। সেই ফিরিশ্‌তা আপন পায়ের গোড়ালি দ্বারা আঘাত করলেন অথবা তিনি বলছেন, আপন ডানা দ্বারা আঘাত করলেন। ফলে পানি বের হতে লাগল। তখন হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর চারপাশে নিজ হাতে বাঁধা দিয়ে এক হাউযের ন্যায় করে দিলেন এবং হাতের কোষভরে তাঁর মশকটিতে পানি ভরতে লাগলেন। তখনো পানি উপছে উঠতে থাকলো। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ইসমাঈলের মাকে আল্লাহ রহম করুন। যদি তিনি বাঁধ না দিয়ে যমযমকে এভাবে ছেড়ে দিতেন কিংবা বলেছেন, যদি কোষে ভরে পানি মশকে জমা না করতেন, তাহলে যমযম একটি কূপ না হয়ে একটি প্রবাহমান ঝর্ণায় পরিণত হতো। রাবী বলেন, তারপর হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি পান করলেন, আর শিশু পুত্রকেও দুধ পান করালেন, তখন ফিরিশ্‌তা তাঁকে বললেন, আপনি ধ্বংসের কোন আশংকা করবেন না। কেননা এখানেই আল্লাহর ঘর রয়েছে। এ শিশুটি এবং তাঁর পিতা দু’জনে এখানে ঘর নির্মাণ করবে এবং আল্লাহ তাঁর আপনজনকে কখনও ধ্বংস করেন না। ঐ সময় আল্লাহর ঘরের স্থানটি যমীন থেকে টিলার ন্যায় উঁচু ছিল। বন্যা আসার ফলে তাঁর দানে বামে ভেঙ্গে যাচ্ছিল। এরপর হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এভাবেই দিন যাপন করছিলেন। অবশেষে (ইয়ামান দেশীয়) জুরহুম গোত্রের একদল লোক তাদের কাছ দিয়ে অতিক্রম করচিল। অথবা রাবী বলেন, জুরহুম পরিবারের কিছু লোক কাদা নামক উঁচু ভুমির পথ ধরে এদিক আসছিল। তারা মক্কার নিচু ভুমিতে অবতরণ করল এবং তারা দেখতে পেল একঝাঁক পাখি চক্রাকারে উড়ছে। তখন তারা বলল, নিশ্চয় এ পাখিগুলো পানির উপর উড়ছে। আমরা এ ময়দানের পথ হয়ে বহুবার অতিক্রম করেছি। কিন্তু এখানে কোন পানি ছিল না। তখন তারা একজন কি দু’জন লোক সেখানে পাঠালো। তারা সেখানে গিয়েই পানি দেখতে পেল। তারা সেখান থেকে ফিরে এসে পানির সকলকে পানির সংবাদ দিল। সনবাদ শুনে সবাই সেদিকে অগ্রসর হল। রাবী বলেন, ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মা পানির নিকট ছিলেন। তারা তাঁকে বলল, আমরা আপনার নিকটবর্তী স্থানে বসবাস করতে চাই। আপনি আমাদেরকে অনুমতি দিবেন কি? তিনি জবাব দিলেন, হাঁ। তবে, এ পানির উপর তোমাদের কোন অধিকার থাকবে না। তারা হাঁ, বলে তাদের মত প্রকাশ করল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এ ঘটনা ইসমাঈলের মাকে একটি সুযোগ এনে দিল। আর তিনিও মানুষের সাহচর্য চেয়েছিলেন। এরপর তারা সেখানে বসতি স্থাপন করল এবং তাদের পরিবার –পরিজনের নিকটও সংবাদ পাঠাল। তারপর তারাও এসে তাদের সাথে বসবাস করতে লাগল। পরিশেষে সেখানে তাদের কয়েকটি পরিবারের বসতি স্থাপিত হল। আর ইসমাঈলও যৌবন উপনীত হলেন এবং তাদের থেকে আরবী ভাষা শিখলেন। যৌবনে পৌছে তিনি তাদের কাছে অধিক আকর্ষণীয় ও প্রিয়পাত্র হয়ে উঠলেন। এরপর যখন তিনি পূর্ণ যৌবন লাভ করলেন, তখন তারা তাঁর সঙ্গে তাদেরই একটি মেয়েকে বিবাহ দিল। এরই মধ্যে ইসমাঈলের মা হাযেরা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন। ইসমাঈলের বিবাহের পর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পরিত্যক্ত পরিজনের অবস্থা দেখার জন্য এখানে আসলেন। কিন্তু তিনি ইসমাঈলকে পেলেন না। তিনি তাঁর স্ত্রীকে তাঁর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। স্ত্রী বলল, তিনি আমাদের জীবিকার খোঁজে বেরিয়ে গেছেন। এরপর তিনি পুত্রবধুকে তাদের জীবন যাত্রা এবং অবস্থা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বলল, আমরা অতি দুরাবস্থায়, অতি টানাটানি ও খুব কষ্টে আছি। সে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট তাদের দুর্দশার অভিযোগ করল। তিনি বললেন, তোমার স্বামী বাড়ী আসলে, তাঁকে আমার সালাম জানিয়ে বলবে, সে যেন তার ঘরের দরজায় চৌকাঠ বদলিয়ে নেয়। এরপর যখন ইসমাঈল বাড়ী আসলেন, তখন তিনি যেন (তাঁর পিতা ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর আগমনের) কিছুটা আভাস পেলেন। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদেরকে কাছে কেউ কি এসেছিল? স্ত্রী বলল, হাঁ। এমন এমন আকৃতির একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন এবং আমাকে আপনার সম্বন্ধে জজ্ঞাসা করছিলেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ দিলাম। তিনি আমাকে আমাদের জীবন যাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাঁকে জানালাম, আমরা খুব কষ্ট ও অভাবে আছি। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কি তোমাকে কোন উপদেশ দিয়েছেন? স্ত্রী বলল, হাঁ। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন আপনাকে তাঁর সালাম পৌছাই এবং তিনি আরো বলেছেন, আপনি যেন আপনার ঘরের দরজায় চৌকাঠ বদলিয়ে ফেলেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনি আমার পিতা। এ কথা দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন, আমি যেন তোমাকে পৃথক করে দেই। অতএব তুমি তোমার আপন জন্দের কাছে চলে যাও। এ কথা বলে, ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তালাক দিয়ে দিলেন এবং ঐ লোকদের থেকে অপর একটি মেয়েকে বিবাহ করলেন। