নভে. 182013
 

মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে যাদু করা হয়েছিল। ফলে তাঁর ধারণা হতো যে, তিনি এ কাজ করেছেন অথচ তিনি এ কাজ করেননি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৫১

নভে. 172013
 

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ বাশীর আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক সফরে তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে ছিলেন। (রাবী) আবদুল্লাহ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (আবূ বাশীর আনসারী) বলেছেন যে, মানুষ শয্যায় ছিল। তখণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন সংবাদ বাহককে এ নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন যে, কোন উটের গলায় যেন ধনুকের রশির মালা কিংবা মালা না থাকে, থাকলে তা যেন কেটে ফেলা হয়। ১ ১ জাহেলী যুগের উটের গলায় এক ধরনের মালা এ উদ্দেশ্যে লটকানো হতো যাতে উট নজর থেকে রক্ষা পায়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই ভ্রান্ত ধারণা দূরীকরণার্থে এ নির্দেশ প্রদান করেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৯৭

নভে. 122013
 

আলী (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ লোকজন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জ্যোতিষদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ তারা মূলত কিছুই নয়। তারা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কখনো কখনো তারা তো এমন কিছু কথাও বলে ফেলে যা সত্য হয়। এতে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এসব কথা সত্য। জিনেরা এসব কথা প্রথম-শোনে, (মনে রেখে) পরে এদের দোসরদের কানে মুরগির মত করকর রবে নিক্ষেপ করে দেয়। এরপর এসব জ্যোতিষী সামান্য সত্যের সাথে শত মিথ্যার মিশ্রণ ঘটায়।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৫১

নভে. 102013
 

মুহাম্মদ ইব্‌ন মূসান্না (রহঃ) হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা সফরে চলছিলাম। (পথিমধ্যে) অবতরণ করলাম। তখন একটি বালিকা এসে বলল, এখানকার গোত্র প্রধানকে সাপে কেটেছে। আমাদের পুরুষগণ অনুপস্থি। অতএব, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি, যিনি ঝাড়-ফুঁক করতে পারেন? তখণ আমাদের মধ্য থেকে একজন ঐ বালকটির সঙ্গে গেলেন। যদিও আমরা ভাবিনি যে সে ঝাড়-ফুঁক জানে। এরপর সে ঝাড়-ফুঁক করল এবং গোত্র প্রধান সুস্থ্য হয়ে উঠল। এতে সর্দার খুশী হয়ে তাকে ত্রিশটি বক্‌রী দান করলেন এবং আমাদের সকলকে দুধ পান করালেন। ফিরে আসার পথে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, তুমি ভালভাবে ঝাড়-ফুঁক করতে জানো (অথবা রাবীর সন্দেহ) তুমি কি ঝাড়-ফুঁক করতে পার? সে উত্তর করল, না আমি তো কেবল উম্মুল কিতাব- সূরা ফাতিহা দিয়েই ঝাড়-ফুঁক করেছি। আমরা তখন বললাম, যতক্ষণ না আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে পৌঁছে তাঁকে জিজ্ঞেস করি ততক্ষণ কেউ কিছু বলবে না। এরপর আমরা মদিনায় পৌছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে ঘটনাটি তুলে ধরলাম। তিনি বললেন, সে কেমন করে জানোল যে, তা (সূরা ফাতিহা) চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে? তোমরা নিজেদের মধ্যে এগুলো বন্টন করে নাও এবং আমার জন্যও একাংশ রাখো। আবূ মা’মার—- আবূ সাঈদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৪১

নভে. 082013
 

ইমরান ইবন মায়সারাহ ও উসায়দ ইবন যায়িদ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ পূর্ববতী উম্মাতদের আমার সমীপে পেশ করা হয়। কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অনেক উম্মাতকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কয়েকজন উম্মাতকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) র সঙ্গে রয়েছে দশজন উম্মাত। কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) র সঙ্গে পাঁচজন আবার কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একা একা যাচ্ছেন। নজর করলাম হঠাৎ দেখি অনেক বড় একটি দল। আমি বললামঃ হে জিবরাঈল! ওরা কি আমার উম্মাত? তিনি বললেনঃ না। তবে আপনি ঊধর্বলোকে নজর করুন! আমি নজর করলাম, হঠাৎ দেখি অনেক বড় একটি দল। ওরা আপনার উম্মাত। আর তাদের সামনে রয়েছে সত্তর হাজার লোক তাদের কোন হিসাব হবে না হবে না তাদের কোন আযাব। আমি বললাম, তা কেন! তিনি বললেনঃ তারা কোন দাগ লাগাত না, ঝাড়ফুকের শরণাপন্ন হত না এবং কুযাত্রা মানত না। আর তারা কেবল তাদের প্রভূর ওপরই ভরসা করত। তখন উক্কাশা ইবন মিহসান নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এব দিকে উঠে দাঁড়িয়ে বললেনঃ আপনি আমার জন্য দোয়া করুন আল্লাহ তা আলা যেন আমাকে তাদের অন্তভুক্ত করেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি একে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর। এরপর আরেক ব্যাক্তি উঠে দাড়িয়ে বলল! আমার জন্য দোয়া করুন আল্লাহ যেন আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ উক্কাশাতো দোয়ার ব্যাপারে তোমার চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গিয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০৯৮

নভে. 082013
 

ইসহাক (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসেবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হবে এমন লোক- যারা ঝাড়ফুকের শরণাপন্ন হয় না, কুযাত্রা মানে না এবং নিজেদের প্রতিপালকের উপরই ভরসা রাখে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০২৮

