নভে. 172013
 

আবদান (রহঃ) আলী (রাঃ) বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের গনীমতের মালের মধ্যে থেকে যে অংশ আমি পেয়েছিলাম, তাতে একটি জওয়ান উটনীও ছিল। আর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুমুসের মধ্য থেকে আমাকে একটি জওয়ান উটনী দান করেন। আর আমি যখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর বাসর যাপন করব, তখন আমি বানূ কায়নূফা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকারের সাথে এ মর্মে চুক্তি বদ্ধ হলাম যে, সে আমার সঙ্গে যাবে এবং আমরা উভয়ে শিলে ইযখির ঘাস (জঙ্গল হতে) সংগ্রহ করে আনব। আমার ইচ্ছা তা স্বর্ণকরদের কাছে বিক্যয় করে তা দিয়ে আমার বিবাহের ওয়ালিমা সম্পন্ন করব। ইতিমধ্যে আমি যখন আমার জওয়ান উটনী দুটির জন্য আসবাবপত্র যেমন পেলান (বসার আসন) থলে ও রশি ইত্যাদি একত্রিত করেছিলাম, আর আমার উটনী দুটি জনৈক আনসারীর হুজরার পার্শ্বে বসা ছিল। আমিাসবাবপত্রযোগার করে এসে দেখি উট দুটির কুজ কেটে ফেলা হয়েছে এবং কোমরের দিকে পেট কেটে কলিজা বের করে নেয় হয়েছে। উটনী দুটির এ দৃশ্য দেখে আমি অশ্রু সম্বরণ করতে পারলাম না। আমি বললা, কে এমনটি করেছে? লোকেরা বলল, হামযা ইবনু আব্দুল মুত্তালিব এমনটি করেছে। সে এ ঘরে আছে এবং শরাব পানকারী কতিপয় আনসারীর সাথে আছে। আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট চলে গেলাম। তখন তাঁর নিকট যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার চেহারা দেখ আমার মানসিক অবস্থা উপলব্ধি করতে পারলেন। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি আজকের মত দুঃখজনক অবস্থা দেখিনি। হামযামার উট দুটির উপর অত্যাচার করেছে। সে দু’টির কুজ কেটে ফেলেছে এবং পাঁজর ফেড়ে ফেলেছে। আর এখন সে অমুক গরে শরাব পানকারী দলের সাথে আছে। ’ তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চাঁদরখানি আনতে আদেশ করলেন এবং চাঁদরখানি জড়ায়ে পাযে হেঁঠে চললেন। আমি এবং যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ) তাঁর অনুসরণ করলাম। হামযা যে ঘরে ছিল সেখানে পৌঁছে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তারা অনুমতি দিল। তখন তারা শরাব পানে মত্ত ছিল। রাসূলল্লাহ হামযাকে তাঁর কাজের জন্য তিরস্কার করতে লাগলেন। হামযা তখন পূর্ণ নেশাগ্রসত্ম। তার চক্ষু দু’টি ছিল রক্তলাল। হামযা তখন রাসূলল্লাহ -এর প্রতি তাকাল। তারপর সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল এবং তাঁর হাঠু পানে তাকাল। পুনরায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁর নাভির প্রতি তাকাল। আবার সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাঁর মুখমন্ডলের প্রতি তাকাল। এরপর হামযা বলল, তোমরাই তো আমা পিতার গোলাম। এ অবস্থা দেখে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বুজতে পারলেন, সে এখন পূর্ণ নেশাগ্রসত্মাছে। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পেছনে হেঁটে সরে আসলেন। আর আমরাও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে আসলাম। (এ ছিল মদ হারাম হওয়ার পূর্বেকার ঘটনা)।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৭৩

নভে. 142013
 

হযরত হুমাইদী (রহঃ) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, ইবনু খাত্তাব (রাঃ) এর নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, অমুক ব্যাক্তি শরাব বিক্রি করেছে। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা অমুকের বিনাশ করুন। সে কি জানেনা যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা ইহুদীদের সর্বনাশ করুন, তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ২০৮২

নভে. 132013
 

হযরত মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, যখন সূরা বাকারার শেষ আয়াতগুলি নাযিল হল, তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা মসজিদে পড়ে শোনালেন। তারপর মদের ব্যাবসা হারাম বলে ঘোষনা করেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯৫৪

নভে. 102013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পিতা ও মু’আয ইবন জাবালকে ইয়ামানে পাঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা সহজ আচরণ করো, কঠোরতা প্রদর্শন করো না, তাদের সুসংবাদ শোনাও, ভীতি প্রদর্শন করো না এবং একে অপরকে মেনে চলো। তখন আবূ মূসা (রাঃ) তাকে বললেনঃ আমাদের দেশে ‘বিত’ নামক এক প্রকার পানীয় প্রস্তুত করা হয় (যা মধুর সিরকা থেকে তৈরি)। উত্তরে তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। নাযর আবূ দাঊদ, ইয়াযিদ ইবন হারুন, ওকী (রহঃ) সাঈদ-এর দাদা আবূ মূসা (রাঃ) সুত্রে এ হাদীসটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৮৪

