নভে. 222013
 

কায়স ইবনু হাফস ও মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কা’আব ইবনু উজরা (রাঃ) আমার সাথে দেখা করে বললেন, আমি কি আপনাকে এমন একটি হাদীয়া দেব না যা আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি? আমি বললাম হাঁ, আপনি আমাকে সে হাদীয়াটি দিন। তিনি বললেন, আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনাদের উপর অর্থাৎ আহলে বাইতের উপর কিভাবে দরূদ পাঠ করতে হবে? কেননা, আল্লাহ তো (কেবল) আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাম করব। তিনি বললেন, তোমরা এভাবে বল, ‘‘হ্যাঁ আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ –এর উপর এবং মুহাম্মদ -এর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর বংশধরদের উপর রাহমত বর্ষণ করেছেন। নিচ্ছয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ –এর বংশধরদের উপর তেমনি বরকত ডান করুন যেমনি আপনি বরকত ডান করেছেন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বংশধরদের উপর। নিচ্ছয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদায় অধিকারী।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৩১

নভে. 222013
 

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুমাঈদ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, সাহাবাগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পাঠ করব? তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এভাবে পড়বে, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ –এর উপর, তাঁর স্ত্রীগণের উপর এবং তাঁর বংশধরগণের উপর রহমত নাযিল করুন, যেরূপ আপনি রহমত নাযিল করেছেন ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বংশধরদের উপর। আর আপনি মুহাম্মদ এর উপর, তার স্ত্রীগণের উপর এবং তার বংশধরদের উপর এমনিভাবে বরকত নাযিল করুন যেমনি আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বংশধরদের উপর। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত এবং অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৩০

নভে. 082013
 

আলী ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাঁআলার নিরানব্বই নাম আছে (এক কম একশ নাম)। যে ব্যাক্তি এগুলোর হিফাযত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা-আলা বেজোড়। তাই তিনি রেজোড়ই পছন্দ করেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেনঃ “মান আহসাহা” অর্থ যে হিফাযত করল।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৯৬৮

নভে. 082013
 

কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহর একদল ফেরেশতা আছেন, যারা আল্লাহর যিকরে রত লোকদের তালাশে রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাফেরা করেন। যখন তারা কোথাও আল্লাহর যিকরে রত লোকদের দেখতে পান, তখন তাঁদের একজন অন্যজনকে ডাকাডাকি করে বলেনঃ তোমরা নিজ নিজ কর্তব্য সম্পাদনের জন্য এদিকে চলে এসো। তখন তাঁরা সবাই এসে তাদের ডানাগুলো দিয়ে সেই লোকদের ঢেকে ফেলেন নিকটস্থ আসমান পর্যন্ত। তখন তাদের রব তাদের জিজ্ঞাসা করেন (অথচ এ সম্পর্কে ফেরেশতাদের চাইতে তিনিই বেশি জানেন) আমার বান্দারা কি বলছে? তখন তারা জবাব দেন, তারা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছে, তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করছে, তারা আপনার প্রশংসা করছে এবং তারা আপনার মাহাত্ব বর্ণনা করয়ে তখন তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কি আমাকে দেখেছে? তখন তারা বলবেনঃ হে আমাদের রব, আপনার কসম! তালা আপনাকে দেখেনি। তিনি বলবেন, আছা, তবে যদি তারা আমাকে দেখত? তারা বলবেন, যদি তারা আপনাকে দেখত, তবে তারা আরও বেশি আপনার ইবাদত করত, আরো অখিক আপনার মাহাত্ব বর্ননা করত, আর বেশি বেশি আপনার পবিত্রতা বর্ননা করত। বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি বলবেন, তারা আমার কাছে কি চায়? তারা বলবেন! তারা আপনার কাচে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলবেন, না। আপনার সত্তার কসম হে রব। তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন যদি তারা তা দেখত তবে তারা কি করত? তাঁরা বলবেন, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো বেশি লোভ করত, আরো অধিক চাইত এবং এর জন্য আরো অতিশয় উৎসাহী হয়ে উঠত। আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কিসের থেকে আল্লাহর আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বলবেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তাঁরা জবাব দিবেন, আল্লাহর কসম! হে রব! তারা জাহান্নাম দেখেনি। তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কি হত? তারা বলবেন, যদি তারা তা দেখত, তবে তারা এ থেকে দ্রুত পালিয়েযেত এবং একে সাংঘাতিক ভয় করত। তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের মাফ করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলবেন, তাদের মধ্যে অমুক ব্যাক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোন প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তারা এমন উপবিষ্টকারীবৃন্দ যাদের বৈঠকে অংশগ্রহনকারী বিমুখ হয় না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৯৬৬

নভে. 082013
 

মুহাম্মাদ ইবন আলা (রহঃ) আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি তার রবের যিকর করে, আর যে ব্যাক্তি যিকর করে না, তাদের দু-জনের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতের।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৯৬৫

