নভে. 172013
 

আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) (আমর) ইবনু দীনার (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু যায়দ ও আমর ইবনু আউস (রহঃ) সহ যমযমের সিড়ির নিকট বসাছিলাম, হিজরী সত্তর সনে যে বছর মুসআব ইবনু যুবায়র (রাঃ) বসরাবাসীদের নিয়ে হাজ্জ (হজ্জ) আদায় করেছিলেন। তখন বাজালাহ তাদের উভয়কে এ হাদীস বর্ণনা করেন, আমি আহনাফের চাচা জাযই ইবনু মুআবিয়া (রাঃ)-এর লেখক ছিলাম। আমাদের নিকট উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগে একখানি পত্র আসে যে, যে সব মাজুসী মাহরামদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ তাদের বিচ্ছিন্ন করে দাও। আর উমর (রাঃ) মাজুসীদের কাছ থেকে জিযিয়া গ্রহণ করতেন না, যে পর্যন্ত না আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এ মর্মে সাক্ষী দিলেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাজার এলাকার মাজুসীদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছেন। ** পারসিক অগ্নিপূজকদের মাজুসী বলে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৩৫

নভে. 142013
 

হযরত আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী কর্তৃক বিক্রয় করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং তোমরা প্রতারনামূলক দালালী করবেনা। কোন ব্যাক্তি যেন তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে। কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। কোন মহিলা যেন তার বোনের (সতীনের) তালাকের দাবী না করে, যাতে সে তার পাত্রে যা কিছু আছে, তা নিজেই নিয়ে নেয়।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ২০০৭

নভে. 102013
 

মুহাম্মাদ ইবন আবূ ইয়াকুব কিরমানী (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর স্ত্রীকে ঝতূবতী অবস্হায় তালাক দিয়েছিলেন। উমর (রাঃ) এ ঘটনা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে বর্ণনা করেন। এতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগাম্বিত হন। এরপর তিনি বলেনঃ সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে এবং তাকে আটকিয়ে রাখে, যতক্ষন পর্যন্ত সে পবিত্র হযে পূনরায় ঋতুবতী না হয় এবং পুনরায় পবিত্র না হয়। এরপরও যদি তার তালাক দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে যেন তখন (পবিত্রাবস্হায়) তালাক দেয়। আবূ আব্দুল্লাহ (বুখারী) (রাঃ) বলেন- যুহরী-ই মুহাম্মাদ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৭৪

নভে. 052013
 

হিব্বান ইবন মুসা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রিফাআ কুরাবী (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন এবং অকাট্য তালাক দেন। এরপর আবদুর রহমান ইবন যুবায়র তাকে বিয়ে করেন। পরে তিনি নাবী (সাঃ) -এর কাছে এসে বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ তিনি রিফাআর কাছে ছিলেন এবং রিফাআ তাকে শেষ তিন তালাক দিয়ে দেন এবং তাঁকে আবূদর রহমান ইবন যুবায়র বিয়ে করেন। আল্লাহর কসমা ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! এর কাছে তো শুধূ এ কাপড়ের মত রঁয়েছে। (একথা বলে) তিনি তাঁর ওড়নার আচল ধরে উঠালেন। রাবী বলেনঃ তখন আবূ বকর (রাঃ) নাবী (সাঃ) -এর নিকট বসা ছিলেন এবং সাঈদ ইবন আসও ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি লাভের অপেক্ষায় হুজরার দরজার কাছে বসা ছিলেন। তখন স্বাদ (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) কে উচ্চস্বরে ডেকে বললেনঃ হে আবূ বকর আপনি এই মহিলাকে কেন ধমক দিচ্ছেন না, যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর সামনে (প্রকাশ্যে) এসব কথাবার্তা বলছে তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কেবল মুচকি হাসছিলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ সম্ভবত তুমি আবার রিফাআ (রাঃ)-এর নিকট ফিরে যেতে চাও। তা হবে না। যতক্ষন না তুমি তার এবং সে তোমার মিলন স্বাদ গ্রহন করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৫৫

নভে. 022013
 

কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নাবী (সাঃ) লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীকে বলেছিলেন, আল্লাহ তোমাদের হিসাব গ্রহণ করবেন। তোমাদের একজন মিথ্যুক। তার (মহিলার) ওপর তোমার কোন অধিকার নেই। সে বললঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আমার মাল? তিনি বললেনঃ তোমার কোন মাল নাই। তুমি যদি সত্যই বলে থাক, তাহলে এ মাল তার লজাস্থানকে হালাল করার বিনিময়ে হবে। আর যদি মিথ্যা বলে থাক, তবে এটা চাওয়া তোমার জন্য একান্ত অনুচিত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯৫৯