নভে. 072013
 

আলী (রহঃ) আমির ইবন স্বাদ তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যাক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি আজওয়া খুরমা খাবে ঐ দিন রাত পর্যন্ত কোন বিষ ও যাদু তার কোন ক্ষতি করবে না। অন্যান্য বর্ননাকারীগণ বলেছেনঃ সাতটি খুরমা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩৫৬

নভে. 072013
 

উবায়দ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর উপর যাদু করা হয়। এমনকি তার মনে হতো তিনি কাজটি করেছেন অথচ তা তিনি করেননি। অবশেষে এক দিন তিনি যথন আমার কাছে ছিলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট বার বার দু’আ করলেন। তারপর ঘূম থেকে জেগে বলেন হে আয়িশা। তুমি কি বুঝতে পেরেছ? আমি যে বিষয়ে তার কাছে জানতে চেয়ে-হিলাম, তিনি তা আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! তা কী? তিনি বললেনঃ আমার নিকট দু-জন লোক এলেন। তাদের একজন আমার মাথার নিকট এবং আরেকজন আমার পায়ের নিকট বললেন। তারপর একজন অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করলেন এ লোকটির কী ব্যখা? তিনি উত্তর দিলেনঃ তাঁকে যাদু করা হয়েছে প্রথম জন বললেনঃ কে তাকে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বললেনঃ যুরায়ক গোত্রের নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ ইবন আসম নামক ইয়াহুদী। প্রথম জন জিজ্ঞাসা করলেনঃ যাদু কিসের দ্বারা করা হয়েছে? দ্বিতীয়জন বললেনঃ চিরুনি, চিরুনি আচড়াবার সময়ে উঠে আসা চুল ও নখ খেজুর গাছের জুবের-এর মধ্যে। প্রথম জন জিজ্ঞাসা করলেনঃ তা কোথায়? দ্বীতিয় জন বললেনঃ- সারওয়ান” নামক কুপে। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাহাবীদের কয়েকজনকে নিয়ে ঐ কুপের নিকট গেলেন এবং তা খনন করে দেখলেন। কুপের পাড়ে ছিল খেজুর গাছ। তারপর তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট কিরে এসে বললেনঃ আল্লাহর কসম। কুপটির পানি (রং) মেহদী মিশ্রিত পানির তলানীর ন্যায়। আবূ পার্শবর্তী খেজুর গাছের মাথাও শয়তানের মাথার ন্যয়। আমি বললামঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি কি সেগুলো বের করবেন না? তিনি কালেন: না আল্লাহ আমাকে আরোগ্য ও শিফাদান করেছেন, মানূষের উপর এঘটনা থেকে মন্দ ছড়িলে দিতে আমি শংকোচবোধ করি। এরপর তিনি যাদুর জিনিস পত্রগুলোর ব্যাপারে নির্দেশ দিলে, সেগুলো মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩৫৪

নভে. 072013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) আয়িশা (রহঃ) থেকে বর্নিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর উপর একবার যাদু করা হয়। এমন অবস্থা হয় যে তার মনে হতো তিনি বিবিগণের কাছে এসেছেন- অথচ তিনি আদৌ তাঁদের কাছে আসেন নি। সুফিয়ান বলেনঃ এ অবস্হা হল যাদুর চরম প্রতিক্রিয়া। বর্ণনাকারী বলেন- একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! ঘুম থেকে জেগে উঠেন এবং বলেনঃ হে আয়িশা! তুমি অজ্ঞাত হও যে আমি আল্লাহর কাছে যে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে তা বাতলিয়ে দিয়েছেন। (স্বপ্নে দেখি) আমার নিকট দুঁজন লোক এলেন। তাদের একজন আমার মাথার নিকট এবং অন্যজন আমার পায়ের নিকট বললেন। আমার কাছের লোকটি অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করলেন এ লোকটির কি অবস্হা? দ্বিতিয় লোকটি বলেনঃ একে যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বললেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বললেনঃ লাবীদ ইবন আসাম। এ ইয়াহুদীদের মিত্র যুরায়ক গোত্রের একজন সে ছিল মুনাফিক। প্রথম ব্যাক্তি জিজ্ঞাসা করলেনঃ কিসের মধ্যে যাদু করা হয়েছে? দ্বিতীয় ব্যাক্তি উত্তর দিলেনঃ চিরুনী ও চিরুনি করার সময় উঠে যাওয়া চুলের মধ্যে। প্রথম ব্যাক্তি জিজ্ঞাসা করলেনঃ সেগুলো কোথায়? উত্তরে দ্বিতীয়জন বললেনঃ পূং খেজুর গাছের জবের মধ্যে রেখে সারওয়ান নামক কুপের ভিতর পাথরের নীচে রাখা আছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্ত কুপের নিকট এসে সেগুলো বের করেন এবং বলেনঃ এইটিই সে কুপ, যা আমাকে স্বপ্নে দেখান হয়েছে। এর পানি মেহদী মিশ্রিত পানির তলানীর ন্যায়, আর এ কুপের (পার্শবর্তী) খেজুর গাছের মাথাগুলো (দেখতে) শয়তানের মাথার ন্যায়। বর্ণনাকারী বলেনঃ সেগুলো তিনি সেখান থেকে বের করেন। আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি এ কথা প্রচার করে দিবেন না? তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম, তিনি আমাকে শিফা দান করেছেন আর আমিমানুষকে এমন ব্যাপারে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩৫৩

নভে. 072013
 

আবদূল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেচে থাক। আর তা হল আল্লাহর সঙ্গে শরীক স্হির করা ও যাদূ করা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩৫২