নভে. 172013
 

ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রাঃ) মুজাশি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাতিজাকে নিয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) – এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তারপর আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল আমাদেরকে হিজরতের উপর বায়আত নিন’। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন, ‘হিজরত তো হিজরতকারীগণের জন্য অতীত হয়ে গেছে’। আমি বললাম, ‘তাহলে আপনি আমাদের কিসের উপর বায়আত নিবেন?’ তদুত্তরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন, ‘ইসলাম ও জিহাদের উপর’।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৫৬

নভে. 172013
 

মাক্কী ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) – এর নিকট বায়আত করলাম। তারপর আমি একটি বৃক্ষের ছায়াতলে গেলাম। মানুষের ভীড় কমে গেলে, (তাঁর নিকট উপস্থিত হলে) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, ‘ইবনু আকওয়া! তুমি কি বায়আত করবে না?’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বায়আত করেছি’। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আরেকবার হোক না’। তখন আমি দ্বিতীয়বার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) – এর নিকট বায়আত করলাম। (বর্ণনাকারী) বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আবূ মুসিলম! সেদিন তোমরা কোন্ বিষয়ের উপর বায়আত করেছিলে?’ তিনি বললেন, ‘মৃত্যুর উপর’।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৫৪

নভে. 172013
 

মূসা ইবনু ইসমাইল (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, র্হারা নামক যুদ্ধের সময়ে তাঁর নিকট জনৈক ব্যাক্তি এসে বললো, ‘ইবনু হানযালা (রাঃ) মানুষের নিকট থেকে মৃত্যুর উপর বায়আত গ্রহণ করেছেন। তিনি বললেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) – এর পর আমি তো কারো নিকট এরূপ বায়আত করব না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭৫৩

নভে. 122013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একদল লোকের সাথে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে বায়আত করেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের বায়আত এ শর্তে করছি-যে, তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না তোমাদের হাত ও পায়ের মধ্যবর্তী লজ্জাস্হানকে কেন্দ্র করে কোন ভিত্তিহীন জিনিস গড়বেনা, কোন ভাল কাজে আমার অবাধ্য হবে না। তোমাদের থেকে যরো ওসব যথাযথ পুরা করবে, আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান রয়েছে। আর যারা ওসব নিযিদ্ধ জিনিসের কোনটায় লিপ্ত হয়ে গেলে তাকে যদি সে কারণে দূনিয়ায় শাস্তি প্রদান করা হয়, তা হলে তা হবে তার জন্য কাফফারা এবং পবিত্রতা। আর যাদের দোষ আল্লাহ ঢেকে রাখেন সেটি আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়। তিনি ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন ইচ্ছা করলে ক্ষমা করে দিবেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৬০

নভে. 112013
 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন আবদুল ওয়াহ্‌হাব (রহঃ)………উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাই’আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ থেকে এ অংগীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। ………আমাদের মধ্য হতে পাঁচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল ‘আলা, আবূ সাব্‌রাহ্‌র কন্যা মু’আযের স্ত্রী, আরো দু’জন মহিলা বা মু’আযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে অংগীকার রক্ষা করেনি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২২৮

নভে. 102013
 

ইসমাঈল (রহঃ) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ সালামী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক বেদুঈন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট ইসলামের উপর বায়আত গ্রহণ করল। এরপর সে মদিনায় জ্বরে আক্রান্ত হল। বেদুঈন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খিদমতে হাযির হয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। পূনরায় সে এসে বলল, আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অস্বকৃতি জানালেন। এরপর সে আবার এসে বলল, আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। এবারও নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অস্বীকৃতি জানালে বেদুঈন বেরিয়ে গেল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ মদিনা হয়েছে কামারের হাপরের মত। সে তার মধ্যকার-আবর্জনাকে বিদূরিত করে এবং খাঁটিটুকু ধরে রাখে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮২৩

