নভে. 172013
 

আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) যাহদাম (রাঃ) থেকে বীর্ণত, থথীণ বলেন, আমরা আবূ মূসা (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম, এ সময় মুরগীর (গোশত) সম্বন্ধে আলোচনা উঠল। তথায় তাইমূল্লাহ গোত্রের এমন লাল বর্ণের এক ব্যাক্তিও উপস্থিত ছিল, যেন সে মাওয়ালী (রোসমক ক্যীতদাস)-এর একজন। তাকে খাওয়ার জন্য ডাকলেন। তখন সে বলে উঠল, আমি মুরগীকে এমন বস্ত্ত খেতে দেখেছি, যাতে আমার ঘৃণা জন্মেছে। তাই আমি শপথ করেছি যে, তা খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, আস, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে হাদীস শোনাচ্ছি। আমি কয়েকজন আশআরী ব্যাক্তির পক্ষে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট সাওয়ারী চাইতে যাই। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাওয়ারী দিব না এবং আমার কাছে তোমাদের দেওয়ার মত কোন সাওয়ারীও নেই। এ সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট গনীমতের কয়েকটি উট আনা হল। তখন তিনি আমাদের খোজ নিলেন এবং বললেন, সেই আশ‘আরী লোকেরা কোথায়? তারপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উচু সা’দা চুলওয়ালা পাঁচটি উট আমাদের দিতে বললেন। যখন আমরা উট নিয়ে রওয়ানা হলাম বললাম, আমরা কী করলাম? আমাদের মঙ্গল হবে না। আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট ফিরে এলাম এবং বললাম, আমরা আপনার নিকট সাওয়ারীর জন্য আবেদন করেছিলাম, তখন আপনি শপথ করে বলেছিলেন, আমাদের সাওয়ারী দিবেন না। আপনি তা ভুলে গিয়েছিলেন? রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদের সাওয়ারী দেইনি বরং আল্লাহ তা‘আলাই তোমাদের সাওয়ারী দান করেছেন। আরাল্লাহর কসম, আমার অবস্থা এই যে, ইনশাআল্লাহর আমি কোন বিষয়ে আমি কসম করি এবং তার বিপরীতটি মঙ্গলজনক মনে করি, তখন সেই মঙ্গলজনকটি আমি করি এবং কাফফারা দিয়ে কসম থেকে মুক্ত হই।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯১২

নভে. 122013
 

আব্দুল্লাহ ইবনু আবদা ওয়াহহাব (রহঃ) যাহদাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জারমের এ গোত্রটির সাথে আশআরী গোত্রের গভীর ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্ব ছিল। এক সময় আমরা আবূ মূসা আশ আরী (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তার কাছে খাবার আনা হল। এতে মুরগীর গোশতও ছিল। এ সময় তার নিকট বনী তায়মুলাহর এক ব্যাক্তি ছিল। সে (দেখতে) যেন আযাদকৃত গোলাম (অনারব)। তাকেও আবূ মূসা (রাঃ) খেতে ডাকলেন। সে বলল, আমি এ মুরগীকে এমন কিছু জিনিস খেতে দেখেছি, যার ফলে এটি খেতে আমি ঘৃণা করি। এই জন্য কসম করেছি, আমি, তা আর খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেনঃ তুমি এদিকে এসো, এ সম্পর্কে আমি তোমাকে একটি হাদীস শোনাব। আমি এক সময় আশ আরী গোত্রের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে বাহন চাওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের বাহন দেব না। আর তোমাদের দেওয়ার মত আমার কাছে বাহন নেই। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে গনীমতের কিছু উট আনা হলে তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেনঃ আশ’আরীদের দলটি কোথায়? তারপর তিনি পাচটি মোটা তাজা ও উত্তম উট আমাদের দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমরা এগুলো নিয়ে ফিরার পথে বলতে লাগলাম, আমরা যে কি করলাম! নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কসম করে বললেন- আমাদের বাহন দেবেন না) এবং তাঁর কাছে দেওয়ার মত বাহন নেই। তারপরও তো তিনি আমাদের বাহন দিয়ে দিলেন। হয়ত আমরা তাকে তাঁর কসম সম্পর্কে অজ্ঞাত অবস্থায় পেয়েছিলাম। আল্লাহর কসম! আমরা কখনো সফলকাম হবো না। তাই আমরা তাঁর কাছে আবার গেলাম এবং তা তাকে-বললাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের বাধা দেইনি, বরং দিয়েছেন আল্লাহ। আল্লাহর কসম! আমি কোন বিষয়ে কসম করি যদি তার বিপরীতে মঙ্গল দেখতে পাই, তবে তা করে নেই এবং (কাফফারা দিয়ে) কসম থেকে বের হয়ে আসি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৪৫

