নভে. 212013
 

‘আলী ইবনু আব্দুল্ললাহ (রাঃ) উসামানার কোন একটি টিলায় আরোহন করে বললেনঃ আমি যা দেখি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছ? তিনি বললেন বৃষ্টি বিন্দু পতিত হওয়ার স্থানসমূহের মত আমি তোমাদের গৃহসমূহের মাঝে ফিতনা স্থানসমূহ দেখতে পাচ্ছি। মা’মার ও সুলায়মান ইবনু কাসীর (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ননায় সুফিয়ানের অনুসরন করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৫৭

নভে. 172013
 

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুদবা দিতে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনবার বললেন, এ দিক থেকেই (পূর্বদিক) ফিতনা, যে দিক থেকে সূর্য উদয়ের সময় শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৮৫

নভে. 172013
 

মুহাম্মদ ইবনু ইউসফ (রহঃ) হুযাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কলেমা উচ্চারণ করেছে, তাদের নাম তালিকাভুক্ত করে আমাকে দাও। হুযাইফা (রাঃ) বলেন, তখন আমরা এক হাজার পাঁচশ লোকের নাম তালিকাভুক্ত করে তাঁর নিকট পেশ করি। তখন আমরা বলতে লাগলাম, আমরা এক হাজার পাঁচশত লোক এক্ষণে আমাদের ভয় কিসের? (রাবী) হুযাইফা (রাঃ) বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনা পতিত হয়েছি যাতে লোকেরা ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় একা একা সালাত (নামায) আদায় করছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৪৩

নভে. 152013
 

কুতায়বা (রহঃ)… হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফিতনা সম্পর্কিত হাদীস স্মরণ রেখেছ? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি আরয করলাম রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেভাবে বলেছেন, আমি ঠিক সে ভাবেই তা স্মরণ রেখেছি। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তুমি [রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ] বড় দুঃসাহসী ছিলে, তিনি কিভাবে বলেছেন (বলত)? তিনি বলেন, আমি বললাম, (হাদীসটি হলঃ) মানুষ পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশী নিয়ে ফিতনায় পতিত হবে আর সালাত (নামায), সা’দকা ও নেক কাজ সেই ফিতনা মিটিয়ে দেবে। সুলায়মান [ অর্থাৎ ‘আমাশ (রহঃ)] বলেন, আবূ ওয়াইল কোন কোন সময় (সালাত (নামায)) (সা’দকা) এরপর (সৎকাজ শব্দের স্হলে)(সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ) বলতেন। ‘উমর (রাঃ) বলেন, আমি এধরনের ফিতনার কথা জানতে চাইনি, বরং যে ফিতনা সাগরের ঢেউয়ের ন্যায় প্রবল বেগে ছুটে আসবে। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমীরুল মু’মিনীন! আপনার জীবনকালে ঐ ফিতনার কোন আশংকা নেই। সেই ফিতনা ও আপনার মাঝে বদ্ধ দরজা রয়েছে। ‘উমর (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, দরজা কি ভেঙ্গে দেওয়া হবে না কি খুলে দেওয়া হবে? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, না, বরং ভেঙ্গে দেওয়া হবে। ‘উমর (রাঃ) বললেন, দরজা ভেঙ্গে দেওয়া হলে কোন দিন তা আর বন্ধ করা সম্ভব হবেনা। তিনি বলেন, আমি বললাম, সত্যই বলেছেন। আবূ ওয়াইল (রাঃ) বলেন, দরজা বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? এ কথা হুযায়ফা (রাঃ) এর নিকট প্রশ্ন করে জানতে আমরা কেউ সাহসী হলাম না। তাই প্রশ্ন করতে মাশরূককে অনুরোধ করলাম। মাশরূক (রহঃ) হুযায়ফা (রাঃ) কে প্রশ্ন করায় তিনি উত্তর দিলেনঃ দরজা হলেন ‘উমর (রাঃ)। আমরা বললাম আপনি দরজা বলে যাকে উদ্দেশ্য করেছেন, ‘উমর (রাঃ) কি তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, আগামীকালের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত (তেমনি নিঃসন্দেহে তিনি তা উপলব্ধি করতে পেরেছেন )। এর কারণ হল, আমি তাঁকে এমন হাদীস বর্ণনা করেছি, যাতে কোন ভূল ছিলনা।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৩৫২

নভে. 122013
 

ইসহাক ইবন আবূ ঈসা (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ দাজ্জাল মদিনার উদ্দেশ্যে আসবে, তবে সে ফেরেশতাদেরকে মদিনা পাহারারত দেখতে পাবে। সুতরাং দাজ্জাল ও প্লেগ মদিনার কাছেও আসতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৬৫

নভে. 122013
 

হাফস ইবন উমার (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ এমন কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করেননি যিনি তার কওমকে কানা মিথ্যুকটি সম্পর্কে সাবধান করেননি) এই মিথ্যুকটি তো কানা (দাজ্জাল)। আর তোমাদের প্রতিপালক তো অন্ধ নন। তার (দাজ্জালের) দূচোখের মাঝখানে কাফের (লেখা থাকবে )।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯০৪

