নভে. 222013
 

ইসহাক ইবনু ইব্‌রাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন, সব সময় শরীর আবৃত রাখতেন। তাঁর দেহের কোন অংশ খোলা দেখা যেতনা তা থেকে তিনি লজ্জাবোধ করতেন। বনী ইসরাঈলের কিছু সংখ্যক লোক তাঁকে খুব কষ্ট দিত। তারা বলত, তিনি যে শরীরকে এত বেশী ঢেকে রাখেন, তাঁর একমাত্র কারণ হল, তাঁর শরীরে কোন দোষ আছে। হয়ত শ্বেত রোগ অথবা একশিরা বা অন্য কোন রোগ আছে। আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করলেন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে তারা যে অপবাদ রটিয়েছি তা থেকে তাঁকে মুক্ত করবেন। এরপর একদিন নির্জন স্থানে গিয়ে তিনি একাকী হলেন এবং তাঁর পরণের কাপর খুলে একটি পাথরের উপর রাখলেন, তারপর গোসল করলেন, গোসল সেরে যখনই তিনি কাপর নেয়ার জন্য সেদিকে এগিয়ে গেলেন তাঁর কাপড়সহ পাথরটি ছুটে চলল। এরপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাঠিটি হাতে নিয়ে পাথরটি পেছনে পেছনে ছুঠলেন। তিনি বলতে লাগলেন, আমার কাপড় হে পাথর! হে পাথর! পরিশেষে পাথরটি বনী ইসরাঈলের একটি জন সমাবেশে গিয়ে পৌছল। তখন তারা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখল যে তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সৌন্দর্যের পরিপূর্ণ এবং তারা তাঁকে যে অপবাদ দিয়েছিল সে সব দোষ থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত। আর পাথরটি থামল, তখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাপড় নিয়ে পরিধান করলেন এবং তাঁর হাতের লাঠি দিয়ে পাথরটিকে জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন। আল্লাহর কসম! এতে পাথরটিতে তিন, চার, কিংবা পাঁচটি আঘাতের দাগ পড়ে গেল। আর এটিই হল আল্লাহর এ বাণীর মর্মঃ হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের ন্যায় হয়োনা যারা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে কষ্ট দিয়েছিল। এরপর আল্লাহ তাঁকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন তা থেকে যা তারা রটনা করেছিল। আর তিনি ছিলেন আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান। (৩৩:৬৯)

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৬৫

নভে. 222013
 

মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) মাসরূক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর মা উম্মে রুমানার নিকট আয়িশার বিষয়ে যে সব মিথ্যা অপবাদের কথা বলাবলি হচ্ছিল সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি আয়িশার সাথে একত্রে বসা ছিলাম। এমন সময় একজন আনসারী মহিলা একথা বলতে বলতে আমাদের নিকট প্রবেশ করল। আল্লাহ অমুককে শাস্তি দিক। আর শাস্তি তো দিয়েছেন। একথা শুনে উম্মে রুমানা (রাঃ) বললেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম একথা বলার কারণ কি? সে মহিলাটি বলল, ঐ লোকটিই তো কথাটির চর্চা করেছে। তখন আয়িশা (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, বিষয়টি কি আবূ বকর (রাঃ) এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও শুনেছেন? সে বলল, হাঁ! এতে আয়িশা (রাঃ) বেহুশ হয়ে গেলেন। পড়ে তাঁর হুস ফিরে আসল তবে তাঁর শরীর কাঁপিয়ে জ্বর আসল। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তার কি হল? আমি বললাম, তাঁর সম্পর্কে যা কিছু রটেছে তাতে সে (মনে) আঘাত পেয়েছে ফলে সে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় আয়িশা (রাঃ) উঠে বসলেন, আর বলতে লাগলেন, আল্লাহর কসম, আমি যদি কসম খেয়ে বলি তবুও আপনারা আমায় বিশ্বাস করবেন না আর যদি ওজর পেশ করি তাও আপনারা আমার ওজর শুনবেন না। অতএব এখন আমার ও আপানাদের অবস্থা হল ইয়াকুব আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সন্তানদের মতো। আপনারা যা বর্ণনা করেছেন সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া হল। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিরে চলে গেলেন এবং আল্লাহ যা নাযিল করার তা নাযিল করলেন। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এসে আয়িশা (রাঃ)-কে এ সংবাদ জানালেন। আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমি একমাত্র আল্লাহরই প্রশংসা করব, অন্য কার প্রশংসা নয়।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৫০

