নভে. 172013
 

মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন কোন উপত্যকায় আরোহণ করতাম, তখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার বলতাম। আর আমাদের আওয়াজ অতি উঁচু হয়ে যেত। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের উপর রহম কর। কেননা, তোমরা তো বধির বা দূরবর্তী সত্তাকে ডাকছ না। বরং তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই আছেন, তিনি তো শ্রবণকারী ও নিকটবর্তী।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৮৪

নভে. 132013
 

হযরত মুহাম্মাদ ইবনু সিনান (রহঃ) হযরত আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) সূত্রে বর্নিত, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) কে বললাম, আপনি আমাদের কাছে তাওরাতে বর্নিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর গুনাবলী বর্ননা করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা। মহান আল্লাহ্ তা’আলার কসম, কুরআনে বর্নিত তাঁর কিছু গুনাবলী তাওরাতেও উল্লেখ করা হয়েছে: হে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি আপনাকে সাক্ষীরুপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রুপে প্রেরন করেছি এবং উম্মীদের রক্ষক হিসাবেও। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল (মহান আল্লাহ্ তা’আলার উপর ভরসাকারী) রেখেছি। তিনি মন্দ স্বভাবের নন, কঠোর হৃদয়ের নন এবং বাজারে চীৎকারকারীও নন। তিনি অন্যায়কে অন্যায় দ্বারা প্রতিহত করেননা বরং মাফ করে দেন, ক্ষমা করে দেন। মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাঁকে ততক্ষন মৃত্যু দিবেননা, যতক্ষন না তাঁর দ্বারা বিকৃত মিল্লাতকে ঠিকপথে আনেন অর্থাৎ যতক্ষন না তারা (আরববাসীরা) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এর ঘোষনা দিবে। আর এ কালিমার মাধ্যমে অন্ধ-চক্ষু, বধির-কর্ন ও আচ্ছাদিত হৃদয় খুলে যাবে। আবদুল আযীয ইবনু আবূ সালামা (রহঃ) হিলাল (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ননায় ফুলাইহ (রহঃ) এর অনুসরন করেছেন। সাঈদ (রহঃ) ইবনু সালাম (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ননা করেছেন। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) বলেন, যে সকল বস্তু আবরনের মধ্যে থাকে, তাকে বলে। তার একবচন যেমন, বলা হয়, কোষবদ্ধ তরবারি। কোষবদ্ধ ধনুক। খাতনা না করা পুরুষ।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯৯২

নভে. 122013
 

আহমাদ ইবনু আশকাব (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ দুটি কলেমা (বানী) রয়েছে, যেগুলো দয়াময় আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়, উচ্চারণে খুবই সহজ (আমলের) পাল্লায় অত্যন্ত ভারী। (বানী- দুটি হচ্ছে), সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহান্নাল্লাহিল আযীম- আমরা আল্লাহ তায়ালার প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, মহান আল্লাহ অতীব পবিত্র।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৫৩

নভে. 122013
 

আবূ নুমান (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ পূর্বাচল থেকে একদল লোকের অভ্যুদয় ঘটবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, তবে তাদের এ পাঠ তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে, যেভাবে শিকার (ধনূক) থেকে তীর বেরিয়ে যায়। তারা আর ফিরে আসবে না, যে পর্যন্ত তীর ধনুকের ছিলায় না আসে। বলা হল, তাদের আলামত কি? তিনি বললেনঃ তাদের আলামত হল মাথা মুণ্ডন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৫২

নভে. 122013
 

আমর ইবনু আলী (রহঃ) আবূ জামরা দূবায়ী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বললাম। তিনি বললেনঃ আবদুল কায়সের প্রতিনিধিদল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বলল, আমাদের এবং আপনাদের মাঝখানে মুযার গোত্রের মুশরিকদের বসবাস। যদ্দরুন আমরা সম্মানিত মাস (আশহুরে হুরম) ছাড়া আর কোন সময় আপনার কাছে আসতে পারি না। সুতরাং আমাদের সংক্ষিপ্ত কিছু বিষয়ের নির্দেশ দিন, যা মেনে চললে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করব এবং আমরা যাদের রেখে এসেছি তাদেরও আহবান জানাতে পারব। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। আর চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার। আর তোমরা জানো কি, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা কাকে বলে? তা হল, সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, সালাত (নামায) কায়েম করা, যাকাত দেয়া, গনীমতের মালের এক , পঞ্চমাংশ দেওয়া। তোমাদের চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি, (তা হলো) লাউয়ের খোল দ্বারা তৈরি পাত্রে, খেজুর গাছের মূল খোদাই করে তৈরি পাত্রে, আলকাতরা জাতীয় (রাসায়নিক) দ্রব্য দিয়ে প্রলেপ দেওয়া গাত্রে, মাটির সবুজ ঘটিতে তোমরা পান করবে না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৪৬

