নভে. 152013
 

‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ চতুস্পদ জন্তুর আঘাত দায়মুক্ত, কূপ (খননে শ্রমিকের মৃত্যুতে মালিক) দায়মুক্ত, খনি (খননে কেউ মারা গেলে মালিক) দায়মুক্ত। রিকাযে এক-পঞ্চমাংশ ওয়াজিব।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৪১১

নভে. 112013
 

সায়ীদ ইবন আবূ মারয়াম (রহঃ) …… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমার জননীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সাদাকা করে যেতেন। এখন আমি তাঁর পক্ষ হতে সাদাকা করলে তিনি এ সাওয়াব পাবেন কি? তিনি (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ (অবশ্যই পাবে)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১৩০৫

নভে. 112013
 

আবূল ওয়ালিদ রহ ………বারা’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তনয়) ইবরাহীম (রাঃ) এর ওফাত হলে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তাঁর জন্য তো জান্নাতে একজন দুধ-মা রয়েছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৯৯

নভে. 112013
 

ইয়াকুব ইবন ইবরাহীম রহ ……… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে কোন মুসলিম ব্যাক্তির এমন তিনটি (সন্তান) মারা যাবে, যারা বালিগ হয়নি, আল্লাহ পাক তাদের প্রতি তাঁর রহমতের ফযলে সে ব্যাক্তিকে (মা-বাপকে) জান্নাতে দাখিল করবেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৯৮

নভে. 112013
 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন আবদুল ওয়াহ্‌হাব (রহঃ)………উম্মে আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাই’আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ থেকে এ অংগীকার নিয়েছিলেন যে, আমরা (কোন মৃতের জন্য) বিলাপ করব না। ………আমাদের মধ্য হতে পাঁচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল ‘আলা, আবূ সাব্‌রাহ্‌র কন্যা মু’আযের স্ত্রী, আরো দু’জন মহিলা বা মু’আযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে অংগীকার রক্ষা করেনি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২২৮

নভে. 112013
 

মুহাম্মদ ইব্‌ন আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন হাওশাব(রহঃ)…… আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মুতার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে) যায়দ ইব্‌ন হারিসা, জা’ফর এবং আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন রাওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাত লাভের খবর পৌঁছলে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে পড়লেন; তাঁর মধ্যে শোকের চিহ্ন প্রকাশ পেল। আমি (আয়িশা (রাঃ) দরওয়াযার ফাঁক দিয়ে ঝুকে তা দেখছিলাম। তখন এক ব্যাক্ত তাঁর কাছে এসে সম্বোধন করেন, (ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! জা’ফর (রাঃ)-এর (পরিবারের) মহিলগণের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করলেন। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য তাকে আদেশ করলেন। সেই ব্যাক্তি চলে গেলেন। পরে এসে বললেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি। তিনি উল্লেখ করলেন যে, তারা তাতে মানেনি। তিনি তাদের নিষেধ করার জন্য দ্বিতীয়বার তাকে নির্দেশ দিলেন। তিনি চলে গেলেন এবং আবার এসে বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! অবশ্যই তারা আমাকে (বা বলেছেন আমাদেরাকে) হার মানিয়েছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তা হলে তাদের মুখে মাটি ছুড়ে মারো। (আয়িশা (রাঃ) বলেন) আমি বললাম, আল্লাহ্‌ তোমার নাক ধুলি মিশ্রিত করুন। আল্লাহ্‌র কসম! তোমাকে যে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা করতে পারছ না আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে বিরক্ত করতেও কসূর করোনি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২২৭

নভে. 112013
 

আসবাগ (রহঃ)…… আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা’দ ইব্‌নে উবাদাহ (রাঃ) রোগাক্রান্ত হলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) , আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ সা’দ ইব্‌ন আবূ ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন মাসউদ (রাঃ)-কে সাথে নিয়ে তাকেঁ দেখতে আসলেন। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাকেঁ পরিজন-বেষ্টিত দেখতে পেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে! তাঁরা বললেন, না। ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ! তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেঁদে ফেললেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেন : শুনে রাখ! নি:সন্দেহে আল্লাহ পাক চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে আযাব দিবেন না। তিনি আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহ্‌বার দিকে ইশারা করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যাক্তির জন্য তার পরিজনের বিলাপের কারণে তাকে আযাব দেওয়া হয়। উমর (রাঃ) এ (ধরণের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা প্রহার করতেন কংকর নিক্ষেপ করতেন বা মাটি ছুড়ে মারতেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২২৬

নভে. 112013
 

হাসান ইব্‌ন আবদুল আযীয (রহঃ)…… আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সংগে আবূ সায়ফ্‌ কর্মকারের কাছে গেলাম। তিনি ছিলেন (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -তনয়) ইব্‌রাহীম (রাঃ)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং তাকে নাকে-মুখে লাগালেন। এরপর (আর একদিন) আমরা তার ( আবূ সায়ফ্‌-এর) বাড়ীতে গেলাম। তখন ইব্‌রাহীম (রাঃ) মুমূর্ষ অবস্থায়। এতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর উভয় চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন আবদুর রাহমান ইব্‌ন আওফ (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ! আর আপনিও?(কাঁদছেন?) তখন তিনি বললেন : ইব্‌ন আওফ, এ হচ্ছে মায়া-মমতা। তারপর পুন:বার অশ্রু ঝরতে থাকল, এরপর তিনি বললেন : অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তাই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন। আর হে ইব্‌রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকাভিভূত। মূসা (রহঃ)…… আনাস (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২২৫

নভে. 112013
 

মুহাম্মদ ইব্‌ন বাশ্‌শার (রহঃ)……… আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিপদের প্রথম অবস্থায়েই প্রকৃত সব্‌র।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২২৪

নভে. 112013
 

বিশর ইব্‌ন হাকাম (রহঃ)… আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ) তিনি বলেন, আবূ তালহা (রাঃ)-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। রাবী বলেন, সে মারা গেল। তখন আবূ তালহা (রাঃ) বাড়ীর বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন। ১এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোনে রেখে দিলেন। আবূ তালহা (রাঃ) বাড়ীতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবূ তালহা (রাঃ) ভাবলেন, তাঁর স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রতি যাপন করলেন এবং। ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাঁকে জানালেন ছেলেটি মারা গেছে। এরপর তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সংগে (ফজরের) সালাত (নামায) আদায় করলেন। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে তাঁদের রাতের ঘটনা জানালেন । তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন : আশা করা যায়, আল্লাহ পাক তোমাদের এ রাতে বরকত দিবেন। সুফিয়ন (রাঃ) বলেন, এক ব্যাক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি ( আবূ তালহা (রাঃ) দম্পতির নয়জন সন্তান দেখেছি, তাঁরা সবাই কুরআন সম্পর্কে দক্ষ ছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২২৩