নভে. 122013
 

হাজ্জাজ ইবন মিনহাল (রহঃ) উরওয়া ইবন যুবায়র, সাঈদ ইবন মূসা ইয়্যাব, আলকামা ইবন ওয়াক্কাস ও উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সহধর্মিনা আয়িশা (রাঃ)-এর ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা করেন। যখন অপবাদ রটনাকারীরা তার সম্পর্কে “যা বলার তা বলল। তখন আল্লাহ তা-আলা তাদের অপবাদ থেকে তাকে পবিত্র বলে ঘোষণা দিলেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকে হাদীসটির কিছু কিছু অংশ আমাকে বর্ণনা করেছেন। আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি ধারণাও করিনি যে, আল্লাহ আমার পবিত্রতার সপক্ষে এমন ওহী অবতীর্ণ করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। আমার মর্যাদা আমার কাছে এর চাইতে তূচ্ছ ছিল যে, আল্লাহ তা-আলা আমার বিষয়ে এমন কোন কালাম করবেন যা তিলাওয়াত করা হবে। তবে আমি আশা করতাম যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রুপে এমন কিছু দেখবেন, যারদারা আল্লাহ আমার পবিত্রতা ঘোযণা করবেন। অথচ আল্লাহ অবতীর্ন করলেনঃ যারা অপবাদ রটনা করেছে থেকে দশটিআয়াত (১০- ২১)।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৯১

নভে. 102013
 

আবূ উসামা ও মুহাম্মদ ইবন হারব (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের (সামনে) খুতবা দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুনগান বর্ননা করলেন। এরপর তিনি বললেনঃ যারা আমার স্ত্রীর অপবাদ রটিয়ে ফিরছে- তাদের সম্পর্কে তোমরা আমাকে কি পরামর্শ দাও। আমি আমার পরিবারের কারো মধ্যে কোন প্রকার অশ্লীলতা বিন্দুমাত্র অনুভব করিনি। উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আয়িশাকে সেই অপবাদ সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে আমার পরিজনের (বাবা-মার) কাছে যাওয়ার অনুমতি দিবেন কি? তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে অনুমতি দিলেন এবং তার সাথে একজন গোলামও পাঠালেন। জনৈক আনসারী বললেনঃ তুমিই পবিত্র হে আল্লাহ। এ ধরনের কথা আমাদের মুখে শোভা পায় না। এটা ভিত্তিহীন ঘৃণ্য মিথ্যা অপবাদ। তোমারই পবিত্রতা হে আল্লাহ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৬৭

নভে. 102013
 

আল উওয়ায়সী (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যখন মিথ্যা অপবাদকারীরা তাঁর (আয়িশার) বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন (যিনার) অপবাদ রটিয়েছিল। তিনি বলেনঃ- ওহী আসতে বিলন্ব হচ্ছিল, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী ইবন আবূ তালিব ও উসামা ইবন যায়িদের কাছে কিছু পরামর্শ করার জন্য তাদেরকে ডাকলেন। এবং তার সহধর্মিনা আয়িশা (রাঃ)-কে পৃথক করে দেওয়া সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। উসামা (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর পরিবারের পবিত্রতা সম্পর্কে তার যা জানাছিল তা উল্লেখ করলেন। আর আলী (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ আপনার জন্য তো কোন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেননি। মহিলা তো তিনি ব্যতীত আরও অনেক আছেন। আপনি বাদীটির কাছে জিজ্ঞাসা করুন, সে আপনাকে সত্য যা, তাই বলবে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বারীরাকে ডাকলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি সন্দেহের কিছু অবলোকন করেছ? তিনি বললেনঃ আমি এ ছাড়া আর অধিক কিছুই জানিনা যে, আয়িশা (রাঃ) হচ্ছে অল্পবয়স্কা মেয়ে। তিনি নিজের ঘরের আটা পিযে ঘুমিয়ে পড়েন, এমতাবস্হায় বকরী এসে তা খেয়ে ফেলে। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে দাড়িয়ে বললেনঃ হে মুসলিমগণ! যে ব্যাক্তি আমার পরিবারের অপবাদ রটিয়ে আমাকে কষ্ট দিয়েছে তার প্রতিকার করতে আমাকে সাহায্য করার মত কেউ আছ কি? আল্লাহর কসম! আমি আমার পরিবার সম্পর্কে ভালো ছাড়া মন্দ কিছুই জানিনা এবং তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর পবিত্রতার কথা বর্ণনা করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৬৬

নভে. 102013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) ও লাইছ (রহঃ) উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা এক মজলিসে বসা ছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বললেনঃ তোমরা আমার নিকট এ মর্মে বায়আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না; তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না এবং কাউকে এরুপ মিথ্যা অপবাদ দেবে না, যা তোমাদেরই গড়া আর শরীয়ত সন্মত কাজে আমার নাফরমানী করবে না। তোমাদের মধ্যে যারা এই অঙ্গীকার পূর্ণ করবে, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে। আর যারা এর কোন একটি করবে এবং দুনিয়ায় এ কারনে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে, তাহলে এটা তার কাফফারা (পাপ মোচন) হয়ে যাবে। আর যদি কেউ এর কোন একটি অপরাধ করে ফেলে আর আল্লাহ তা গোপন করে রাখেন, তাহলে তার বিযয়াট আল্লাহর উপর ন্যাস্ত থাকবে। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন আর ইচ্ছা করলে তাকে মাফ করে দিবেন। এরপর আমরা এর উপর বায়আত গ্রহগ করলাম।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭২০