নভে. 102013
 

ইবরাহীম ইবন মূসা (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্গিত। তিনি উমর (রাঃ)-এর দ্বিতীয় ভাষণটি শুনেছেন যা তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকালের পরদিন মিম্বরে বসে দিয়েছিলেন। তিনি ভাষণ শুরু করলেন, তখন আবূ বকর (রাঃ) কোন কথা না বলে চুপ রয়েছেন। তিনি বলেনঃ আমি তো আশা করছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন এবং আমাদের পিছনে যাবেন। এ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যে, তিনি সবার শেষে ইন্তেকাল করবেন। তবে মুহাম্মাদ যদিও ইন্তেকাল করেছেন, তবে আল্লাহ তা-আলা তোমাদের মাঝে এমন এক নূর রেখেছেন, যার দ্বারা তোমরা হেদায়াত পাবে। আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ -কে (এ নুর দিয়ে) হেদায়াত করেছিলেন। আর আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন তাঁর সঙ্গী এবং দুজনের দ্বিতীয় জন। তোমাদের এ দায়িত্ব বহনের জন্য মুসলমানদের মধ্যে তিনিই সর্বোত্তম। সুতরাং তোমরা উঠ এবং তার হাতে বায়আত গ্রহণ কর। অবশ্য এক জামাআত ইতিপূর্বে বনী সাঈদা গোত্রের ছায়ানীড়ে তার হাতে বায়-আত গ্রহণ করেছিল। আর সাধারণ বায়আত হয়েছিল মিম্বরের উপর। যুহরী (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি সেদিন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে বলছেন, মিন্বরে আরোহণ করুন। তিনি বারবার এ কথা বলতে বলতে অবশেষে আবূ বকর (রাঃ) মিম্বরে আরোহণ করলেন। অতঃপর তাঁর কাছে লোকেরা সাধারণ বায়আত গ্রহণ করল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭২৬

নভে. 102013
 

আবূ নুআয়ম (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুঈন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট এসে বলল, ইসলামের উপর আমার বায়আত নিন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামের উপর তার বায়আত নিলেন। পরদিন সে জ্বরাক্রান্ত অবস্হায় এসে বলল, আমার বায়আত প্রত্যাহার করুন। তিনি অম্বীকৃতি জানালেন। যখন সে চলে গেল, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ মদিনা কামারের হাপরের ন্যায়, সে তার মধ্যকার আবর্জনাকে বের করে এবং খাটিটুকু ধরে রাখে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭২৩

নভে. 102013
 

মূসাদ্দাদ (রহঃ) উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট বায়আত গ্রহন করলাম। তিনি আমার সামলে পাঠ করলেনঃ স্ত্রীলোকেরা যেন আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে। এবং তিনি আমাদেরকে বিলাপ করতে নিষেধ করলেন। এমতাবস্থায় আমাদের মধ্য থেকে একজন স্ত্রীলোক তার হাত গুটিয়ে নিল এবং বলল, অমুক স্ত্রীলোক একবার আমার সাথে বিলাপে সহযোগিতা করেছে। সুতরাং আমি তার প্রতিদান দেওয়ার ইচ্ছা রাখি। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু বললেন না। স্ত্রীলোকটি চলে গেল এবং পরে এসে বায়আত গ্রহন করল। তবে তাদের মধ্যে উম্মু সুলায়ম, উম্মুল আলা, আর মু’আয (রাঃ)-এর স্ত্রী আবূ সাবরা-এর কন্যা, কিংবা বলেছিলেন, আবূ সাবরা-এর কন্যা ও মু’আয-এর স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন স্ত্রীলোক এই অঙ্গীকার পূর্ণ করেনি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭২২

নভে. 102013
 

মাহমূদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না”- এই আয়াত পাঠ করে স্ত্রীলোকদের কাছ থেকে বায়আত নিতেন। তিনি আরও বলেনঃ বৈধ অধিকার প্রাপ্ত মহিলা ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর হাত অন্য কোন স্ত্রী লোকের হাত স্পর্শ করেনি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭২১