নভে. 172013
 

সাঈদ ইবনু উফাইর (রহঃ) আলী ইবনু হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সহধীর্মণী সাফ্যিয়া (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সাক্ষাত করার জন্য আসেন। তখন তিনি রমযানের শেষ দশকে মসজিদে ইতিকাফ রত ছিলেন। এরপর যখন তিনি (সাফিয়্যা (রাঃ) ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান, তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর অপর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাঃ)-এর দরজার নিকটবর্তী মসজিদের দরজার নিকট পৌঁছলেন তখন দু’জন আনসার তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের উদ্দেশ্যে বললেন, একটু থাম, (এ মহিলা আমার স্ত্রী) তারা বলল, সুবানাল্লাহ! ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এরূপ বলাটা তাদের নিকট কষ্টদায়ক মনে হল। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘শয়তান মানুষের রক্ত কনিকান ন্যায় সর্বত্র বিচরণ করে। আমার আশঙ্কা হয়েছিল, না জানো সে তোমাদের মনে কোন সন্দেহের উদ্রেক করে দেয়। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৮২

নভে. 122013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি এবং ইবন ইবন কায়স ইবন ইবন ফাযারী (রাঃ) মূসা (আঃ)-এর সঙ্গীটি সম্পর্কে এ ব্যাপারে দ্বিমত করছিলেন যে, তিনি-কি খাযির ছিলেন? এমন সময় তাদের পাশ দিয়ে উবায় ইবন কাব আনসারী (রাঃ) যাচ্ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) তাঁকে ডেকে বললেনঃ আমি এবং আমার এ বন্ধু মূসা (আঃ)-এর সদী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি। মূসা (আঃ) যার সাথে সাক্ষাতের পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে তার সম্বন্ধে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ হ্যা। অবশ্যই আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে তার সম্পর্কে উল্লেখ করে বলতে শুনেছি যে, এক সময় মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের একদল লোকের মধ্যে ছিলেন। এমন সময় জনৈক ব্যাক্তি তার কাছে এসে জিজ্ঞানা করলো, মূসা ! আপনি কি জানেন- আপনার চাইতে অধিক জ্ঞানী কেউ আছেন? মূসা (আঃ) বললেনঃ না। তারপঁর মূসা (আঃ)-এর কাছে ওহী অবতীর্ন হল যে, হ্যা। আছেন আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (আঃ) তার সাথে সাক্ষাতের পথ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। সূতরাং আল্লাহ তাআলা সেজন্য একটি মাছকে নিদর্শন স্বরুপ ঠিক করলেন এবং তাকে বলা হল মাছটিকে যখন হারিয়ে ফেলবে তখন সেদিকে ফিরে যাবে, তবে তুমি তার সাক্ষাৎ পাবে। এরই প্রেক্ষিতে মূসা (আঃ) সাগরে মাছের চিহ্ন ধরে তালাশ করতে থাকলে মূসা(আঃ)র সঙ্গী যুবকটি মূসা(আঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলল, আমরা যখন শিলাখণ্ডে বিশ্রাম করলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই ওর কথা বলতে আমাকে ভূলিয়ে দিয়েছিল (১৮- ৬৩)। মূসা (আঃ) বললেনঃ আমরা তো সেই স্হানটির অনুসন্ধান করছিলাম। তারপর তারা দু-জনেই নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললো (১৮-৬৫)। তাদের এই দু-জনের ঘটনা যা ঘটলো, আল্লাহ তারই বর্ণনা দিয়েছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৭০

নভে. 102013
 

আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ(রহঃ) আলী ইবন হুসাইন (রহঃ) থেকে বর্নিত। উম্মুল মুমিনীন সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে এসেছিলেন। যখন তিনি প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাথে সাথে হাটছিলেন। এমতাবস্হায় দু-জন আনসারী ব্যাক্তি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তিনি তাঁদেরকে ডাকলেন এবং বললেনঃ এ হতে সাফিয়্যা। তাঁরা (অবাক হয়ে) বলল, সুবহানাল্লাহ (আমরা কি আপনার ব্যাপারে সন্দেহ করতে পারি?) তিনি বললেনঃ শয়তান বনী আদমের ধমনীতে বিচরণ করে থাকে। শুআয়ব সাফিয়্যা (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৮৩

নভে. 072013
 

মু’আয ইব্‌ন ফাযালা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন সালাত (নামায)-এর জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে আযান শুনতে না পায় আর তার পশ্চাদ-বায়ূ সশব্দে নির্গত হতে থাকে। আযান শেষ হয়ে গেলে সে এগিয়ে আসে। আবার সালাত (নামায)-এর জন্য ইকামত দেওয়া হলে সে পিঠ ফিরিয়ে পালায়। ইকামত শেষ হয়ে গেলে আবার ফিরে আসে। এমন কি সে সালাত (নামায) রত ব্যাক্তির মনে ওয়াস্‌ওয়াসা সৃষ্টি করে এবং বলতে থাকে, অমুক অমুক বিষয় স্মরণ করো, যা তার স্মরণে ছিল না। এভাবে সে ব্যাক্তি কত রাকা’আত সালাত (নামায) আদায় করেছে তা স্মরণ করতে পারে না। তাই, তোমাদের কেউ তিন রাকা’আত বা চার রাকা’আত সালাত (নামায) আদায় করেছে, তা মনে রাখতে না পারলে বসা অবস্থায় দু’টি সিজ্‌দা করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১১৫৯

