নভে. 172013
 

আদম ইবনু আবূ ইয়াস (রহঃ) জুরায়রিয়া ইবনু কুদামা তামীমী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে বললাম, ‘হে আমূরুল মুমিনীন! আমাদের কিছু অসীয়্যাত করুন। ’ তিনি বললেন, ‘আমি তোমাদের আল্লাহর অঙ্গীকার রক্ষার অসীয়্যাত করছি। কারণ এ হল তোমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) র অঙ্গীকার এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনের জীবিকা। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৩৯

নভে. 102013
 

আব্দুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) যুবায়র ইবন মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক স্ত্রীলোক নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে আসল এবং কোন এক ব্যাপারে তার সাথে কথা বলল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পূনরায় আসার নির্দেশ দিলেন। স্ত্রীলোকটি বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি পূনরায় এসে যদি আপনাকে না পাই? স্ত্রীলোকটি এ বলে (রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর) ইন্তেকালের কথা বোঝাতে চাই ছিল। তিনি বললেনঃ যদি আমাকে না পাও, তাহলে আবূ বকরের কাছে আসবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭২৭

নভে. 102013
 

ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) একদিন বললেনঃ হায়! আমার মাথা। (এ কথা শুনে) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমার জীবদ্দশায় যদি তা ঘটে, তাহলে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং তোমার জন্য দোয়া করব। আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ হায় সর্বনাশ! আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয় আপনি আমার মৃত্যু পছন্দ করছেন। হ্যা, যদি এমনটি হয়, তাহলে আপনি সেদিনের শেষে অপর কোন স্ত্রীর সাথে বাসর যাপন করবেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি বলছি আক্ষেপ আমার মাথা ব্যথা। অথচ আমি সংকচ করেছি কিংবা রাবী বলেছেনঃ- ইচ্ছে করেছি যে, আবূ বকর ও তার পূত্রের কাছে লোক পাঠাব এবং (তার খিলাফতের) অসিয়্যাত করে যাব, যাতে এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে না পারে। কিংবা কোন প্রত্যাশী এ ব্যাপারে কোনরুপ প্রত্যাশা করতে না পারে। (কিন্তু ভেবে চিন্তে) পরে বললাম ( আবূ বকরের পরিবর্তে অন্য কারো খলীফা হওয়ার বিষয়টি) আল্লাহ তা অস্বীকার করবেন এবং মুমিনরাও তা প্রত্যাখ্যান করবে। কিংবা বলেছিলেনঃ আল্লাহ প্রত্যাখ্যান করবেন এবং মুমিনরা তা অস্বীকার করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭২৪

নভে. 102013
 

মুহাম্মদ ইব্‌ন ইউসুফ (রহঃ) তালহা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন আবূ আউফ (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি কোন ওসীয়ত করে গেছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে কোন ওসীয়ত করে যাননি, তখন কি করে মানুষের জন্য ওসীয়ত করাকে (কুরআন মজীদে) বাধ্যতামূলক করা হল এবং তাদেরকে এজন্য নির্দেশ দেয়া হল। জবাবে তিনি বললেন, তিনি (রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কিতাব (গ্রহণ) এর ওসীয়ত করে গেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৫২

অক্টো. 292013
 

কুতাইবা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) একদিন দেখতে পেলেন যে, এক ব্যাক্তি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। রাসূল (সাঃ) লোকটিকে বললেন, এর উপর সওয়ার হও। সে বলল, ইয়া রাসূল (সাঃ)! এটি তো কুরবানীর উট। রাসূল (সাঃ) তৃতীয়বার বা চতুর্থবার তাকে বললেন, তার উপর সওয়ার হয়ে যাও, দুর্ভোগ তোমার জন্য কিংবা বললেন, তোমার প্রতি আফসোস।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৬৭

অক্টো. 292013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) আবূ তালহা (রাঃ)-কে বলেন আমার মত হল, তোমার বাগানটি তোমিার আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে দাও। আবূ তালহা (রাঃ) বলেন, আমি তা-ই করব ইয়া রাসূল (সাঃ)! তাই আবূ তালহা (রাঃ) তার বাগানটি তার আত্মীয়-স্বজন ও চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে ভাগ করে দেন। ইবন আববাস (রাঃ) বলেন, যখন এই আয়াতটি নাযিল হলঃ (হে মুহামমদ) আপনার নিকট আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দেন। (২৬ : ১৪)। তখন নাবী (সাঃ) কুরায়শ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গোত্রদের ডেকে বললেন, হে বানু ফিহ্র, হে বানূ আদী, তোমরা সতর্ক হও। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, যখন কুরআনের এই আয়াত নাযিল হলঃ (হে মুহাম্মদ) আপনি আপনার নিকটবর্গকে সতর্ক করে দিন (২৬: ২১৪)। তখন নাবী (সাঃ) বললেন, হে কুরায়শ সম্প্রদায়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৬৫

