নভে. 092013
 

ইবরাহীম ইবন মূসা (রহঃ) উসামা ইবন সায়দ থেকে বর্ণিত যে, একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন একটি গাধার উপর সাওয়ার হলেন, যার জীনের নীচে ফাদাকের তৈরী একখানি চাদর ছিল। তিনি উসামা ইবন যায়দকে নিজের পেছনে বসিয়ে ছিলেন। তখন তিনি হারিস ইবন খাযরাজ গোত্রের স্বাদ ইবন উবাদা -এর দেখাশোনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। এটি ছিল বদর যুদ্ধের আগের ঘটনা। তিনি এমন এক মজলিসের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানে মুসলমান, প্রতিমাপূজক মুশরিক ও ইয়াহুদী ছিল। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুলও ছিল। আর এ মজলিসে আব্দুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রাঃ) ও উপস্থিত ছিলেন। যখন সাওয়ারীর পদাঘাতে উড়ন্ত ধূলাবালী মজলিসকে ঢেকে ফেলছিল। তখন আব্দুল্লাহ ইবন উবাই তার চাদর দিয়ে তার নাক ঢাকল। তারপর বললঃ তোমরা আমাদের উপর ধুলাবালু উড়িয়োনা। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সালাম করলেন। তারপর এখানে থামলেন ও সাওয়ারী থেকে নেমে তাদের আল্লাহর প্রতি আহবান করলেন এবং তাদের কাছে কুরআন পাঠ করলেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালুল বললোঃ হে আগত ব্যাক্তি! আপনার এ কথার চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই। তবে আপনি যা বলছেন, যসিও তা সত্য, তবুও আপনি আমাদের মজলিসে এসব বসে আামাদের বিরক্ত করবেন না। আপনি আপনার নিজ ঠিকানায় ফিরে যান। এরপর আমাদের মধ্য থেকে কেউ আপনার নিকট গেলে তাকে এসব কথা বলবেন। তখন ইবন রাওয়াহা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আমাদের মজলিসে আসবেন, আমরা এসব কথা পছন্দ করি। তখন মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহুদীদের মধ্যে পরস্পর , গালাগালি শুরু হয়ে গেল। এমন কি তারা একে অন্যের উপর আক্রমণ করতে উদ্যত হল। তখণি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের থামাতে লাগলেন। অবশেষে তিনি তার সাওয়ারীতে আরোহন করে রওয়ানা হলেন এবং স্বাদ ইবন উবাদার কাছে পৌছলেন। তারপর তিনি বললেন হে স্বাদ! আবূ তুরাব অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবন উবাই কি বলেছে, তা কি তুমি শুনোনি? স্বাদ (রাঃ) বললেনঃ সে এমন কথাবার্তা বলেছে। তিনি আরো বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনি তাকে মাফ করে দিন। আর তার কথা ছেড়ে দিন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা আলা আপনাকে যে সব নিয়ামত দান করার ছিল তা সবই দান করেছেন। পক্ষান্তরে এ শহরের অধিবাসীরা তো পরামর্শ করে সিধান্ত নিয়েছিল যে, তারা তাকে রাজ মুকুট পরবে। আর তার মাথায় রাজকীয় পাগড়ী বেধে দিবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আপনাকে যে দ্বীনে হক দান করেছেন, তা দিয়ে তিনি তাদের সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে সে (ক্ষোভানলে) জ্বলছে এজন্যই সে আপনার সঙ্গে যে আচরন করেছে, তা আপনি নিজেই প্রত্যাক্ষ করেছেন। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে মাফ করে দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অনুমতি চাওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৫৮২০

অক্টো. 302013
 

আদম ইব্‌ন আবূ ইয়াস (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রম হানী বা অন্য কোন বিষয়ে জুলুমের জন্য দায় থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করায়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোনো দীনার বা দিরহাম থাকবেনা। সে দিন তার কোনো সৎকর্ম থাকলে তার জুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট থেকে নেওয়া হবে আর তার কোনো সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ থেকে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। আবূ আবদুল্লাহ্‌ (ইমাম বুখারী (রাঃ) বলেন, ইসমাঈল ইব্‌ন উয়াইস (রাঃ) বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী (রহঃ) কবরস্থানে পার্শ্বে অবস্থান করতেন বলে তাকে আল-মাকবুরী বলা হত। আবূ আবদুল্লাহ্‌ (আমাম বুখারী (রাঃ) এও বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী হলেন, বনূ লাইসের আযাদকৃত গোলাম। ইনি হলেন সাঈদ ইব্‌ন আবূ সাঈদ। আর আবূ সাঈদের নাম হল কায়সান।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যুলম ও কিসাস হাদিস নাম্বারঃ ২২৮৭