নভে. 072013
 

ইয়াহ্‌ইয়া ইব্‌ন বুকাইর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ সালাত (নামায)-এর আযান হলে শয়তান পিঠ ফিরিয়ে পালায় যাতে সে আযান না শুনতে পায়। তখন তার পশ্চাদ-বায়ূ নিঃসরণ হতে থাকে। মুআয্‌যিন আযান শেষে নিরব হলে সে আবার এগিয়ে আসে। আবার ইকামত বলা হলে পালিয়ে যায়। মুআয্‌যিন (ইকামত) শেষ করলে এগিয়ে আসে। তখন সে মুসল্লীকে বলতে থাকে, (ওটা) স্মরণ কর, যে বিষয় তার স্মরণে ছিল না শেষ পর্যন্ত সে কত রাকা’আত সালাত (নামায) আদায় করল তা মনে করতে পারে না। আবূ সালামা ইব্‌ন আবদূর রহমান (রহঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ এরূপ অবস্থায় পড়লে (শেষ বৈঠকে) বসা অবস্থায় যেন দু’টি সিজ্‌দা করে। একথা আবূ সালামা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে শুনেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১১৪৯

নভে. 072013
 

মাহমূদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার সালাত (নামায) আদায় করার পর বললেনঃ শয়তান আমার সামনে এসে আমার সালাত (নামায) বিনষ্ট করার জন্য আমার উপর আক্রমন করল। তখন আল্লাহ পাক আমাকে উপর ক্ষমতা দান করলেন, আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম। আমার ইচ্ছা হয়েছিল, তাকে কোন স্তম্ভের সাথে বেঁধে রাখি। যাতে তোমরা সকাল বেলা উঠে তাকে দেখতে পাও। তখন সুলাইমান (আঃ)-এর এ দু’আ আমার মনে পড়ে গেল, “ইয়া রব! আমাকে এমন এক রাজ্য দান করুন যার অধিকারী আমার পরে আর কেউ না হয় “। তখন আল্লাহ তাকে (শয়তানকে) অপমানিত করে দূর করে দিলেন। নয্‌র ইব্‌ন শুমা’ইল (রহঃ) বলেন শব্দটি সহ অর্থাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম এবং আল্লাহর কালাম থেকে অর্থাৎ তাদেরকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সঠিক হল হবে তবে ও অক্ষর দুটি তাশদীদ সহ পাঠ করেছেন। ** কিছু আরবি শব্দ বাদ রয়ে গেছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১১৩৭

নভে. 072013
 

মূসাদ্দাদ (রহঃ)…… আবদুল্লাহ্ (ইবন মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সামনে এক ব্যাক্তির সম্পর্কে আলোচনা করা হল- সকাল বেলা পর্যন্ত সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে, সালাত (নামায)-এর জন্য (যথা সময়ে) জাগ্রত হয়নি, তখন (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ) ইরশাদ করলেনঃ শয়তান তার কানে পেশাব করে দিয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১০৭৮

নভে. 062013
 

আসিম ইবন আলী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা আলা হাচি দেওয়া পছন্দ করেন আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। যদি তোমাদের কেউ হাঁটি দিয়ে আলহামুদু লিল্লাহ বলে তবে প্রত্যেক মুসলমান শ্রোতার তার জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা ওয়াজিব। আর হাই তোলা শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে। সুতরাং তোমাদের কারো হাই উঠলে সে যেন তা যথাসাধ্য রোধ করে। কারণ কেউ হাই তোললে শয়তান তার প্রতি হাসে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৯৩

নভে. 062013
 

আদম ইবন আবূ আয়াস (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন নাবী (সাঃ) বলেন, আল্লাহ তা-আলা হাঁচি দেওয়া পছন্দ করেন, আর হাই তোলা অপছন্দ করেন। সুতরাং কেউ হাচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলবে, যারা তা শুানবে তাদের প্রত্যেকের তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব হবে। আর হাঁই তোলা, তাতো শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে, তাই যথাসাধ্য তা রোধ করা উচিত। কারণ যখন কেউ মুখ তুলে হা করে তখন শয়তান তার প্রতি হাসে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৯০

নভে. 062013
 

আবূল ইয়ামান ও ইসমাঈল (রহঃ) আদী ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) -এর স্ত্রী সাফিয়্যা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রামাযানের শেষ দশ দিনে মসজিদে ইতিকাফ থাকা অবস্থায় তিনি তার সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি রাতের প্রথম ভাগে কিছু সময় তার সঙ্গে কথাবার্তার পর ফিরে যাওয়ার জন্য দাড়ালেন। নাবী (সাঃ) তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে দাড়ালেন। অবশেষে যখন তিনি মসকিদেরই দরজার নিকট পৌছলেন, যা নাবী (সাঃ) -এর স্ত্রী উম্মে সালামার ঘরের নিকটে অবস্থিত। তখন তাদের পাশ দিয়ে আনসারের দু-জন লোক চলে গেলে, তারা উভয়েই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সালাম দিল এবং নিজ পথে রওয়ানা হল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের বললেনঃ ধীরে চল। তিনি সাফিয়্যা বিনত হুইয়াহ। তারা বললোঃ সুবহানাল্লাহ! ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! তাদের উভয়ের মনে তা গুরুত্বপূর্ন মনে হল। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্তে চলাচল করে থাকে। তাই আমার আশংকা হলো যে, সম্ভবত সে তোমাদের অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৮৬