অক্টো. 282013
 

মূসা ইব্‌ন ইসমাঈল (রহঃ) আবদুল্লাহ (ইব্‌ন উমর) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) খায়বরের জমি (ইয়াহূদীদেরকে) এ শর্তে দিয়েছিলেন যে, তারা তাতে কৃষি কাজ করে ফসল উৎপাদন করবে এবং উতপাদিত ফসলের অর্ধেক তাদের প্রাপ্য হবে। ইব্‌ন উমর (রাঃ) নাফি’ (রহঃ)- কে বলেছেন যে, রাসূল (সাঃ) – এর যামানায় কিছু মূল্যের বিনিময়ে যা পরিমাণটা নাফি’ নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, কিন্তু আমার তা মনে নেই, জমি ইজারা দেওয়া হত। রাফি ইব্‌ন খাদীজ (রাঃ) রিওয়ায়েত করেন যে, নাবী (সাঃ) শস্যক্ষেত বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) নাফি’-এর বরাত দিয়ে ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে (এতটুকু অতিরিক্ত) বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাঃ) কর্তৃক ইয়াহূদীদেরকে তাড়িয়ে দেয়া পর্যন্ত (খায়বরের জমি তাদের নিকট ইজারা দেওয়া হত)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ইজারা হাদিস নাম্বারঃ ২১৪১

অক্টো. 252013
 

মালিক ইবন ইসমাঈল (রহঃ) রাফি ইবন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসারদের মধ্যে আমরা অধিক শষ্য ক্ষেতের মালিক ছিলাম। তাই আমরা ক্ষেত বর্গা দিতাম। কখনো এ অংশে ফসল হতো, আর ঐ অংশে ফসল হতো না। তখন তা আমাদের করতে নিষেধ করে দেওয়া হল। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে চাষ করতে দিতে নিষেধ করা হয়নি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শর্তাবলী হাদিস নাম্বারঃ ২৫৩৯

অক্টো. 162013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশ্শার (রঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) একবার এক জমিতে গেলেন, যার ফসলগুলো আন্দোলিত হচ্ছিল। তিনি জানতে চাইলেন, কার (ফসলের) জমি? লোকেরা বল্ল, (অমুক ব্যাক্তির কাছে থেকে) অমুক ব্যাক্তি এটি ইজারা নিয়েছে। তিনি বললেন, জমিটার নির্দিষ্ট ভাড়া গ্রহন না করে সে যদি তাকে সাময়িকভাবে তা দিয়ে দিত তবে সেটাই হতো তার জন্য উত্তম।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হিবা (উপহার) প্রদান হাদিস নাম্বারঃ ২৪৫৮

অক্টো. 162013
 

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু লোকের অতিরিক্ত ভূসম্পত্তি ছিল। তারা পরষ্পর পরামর্শ করে ঠিক করলো যে এগুলো আমরা তিন ভাগের এক ভাগ, চার ভাগের এক ভাগ বা অর্ধেক হিসাবে ইজারা দিবে। একথা শুনে রাসূল (সাঃ) বললেন, কারো অতিরিক্ত জমি থাকলে হয় সে নিজেই চাষ করবে, কিংবা তার ভাইকে তা (চাষ করতে) দিবে। আর তা না করতে চাইলে তা নিজের কাছেই রেখে দিবে। মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন নবী (সাঃ) এর কাছে এসে হিজরত সম্পর্কে জানতে চাইল। তিনি তাকে বললেন, থাম! হিজরতের ব্যাপার সুকঠিন। (তার চেয়ে বরং বল) তোমার কি উট আছে? সে বল্ল, হ্যা আছে। তিনি বললেন, তুমি কি এর সাদকা (যাকাত) আদায় করে থাক? সে বললাম, হ্যা। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি দুধ পানের জন্য এগুলো মানীহা হিসাবে দিয়ে থাকো সে বল্ল, হ্যা। আবার তিনি প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা! পানি পান করানের (ঘাটে সমবেত অভাবী লোকদের মাঝে বিতরনের জন্য) উটগুলো দোহন করো কি? সে বল্ল হ্যা। তখন তিনি ইরশাদ করলেন, এ যদি হয় তাহলে সাগরের ওপারে হলেও অর্থাৎ তুমি যেখানে থাক আমল করতে থাক। আল্লাহ তোমার আমলের প্রতিদানে কম করবেন না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হিবা (উপহার) প্রদান হাদিস নাম্বারঃ ২৪৫৭

