নভে. 172013
 

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) রাফী ইবনু খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সাথে যুল-হুলাইফায় অবস্থান করছিলাম। লোকেরা ক্ষুধার্ত হয়েছিল। আর আমরা গনীমত স্বরূপ কিছু উট ও বকরী লাভ করেছিলাম। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের পিছন সারিতে ছিলেন। লোকেরা তাড়াতাড়ি করে (জন্তু যবেহ করে) ডেগ চড়িয়ে দিয়েছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ডেকগুলো (উপর করে ফেলার) নির্দেশ দিলেন এবং উপর করে ফেলে দেওয়া হল। এরপর তিনি দশটি বকরীকে একটি উটের সমান ধরে তা বণ্টন করে দিলেন। তার মধ্য থেকে একটি উট পালিয়ে গেল। লোকদের নিকট ঘোড়া কম ছিল। তারা তা অনুসন্ধানে বেরিয়ে গেল এবং তারা ক্লামত্ম হয়ে পড়ল। এরপর এক ব্যাক্তি উটটির প্রপি তীর নিক্ষেপ করল, আল্লাহ তা‘আলা তার গতিরোধ করে দিলেন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘এ সকল গৃহ পেলিত জন্তুর মধ্যে কতক বন্য জন্তুর মত অবাধ্য হয়ে যায়। সুতরায় যাতোমাদের নিকট হতে পলায়ন করে তার সঙ্গে এরূপ আচরণ করবে। ’ রাবী বলেন, আমার দাদা রাফি ইবনু খাদীজ (রাঃ) বলেছেন, আমরা আশা করি কিংবা আশয্কা করি যে, আমরা আগামীকাল শত্রুর মুখোমুখী হব। আর আমাদের সঙ্গে ছুরি নেই। আমরা কি বাঁশের ধারালো চোকলা দ্বারা যবেহ করব? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং (যার যবেহকালে) আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে (বিসমিল্লাহ পাঠ করা হয়েছে) তা আহার কর। কিন্তু দাঁত ও নখ দিয়ে নয়। কারণ আমি বলে দিচ্ছিঃ তা এই যে, দাঁত হল হাঁড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৫৮

নভে. 132013
 

হযরত আহমদ ইবনু মিকদাম ইজলী (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, কিছু সংখ্যক লোক বলল, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) , বহু লোক আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে, আমরা জানিনা, তারা বিসমিল্লাহ্ পড়ে যবেহ্ করেছিলো কিনা? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা এর উপর মহান আল্লাহ্ তা’আলার নাম লও এবং তা খাও (ওয়াসওয়াসার শিকার হয়োনা)।

 

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি    অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয়    হাদিস নাম্বারঃ   ১৯২৯

নভে. 122013
 

হাফস ইবন উমর (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিসমিল্লাহ পড়ে এবং তাকবীর বলে দুইটি ভেড়া কুরবানী করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৯৫

নভে. 122013
 

ইউসুফ ইবন মূসা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এখানে এমন কতিপয় কাওম আছে, যারা সদ্য শিরক বর্জন করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তারা আমাদের জন্য গোশত নিয়ে আসে। সেগুলো যবাই করার সময় তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে কিনা তা আমরা জানিনা। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে নেবে এবং তা খাবে। এই হাদীস বর্ণনায় আবূ খালিদ (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান, দায়াওনীদী এবং উসামা ইবন হাফস।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৯৪

নভে. 122013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ) আদী ইবন হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি আমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর (শিকারের জন্য) ছেড়ে দেই। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যখন তুমি আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে তোমার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুরগুলো ছেড়ে দেবে এবং যদি সে কোন শিকার ধরে আনে তাহলে তা খেতে পার। আর যদি ধারাল তীর নিক্ষেপ কর এবং এতে যদি শিকারের দেহ ফেড়ে দেয়, তবে তা খেতে পার।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৯৩

