নভে. 222013
 

আবূল ওয়ালিদ (রাঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা কিছু জিনিস (লোকদের মধ্যে) বণ্টন করেন। তখন এক ব্যাক্তি বলল, এতো এমন ধরনের বণ্টন যা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এরপর আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর খেদমতে আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি খুব অসন্তূষ্ট হলেন, এমনকি তাঁর চেহারায় আমি অসন্তূষ্টিড় ভাব দেখতে পেলাম। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি রহম করুন তাঁকে এর চেয়ে অনেক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ধৈর্যধারণ করেছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৬৬

নভে. 172013
 

আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেীছলেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে তবে আমি তোমাকে এ পরিমাণ, এ পরিমাণ, এ পরিমাণ দিব। পরে যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকাল করেন আর বাহরাইনের মাল এসে যায় তখন আবূ বকর (রাঃ) বললেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর প্রতি যে ব্যাক্তির প্রতিশ্রুতি থাকে, সে যেন আমার কাছে আসে। তখন আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং বললাম, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছিলেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে, তবে আমি তোমাকে এ পরিমাণ, এ পরিমাণ ও এ পরিমাণ দিব। আবূ বকর (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি অঞ্জুলি ভরে নাও। আমি এক অঞ্জুলি উঠালাম। তিনি আমাকে বললেন, এগুলো গুনে দেখ। আমি গুনে দেখলাম যে, তাতে পাঁচশ রয়েছে। তখন তিনি আমাকে এক হাজার পাঁচশ দিলেন। আর ইব্রাহীম ইবনু তাহমান (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণণা করেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ৯সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বাহরাইনের মাল এল। তখন তিনি বললেন, তোমরা এগুলো মসজিদে ঢেলে দাও আর এ মাল এর আগে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট আগত মালের চাইতে অনেক বেশী ছিল। এ সময় আববাস (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমাকে দান করুন। আমি আমার এবং আকিলের মুক্তিপণ দিয়েছি। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আচ্ছা নাও। তিনি তার কাপড়ে অঞ্জুলি ভরে নিতে লাগলেন। তারপর তা উঠাতে চাইলেন কিন্তু উঠাতে পারলেন না। তখন তিনি বললেন, কাউকে আমার উপর এ বোঝা উঠিয়ে দিতে বলুন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। তখন তিনি বললেন, আচ্ছা আপনিই আমার উপর উঠিয়ে দিন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তিনি তা থেকে কিছু কমিয়ে ফেললেন এবং উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু উঠাতে পাররেন না। তারপর বললেন, কাউকে আমার উপর বোঝাটি উঠিয়ে দিতে বলুন। তিনি বললেন, না। তখন আববাস (রাঃ) বললেন, আপনিই একটু আমার উপর উঠিয়ে দিন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। তারপর তিনি আবার তা থেকে কমালেন, এরপর কাঁধের উপর উঠিয়ে রওয়ানা হলেন। তাঁর এ আগ্রহ দেখে বিষ্ময়ের সাথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকিয়ে থাকলেন, —যতক্ষণ না তিনি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে গেলেন্ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে স্থানে একটি দিরহাম থাকা পর্যন্ত সেখান থেকে উঠে দাঁড়াননি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৪১

নভে. 172013
 

আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাহরাইনের ভূমি লিখে দেওয়ার জন্য আনসারদের ডাকলেন। তখন তারা বললেন, না, আল্লাহর কসম! আমরা সে পর্যন্ত গ্রহন করব না, যে পর্যন্ত আপনি আমাদের ভাই কুরাইশদের জন্যও অনুরূপ লিখে না দেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ সম্পদ তো তাদের জন্য যতক্ষণ আল্লাহ তা‘আলা চাইবেন। কিন্তু তারা সেই কথাই পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার পরে দেখতে পাবে যে, অন্যকে তোমাদের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তখন তোমরা (হাউযে কাওসারে) আমার সঙ্গে মিলিত হওয়া পর্যন্ত সবর করবে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৪০

নভে. 172013
 

মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) আসমা বিনতে আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিজ মাথায় করে সে জমিন থেকে খেজুর দানা বহন করে আনতাম, যা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুবায়র (রাঃ)-কে দান করেছিলেন। যে জমীনটি আমার ঘর থেকে এক ‘ফারসাকে’ দু’তৃতীয়াংশ ব্যবধানে অবস্থিত ছিল। আর আবূ যামরাহ (রাঃ) হিশামের পিতা উরওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুবায়র (রাঃ)-কে বানূ নাযীর গোত্রের সম্পত্তি থেকে একখন্ড জমি দিয়েছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৩০