নভে. 102013
 

মুহাম্মদ ইবন কাসীর (রহঃ) আলকামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হিমস শহরে ছিলাম। এ সময় ইবন মাসঊদ (রাঃ) সূরা ইউসুফ তিলাওয়াত করলেন। তখন এক ব্যাক্তি বললেন, এসূরা এভাবে নাযিল হয়নি। এ কথা শনে ইবন মাসঊদ (রাঃ) বললেন, আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সামনে এ সূরা তিলাওয়াত করেছি। তিনি বলেছেন, তুমি সুন্দর ভাবে পাঠ করেছ। এসময় তিনি ঐ লোকটির মুখ থেকে মদের গন্ধ পেলেন। তাই তিনি তাকে বললেন, তুমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা এবং মদ পান করার মত জঘন্যতম অপরাধ এক সাথে করছ? এরপর তিনি তার ওপর হদ (অপরাধে নির্ধারিত শাস্তি) জারি করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৩৫

নভে. 052013
 

ইসহাক (রহঃ) আবূ-মুসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন যখন নাবী (সাঃ) তাঁকে আর মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ) কে ইয়ামানে পাঠান, তাদের অসিয়ত করেন। তোমরা (লোকের সাথে) নম্র ব্যবহার করবে, কঠোর ব্যবহার করবে না। শুভ সংবাদ দেবে এবং তাদের মনে বিদ্ব্যেষ সৃষ্টি করবে না। আর তোমরা দু-জনের মধ্যে সম্ভ্রাব বজায় রাখবে। তখন আবূ মুসা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আমরা এমন এক দেশে যাচ্ছি, যেখানে মধূ থেকে শরাব তৈরী হয়। একে ‘বিতউ’ বলা হল। আবূ -যব- থেকেও শরাব তৈরী, করা হয় তাকে বলা হয় মিযর। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ প্রত্যেক নেশাসৃষ্টিকারী বস্তু হারাম।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৯৫

অক্টো. 272013
 

আদম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যাভিচার করা অবস্হায় মুমিন থাকে না। চোর চুরি করা অবস্হায় মুমিন থাকে না। মদ্যপায়ী মদ্যপানকালে মুমিন থাকে না। তবে তারপরও তওবা অবারিত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কাফের ও ধর্মত্যাগী হাদিস নাম্বারঃ ৬৩৫৪

অক্টো. 272013
 

মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ মুমিন হিসেবে বহাল থাকা অবস্হায় কোন ব্যাক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। মুমিন থাকা অবস্থায় কোন চোর চুরি করে না। মুমিন থাকা অবস্থায় কেউ মদ পান করে না। মুমিন থাকা অবস্থায় কেউ হত্যা করে না। ইকরামা (রহঃ) বলেনঃ আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তার থেকে ঈমান কিভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয়? তিনি বললেনঃ এভাবে। আর অঙ্গুলীগুলি পরস্পর জড়ালেন, এরপর অঙ্গূলীগুলি বের করলেন। যদি সে তাওবা করে তবে পূর্নবৎ এভাবে ফিরে আসে। এ বলে অঙ্গুলীগুলি পূনরায় পরস্পর জড়ালেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কাফের ও ধর্মত্যাগী হাদিস নাম্বারঃ ৬৩৫৩

অক্টো. 272013
 

দাউদ ইবন শাবীব (রহঃ) কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদেরকে আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ যে আমি তোমাদেরকে এমন এক হাদীস বর্ণনা করব যা আমার পরে তোমাদেরকে কেউ বর্ণনা করবে না। আমি নাবী (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে না অথবা তিনি বলেছেনঃ কিয়ামতের পুর্ব নিদর্শন সমুহের মধ্যে হল এই যে, ইল্‌ম উঠিয়ে নেয়া হবে, মূর্খতার প্রসার ঘটবে, মদ পান করা হবে, ব্যাপকভাবে ব্যাক্তিচার-হবে, পুরুষের সংখ্যা কমবে, নারীর সংখ্যা এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে যে, পঞ্চাশ জন নারীর তত্ত্বাবধায়ক হবে একজন পূরুষ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কাফের ও ধর্মত্যাগী হাদিস নাম্বারঃ ৬৩৫২

অক্টো. 242013
 

মুসাদ্দাদ (রাঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গোত্রীয় লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তাদেরকে অর্থাৎ আমার চাচাদেরকে ফাযীখা- নামক শরাব পান করাতে ছিলাম। আমি ছিলাম তাদের মধ্যে সকলের চাইতে ছোট। এমন সময় ঘোষণা করা হলঃ শরাব হারাম হয়ে গেছে। তারা বললেনঃ এ শরাবগুলো ঢেলে দাও। আমি তা ঢেলে দিলাম। বর্ণনাকারী (সূলায়মান তায়মী) বলেন, আমি আনাস (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ তাদের শরাব কিসের তৈরী ছিল? তিনি বললেনঃ কাঁচা ও পাকা খেজুরের তৈরী। আনাস (রাঃ)-এর পৃত্র আবূ বকর বললেন- (সম্ভবত তিনি তখন উপস্থিত ছিলেন)। এটিই ছিল তাদের আমলের শরাব। তাতে আনাস (রাঃ) কোন অস্বীকৃতি প্রকাশ করেননি। সুলায়মান বলেনঃ আমার কতিপয় বদ্ধ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে তিনি আনাস (রাঃ) থেকে শুনেছেনঃ সেকালে এটিই ছিল তাঁদের শরাব।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পানীয় দ্রব্যসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫২২০