নভে. 222013
 

বায়ান ইবনু আম্‌র (রহঃ) আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, লোকজন তাঁর সামনে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর (দাজ্জালের) দু’ চোখের মাঝখানে অর্থাৎ কপালে লেখা থাকবে কাফির বা কাফ, ফা, রা। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর কাছে শুনে। বরং তিনি বলেছেন, যদি তোমরা ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে চাও তবে তোমাদের সাথীর (আমার) দিকে তকাও আর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন কুকড়ানো চুল, তামাটে রং-এর দেহ বিশিষ্ট। তিনি এমন এক লাল উথঠের উপর উপবিষ্ঠ, যার নাকের রশি হবে খেজুর গাছের চালের তৈরি। আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি, তিনি আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে দিতে উপত্যকায় অবতরণ করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১১৮

নভে. 212013
 

আবূ নুআঈম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পরকে এমন আক্তি কথা বলে দেব না, যা কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ই তাঁর সম্প্রদায়কে বলেন নি? তা হল, নিশ্চয়ই সে হবে কানা, সে সাথে করে জান্নাত এবং জাহান্নামের দু’টি কৃত্রিম ছবি নিয়ে আসবে। অতএব যাকে সে বলবে যে এটি জান্নাত প্রকৃতপক্ষে সেটি হবে জাহান্নাম। আর আমি তার সম্পর্কে তোমাদের ঠিক তেমনি সতর্ক করছি, যেমন নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সম্প্রদায়কে সে সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১০২

নভে. 212013
 

আবদান (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা জনসমাবেশে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন, তারপর দাজ্জালের উল্লেখ করে বললেন, আমি তোমাদেরকে তার থেকে সতর্ক করছি আর প্রত্যেক নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ই নিজ নিজ সম্প্রদায়কে এ দাজ্জাল থেকে সতর্ক করে দিয়েছেন। নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -ও নিজ সম্প্রদায়কে দাজ্জাল থেকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার সম্বন্ধে এমন একটা কথা বলছি, যা কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্প্রদায়কে বলেন নি। তা হল তোমরা জেনে রেখ, নিশ্চয়ই দাজ্জাল কানা, আর আল্লাহ কানা নন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১০১

নভে. 212013
 

ইবরাহীম ইবনু মুনযীর (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোন শহর নেই যেখানে দাজ্জাল অনুপ্রবেশ করবে না। মক্কা এবং মদিনার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথেই ফিরিশতা গন সারিবদ্ধ ভাবে পাহারায় নিয়জিত থাকবে। এরপর মদিনা তাঁর অধিবাসীদেরকে তিন বার কেপে উঠবে। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা সমস্ত কাফির এবং মুনাফিকদেরকে বের করে দেবেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬১

নভে. 212013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আবূ সা’ইদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সামনে দাজ্জাল সম্পর্কে এক দীর্ঘ হাদীস বর্ননা করেছেন। বর্নিত কথা সমূহের মাঝে তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, মদিনায় প্রবেশ পথে অনুপ্রবেশ অরা দাজ্জালের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই সে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মদিনার নিকতবর্তী কোন একটি লোনা জমিতে অবতরন করবে। তখন তাঁর নিকট এক ব্যাক্তি যাবে যে উত্তম ব্যাক্তি হবে বা উত্তম মানুষের একজন হবে এবং সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমিই হলে সে দাজ্জাল যার সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের অবহিত করেছেন। দাজ্জাল বলবে, আমি যদি তাঁকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করি তাহলেও কি তোমরা আমার ব্যাপারে সন্দেহ করবে? তাঁরা বলবে, না। এরপর দাজ্জাল লোকটিকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করবে। জীবিত হয়েই লোকটি বলবে আল্লাহর শপথ! আজকের চেয়ে অধিক প্রত্যয় আমার আর কখনো ছিলনা। তারপর দাজ্জাল বলবে , আমি লোকটিকে হত্যা করে ফেলব। কিন্তু সে লোকটিকে আর হত্যা করতে সক্ষম হবে না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬০

নভে. 212013
 

‘আব্দুল ‘আযীয ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্নিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মদিনার প্রবেশ পথসমূহে ফিরিশতা প্রহরায় নিয়োজিত থাকবে। তাই প্লেগ এবং দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ কতে পারবে না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৫৯

নভে. 182013
 

মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তাঁর দু’ চোখের মাঝে (কপালে) কা-ফি-এর লেখা থাকবে। রাবী বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এ সম্পর্কে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কিছু শুনিনি। অবশ্য তিনি বলেছেনঃ আমি যেন দেখছি মূসা (‘আ) নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৪৬১

