অক্টো. 202013
 

মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ (রহঃ) তাওবা আনবারী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ শাবী আমাকে বললেনঃ নাবী (সাঃ) থেকে হাসান (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের (সংখ্যাধিক্যের) বিষয়টি কি দেখতে পাচ্ছো না? অথচ আমি ইবন উমর (রাঃ)-এর সাথে দুইবছর কিংবা দেড় বছর অবস্হান করেছি। কিন্তু তাকে নাবী (সাঃ) থেকে এই হাদীসটি ছাড়া অন্য কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনিনি। তিনি বলেছেনঃ নাবী (সাঃ) সাহাবীদের মাঝে কতিপয় ব্যাক্তি সমবেত ছিলেন, তাদের মাঝে সা’দও ছিলেন, তারা গোশত খাচ্ছিলেন। এমন সময় নাবী (সাঃ) মুদঁই-এর সহধর্মিনাদের কেউ তাদের ডেকে বললেনঃ যে, এটা গুই সাপের গোশত। তারা (আহার থেকে) বিরত রইলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ খাও বা আহার কর, এটা হালাল। কিংবা তিনি বলেছিলেনঃ এটা (খেতে) কোন অসুবিধা নেই। তবে এটা আমার খাদ্য নয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৭১

অক্টো. 202013
 

আলী ইবন জাদ (রহঃ) ও ইসহাক (রহঃ) আবূ জামরা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি-বলেনঃ ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে তার খাটে বসাতেন। তিনি আমাকে বললেনঃ আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিদল যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট আসল। তিনি। বললেনঃ এ কোন প্রতিনিধিদল? তারা বলল, আমরা রাবীআ গোত্রের। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ গোত্র ও তার প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ, যারা অপমানিত হয়নি এবং লজ্জিতও হয়নি। তারা বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনার ও আমাদের মাঝে মুদার গোত্রের কাফেররা (প্রতিবন্ধক) রয়েছে। সুতরাং আমাদের এমন নির্দেশ দিন, যাতে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি এবং আমাদের পরবর্তীদেরকেও অবহিত করতে পারি। তারা পানীয় দ্রব্য সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাদের চারটি বিষয় থেকে বারণ করলেন এবং চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর প্রতি ঈমান কি তোমরা জানো? তারা বলল, আল্লাহ ও তার রাসুলই অধিক জানেন। তিনি বললেনঃ এ মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই। আর মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল এবং সালাত (নামায) কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ আমার মনে হয় তাতে রোযার কথাও ছিল। আর গনীমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ প্রদান কর এবং তিনি তাদের (লাউয়ের খোলস থেকে তৈরি পাত্র)- হানতাম (মাটির সবুজ রঙের পাত্র), মুযাফফাত তৈলাত্ত পাত্র বিশেষ), নাফীর (কাঠের খোদাই করা পাত্র) থেকে নিষেধ করলেন। কোন কোন বর্ননায় নাফীর -এর স্থলে মুকাইয়ার- শব্দের উল্লেখ রয়েছে। এবং তিনি তাদের বললেনঃ এ কথাগুলো ভাল করে মনে রেখ এবং তোমাদের পিছনে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌছিয়ে দিও।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৭০

অক্টো. 202013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) সালামা ইবন আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আশুরার দিন আসলাম কবীলার এক ব্যাক্তিকে বললেনঃ তোমার গোত্রে ঘোষনা কর কিংবা বলেছিলেনঃ লোকের মাঝে ঘোষণা কর যে, যারা আহার করে ফেলেছে তারা যেন অবশিষ্ট দিন পূর্ন করে, আর যারা আহার করেনি তারা যেন রোযা পালন করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৬৯

অক্টো. 202013
 

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) (পারস্য সম্রাট) কিসরার নিকট তারচিঠি পাঠালেন। তিনি ডেকে এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, সে যেন এ টিঠি নিয়ে বাহরাইনের শাসনকর্তার নিকট দেয়। আর বাহরাইনের শাসনকর্তা যেন তা (সম্রাট) কায়সারের নিকট পৌছিয়ে দেয়। কায়সার এ চিঠি পাঠ করার পর তা টুকরা টুকরা করে ফেলল। ইবন শিহাব বলেন আমার ধারণা ইবন মুসা ইয়্যেব বলেছেনঃ যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের প্রতি বদ দোয়া করেছিলেন, তাদেরকেও আল্লাহ তায়ালা পূর্নরুপে টুকরা টুকরা করে দেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৬৮

অক্টো. 202013
 

আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আসলাম। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার দ্বিতল কক্ষে অবস্হানরত ছিলেন। আর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর কৃষ্ণকায় গোলামটি দরজার সন্মুখে দাড়ানো। আমি তাকে বললাম, তুমি বল এই উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এসেছে। তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৬৭