নভে. 102013
 

মুহাম্মাদ ইবন সালাম (রহঃ) রাফী ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন এক সফরে আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সংগে ছিলাম। তখন উটগুলোর মধ্য থেকে একটি উট পালিয়েযায়। তিনি বলেন তখন এক ব্যাক্তি সেটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করলে আল্লাহ সেটিকে থামিয়ে দেন। তিনি বলেন এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এ সকল পশুর মধ্যে বন্যপশুর চাঞ্চল্য আছে। সুতরাং তার মধ্যে যেটি তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠলে সেটির সংগে অনুরুপ ব্যবহার করো। তিনি বলেন আমি বললামঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমরা অনেক সময় যুদ্ধ অভিযানে বা সফরে থাকি যবাহ করতে ইচ্ছা করি কিন্তু ছুরি থাকে না। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আঘাত করো এমন জিনিস দ্বারা যা রক্ত প্রবাহিত করে অথবা তিনি বলেছেনঃ এমন জিনিস দ্বারা যা রক্ত ঝরায় এবং যার উপরে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে সেটি খাও, তবে দাত ও নখ ব্যতীত। কেননা দাত হল হাড়, আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যবাহ করা, শিকার করা হাদিস নাম্বারঃ ৫১৪৬

নভে. 102013
 

মূসাদ্দাদ (রহঃ) রাফি ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললাম। আগামী দিন আমরা শক্রর মুকাবিলা করবো; অথচ আমাদের সঙ্গে কোন ছুরি নেই। তিনি বললেনঃ সতর্ক দৃষ্টি রাখো কিংবা তিনি বলেছেনঃ জলদি করো। যে জিনিস রক্ত বহায় এবং যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, সেটি খাও। যতক্ষন না সেটি দাত কিংবা নখ হয়। এ ব্যাপারে তোমাদের জানোাচ্ছি, দাঁত হলো হাড়, আর নখ হল হাবশীদের ছুরি। দলের দ্রুতগামী লোকেরা আগে বেড়ে গেল এবং গনীমতের মালামাল লাভ করল। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন লোকজনের পেছনে। তারা ডেকচি চড়িয়ে দিল। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে তা উল্টিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন, তারপর সেজলো উল্টিয়ে দেয়া হল। এরপর তিনি তাদের মধ্যে মালে গনীমত বণ্টন করলেন এবং দশটি বকরীকে একটি উটের সমান গন্য করলেন। দলে অগ্রবর্তীদের কাছ থেকে একটি উট ছুটে গিয়েছিল। অথচ তাদের সংগে কোন অশ্বারোহী ছিল না। এ অবস্থায় এক ব্যাক্তি উটটির প্রতি তীর নিক্ষেপ করলে আল্লাহ উটটিকে থামিয়ে দিলেন। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এ সকল চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বন্য পশুর স্বভাব রয়েছে। কাজেই, তন্মধ্যে কোনটি যদি এরুপ করে, তাহলে তার সংগে অনুরুপ ব্যবহার করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যবাহ করা, শিকার করা হাদিস নাম্বারঃ ৫১৪৫

নভে. 102013
 

আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার এক ভাইকে নিয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে গেলাম, যেন তিনি তাখে তাহনীক করেন অর্থাৎ খেজুর বা অন্য কিছু একবার চিবিয়ে তার মুখে দিয়ে দেন। এ সময়ে তিনি তার উট বাধার স্থানে ছিলেন। তখন আমি তাকে দেখলাম তিনি একটি বকরীর গায়ে চিহ্ন লাগাচ্ছেন। বর্ননাকারী বলেন আমার মনে হয় তিনি (হিশাম) বলেছেন বকরীর কানে চিহ্ন লাগাচ্ছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যবাহ করা, শিকার করা হাদিস নাম্বারঃ ৫১৪৪

নভে. 102013
 

উবায়দুল্লাহ ইবন মূসা (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, তিনি জানোয়ারের মুখে চিহ্ন লাগানোকে মাকরুহ মনে করতেন। ইবন উমর (রাঃ) আরো বলেছেন: নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানোয়ারের মুখে প্রহার করতে নিষেধ করেছেন। আনকাযী (রহঃ) হানযালা সূত্রে কুতায়বা (রহঃ) অনুরুপ বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ অর্থাৎ মুখে প্রহার করতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যবাহ করা, শিকার করা হাদিস নাম্বারঃ ৫১৪৩

নভে. 102013
 

আল ওয়ালাদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা ‘মাররুয যাহরান’ নামক স্থানে একটি খরগোশ ধাওয়া করলাম। তখন লোকজনও এর পেছনে ছুটল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। এরপর আমি সেটিকে ধরতে সক্ষম হলাম এবং আবূ তালহার নিকই নিয়ে এলাম। তিনি এটিকে যবাহ করলেন এবং তার পিছনের অংশ কিংবা তিনি বলেছেন দুই রান নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাহে পাঠিয়ে দিলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যবাহ করা, শিকার করা হাদিস নাম্বারঃ ৫১৩৭