অক্টো. 282013
 

মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রুবাইয়্যি বিনতে নাযর (রাঃ) এক কিশোরীর সামনে দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিল। তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করল আর অপর পক্ষ ক্ষমা চাইল। তারা অস্বীকার এবং নাবী (সাঃ) -এর কাছে এল। তিনি কিসাসের নির্দেশ দিলেন। আনাস ইবন নাযর (রাঃ) তখন বললেন, ‘ইয়া রাসূল (সাঃ)! রুবাইয়্যি এর দাঁত ভাঙ্গা হবে? না যিনি আপনাকে সত্য সহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম তার দাঁত ভাঙ্গা হবে না। তিনি বললেন, হে আনাস, আল্লাহর বিধান হল কিসাস। ’ তারপর বাদীপক্ষ রাজি হয় এবং ক্ষমা করে দেয়। তখন নাবী (সাঃ) বললেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এমন বান্দাও রয়েছেন যে, আল্লাহর নামে কোন কসম করলে তা পূরণ করেন। ফাযারী (রহঃ) হুমায়দ (রহঃ) সূত্রে আনাস (রাঃ) থেকে রিওয়ায়াত করতে গিয়ে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন লোকেরা সম্মত হল এবং ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সন্ধি হাদিস নাম্বারঃ ২৫২২

অক্টো. 242013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি তোমাদের কাউকে তার নেক আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে সক্ষম হবে না। লোকজন প্রশ্ন করল: ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনাকেও নয়? তিনি বললেনঃ আমাকেও নয়, ততক্ষন পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে তার করুণা ও মেহেরবানীর দ্বারা ঢেকে না দেন। কাজেই মধ্যপন্থী অবলম্বন কর এবং নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে যাও। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে ভাল লোক হলে (বেশী বয়স পাওয়ার দরুন) তার নেক আমল বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ পাবে। পক্ষান্তরে মন্দ লোক হলে সে লজ্জিত হয়ে তওবা করার সুযোগ লাভ করতে পারবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ রোগীদের বর্ণনা হাদিস নাম্বারঃ ৫২৭১

অক্টো. 232013
 

ইসমায়ীল ইবন আবান (রহঃ)—– ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) মিম্বরের উপর আরোহণ করলেন। এ ছিল তাঁর জীবনের শেষ মজলিস। তিনি বসেছিলেন, তাঁর দু’ কাঁধের উপর বড় চাদর জড়ানো ছিল এবং মাথায় বাঁধা ছিল কালো পট্টি। তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর মহিমা বর্ণনা করলেন, এরপর বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আমার নিকট আস। লোকজন তাঁর নিকট একত্র হলেন। এরপর তিনি বললেনঃ “আমমা বা’দ”। শুনে রাখো, এ আনসার গোত্র সংখ্যায় কমতে থাকবে এবং অন্য লোকেরা সংখ্যায় বাড়তে থাকবে। কাজেই যে ব্যাক্তি হযরত মুহাম্মদ -এর উম্মাতের কোন বিষয়ের কর্তৃত্ব লাভ করবে এবং সে এর সাহায্যে কারো ক্ষতি বা উপকার করার সুযোগ পাবে, সে যেন এই আনসারদের সৎ লোকদের ভাল কাজগুলো গ্রহণ করে এবং তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জুমু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৮৮০

অক্টো. 202013
 

উমর ইবন হাফস (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যেন লক্ষ্য করছিলাম যে, নাবী (সাঃ) কোন এক নাবী (সাঃ) র কথা বর্ননা করছেন। যাকে তাঁর সম্প্রদায় প্রহার করে রক্তাক্ত করে ফেলে, আর তিনি আপন চেহারা থেকে রক্ত মুছেন ও বলছেনঃ হে রব! তুমি আমার কাওমকে মাফ করে দাও। কেননা, তারা বুঝতে পারছে না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আল্লাহদ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদের তউবা হাদিস নাম্বারঃ ৬৪৬০

অক্টো. 182013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) হযরত আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেন, বন্দীদেরকে মুক্তি দাও, দাওয়াত কবূল কর এবং রোগীদের সেবা কর।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বিয়ে-শাদী হাদিস নাম্বারঃ ৪৭৯৬