অক্টো. 122013
 

মূসা ইব্‌ন ইসমাঈল (রহঃ) আবদুল্লাহ (ইব্‌ন উমর) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) খায়বরের জমি (ইয়াহূদীদেরকে) এ শর্তে দিয়েছিলেন যে, তারা তাতে কৃষি কাজ করে ফসল উৎপাদন করবে এবং উতপাদিত ফসলের অর্ধেক তাদের প্রাপ্য হবে। ইব্‌ন উমর (রাঃ) নাফি’ (রহঃ)- কে বলেছেন যে, রাসূল (সাঃ) – এর যামানায় কিছু মূল্যের বিনিময়ে যা পরিমাণটা নাফি’ নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, কিন্তু আমার তা মনে নেই, জমি ইজারা দেওয়া হত। রাফি ইব্‌ন খাদীজ (রাঃ) রিওয়ায়েত করেন যে, নবী (সাঃ) শস্য ক্ষেত বর্গা দিতে নিষেধ করেছেন। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) নাফি’-এর বরাত দিয়ে ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে (এতটুকু অতিরিক্ত) বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাঃ) কর্তৃক ইয়াহূদীদেরকে তাড়িয়ে দেয়া পর্যন্ত (খায়বরের জমি তাদের নিকট ইজারা দেওয়া হত)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ইজারা হাদিস নাম্বারঃ ২১৪১

অক্টো. 122013
 

মূসা ইব্‌ন ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন বলে যে, আবূ হুরায়রা বেশী হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছেই সবার প্রত্যাবর্তন। এবং তারা আরও বলে, মুহাজির ও আনসারদের কি হল যে, তারা আবূ হুরায়রার মতো এতো হাদীস বর্ণনা করেন না। (আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, ) আমার মুহাজির ভাইদেরকে বাজারে বেচা-কেনা এবং আনসার ভাইদেরকে তাদের ক্ষেত খামার ও বাগানের কাজ-কর্ম ব্যতিব্যস্ত রাখত। আমি ছিলাম একজন মিসকীন লোক। পেটে যা জুটে, খেয়ে না খেয়ে তাতেই তুষ্ট থেকে রাসূল (সাঃ) -এর কাছে পড়ে থাকতাম। তাই লোকেরা যখন অনুপস্থিত থাকত, আমি হাযির থাকতাম। লোকেরা যা ভুলে যেতো, আমি তা স্বরণ রাখতাম। একদিন নাবী (সাঃ) বললেন, তোমাদের যে কেউ আমার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত তার চাদর বিছিয়ে রাখবে এবং আমার কথা শেষ হলে চাদরখানা তার বুকের সাথে মিলাবে, তাহলে সে আমার কথা কখনো ভুল্বে না। আমি আমার পশমী চাদরটা নাবী (সাঃ) -এর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিছিয়ে রাখলাম। সে চাদর ছাড়া আমার গায়ে আর কোন চাদর ছিল না। নবী (সাঃ) -এর কথা শেষ হওয়ার পর আমি তা আমার বুকের সাথে মিলালাম। সে সত্তার কসম, যিনি তাঁকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন, আজ পর্যন্ত আমি তাঁর একটি কথাও ভুলিনি। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহর কিতাবের এ দু’টি আয়াত না থাকত, তবে আমি কখনো তোমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতাম না। (তা এই)………… যারা আমার নাযিলকৃত নিদর্শনসমূহ গোপন করে আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু পর্যন্ত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বর্গাচাষ হাদিস নাম্বারঃ ২১৯৬