নভে. 052013
 

মুসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) সাবিত ইবন যাহহাক (রাঃ) থেকে বর্নিত যে- নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ যে কেউ ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের মিথ্যা কসম খায়, সে যা বলে তাই হবে। আর যে বস্তু দিয়ে কেউ আত্নহত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে তাকে সে বস্তু দিয়েই আযাব দেওয়া হবে। ঈমানদারকে লানত করা! তাকে হত্যা করার সমান। আর যে কেউ কোন ঈসানদারকে কুফরীর অপবাদ দিবে, তাও তাকে হত্যা করার সমান হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৭৫

নভে. 052013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) সাবিত ইবন যাহহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি গাছের নীচে বাইআত গ্রহণকারীদের অন্যতম সাহাবী ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের উপর কসম খাবে সে ঐ ধর্মেরই শামিল হয়ে যাবে আর মানুষ যে জিনিসের মালিক নয়, এমন জিনিসের নযর আদায় করা তার উপর ওয়াজিব নয়। আর কোন ব্যাক্তি দুনিয়াতে যে জিনিস দ্বারা আত্নহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন সে জিনিস দিয়েই তাকে আযাব দেওয়া হবে। কোন ব্যাক্তি কোন মুমিনের উপর অভিশাপ দিলে, তা তাকে হত্যা করারই শামিল হবে। আর কোন মুমিনকে কাফির বলে অপবাদ দিলে! তাও তাকে হত্যা করারই মত হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬২১

নভে. 022013
 

ইয়াহইয়া (রহঃ) ইবন শুরু াইজ (রহঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমাকে ইবন শিহাব (রহঃ) লিআন ও তার হুকুম সম্বন্ধে স্বাদ গোত্রের সাহল ইবন স্বাদ (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ননা করেন যে, আনসারদের জনৈক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর কাছে এসে বলল ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনি কি বলেন, যদি কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য কাউকে দেখতে পায়, তবে কি সে তাকে হত্যা করবে? অথবা কি করবে? এর পর আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে কুরআনে উল্লেখিত লিআনের বিধান অবর্তীর্ণ করেন। তখন নাবী (সাঃ) বললেনঃ আল্লাহ তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন। রাবী বলেনঃ আমি উপস্থিত থাকতেই তারা উভয়ে মসজিদে লিআন করল। উভয়ের লিআন কাজ সমাধা হলে সে ব্যাক্তি বললঃ ইয়া রাসুলুল্লা! যদি আমি তাকে স্ত্রী হিসাবে রেখে দেই তবে তার উপর মিথ্যারোপ করেছি বলে সাবস্থ হবে। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে আদেশ দেয়ার পূর্বেই সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সামনেই তারা পৃথক হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ এই সম্পর্কোচ্ছেদই লিআন এর বিধান। ইবন জুরাইজ বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) বলেছেনঃ তাদের পর লিআনকারীদের মধো পৃথক করার হুকুম প্রবর্তিত হয়। উপরোক্ত মহিলা ছিল সন্তান সম্ভবা। তার বাচ্চাকে মায়ের পরিচয়ে ডাকা হত। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর উত্তোধিকারের ব্যাপারেও হুকুম প্রবর্তিত হল যে, মহিলা সন্তানের উত্তরাধিকারী হবে এবং সন্তানও তার উত্তারাধিকারী হবে, যতটুকু আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছেন। হাদীসে ইবন জুরাইজ, ইবন শিহাবের সুত্রে স্বাদ ইবন স্বাদ সাঈদী থেকে বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ যদি ঐ মহিলা ওহরার (এক প্রকার ছোট প্রানী) এর মতো লাল ও বেটে সন্তান প্রসব করে, তবে বুঝবো মহিলাই সত্য বলেছে, আর যেই তার উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আর যদি সে কালো চক্ষু বিশিষ্ট বড় নিতম্বযুক্ত সন্তান প্রসব করে, তবে বুঝবো, সে ব্যাক্তি সত্যই বলেছে। পরে মহিলাটি কালো সন্তানই প্রসব করেছিল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯২৬

নভে. 022013
 

মুসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, এ জনৈক ব্যাক্তি তার স্ত্রীকে অপবাদ দিল। নাবী (সাঃ) উভয়কে শপথ করালেন এবং তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তালাক হাদিস নাম্বারঃ ৪৯২৩