অক্টো. 132013
 

ইসমাঈল (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উয়ায়না ইবন ইবন ইবন হুযায়ফা ইবন বাদর (রহঃ) তাঁর ভ্রাতূষ্পূত্র হুর ইবন কায়স ইবন ইবন-এর নিকট এলেন। উমর (রাঃ) যাদের নিজের সান্নিধ্যে রাখতেন, হুর ইবন কায়স (রহঃ) ছিলেন তাদেরই একজন। যুবক হোক কিংবা বৃদ্ধ কারী (আলিম) ব্যাক্তিরাই উমর (রাঃ)-এর মজলিসের সভাসদ ও পরামর্শদাতা ছিলেন। উয়ায়না তার ভাতিজাকে বললেনঃ হে ভাতিজা! তোমার কি আমীরের নিকট এভটুকু প্রভাব আছে যে আমার জন্য সাক্ষাতের অনুমতি গ্রহণ করতে পারবে? সে বলল, আমি আপনার ব্যাপারে তাঁর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করব। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ তিনি (হুর) উয়ায়নার জন্য অনুমতি চাইলেন। তারপর যখন উয়ায়না (রাঃ) উমর (রাঃ)-এর নিকট গেলেন, তখন সে বলল, হে ইবন খাত্তাব! আপনি আমাদের (প্রচুর পরিমাণে) মাল দিচ্ছেন না, আবার ইনসাফের ভিত্তিতে আমাদের মাঝে ফায়সালাও করছেন না। তখন উমর (রাঃ) রাগান্বিত হলেন, এমন কিন্তু তিনি তাকে প্রহার করতে উদ্যত হলেন। তখন হুর বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন। আল্লাহ তাঁর নবী (সাঃ) -কে বলেছেনঃ তুমি ক্ষমা। পরায়ণতা অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও, আর অজ্ঞদেরকে উপেক্ষা কর। (৭-১৯৯)। এ লোকটি নিঃসন্দেহে একজন মুর্খ। আল্লাহর শপথ! উমর (রাঃ)-এর সামনে এই আয়াতটি পাঠ করা হলে তিনি মোটেও তা লংঘন করলেন না। বস্তুত তিনি মহান আল্লাহ তাঁআলার কিতাবের বড়ই অনুগত ছিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৮৮

অক্টো. 112013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উবাই (মুনাফিক সর্দার) এর মৃত্যু হলে তার পুত্র (যিনি সাহাবী ছিলেন) নবী (সাঃ) -এর কাছে এসে বললেন, আপনার জামাটি আমাকে দান করুন। আমি তা দিয়ে আমার পিতার কাফন পরাতে ইছা করি। আর আপনি তার জানাযা পড়াবেন এবং তার জন্য মাগফিরাত কামনা করবেন। নবী (সাঃ) নিজের জামাটি তাঁকে দিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ আমাকে সংবাদ দিও, আমি তার জানাযা আদায় করব। তিনি তাঁকে সংবাদ দিলেন। যখন নবী (সাঃ) তার জানাযা আদায়ের ইচ্ছা করলেন, তখন উমর (রাঃ) তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের জানাযা আদায় করতে নিষেধ করেন নি? তিনি বললেনঃ আমাকে তো দু’টির মধ্যে কোন একটি করার ইখ্‌তিয়ার দেওয়া হয়েছে। (আল্লাহ তা’আলা বলেছেন) আপনি তাদের (মুনাফিকদের) জন্য মাগফিরাত কামনা করুন বা মাগফিরাত কামনা না-ই করুন (একই কথা) আপনি যদি সত্তর বারও তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেন; কখনো আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন না। কাজেই তিনি তার জানাযা পড়লেন, তারপর নাযিল হলঃ “তাদের কেউ মারা গেলে কখনও আপনি তাদের জানাযা আদায় করবেন না। ”

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১১৯৫

অক্টো. 072013
 

‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) যখন পায়খানা থেকে বের হতেন তখন বলতেনঃ ‘(হে আল্লাহ!) আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি’। -সহীহ্‌। ইবনু মাজাহ-(৩০০) আবূ ‘ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। আমি শুধু ইউসুফ ইবনু আবূ বুরদার সূত্রে ইসরাঈলের বর্ণনার মাধ্যমেই এ হাদীস জানতে পেরেছি। আবূ বুরদা ইবনু আবূ মুসা র নাম হল ‘আমির ইবনু ‘আবদুল্লাহ্‌ ইবনু কাইস আল-আশ্‌’আরী। এ অনুচ্ছেদে শুধু ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাঃ) হতে বর্ণিত এ হাদীস ব্যতীত অন্য কোন হাদীস আমরা জানিনা।

জামে তিরমিজী অধ্যায়ঃ পবিত্রতা হাদিস নাম্বারঃ ৭