অক্টো. 292013
 

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রহঃ)হাকীম ইবন হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) -এর নিকট আমি সওয়াল করলাম, তিনি আমাকে দান করলেন। তারপর তিনি আমাকে বললেন, ‘হে হাকীম! এই ধন-সম্পদ, সবুজশ্যামল, মধুর। যে ব্যাক্তি দানশীলতার মনোভাব নিয়ে তা গ্রহণ করবে, তাতে তার বরকত হবে। আর যে ব্যাক্তি প্রতিক্ষা কাতর অন্তরে তা গ্রহণ করবে, তাতে তার বরকত হবে না। সে ঐ ব্যাক্তির মত যে খায়; কিন্তু তৃপ্ত হয় না। উপরের (দাতার) হাত নীচের (গ্রহীতার) হাতের চাইতে উত্তম। ’ হাকীম (রাঃ) বলেন, তারপর আমি বললাম, ইয়া রাসূল (সাঃ)! সে সত্ত্বার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আপনার পরে আমি দুনিয়া থেকে বিদায়ের আগে আর কারো কিছু চাইব না। (কোন কিছু নেব না) এরপর আবূ বকর (রাঃ) কিছু দান করার জন্য হাকীমকে আহবান করেন, কিন্তু হাকীম (রাঃ) তাঁর কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তারপর উমর (রাঃ)-ও হাকীম (রাঃ)-কে কিছু দান করার জন ডেকে পাঠান, কিন্তু তাঁর কাছ থেকেও কিছু গ্রহণ করতে তিনি অস্বীকার করেন। তখন উমর (রাঃ) বলেন, হে মুসলিম সমাজ! আমি আল্লাহ প্রদত্ত গনীমতের মাল থেকে প্রাপ্য তার অংশ তাঁর সামনে পেশ করেছি, কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকার করেছেন; হাকীম (রাঃ) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত নাবী (সাঃ) -এর পরে আর কারো নিকট কিছু চাননি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৬৩

অক্টো. 292013
 

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রহঃ)ইবন আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (সেকালে) উত্তরাধিকারী হিসাবে সম্পদ পেতো সন্তান আর পিতা-মাতার জন্য ছিল অসীয়াত। এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর পছন্দ মোতাবেক এ বিধান রহিত করে)ছেলের অংশ মেয়ের দ্বিগুন, পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য এক ষষ্ঠামাংশ, স্ত্রীর জন্য (যদি সন্তান থাকে) এক অষ্টমাংশ, (না থাকলে) এক চতুর্থাংশ, স্বামীর জন্য (সন্তান না থাকলে) অর্ধেক, (থাকলে) এক চতুর্থাংশ নির্ধারণ করেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৬০

অক্টো. 292013
 

হাসসান ইবন আবূ আববাদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ইয়াহুদী একটি মেয়ের মাথা দুইটি পাথরের মাঝে রেখে তা থেতলে ফেলে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, কে তোমাকে এমন করেছে? কি অমুক না অমুক ব্যাক্তি? অবশেষে যখন সেই ইয়াহুদীর নাম নেওয়া হল তখন মেয়েটি মাথা দিয়ে ইশারা করল, হ্যাঁ। তারপর সেই ইয়াহুদীকে নিয়ে আসা হল এবং তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে সে স্বীকার করল। নাবী (সাঃ) তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন। সে মতে পাথর দিয়ে তার মাথা তেথলিয়ে দেওয়া হল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৫৯

অক্টো. 292013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ)নাবী (সাঃ) -এর সহধর্মীনি আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবন আবূ ওয়াককাস (রাঃ) তাঁর ভাই সা‘দ ইবন আবূ ওয়াককাস (রাঃ)-কে এই বলে অসীয়াত করেন যে, যামআর দাসীর ছেলেটি আমার ঔরসজাত। তাকে তুমি তোমার অধিকারে আনবে। মক্কা বিজয়ের বছর সা‘দ (রাঃ) তাকে নিয়ে নেন এবং বলেন, সে আমার ভাতিজা (আমার ভাই) আমাকে এর ব্যাপারে অসীয়াত করে গেছেন। আব্দ ইবন যামআ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। আমার পিতার বিছানায় তার জন্ম হয়েছে। তারা উভয়ই রাসূল (সাঃ) -এর কাছে আসেন। সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘ইয়া রাসূল (সাঃ)! সে আমার ভাইয়ের পুত্র এবং তিনি আমাকে তার সম্পর্কে অসীয়াত করে গেছেন। আবদ ইবন যামআ (রাঃ) বললেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর পুত্র। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, হে আবদ ইবন যামআ, সে তোমারই প্রাপ্য। কেননা যার বিছানায় সন্তান জন্মেছে, সে-ই সন্তানের অধিকারী। ব্যাবিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। তারপর তিনি সাওদা বিনতে যামআ (রাঃ)-কে বললেন, ‘তুমি এই ছেলেটি থেকে পর্দা কর। ’ কেননা তিনি ছেলেটির সঙ্গে উতবা’র সাদৃশ্য দেখতে পান। ছেলেটির আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত সে কখনো সাওদা (রাঃ)-কে দেখেনি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৫৮