অক্টো. 202013
 

সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) আবূ মুসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) একটি বাগানে প্রবেশ করলেন এবং আমাকে দরজায় পাহাবাদারী করার জন্য নির্দেশ দিলেন। এক লোক এসে প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি বললেনঃ তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের খোশখবরী দাও। তিনি ছিলেন আবূ বকর (রাঃ)। তারপর উমর (রাঃ) আসলেন। তিনি বললেনঃ তাকেও অনুমতি দাও এবং জান্নাতের খোশখবরী দাও। তারপর উসমান (রাঃ) আসলেন। তিনি বললেনঃ তাকেও অনুমতি দাও এবং জান্নাতের খোশখবরী দাও।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৬৬

অক্টো. 202013
 

আলী ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, খন্দকের যুদ্ধে নাবী (সাঃ) লোকদেরকে আহবান জানালেন। যুবায়র (রাঃ) তাঁর আহবানে সাড়া দিলেন। তিনি আবার আহবান জানালেন। এবারও যুবায়র (রাঃ) সাড়া দিলেন। তিনি পুনরায় আহবান জানালেন। এবারেও যুবায়র (রাঃ) সাড়া দিলেন। তিনবার এরুপ হওয়ার পর তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নাবী (সাঃ) এর একজন হাওয়ারী (সাহায্যকারী) থাকে, আর যুবায়র হল আমার হাওয়ারী। সুফিয়ান (রহঃ) বলেনঃ আমি এ হাদীসটি মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির থেকে হিফয করেছি। একবার আইউব তাকে বললেনঃ হে আবূ বকর (রাঃ), আপনি জাবির (রাঃ)-এর হাদীস বর্ণনা করুন। কেননা, লোকদের নিকট জাবির (রাঃ) কর্তৃক বর্নিত হাদীস খুবই পছন্দনীয়। তখন তিনি সে মজলিসে বললেনঃ আমি জাবির (রাঃ) থেকে শুনেছি। এ বলে তিনি ধারাবাহিক অনেক হাদীস বর্ননা করলেন, যেগুলো আমিও জাবির (রাঃ) থেকে শুনছি। আমি সুফিয়ানকে বললাম যে, সাওরী বলেছেন যে, সেটা ছিল বনূ কুরায়যার যুদ্ধের দিন। তিনি বললেনঃ তুমি যেমন আমার কাছে বসা, ঠিক তেমনি কাছে বসে আমি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে হিফয করেছি যে, সেটি ছিল খন্দকের দিন। সুফিয়ান বলেনঃ এটা একই দিন। তারপর তিনি মুচকি হাসি দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৬৫

অক্টো. 202013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করোব যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একটি ক্ষুদ্র সেনাদল প্রেরণ করলেন এবং এক ব্যাক্তিকে তাদের আমীর নিযুক্ত করে দিলেন। তিনি (আমীর) অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জলিত করে বললেনঃ তোমরা এতে প্রবেশ কর। কতিপয় লোক (আমীরের আনুগত্যের মানসে) তাতে প্রবেশ করতে যাচ্ছিল। এ সময় অন্যরা বলল, আমরা তো (ইসলাম গ্রহণ করে) আগুন থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে চেয়েছি। পরে তারা এ ঘটনা নাবী (সাঃ) -এর নিকট ব্যক্ত করলেন। তখন তিনি যারা আগুনে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ যদি তারা তাতে প্রবেশ করত তাহলে কিয়ামত পর্যন্তই সেখানে থাকত। আর অন্যদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আল্লাহর নাফরমানীর কাজে কোনরুপ আনুগত্য নেই। আনুগত্য করতে হবে কেবলমাত্র বৈধ কাজে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৬৩

অক্টো. 202013
 

সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ জনৈক আনসারী সাহাবী ছিলেন, তিনি যদি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর দরবারে অনুপস্থিত থাকতেন আমি তার কাছে উপস্থিত থাকতাম। তাহলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর এখানে যা কিছু ঘটত তা আমি তাকে বর্ণনা করতাম। আর যদি আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে অনুপস্থিত থাকতাম আর তিনি উপস্থিত থাকতেন, তাহলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর দরবারে যা কিছু ঘটত তিনি এসে তা আমাকে বর্ণনা করতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৬২

অক্টো. 202013
 

সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ প্রত্যেক উম্মাতের মাঝে একজন বিশ্বস্ত লোক থাকে আর এ উম্মাতের বিশ্বস্ত ব্যাক্তিটি হল আবূ উবায়দা ইবন জাররাহ (রাঃ)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ খবরে ওয়াহিদ হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৬১