নভে. 022013
 

আমর ইবন যুরারা (রহঃ) সাঈদ ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উময়কে জিজ্ঞাসা করলামঃ যদি কেউ তার স্ত্রীকে অপবাদ দেয়? তিনি বললেন, নাবী (সাঃ) আজলান গোত্রের এক দম্পর্তির বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। নাবী (সাঃ) বলেনঃ আল্লাহ জানে তোমাদের দু-জনের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ কি তাওবা করতে রাবী আছ? তারা উভয়ে অস্বীকার করল। তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ অবহিত আছেন তোমাদের একজন অবশ্যই মিথ্যাবাদী। কাজেই তোমাদের মধ্যে কে তাওবা করতে রাযী আছ? তারা কেউ রাযী হল না। এরপর তিনি তাদেরকে পৃথক করে দেন। আইয়্যুব বলেনঃ- আমর ইবন দীনার আমাকে বললেন, এই হাদীসে আরো কিছু কথা আছে, আমি তা তোমাকে বর্ণনা করতে দেখছি না। রাবী বলেন, লোকটি তখন বললঃ আমার মাল (স্ত্রীকে প্রদত্ত মোহর) ফিরে পাব না? তিনি বললেনঃ তুমি কোন মাল পাবে না। যদি তুমি সত্যবাদী হও, তাওতো তুমি তবে সাথে সংগম করেছ। আর যদি মিথ্যাবাদী হও, তাহলে তো কোন প্রশ্নই আসে না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯৫৮

নভে. 022013
 

ইসহাক ইবন মানসুর (রহঃ) মুজাজির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বানীঃ- তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায় তিনি এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন! স্বামীর বাড়ীতে অবস্থান করে এ ইদ্দত পালন করা মহিলার জন্য ওয়াজিব ছিল। পরে মহান আল্লাহ নাযিল করেনঃ তোমাদের মধ্য স্বপত্নীক অবস্থায় যাদের মূত্যু আসন্ন তারা যেন তাদের স্ত্রীকেরকে গৃহ থেকে বহিষ্কার না করে তাদের এক বছরের ভরন-পোষনের ওসিয়্যত করে। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায় তবে বিধিমত নিজেদের জন্য তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। (আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়)। মুজাহিদ বলেনঃ আল্লাহ তাআলা সাত মাস বিশ দিনকে তার জন্য পূর্ণ বছর সাব্যস্ত করেছেন। মহিলা ইচ্ছা করলে ওসিয়্যত অনুসারে থাকতে পারে, আবার চাইলে চলেও যেতে পারে। একথাই আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ “ বহিষ্কার না করে, তবে যদি সেচ্ছায় বের হয়ে যায় তবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই তাই মহিলার উপরইদ্দত পালন করা যথারীতি ওয়াজিবই আছে। আবূ নাজীহ এ কথাগুলো মূজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আতা বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ আর আয়াতটি স্বামীর বাড়ীতে ইদ্দত পালন করার হুকুমকে রহিত করে দিয়েছে। অতএব সে যেখানে ইচ্ছা ইদ্দত পালন করতে পারে। আতা বলেনঃ ইচ্ছা হলে ওসিয়্যত অনুযায়ী সে স্বামীর পরিবারে অবস্থান করতে পারে। আবার ইচ্ছা হলে অন্যত্রও ইদ্দত পালন করতে পাবে। কেননা! মহান আল্লাহ বলেছেরঃ তারা নিজেদের জন্য বিধিমত যা করবে, তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। “আতা বলেন- এরপর মিরাসের আয়াত নায়িল হলে বাসস্থান দেওয়ার হুকুমও রহিত হয়ে যায়। এখন সে যেখানে মনে চায় ইদ্দত পালন করতে পারে, তাকে বাসস্থান দেওয়া জরুরী নয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯৫৩

নভে. 022013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) মুহাম্মদ ইবন সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) বলেছেন, স্বামী ছাড়া অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯৫০

নভে. 022013
 

হাজ্জাজ (রহঃ) ইউনুস ইবন জুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমরকে (হায়েয অবস্থায় তালাক দেওয়া সম্পর্কে) জিজ্ঞাস করলাম। তিনি বললেনঃ ইবন উমব (রাঃ) তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে উমর (রাঃ) নাবী (সাঃ) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাকে আদেশ দেন। এরপর বলেনঃ ইদ্দতের সময় আসলে সে তালাক দিতে পারে। রাবী বলেন, আমি বললাম এ তালাক কি হিসাবে ধরা হবে? ইবন উমর বললেনঃ তবে কি মনে করছ, যদি সে অক্ষম হন বা বোকামী করে। (তাহলে দায়ী কে?) ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯৪৭

নভে. 022013
 

কুতায়বা (রহঃ) নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন উমর (রাঃ) তার স্ত্রীকে ঋতুমতী অবস্হায় এক তালাক দেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে আদেশ দিলেন, তিনি যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনেন এবং মহিলা পবিত্র হয়ে পূনরায় ঋতুমতী হয়ে পরবর্তী পবিত্রাবস্থা আসা পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রাখেন। পবিত্রাবস্থায় যদি তাকে তালাক দিতে চায় তবে দিতে পারেবে কিন্তু তা সংগমের পূর্বে হতে হবে। এটাই ইদ্দত, যে সময় তালাক দেয়ার জন্য আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাদের বলেনঃ তুমি যদি তাকে তিন তালাক দিয়ে দাও। তবে মহিলা অন্য স্বামী গ্রহণ না করা পর্যন্ত তোমার জন্য হালাল হবে না। অন্য বর্ননায় ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, তুনি যদি এক বা দু- তালাক দিতে কেননা নাবী (সাঃ) আমাকে এরুপই আদেশ দিয়েছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯৪৬