নভে. 082013
 

ইসহাক (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। গরীব সাহাবীগণ বলেন: ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ! ধনশীল লোকেরা-তো উচ্চমর্যাদা ও চিরস্থায়ী নিয়ামত নিয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে গেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তা কেমন করে? তারা বললেনঃ আমরা যে রকম সালাত (নামায) আদায় করি, তারাও সে রকম সালাত (নামায) আদায় করেন। আমরা সে রুপ জিহাদ করি, তারাও সেরুপ জিহাদ করেন এবং তারা তাদের অতিরিক্ত মাল দিয়ে সাদাকা-খায়রাত করেন; কিন্তু আমাদের কাছে সম্পদ নেই। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের একটি আমল বাতলে দেবনা, যে আমল দ্বারা তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের মর্যাদা অর্জন করতে পারবে, আর তোমাদের পরবর্তীদের চাইতে এগিয়ে যেতে পারবে, আর তোমাদের অনুরুপ আমল কেউ করতে পরেবে না, কেবলমাত্র যারা তোমাদের ন্যয় আমল করবে তারা ব্যতীত। সে আমল হলো তোমরা প্রত্যেক সালাত (নামায)-এর পর ১০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০ বার , এবং ১০ বার আল্লাহ আল্লাহ- পাঠ করবে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৮৯০

নভে. 082013
 

সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) আলী (রাঃ) থেকে বর্নিত। একবার গম পেষার চাক্কি ঘূরানোর কারনে ফাতিমা (রাঃ)-এর হাতে ফোস্কা পড়ে গেল। তখন তিনি একটি খাদেম চেয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে এলেন তিনি তাকে পেলেন না। তখন তিনি আসার উদ্দেশ্যটি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট ব্যক্ত করে গেলেন। এরপর তিনি যখন ঘরে এলেন তখন আয়িশা (রাঃ) এ বিষয়টি তাকে জানালেন। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এমন সময় আসলেন যখন আমরা বিছানায় বিশ্রাম গ্রহণ করেছি। তখন আমি উঠতে চাইলে তিনি বললেন নিজ জায়গায়ই থাকো। তারপর আমাদের মাঝখানেই তিনি এমনিভাবে বসে গেলেন যে, আমি তার দু-পায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে অনুভব করলাম। তিনি বললেন আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল বাতলে দেবনা যা তোমাদের জন্য একটি খাদেমের চাইতেও অনেক বেশী উত্তম। যখন তোমরা শয্যা গ্রহন করতে যাবে, তখন তোমরা আল্লাহ আল্লাহ ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার। আলহামদু লিল্লাহ ৩৩ বার পড়বে। এটা তোমাদের জন্য একটি খাদেমের চাইতেও অনেক বেশী মঙ্গলজনক। ইবন সীরীন (রহঃ) বলেনঃ তাসবীহ হল ৩৪ বার।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৮৭৯

নভে. 082013
 

মুহাম্মাদ ইরন বাশশার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নযী বলেছেনঃ সাত প্রকার লোককে আল্লাহ তা-আলা ছায়া দেবেন। এক জাতীয় ব্যাক্তি হবে আল্লাহর যিকর করে চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত করল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০৩৫

অক্টো. 252013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ একদা সুলায়মান (আঃ) বললেনঃ আমি আজরাতে নববইজন স্ত্রীর সাথে মিলিত হব, যারা প্রত্যেকেই একটি করে সন্তান জন্ম দেবে, যারা হরে অশ্বারোহী জিহাদ করবে আল্লাহর রাস্তায়। তাঁর সঙ্গী বলল, ইনশাআল্লাহ (বলুন)। তিনি ইনশাআল্লাহ বললেনঃ না। অতঃপর তিনি সকল স্ত্রীর সলেই মিলিত হলেন। কিন্তু কেবলমাত্র একজন স্ত্রীই গর্ভবতী হলেন, তাও এক অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল। ঐ মহান সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদ প্রাণ। তিনি যদি ইনশাআল্লাহ বলতেন, তাহলে সকলেই আরোহী হয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত হাদিস নাম্বারঃ ৬১৮৪

অক্টো. 242013
 

মুহাম্মাদ ইবন মুকাতিল আবূল হাসান (রহঃ) আবূ মুসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা যূদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখনই কোন উচ্চস্থানে আরোহণ করতাম, কোন উচুতে থাকতাম এবং কোন উপত্যকা অতিক্রম করতাম তখনই উচ্চঃস্বরে তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতাম। রাবী বলেনঃ নাবী (সাঃ) আমাদের নিকটবর্তী হলেন এবং বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের উপর রহম কর। তোমরা কোন বধির বা কোন অনুপস্হিত সত্তাকে ডাকছ না- তোমরা তো ডাকছ শ্রবণকারী ও দর্শনকারী এক সত্তাকে। এরপর তিনি বললেনঃ হে আব্দুল্লাহ ইবন কায়স! আমি কি তোমাকে এমন একটি কালিমা শিক্ষা দিব না, যা কিনা জান্নাতের ভাণ্ডার সমূহের অন্যতম? তা হচ্ছেঃ ‘লা-হাওলা ওয়ালা-কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাকদির হাদিস নাম্বারঃ ৬১৫৭