নভে. 172013
 

আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে, তবে আমি তোমাকে (দুই হাত মিলিয়ে) এ পরিমান ও এ পরিমান দান করব। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তেকাল অবধি তা এলো না। তারপর যখন বাহরাইনের মাল এল, তখন আবূ বকর ঘোষণা দানকারীকে এ ঘোষণা দেয়ার আদেশ করলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট যার কোন ঋণ বা প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে যেন আমার নিকট আসে। এরপর আমি তার নিকট গিয়ে বললাম, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে এত এত ও এত দেয়ার কথা বলেছেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) তিনবার অঞ্জলি ভরে দান করেন। সুফিয়ান (রাঃ) তার দুই হাত একত্র করে অঞ্জলি করে আমাদের বললেন, ইবনু মুনকাদির এরূপই বলেছেন। জাবির (রাঃ) বলেন, তারপর আমি (জাবির) আবূ বকর (রাঃ) এর নিকট এলাম এবং তার কাছে চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন না। আবার আমি তার কাছে এলাম। তখনও তিনি আমাকে দিলেন না। আবার আমি তার নিকট তৃতীয়বার এসে বললাম, আমি আপনার নিকট চেয়েছি, আপনি আমাকে দেননি। আবার আমি আপনার নিকট চেয়েছি, তখনও আপনি আমাকে দেননি। পুনরায় আমি আপনার নিকট চেয়েছি, আপনি আমাকে দেননি। এখন আমাকে আপনি দেবেন, না হয় আমার সঙ্গে কার্পণ্য করবেন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তুমি আমাকে বলছ, কার্পণ্য করবেন? আমি যতবারই তোমাকে দিতে অস্বীকার করি না কেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে, আমি তোমাকে দেই। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, আমর (রহঃ) মুহাম্মদ ইবনু আলী (রহঃ) সুত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আবূ বকর (রাঃ) আমাকে এক অঞ্জলি দিয়ে বললেন, এটা গুনে নাও। আমি গণনা করে দেখলাম, পাঁচ শত। তখন তিনি বললেন, এরুপ আরও দু’বার নিয়ে নাও। আর ইবনুল মুনকাদিরের বর্ণনায় আছে যে, (আবূ বকর (রাঃ) বলেছেন) ‘কার্পণ্য অপেক্ষা বড় রোগ কি হতে পারে?’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯১৬

নভে. 162013
 

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কৃপন ও দানশীল ব্যাক্তির উদাহরণ এমন দু’ ব্যাক্তির ন্যয়, যারা লৌহ বর্ম পরিহিত। বর্ম দু‘টি এত আটসাঁট যে, তাদের উভয়ের হাত কব্জায় আবদ্ধ রয়েছে। দানশীল ব্যাক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে, তখন বর্মটি তার শরীরের উপর প্রসারিত হয়, এমনকি ত তার পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যাক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মের কড়াগুলো পরস্পর গলে গিয়ে তার শরীরকে আঁকড়ে ধরে এবং তার উভয় হাত কণ্ঠের সাথে লেগে যায়। তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) – কে বলতে শুনেছেন, সে হাত দু’টিকে প্রসারিত করতে চেষ্টা করে; কিন্তু প্রসারিত করতে পারে না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭১৬

নভে. 152013
 

মূসা (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ কৃপণ ও সা’দকা দানকারীর দৃষ্টান্ত এমন দু’ব্যাক্তির মত যাদের পরিধানে দুটি লোহার বর্ম রয়েছে। অপর সনদে আবূল ইয়ামান (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন, কৃপণ ও সা’দকা দানকারীর দৃষ্টান্ত এমন দু’ব্যাক্তির মত, যাদের পরিধানে দুটি লোহার বর্ম রয়েছে যা তাদের বুক থেকে কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত। দাতা ব্যাক্তি যখন দান করে তখন বর্মটি তার সম্পূর্ণ দেহ পর্যন্ত প্রশস্ত হয়ে যায়। এমনকি হাতের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে ও (পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলন্ত বর্ম) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যাক্তি যখন যৎসামান্যও দান করতে চায়, তখন যেন বর্মের প্রতিটি আংটা যথাস্হানে সেটে যায়, সে তা প্রশস্ত করতে চেষ্টা করলেও তা প্রশস্ত হয়না। হসান ইবনু মুসলিম (রহঃ) তাউস (রহঃ) থেকে ইবনু তাউস (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। আর হানযালা (রহঃ) তাউস (রহঃ) থেকে উল্লেখ করেছেন। লায়স (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (ঢাল) শব্দের উল্লেখ রয়েছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৩৫৯

নভে. 152013
 

ইসমা‘ঈল (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে দু’জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধংস করে দিন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৩৫৮

নভে. 142013
 

হযরত আবূ নাঈম (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, মুআবিয়া (রাঃ) এর মা হিন্দ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললেন, আবূ সুফিয়ান (রাঃ) একজন কৃপন ব্যাক্তি। এমতাবস্থায় আমি যদি তার মাল থেকে গোপনে কিছু গ্রহন করি, তাতে কি আমার গুনাহ হবে? তিনি বললেন, তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজনানুসারে যথাযথভাবে গ্রহন করতে পার।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ২০৬৯

নভে. 052013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যখন কিয়ামতের সময় ঘনিয়ে আসলে, ইল্‌ম কমে যাবে, অন্তরে কৃপণতা ঢেলে দেয়া হবে এবং হারজের আধিক্য হবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেনঃ হারজ- কি, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)? তিনি বললেনঃ হত্যা হত্যা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬১১