নভে. 172013
 

আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাঃ) কয়েকজন সাহাবীসহ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-)-এর সঙ্গে ইবনু সাইয়াদের কাছে যান। তাঁরা তাকে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাগালার টিলার উপর ছেলে-পেলেদের সঙ্গে খেলা-ধুলা করতে দেখতে পান। আর এ সময় ইবনু সাইয়াদ বালিগ হওয়ার নিকটবর্তী হয়েছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর (আগমন সম্পর্কে) সে কোন কিছু টের না পেতেই নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার পিঠে হাত দিয়ে মৃদু আঘাত করলেন। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (হে ইবনু সাইয়াদ!) তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)? তখন ইবনু সাইয়াদ তাঁর প্রতি তাকিয়ে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মি লোকদের রসূল। ইবনু সাইয়াদ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে বলল, আপনি এ সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন, আমি আল্লাহ্‌ তা’আলা ও তাঁর সকল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর প্রতি ঈমান এনেছি। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি দেখ? ইব্‌ন সাইয়াদ বলল, আমার নিকট সত্য সংবাদ ও মিথ্যা সংবাদ সবই আসে। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, প্র্রকৃত অবস্থা তোমার নিকট সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত হয়ে আছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বললেন, আচ্ছা! আমি আমার অন্তরে তোমার জন্য কিছু কথা গোপন রেখেছে (বলতো তা’ কি?) ইবনু সাইয়াদ বলল, তা’ হচ্ছে ধুয়া। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আরে থাম, তুমি তোমার সীমার বাইরে যেতে পার না। উমর (রাঃ) বলে উঠলেন, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যদি সে প্রকৃত দাজ্জাল হয়, তবে তুমি তাকে কাবু করতে পারবে না আর যদি সে দাজ্জাল না হয়, তবে তাকে হত্যা করে তোমার কোন লাভ নেই। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও উবাই ইবনু কাব (রাঃ) উভয়ে সে খেজুর বৃক্ষের নিকট গমন করেন, যেখানে ইবনু সাইয়াদ অবস্থান করছিল। যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি খেজুর ডালের আড়ালে চলতে লাগলেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল যে, ইবনু সাইয়াদের অজ্ঞাতসারে তিনি তার কিছু কথা শুনে নিবেন। ইবনু সাইয়াদ নিজ বিছানা পেতে চাঁদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছি এবং কি কি যেন গুন গুন করছিল। তার মা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে দেখে ফেলেছিল যে, তিনি খেজুর বৃক্ষের আড়ালোসছেন। তখন সে ইবনু সাইয়াদকে বলে উঠল, হে সাফ! আর ছিল তার নাম। সে দ্রুত উঠে দাঁড়াল। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মহিলাটি যদি তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিত, তবে তার ব্যাপারটা প্রকাশ পেয়ে যেত। আর সালিম (রাঃ) বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের মাঝে দাঁড়ালেন। প্রথমে তিনি আল্লাহ তাআলার যথাযথ প্রশংসা করলেন। তারপর দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করলেন। আর বললেন, আমি তোমাদের দাজ্জাল থেকে সতর্ক কদদিচ্ছি। প্রত্যেক নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ই তার সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। নূহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সম্প্রদায়কেও দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি তোমাদেরকে তার সম্পর্কে এমন একটি কথা জানিয়ে দিব, যা কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্প্রদায়কে জানাননি। তোমরা যেন রেখ যে, সে হবে কানা আর অবশ্যই আল্লাহ কানা নন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৪০

নভে. 122013
 

ইসহাক ইবন আবূ ঈসা (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ দাজ্জাল মদিনার উদ্দেশ্যে আসবে, তবে সে ফেরেশতাদেরকে মদিনা পাহারারত দেখতে পাবে। সুতরাং দাজ্জাল ও প্লেগ মদিনার কাছেও আসতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৬৫

নভে. 122013
 

হাফস ইবন উমার (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ এমন কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করেননি যিনি তার কওমকে কানা মিথ্যুকটি সম্পর্কে সাবধান করেননি) এই মিথ্যুকটি তো কানা (দাজ্জাল)। আর তোমাদের প্রতিপালক তো অন্ধ নন। তার (দাজ্জালের) দূচোখের মাঝখানে কাফের (লেখা থাকবে )।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯০৪