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এদের থেকে দূরে রইলেন, আল্লাহ যতদিন চাইলেন। তারপর তিনি আবার এদের দেখতে আসলেন। কিন্তু এবারও তিনি ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দেখা পেলেন না। তিনি ছেলের বউয়ের নিকট উপস্থিত হলেন এবং তাঁকে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। সে বললো, তিনি আমাদের খাবারের খোঁজে বেরিয়ে গেছেন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কেমন আছ? তিনি তাদের জীবনযাত্রা ও অবস্থা জানতে চাইলেন। তখন সে বলল, আমরা ভাল এবং স্বচ্ছলতার মধ্যেই আছি। আর সে আল্লাহর প্রশংসাও করলো। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন , তোমাদের প্রধান খাদ্য কি? সে বলল, গোশ্‌ত্‌। তিনি আবার জানতে চাইলেন, তোমাদের পানীয় কি? সে বলল, পানি। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তাদের গোশ্‌ত্‌ ও পানিতে বরকত দিন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ঐ সময় তাদের সেখানে খাদ্যশস্য উৎপাদন হতো না। যদি হতো তাহলে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে বিষয়েও তাদের জন্য দু’আ করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, মক্কা ব্যতিত অন্য কোথাও কেউ শুধু গোশ্‌ত্‌ ও পানি দ্বারা জীবন ধারণ করতে পারেনা। কেননা, শুধু গোশ্‌ত্‌ ও পানি জীবনযাপনের অনুকূল হতে পারে না। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যখন তোমার স্বামী ফিরে আসবে, তখন তাঁকে আমার সালাম বলবে, আর তাঁকে আমার পক্ষ থেকে হুকুম করবে যে, সে যেন তার ঘরের দরজায় চৌকাঠ ঠিক রাখে। এরপর ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ফিরে আসলেন, তখন তিনি বললেন, তোমাদের নিকট কেউ এসেছিলেন কি? সে বলল, হাঁ। একজন সুন্দর আকৃতিকে বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন এবং সে তাঁর প্রশংসা করলো, (তারপর বললো) তিনি আমাএক আপনার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ জানিয়েছি। এরপর তিনি আমাকে আপনার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি তাঁকে আপনার সংবাদ জানিয়েছি। এরপর তিনি আমার নিকট আমাদের জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমি তাঁকে জানিয়েছি যে, আমরা ভাল আছি। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনি কি তোমাকে আর কোন কিচুর জন্য আদেশ করেছেন? সে বললো, হাঁ। তিনি আপনার প্রতি সালাম জানিয়ে আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার ঘরের দরজায় চৌকাঠ ঠিক রাখেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনিই আমার পিতা। আর তুমি হলে আমার ঘরের দরজার চৌকাঠ। একথার দ্বারা তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন তোমাকে স্ত্রী হিসাবে বহাল রাখি। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এদের থেকে দূরে রইলেন, যদ্দিন আল্লাহ চাইলেন। এরপর তিনি আবার আসলেন। (দেখতে পেলেন,)যমযম কূপের নিকটস্থ একটি বৃক্ষের নীচে বসে ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর একটি তীর মেরামত করেছেন। যখন তিনি তাঁর পিতাকে দেখতে পেলেন, তিনি দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে এগিয়ে গেলেন। এরপর একজন বাপ-বেটার সঙ্গে, একজন বেটা-বাপের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে যেরূপ করে থাকে তারা উভয়ে তাই করলেন। এরপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হে ইসমাঈল। আল্লাহ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনার রব! আপনাকে যা আদেশ করেছেন, তা করুন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ আমাকে এখানে একটি ঘর বানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই বলে তিনি উঁচু টিলাটির দিকে ইশারা করলেন যে, এর চারপাশে ঘেরাও দিয়ে, তখনি তাঁরা উভয়ে কা’বা ঘরের দেয়াল উঠাতে লেগে গেলেন। ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাথর আনতেন, আর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্মাণ করতেন। পরিশেষে যখন দেয়াল উঁচু হয়ে গেল, তখন ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মাকামে ইব্‌রাহীম নামে খ্যাত) পাথরটি আনলেন এবং ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য তা যথাস্থানে রাখলেন। ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ কাজ করতে লাগলেন। আর ইসমাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে পাথর যোগান দিতে থাকেন। তখন তারা উভয়ে দু’আ করতে থাকলেন, হে আমাদের রব। আমাদের থেকে (একাজ) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছু শুনেন ও জানেন। তাঁরা উভয়ে আবার কা’বা ঘর তৈরি করতে থাকেন। এবং কা’বা ঘরের চার দিকে ঘুরে ঘুরে এ দু’আ করতে থাকেন। ‘‘হে আমাদের রব! আমাদের থেকে (এ শ্রমটুকু) কবুল করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি সব কিছু শুনেন ও জানেন। ’’ (২:১২৭)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১২৫