নভে. 022013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মাসলামা (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে-সাহরী থেকে বিরত না রাখে। কেননা, সে আযান দেয়, যাতে তোমাদের রাত্রি জাগরণকারীরা (রাতের ইবাদতকারীরা) কিছু আরাম করতে পারে। সকাল বা ফজর হয়েছে এমন কিছু বুঝানো তার উদ্দেশ্য নয়। ইয়াযীদ তার হাত দুটি সম্মূখে প্রসারিত করে দু-দিকে ছড়িয়ে দিলেন। (সুবহে সাদিক কিভাবে উদ্ভাসিত হয় তা দেখানোর জন্য)। লায়স (রহঃ) বলেনঃ জাফর ইবন রাবীআ, -আবদূর রহমান ইবন হরমুয থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর কাছে শুনেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ কৃপন ও দাতা ব্যাক্তির দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন দু-ব্যাক্তির ন্যায়, যাদের পরিধানে বক্ষস্থল থেকে গলার হাড় পর্যন্ত লৌহ-নির্মিত পোশাক রয়েছে। দানকারী যখনই কিছু দান করে, তখনই তার শরীরে পোশাকটি বড় ও প্রশস্ত হতে থাকে, এমনকি এটা তার আঙ্গুল ও অন্যান্য অঙ্গগুলিকে ঢেকে ফেলে। পক্ষন্তরে, কৃপণ যখনই দান করার ইচ্ছা করে, তখনই তার পোশাকের প্রতিটি হলকা চেপে যায়। সে প্রশস্ত করার চেষ্টা করলেও সেটা প্রশস্ত হয় না। এ কথা বলে তিনি নিজের আঙ্গুল দ্বারা কণ্ঠনালীর প্রতি ইশারা করলেন (অর্থাৎ দাতা ব্যাক্তি দান করার ইচ্ছা করলে তার অন্তর প্রশান্তি হয়, সে উদার হতে দান করতে পারে; কিন্তু কৃপগ দান করতে ইচ্ছা করলেই তার অন্তর সঙ্কুচিত হয়, তার হাত গুটিয়ে আসে, সে দান করতে পারে না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯১৬

নভে. 012013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একবার কৃপণ ও দানশীল ব্যাক্তিকে এমন দু ব্যাক্তির সাথে তুলনা করেন যাদের পরিধানে লোহার দুটি বর্ম আছে। তাদের দুটি ছাতই বুক ও ঘাড় পর্যন্ত পৌছে আছে। দানশীল ব্যাক্তি যখন দান করে তখন তার বর্মটি এমন ভাবে প্রশস্ত হয় যে তার পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (শরীরের চেয়ে লম্বা হওয়ার জন্য চলার সময়) পদ চিহৃ মুছে ফেলে। আর কৃপণ লোকটি যখন দান করতে ইচ্ছে করে তখন তার বর্মটি শক্ত হয়ে যায় ও এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিলে থাকে এণং প্রতিটি অংশ স্ব স্ব স্থানে থেকে যায়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমি দেখলাম, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার আঙ্গুল এভাবে বুকের দিক দিয়ে খোলা অংশের মধ্যে রেখে বলতে দেখেছি। তুমি যদি তা দেখতে তাহলে দেখতে) যে তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইলেন কিন্ত তা প্রশস্ত হল না। ইবন তাউস তার পিতা থেকে এবং আবূ যিনাদ, আরাজ থেকে অনুরুপ ভাবে বর্ণনা করেন। আর জাফর আরাজ-এর সূত্রে ‘যুতায’ বর্ণনা করেছেন। হানযালা (রহঃ) বলেনঃ আমি তাউসকে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে ‘জুব্বাতাস’ বলতে শুনেছি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পোষাক-পরিচ্ছদ হাদিস নাম্বারঃ ৫৩৮২

অক্টো. 262013
 

ইয়াহইয়া ইবন সালিহ (রহঃ) সাঈদ ইবন হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, তোমাদেরকে কি মানত করতে নিষেধ করা হয়নি? নাবী (সাঃ) তো বলেছেনঃ মানত কোন কিছুকে বিন্দুমাত্র এগিয়ে আনতে পারে না এবং পিছিয়েও দিতে পারে না। তরে হ্যা, মানতের দ্বারা কৃপণের কাছ থেকে (কিছু মাল) বের করা হয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত হাদিস নাম্বারঃ ৬২৩৫

অক্টো. 252013
 

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (রহঃ) আয়িশা সিদ্দীকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হিন্দা বিনত উতবা ইবন রাবীআ (একদা) বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এমন এক সময় ছিল যখন ভূপৃষ্টে যারা বাস করছে তাদের মাঝে আপনার অনুসারী যারা তারা লাঞ্ছিত হোক এটা আমি খুবই পছন্দ করতাম। (এখানে বর্ণনার মাঝে তিনি ‘আখবাআ’ বলেছেনঃ, না ‘খাবাআ’ বলেছেনঃ এ সম্পর্কে রাবী ইয়াহইয়ার সন্দেহ রয়েছে। ) কিন্তু আজ আমার কাছে এর চেয়ে অধিক প্রিয় কিছুই নেই যে, তাবুতে মাঝে আপনার অনুসারীরা সম্মানিত হোক। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ কসম ঐ মহান সত্তার, যার হাতে মুহাম্মাদ -এর প্রাণ। এ মর্যাদা আরও বর্ধিত হোক। হিন্দা বললোঃ আবূ সুফিয়ান নিশ্চয়ই একজন কৃপন লোক। তার মাল থেকে (তার পরিজনকে) কিছু খাওয়ালে এতে কি আমার কোন অন্যায় হবে? তিনি বললেনঃ না। তবে তা (শরীয়তসম্মত) পন্থায় হতে হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত হাদিস নাম্বারঃ ৬১৮৬