নভে. 102013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ ও ইসমাঈল (রহঃ) সাহল ইবন আবূ হাসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ও তাঁর গোত্রের কতিপয় বড় বড় ব্যাক্তি বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবন সাহল ও মুহাইয়াসা , ক্ষুধায় আক্রান্ত হয়ে খায়বারে আসেন। একদা মুহাইয়াসা জানতে পারেন যে, আব্দুল্লাহ নিহত হয়েছে এবং তার লাশ একটি গর্তে অথবা কুপে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি ইহুদীদের কাছে এসে বললেনঃ আল্লাহর শপথ! নিঃসন্দেহে তোমরাই তাকে হত্যা করেছ। তারা বলল, আল্লাহর কসম করে বলছি, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তারপর তিনি তার গোত্রের নিকট এসে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। পরে তিনি, তার বড় ভাই হুওয়াইয়াসা এবং আব্দুর রহমান ইবন সাহল আসলেন। মুহাইয়াসা যিনি খায়বারে ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সাথে এ ঘটনা বলার জন্য অগ্রসর হলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ বড়কে কথা বলতে দাও, বড়কে কথা বলতে দাও। তিনি এতে উদ্দেশ্য করেছেন বয়সে প্রবীণকে। তখন হুওয়াইয়াসা প্রথমে ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর কথা বললেনঃ মুহাইয়াসা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হয়ত তারা তোমাদের মৃত সঙ্গীর রক্তপণ আদায় করবে, না হয় তাদের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হবে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কাছে এ মর্মে চিঠি লিখলেন। জবাবে তাদের পক্ষ থেকে লেখা হল যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুওয়াইয়াসা, মুহাইয়াসা ও আব্দুর রহমানকে বললেনঃ তোমরা কি কসম খেয়ে বলতে পারবে? তাহলে তোমরা তোমাদের সাথীর রক্তপণের অধিকারী হতে পারবে। তারা বলল- না। তিনি বললেনঃ তাহলে ইহুদীরা কি তোমাদের সামনে কসম করবে? তাঁরা বলল, এরা তো মুসলিম নয়। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের পক্ষ থেকে একশ, উট রক্তপণ হিসাবে আদায় করে দিলেন। শেষ পর্যন্ত উটগুলোকে ঘরে প্রবেশ করানো হল। সালে বলেনঃ একটি উট আমাকে লাথি মেরেছিল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭০২

নভে. 102013
 

ইসহাক ওয়াসেতী (রহঃ) তারীফ আবূ তামীমা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সাফওয়ান (রহঃ), জুনদাব (রাঃ) ও তাঁর সাথীদের কাছে ছিলাম। তখন তিনি তাদের উপদেশ দিচ্ছিলেন। তারা জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোন কথা শুনেছেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, যারা মানুষকে শোনাবার জন্য কোন কাজ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার এ কথা শুনিয়ে দিবেন। আর যারা অন্যের প্রতি কঠোর ব্যবহার করে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তার প্রতি কঠোর ব্যবহার করবেন। তাঁরা পূনরায় বলল, আমাদেরকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেনঃ মানুষের দেহের যে অংশ প্রথম দৃর্শময় হবে, তা হল তার পেট। সুতরাং যে ব্যাক্তি সামর্থ্য রাখে যে একমাত্র পবিত্র (হালাল) খাদ্য ছাড়া আর কিছু সে আহার করবে না, সে যেন তাই করতে চেষ্টা করে। আর যে ব্যাক্তি সামর্থ্য রাখে যে এক আজলা পরিমাণ রক্তপাত ঘটিয়ে তার ও জান্নাতের মাঝে প্রতিবন্দকতা সৃষ্টি করবে না, সে যেন অবশ্যই তা করে। হিমাম বুখারী (রহঃ)-এর ছাত্র ফেরাবরী) বলেনঃ আমি আবূ আব্দুল্লাহ (রাঃ) (ইমাম বুখারী)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমি শুনেছি- এ কথা কি হাদাব বলেছিলেন? তিনি বললেনঃ হ্যা, জুনদাবই।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৬৭

নভে. 072013
 

সাঈদ ইবন উফায়র (রহঃ) আবূ হুরায়য়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে- রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একবার হুযায়ল গোত্রের দুই মহিলার মধ্যে বিচার করেন। তারা উভয়ে মারামারি করেছিল। তাদের একজন অন্য জনের উপর পাথর নিক্ষেপ করে। পাথর গিয়ে তার পেটে লাগে। সে ছিল গর্ভবতী। ফলে তার পেটের ঝচ্চাকে সে হত্যা করে। তারপর তারা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট অভিযোগ পেশ করে। তিনি বিচার করেন যে, এর পেটের সন্তানের পরিবর্তে একটি পূর্ন দাস অথবা দাসী দিতে হবে। জরিমানা আরোপকৃত মহিলার অভিভাবক বললোঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! এমন সন্তানের জন্য আমার উপর জরিমানা কেন আরোপিত হবে, যে পান করেনি, আহার করেনি, কথা বলেনি এবং কান্নাকাটিও করেনি। এ অবস্হায় জরিমানা মওকুফ হওয়ার যোগ্য। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এ লোকটি তো (দেখা যায়) গণকদের ভাই।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩৪৭