নভে. 122013
 

আবূ মামার (রহঃ) ইমরান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমলকারীরা কিসে আমল করছে? তিনি বললেনঃ যাকে যে কাজ করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সে কাজ করা সহজ করে দেওয়া হয়।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৪২

নভে. 122013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে উরওয়া ইবনু যুবায়র, সাঈদ ইবনু মূসা ইয়্যাব, আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস, উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ), আয়েঁশা (রাঃ)-এর হাদীস সম্পর্কে বলেছেন। তাকে যখন অপবাদকারিগণ অপবাদ দিয়েছিল। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেনঃ বর্ননাকারীদের এক একজন সে সম্পর্কে আমার কাছে হাদীসের এক এক অংশে বর্ণনা করেছেন। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ এর দরুন আমি আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম। অথচ আমি তখন জানি, আমি নির্দোষ পবিত্র এবং আল্লাহ আমাকে নির্দোষ বলে প্রমান করবেন। আল্লাহর কসম! কিন্তু আমার মর্যাদা আমার কাছে এরুপ উপযুক্ত ছিল না যে, এ ব্যাপারে ওহীই নাযিল করবেন। যা তিলাওয়াত করা হবে আমার মর্যাদা আমার কাছে তার চাইতে তুচ্ছ ছিল যে, আল্লাহ তাআলা আমার বিষয়ে এমন কোন কালাম করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। এ প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ অবতীর্ন করলেনঃ যারা এমন জঘন্য অপবাদ এনেছে পূর্ন দশটি আয়াত।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৩৬

নভে. 122013
 

ইবরাহীম ইবনু হামযা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ উচ্চসূরে মধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) র প্রতি যেরুপ সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন, অন্য কিছুর প্রতি সেরুপ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৩৫

নভে. 122013
 

মূসাদ্দাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দু-জন ইহুদী নারী-পুরুষকে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে আনা হলো। তারা যিনা করেছিল। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা ইহুদীগণ এ যিনাকারী ও যিনাকারিনাদের সাথে কি আচরণ করে থাক? তারা বলল, আমরা এদেরকে (এক পদ্ধতিতে) মুখ কালো ও লাঞ্ছিত করে থাকি। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তাওরাত এনে তা তিলাওয়াত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা তাওরাত নিয়ে আসল এবং তাদেরই খুশিমত এক ব্যাক্তিকে ডেকে বলল, হে আওয়ার! তুমি পাঠ কর। সে পাঠ করতে লাগল। পরিশেষে এক স্থানে এসে সে তাতে আপন হাত রেখে দিল। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমার হাতটি উঠাও। সে হাত উঠাল। হঠাৎ যিনার শাস্তি পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা (রজম)-এর আয়াতটি স্পষ্টত দেখা যাচ্ছিল। তিলাওয়াতকারী বলল, হে মুহাম্মাদ! এদের (দু-জনের) মধ্যখানে শাস্তি পক্ষান্তরে রজমই, কিন্তু আমরা পরস্পর তা গোপন করছিলাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে রজম করার নির্দেশ দিলে তাদেরকে রজমই করা হয়। বর্ণনাকারী বলেনঃ যিনাকারী পূরুষটিকে মেয়ে লোকটির উপর ঝুকে পড়ে তাকে পাথর থেকে রক্ষার চেষ্টা করতে দেখেছি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৩৪

নভে. 122013
 

মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আহলে কিতাব তাওরাত হিব্রু ভাষায় পাঠ করত, আর মুসলমানদের জন্য আরবী ভাষায় এর ব্যাখা করত। এ প্রেক্ষিতে তিনি বললেনঃ কিতাবধারীদেরকে তোমরা বিশ্বাস করো না আবার তাদেরকে মিথ্যারোপও করো না বরং তোমরা আল্লাহর এ বানিটি (আমরা আল্লাহতে এবং আমাদের ও তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ন হরেছে তাতে ঈমান এনেছি) বল।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৩৩