নভে. 182013
 

আবূ মা’মার (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন (মক্কা) এলেন, তখন কা’বা ঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কা’বাঘরের ভিতর মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলেন এবং মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হল। (এক পর্যায়ে) ইবরাহীম ও ইসমা’ইল (‘আ)- এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয়- তাদের উভয়ের হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ! (মুশরিকদের) ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, [ ইব্রাহীম ও ইসমা’ঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম ] তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেন নি। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কা’বা ঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবীর বলেন। কিন্তু ঘরের ভিতরে সালাত (নামায) আদায় করেন নি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৫০৬

নভে. 182013
 

আহমদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন তিনি কা’বা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতেন, তখন দরজা পিছনে রেখে সোজা সম্মুখের দিকে চলে যেতেন, এতদূর অগ্রসর হতেন যে, সম্মুখের দেয়ালটি মাত্র তিন হাত দূরে থাকতো এবং বিলাল (রাঃ) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেখানে সালাত (নামায) আদায় করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন, সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে তিনি সালাত (নামায) আদায় করতেন। অবশ্য কাবার ভিতরে যে কোন স্থানে সালাত (নামায) আদায় করাতে কোন দোষ নেই।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৫০৪

নভে. 182013
 

কুতাইবা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং উসামা ইবনু যায়দ, বিলাল ও ‘উসমান ইবনু তালহা (রাঃ) বায়াতুল্লাহর ভিতর প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলেন। যখন খুলে দিলেন তখন প্রথম আমিই প্রবেশ করলাম এবং বিলালের সাক্ষাত পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি কাবার ভিতরে সালাত (নামায) আদায় করেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, ইয়ামানের দিকের দু’টি স্তম্ভের মাঝখানে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৫০৩

নভে. 182013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কা’বাঘর ধ্বংস করবে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৫০১

নভে. 182013
 

‘আম্‌র ইবনু ‘আলী (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি যেন দেখতে পাচ্ছি কাল বর্ণের বাঁকা পা বিশিষ্ট লোকেরা (কাবাঘরের) একটি একটি করে পাথর খুলে এর মূল উৎপাটন করে দিচ্ছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৫০০

নভে. 182013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর এবং মুহাম্মদ ইবনু মুকাতিল (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযানের সাওম (রোযা) ফরয হওয়ার পূর্বে মুসলিমগণ ‘আশূরার সাওম (রোযা) পালন করতেন। সে দিনই কাবাঘর (গিলাফে) আবৃত করা হতো। তারপর আল্লাহ যখন রমযানের সাওম (রোযা) ফরয করলেন, তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ‘আশূরার সাওম (রোযা) যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিবে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৪৯৭

নভে. 182013
 

‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবাঘর ধ্বংস করবে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৪৯৬