নভে. 122013
 

হুমায়দী (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মিথ্যা কসম করে কোন মুসলমানের সম্পদ থেকে আত্মসাৎ করবে, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে মিলিত হবে এমতাবস্হায় যে, তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার বানীর সমর্থনে আল্লাহর কিতাবের আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছমূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না (৩-৭৭)।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৩৭

নভে. 122013
 

আবূ নুআঈম (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। কারো কসম করতে হলে সে যেন আল্লাহর নামেই কসম করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৯৭

নভে. 122013
 

সাঈদ ইবন সুলায়মান (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিকাংশ সময় কসম করতেন এই বলে (না সূচক বিষয়ে) না। তাঁর কসম, যিনি অন্তরসমূহ পরিবর্তন করে দেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৮৭

নভে. 102013
 

হাম্মাদ ইবন হুমায়দ (রহঃ) মুহাম্মদ ইবন যুলকাদির (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে আল্লাহর কসম খেয়ে বলতে শুনেছি যে, ইবন সায়িদ অবশ্যই (-একটা) দাজ্জাল। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলামঃ আল্লাহর কসম খেয়ে বলছেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ আমি উমর (রাঃ)-কে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর উপস্থিতিতে কসম খেয়ে এ কথা বলতে শুনেছি। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ কথা অস্বীকার করেননি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৫৩

নভে. 102013
 

আবদান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তিন ধরনের লোকের সাথে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথাও বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (এক) সে ব্যাক্তি, যে রাস্তার পার্শে অতিরিক্ত পানির অধিকারী কিন্তু মূসাফিরকে তা থেকে পান করতে দেয় না। (দুই) সে লোক যে কেবলমাত্র দুনিয়ার সার্থে ইমামের বায়-আত গ্রহণ করে। (বাদশাহ) যদি তার মনোকামনা পূর্ণ করে তাহলে সে তার বায়আত পূর্ণ করে। আর যদি তা না হয়, তাহলে বায়আত ভঙ্গ করে। (তিন) সে ব্যাক্তি যে আসরের পর অন্য লোকের নিকট দ্রব্য সামগ্রী বিক্রয় করতে যেরে এরুপ কসম খায় যে, আল্লাহর শপথ! এটী এত টাকা দাম হয়েছে। তাকে বিশ্বাস করে সে দ্রব্য ক্রয় করে নিয়ে যায়। অথচ সে দ্রব্যের এত দাম দেওয়া হয়নি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৭১৯

নভে. 102013
 

ইসহাক ইবন নাসর (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মাল আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম করে, সে আল্লাহ তাআলার সাথে এমন অবস্হায় সাক্ষাৎ করবে যে, তিনি তার প্রতি ভীষণ রাগাম্বিত থাকবেন। এ মর্মে আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত অবতীর্ন করেছেনঃ ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তূচ্ছ মূল্য বিক্রয় করে। (৩-৭৭) যখন আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাদেরকে হাদীস বর্ণনা করছিলেন, তখন আশআছ ইবন কায়স (রাঃ) এলেন এবং বললেনঃ যে এই আয়াতই আমি ও অপর একটি লৌক সম্পর্কে অবতীর্ন হয়েছে। একটি ফুয়ার বিষয়ে যার সাথে আমি বিবাদ করেছিলাম। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তোমার কাছে প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম- না। তিনি বললেনঃ তাহলে সে কসম করুক। আমি বললাম সে কসম খাবেই। তখন এই আয়াত অবতীর্ন হয়ঃ যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তূচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে (৩-৭৭)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৯৪

নভে. 102013
 

আবূ মামার (রহঃ) আবদুর রহমান ইবন সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেনঃ হে আবদূর রহমান ইবন সামুরা! নেতৃত্ব চেয়ে নিও না। কেননা, যদি চাওয়ার পর তুমি তা প্রদত্ত হও, তাহলে তার সকল দায়-দায়িত্ব তোমার উপরই অর্পিত হবে। আবূ যদি না চাওয়া সত্তেও তুমি তা প্রদত্ত হও, তাহলে এ ব্যপারে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সহযোগিতা করা হবে। আর কোন বিষয়ে কসম কসার পর তার বিপরীত দিকটিকে যদি উত্তম বলে মনে কর তাহলে উত্তম কাজটি করে ফেল আর তোমার কসমের কাফফারা আদায় করে দিও।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৬২

নভে. 082013
 

আবদান (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ শ্রেষ্ঠ হল আমার যমানার লোক। তারপর উত্তম হল এদের পরবর্তী যমানার লোক তারপর উত্তম হল এদের পরবর্তী যমানার লোক, তারপর এমন সব লোকের আবির্ভাব হবে, যাদের সাক্ষ্য তাদের কসমের পূর্বেই হবে, আর তাদের কসম তাদের সাক্ষ্যের পূর্বেই হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৫৯৮৬