নভে. 072013
 

মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। কতিপয় ব্যাক্তি মদিনায় তাদের প্রতিকুল আবহাওয়া অনুভব করল। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের হুকুম দিলেনঃ তারা যেন তার রাখাল অর্থাৎ তার উটগুলোর কাছে গিয়ে থাকে এবং উটের দুধ ও পেশাব পান করে। সুতরাং তারা রাখালের সংগে গিয়ে মিলিত হল এবং উটের দুধ ও পেশাব পান করতে লাগল। অবশেষে তাদের শরীর সুস্থ হলে তারা রাখালটিকে হত্যা করে ফেলল এবং উটগুলো হাকিয়ে নিয়ে যায়। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এ সংবাদ পৌছলে তিনি তাদের তালাশে লোক পাঠান। এরপর তাদের ধরে আনাহল। এরপর তিনি তাদের হাত পা কেটে দেন। এবং তাদের চক্ষুগুলো ফূড়ে দেন। কাতাদা (রহঃ) বলেছেনঃ মুহাম্মদ ইবন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, এটি হুদুদ (শাস্তির আইন) নাযিল হওয়ার পুর্বকার ঘটনা। )।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫২৮৪

নভে. 022013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম ঠিক বলেছেনঃ জুমআর দিনে এমন একটি মুহত্ব রয়েছে, যে মুহর্তে কোন মুসলমান দাড়িয়ে সালাত (নামায) আদায় করে আল্লাহর কাছে যে কোন কল্যান চায় আল্লাহ অবশ্যই তা মঞ্জুর করে থাকেন। তিনি স্বীয় হাত দ্বারা ইশারা করেন এবং তার আঙ্গুলগুলো মধ্যমা ও কনিষ্ঠ আঙ্গুলের পেটে রাখেন। আমরা বললামঃ তিনি স্বল্পতা বুঝাতে চাচ্ছেন। উওয়ায়সী (রহঃ) বলেনঃ ইবরাহীম ইবন স্বাদ শুবা ইবন হাজ্জাজ থেকে, তিনি হিশাম ইবন যায়েদ থেকে তিনি আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর যুগে জনৈক ইয়াহুদী একটি বালিকার উপর নির্যাতন করে তার অলংকারাদি ছিনিয়ে নেয়। আর (পাথর দ্বারা) তার মস্তক চুর্ণ করে। সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার পূর্ব মূহুর্তে তার পরিবারের লোকেরা তাকে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর কাছে নিয়ে আসে। তখন সে নিশ্চুপ ছিল। রাসুসুলাহ (একজন নির্দোষ ব্যাক্তির নাম উল্লেখ পূর্বক) তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাকে কে হত্যা করেছে? অমুক? সে মাথার ইশারায় বললঃ না। তিনি অন্য এক নিরপরাধ ব্যাক্তির নাম ধরে বললেন, তবে কি অমুক? সে ইশারায় জানাল, না। এবার রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হত্য্যকারীর নাম উল্লেখ করে বললেনঃ তবে অমুক ব্যাক্তি মেরেছে কি? সে মাথা নেড়ে বললঃ জি-হা। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর আদেশ উক্ত ব্যাক্তির মাথা দু-পাথরের মাঝখানে রেখে চুর্ন করা হল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯১৩

অক্টো. 312013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসূফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ কোন পশু কাউকে আহত করলে, কুপে বা খনিতে পতিত হয়ে কেউ নিহত বা আহত হলে তাতে কোন দণ্ড বা রক্তপণ নেই। আর কেউ গুপ্তধন প্রাপ্ত হলে তার প্রতি এক-পঞ্চমাংশ দেয়া ওয়াজিব।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ রক্তপন হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৪৪

অক্টো. 312013
 

আমর ইবন যুরারা (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মদিনায় আগমন করলেন, তখন আবূ তালহা (রাঃ) আমার হাতে ধরে আমাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর কাছে গেলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আনাস একজন হুশিয়ার ছেলে। সে যেন আপনার খেদমত করে। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি মূকীম এবং সফরকালে তার খেদমত করেছি। আল্লাহর কসম! যে কাজ আমি করে নিয়েছি এর জন্য তিনি আমাকে কোন দিন এ কথা বলেননি। এটা এরুপ কেন করেছ? আর যে কাজ আমি এর জন্যও এ কথা বলেননি এটা এরুপ কেন করনি?

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ রক্তপন হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৪৩

অক্টো. 312013
 

আহমাদ ইবন সালিহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (বা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুযায়ল গোত্রের দু-জন মহিলা ঝগড়াকালে একে অপরের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে এবং একজন অপর জনের গর্ভস্হিত সন্তানকে হত্যা করে ফেলল। এরপর তারা নাবী (সাঃ) এর কাছে বিচার নিয়ে এল। তিনি ফায়সালা দিলেন যে, ভ্রুণের দিয়াত হলো একটি গোলাম অথবা বাদী আর এ ফায়সালাও দিলেন যে, নিহত মহিলার দিয়াত হত্যাকারিনার আসাবার উপর আসবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ রক্তপন হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৪২

অক্টো. 312013
 

মুসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) উযার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মহিলাদের গর্ভপাত সম্পর্কে সাহাবাদের সাথে পরামর্শ করেন। তখন মুগীরা (রাঃ) বললেনঃ নাবী (সাঃ) এরুপ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যাক্তির প্রতি ক্ষতি-গ্রস্ত ব্যাক্তিকে একটি গোলাম অথবা বাদী প্রদানের ফায়সালা করেছেন। এ সময় মুহাম্মাদ ইবন মাসলামা (রাঃ) সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি নাবী (সাঃ) -কে এ ফায়সালা করতে দেখেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ রক্তপন হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৩৮

অক্টো. 312013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হুযায়ল গোত্রের দুজন মহিলার একজন অপরজনকে পাথর নিক্ষেপ করে গর্ভপাত ঘটিয়ে দিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এ মহিলার ব্যাপারে একটি গোলাম অথবা বাদী প্রদানের ফায়সালা দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ রক্তপন হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৩৭