নভে. 172013
 

উসমান ইবনু আবূ শাইবা (রহঃ) আবূদল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুনাইনের দিনে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন কোন লোককে বন্টনে অন্যদের উপর প্রাধান্য দেন। তিনি আকরা‘ ইবনু হাছিবকে একশ’ উট দিলেন। উয়াইনাকেও এ পরিমাণ দেন। সম্ভ্রামত্ম আরব ব্যাক্তিদের দিলেন। এক ব্যাক্তি বলল, আল্লাহর কসম। এখানে সুবিচার করা হয়নি। অথবা সে বলল, এতে আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়নি। (রাবী বলেন), তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে অবশ্যই জানিয়ে দিব। তখন আমি তাঁর কাছে এলাম এবং তাঁকে একথা জানিয়ে দিলাম। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল) যদি সুবিচার না করেন, তবে কে সুবিচার করবে? আল্লাহ তা‘আলা মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রতি রহমত নাযিল করুন, তাঁকে এ চাইতেও অধিক কষ্ট দেওয়া হয়ে, , কিন্তু তিনি সবর করেছেন। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯২৯

নভে. 172013
 

আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ ওয়াইসী (রহঃ) জুবাইর ইবনু মুতয়ীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে ছিলেন, আর তখন তাঁর সঙ্গে আরো লোক ছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন হুনাইন থেকে আসছিলেন। বেদুঈন লোকেরা তাঁর কাছে গনীমতের মাল চাইতে এসে তাঁকে আকড়িয়ে ধরল। এমনকি তারা তাঁকে একটি বাবলা গাছের সাথে ঠেকিয়ে দিল এভং কাঁটা তার চাঁদরাটকে ধরল। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থামলেন। তারপর বললেন, ‘আমার চাঁদরখানি দাও। আমার নিকট যদি এ সকল কাঁটাদার বন্য বৃক্ষের সমপরিমাণ পশু থাকত, তবে সেগুলো তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম। এরপরও আমাকে তোমরা কখনো কৃপণ, মিথ্যাবাদী এবং দুর্বল চিত্ত পাবে না। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯২৭

নভে. 172013
 

আবূল ওয়ালীদ (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমি কুরাইশদের দিয়ে থাকি তাদের মন রক্ষা করার জন্য। কেননা, তারা জাহেলী যুগের কাছাকাছি। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯২৫

নভে. 172013
 

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আমার ইবনু তাগলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক দলকে দিলেন আর এক দলকে দিলেন না। তারা যেন এতে মনক্ষন্ন হলেন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি এমন লোকদের দেই, যাদের সম্পর্ক বিগড়ে যাওয়া কিংবা ধৈর্যহারা হওয়ার আশঙ্কা করি। আর অন্যদল যাদের অমত্মরোল্লাহ তা‘আলা কল্যাণ ও অমুখাপেক্ষিতা দান করেছেন, তার উপর ছেড়ে দিই। আর আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) তাদের অন্তর্ভুক্ত। আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সম্পর্কে যা বলেছেন, তার পরিবর্তে যদি আমাকে লাল বর্ণের উট দেওয়া হতো তাতে আমি এতখানি খুশী হতাম না। আর আবূ আসিম (রহঃ) জারীর (রহঃ) থেকে হাদীসটি এতটুকু অতিরিক্তসহ বর্ণনা করেছেন যে, হাসান (রহঃ) বলেন, আমাকে আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বলেছেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট কিছু মাল অথবা বন্দী আনীত হয়, তখন তিনি তা বণ্টন করেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯২৪

নভে. 172013
 

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) জুবাইর ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং ইসমান ইবনুাফফান (রাঃ) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট গেলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি বানূ মুত্তালিবকে দিয়েছেন, আমাদের বাদ দিয়েছেন। অথচ আমরা এবং তারা আপনার সাথে একই পর্যায়ে সম্পর্কিত। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বানূ মুত্তালিব ও বানূ হাশিম একই পর্যায়ের। লায়স (রহঃ) বলেন, ইউনুস (রহঃ) এ হাদীসটিতে আমাকে অতিরিক্ত বলেছেন যে, জুবাইর (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বানূ আবদ শামস ও বানূ নাওফলকে অংশ দেননি। ইবনু ইসহাক (রহঃ) বলেন, আবদ শামস, হাশিম ও মুত্তালিব একই মায়ের গর্ভজাত সহোদর ভাই। তাদের মা আতিকা বিনতে মুররা আর নাওফল তাদের বৈমাত্রেয় ভাই ছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯১৯

নভে. 172013
 

মুসলিম ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জি’য়রানা নামক স্থানে গনীমতের মালবণ্টন করেছিলেন, তখন এক ব্যাক্তি বলল, (বণ্টন) ইনসাফ করুন। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আমি যদি ইনসাফ না করি, তবে তুমি হবে হতভাগ্য।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯১৭