অক্টো. 122013
 

কুতায়বা ইব্‌ন সাঈদ (রহঃ) সাহল ইব্‌ন সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুমু’আর দিনে আসলে আমরা আনন্দিত হতাম এ জন্য যে, আমাদের (প্রতিবেশী) এক বৃদ্ধা ছিলেন, তিনি আমাদের নালার ধারে লাগানো বীট গাছের মূল তুলে এনে তার ডেকচিতে রাখতেন এবং তার সাথে যবের দানাও মিশাতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার যতটুকু মনে পড়ে তিনি (সাহল) বলেছেন যে, তাতে কোন চর্বি বা তৈলাক্ত কিছু থাকতো না। আমরা জুমু’আর সালাত (নামায)-এর পর বৃদ্ধার নিকট আসতাম এবং তিনি তা আমাদের সামনে পরিবেশন করতেন। এ কারণে জুমু’আর দিন আমাদের খুব আনন্দ হতো। আমরা জুমু’আর সালাত (নামায)-এর পরই আহার করতাম এবং কায়লুলা (বিশ্রাম) করতাম।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বর্গাচাষ হাদিস নাম্বারঃ ২১৯৫

অক্টো. 122013
 

মুহাম্মদ ইব্‌ন সিনান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন নবী (সাঃ) কথা বলছিলেন, তখন তাঁর নিকট গ্রামের একজন লোক বসা ছিল। নবী (সাঃ) বর্ণনা করেন যে, জান্নাত-বাসীদের কোন একজন তার রবের কাছে চাষাবাদের অনুমতি চাইবে। তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে বলবেন, তুমি কি যা চাও, তা পাচ্ছ না? সে বলবে, হ্যাঁ নিশ্চয়ই। কিন্তু আমার চাষ করার খুবই আগ্রহ। নবী (সাঃ) বললেন, তখন সে বীজ বুনবে এবং তার চারা হওয়া, গাছ বড় হওয়া ও ফসল কাটা সব কিছু পলকের মধ্যে হয়ে যাবে। আর তা (ফসল) পাহাড় সমান হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, হে আদম সন্তান! এ গুলো নিয়ে নাও। কোন কিছুই তোমাকে তৃপ্তি দেয় না। তখন গ্রাম্য লোকটি বলে উঠল, আল্লাহর কসম, এই ধরনের লোক আপনি কুরায়শী বা আনসারদের মধ্যেই পাবেন। কেননা তাঁরা চাষী। আর আমরা তো চাষী নই (আমরা পশু পালন করি)। একথা শুনে নবী (সাঃ) হেঁসে দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বর্গাচাষ হাদিস নাম্বারঃ ২১৯৪

অক্টো. 122013
 

আমর ইব্‌ন খালিদ (রহঃ) রাফি’ ইব্‌ন খাদীজ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে আমার চাচারা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (সাঃ) -এর যামানায় লোকেরা নালার পার্শ্বস্থ ফসলের শর্তে কিংবা এমন কিছু শর্তে ভাগে জমি ইজারা দিত, যা ক্ষেতের মালিক নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিত। নাবী (সাঃ) আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করেন। রাবী বলেন, আমি রাফি’ (রাঃ)-কে বললাম, দীনার ও দিরহামের শর্তে জমি (ইজারা দেওয়া) কেমন? রাফি’ (রাঃ) বললেন, দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে ইজারা দেওয়াতে কোন দোষ নেই। লায়ছ (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, হালাল ও হারাম বিষয়ে বিজ্ঞজনেরা সে সম্পর্কে চিন্তা করলেও তারা তা জায়িয মনে করবেন না। কেননা, তাতে (ক্ষতির) আশংকা রয়েছে। আবূ আবদুল্লাহ্‌ (ইমাম বুখারী (রহঃ)) বলেন, আমার মনে হয়, যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে-এখান থেকে লাইছ (রহঃ)-এর উক্তি শুরু হয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বর্গাচাষ হাদিস নাম্বারঃ ২১৯৩

অক্টো. 122013
 

ইয়াহ্‌ইয়া ইব্‌ন বুকাইর (রহঃ) সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উমর (রাঃ) বলেছেন, আমি জানতাম যে, রাসূল (সাঃ) -এর যামানায় ক্ষেত বর্গাচাষ করতে দেয়া হত। তারপর আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ)-এর ভয় হল, হয়ত নবী (সাঃ) এ সম্পর্কে এমন কিছু নতুন নির্দেশ দিয়েছেন, যা তাঁর জানানেই। তাই তিনি ভাগে জমি ইজারা দেওয়া ছেড়ে দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বর্গাচাষ হাদিস নাম্বারঃ ২১৯২