নভে. 122013
 

মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমাদের কাছে গোপন থাকবেন না। অবশ্যই আল্লাহ অন্ধ নন। এর সাথে সাথে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত দিয়ে স্বীয় চোখের দিকে ইশারা করলেন। মাসীহ দাজ্জালের ডান চোখ তো কানা। তার চোখটি যেন আংগুরের ন্যায় ভাসা ভাসা।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯০৩

নভে. 052013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন উমব ইবন খাত্তাব (রাঃ) একদল সাহাবীসহ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর সঙ্গে ইবন সহিয়্যাদের নিকট গমন করেন। তারা সেখানে গিয়ে তাকে বনূ মাগালাহের দূর্গের পাশে ছেলেদের সাথে খেলায় রত গেলেন। তখন সে বালেগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে পৌছেছেন। সে নাবী (সাঃ) এর আগমন টের পেল না যতক্ষন না রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার হাত দিয়ে তার পিঠে মারলেন। তারপর তিনি বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে আমিই আল্লাহর রাসুল? তখন সে নাবী (সাঃ) -এর দিকে তাকিয়ে বললোঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উষ্মি সম্প্রদায়ের রাসূল (সাঃ) । এরপর ইবন সাইয়্যাদ বললো: আপনি কি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আমিই আল্লাহর রাসূল (সাঃ)? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে ধাক্কা মেরে বললেন আমি আল্লাহ ও তার রাসুলদের উপর ঈমান রাখি। তারপর আবার তিনি ইরনে সাইয়্যেদকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কী দেখতে চাও? সে বললো আমার নিকট সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী উভয়ই আসেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ বিষয়টি তোমার উপর এলোমেলো করে দেয়া হয়েছে। এরপর নাবী (সাঃ) তাকে বললেন আমি তোমার (পরীক্ষার) জন্য কিছু গোপন রাখছি। সে বলছেনঃ তা দুখ। তখন তিনি বললেনঃ দূর হও। তুমি ক-ধনো তোমার ভাগ্যকে অতিক্রম করতে পারবেনা। উমরু (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনি কি তার ব্যাপারে আমাকে অনূমতি দেন যে, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ এ যদি সেই (দাজ্জালই) হয়ে থাকে , তবে তার উপর তোমাকে ক্ষমতা দেওয়া হবে না। আর এ যদি সে না হয়ে থাকে, তবে তাকে হত্যা করা তোমার জন্যই ভাল হবে না। সালিম (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমি আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, এ ঘটনার পর একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এবং উবাই ইবন কাব (রাঃ) সেই খেজুর বাগানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, যেখানে ইবন সাইয়্যাদ ছিল। অবশেষে যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বাগানে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি খেজ্বরের কাণ্ডের আড়ালে আড়ালে চলতে লাগলেন। তার লক্ষ্য ছিল যে, ইবন সাইয়্যাদ তাকে দেখার আগেই যেন তিনি তার কিছু কথাবার্তা শুনে নিতে পারেন। এ সময় ইবন সাইয়্যাদ তার বিছানায় একখানা চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল। আর তার চাদরের ভেতর থেকে বিড়বিড় শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ইতিমধ্যে ইবন সাইয়্যাদের নাবী (সাঃ) কে দেখল যে, তিনি খেজ্বরের কাণ্ডের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে আসছেন। তখন তার মা তাকে ডেকে বললোঃ ওহে সাফ এটা তার ডাক নাম ছিলো। এই যে, মুহাম্মদ। তখন ইবন সাইয়্যাদ (যে বিষয়ে মগ্ন ছিল তা থেকে) বিরত হন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ যদি তার মা তাকে সতর্ক না করতো তবে তার (রহস্য) প্রকাশ পেয়ে যেতো। রাবী সালিম আবূও বলেনঃ আব্দুল্লাহহ (রাঃ) বর্ননা করেছেনঃ যে, একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আল্লাহ তা-আমার যথোপযূক্ত প্রশংসার পর দাজ্জালের উল্লেখ করে বললেনঃ আমি তোমাদের তার সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি। প্রত্যেক নাবী (সাঃ) ই এর সম্পর্কে তার কওমকে সতর্ক করে গিয়েছেন। আমি এর সম্পর্কে এমন কথা বলছি যা অন্য কোন নাবী (সাঃ) তার কাওমকে বলেন নি। তবে তোমরা জেনে রাখ সে কানা কিন্তু আল্লাহ কানা নন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৪২

নভে. 042013
 

মুসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ ইয়াজুজ-মাজূর প্রাচীরটি এ পরিমাণ উন্মোচিত হয়েছে। রাবী শুহায়ব নববই সংখ্যা নির্দেশক গোলাকৃতি তৈরি করে (দেখালেন)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফিতনা হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৫১

নভে. 042013
 

আবূল ইয়ামান ও ইসমাঈল (রহঃ) যায়নাব বিনত জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) উদ্বিগ্ন অবস্হায় এরুপ বলতে বলতে আমার গৃহে প্রবেশ করলেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নাই। আক্ষেপ আরবের জন্য মন্দ থেকে যা অতিনিকটবতী। বৃদ্ধাঙ্গুল ও তৎসংলগ্ন আদুল গোলাকৃতি করে তার দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ উন্মোচিত হয়েছে। যায়নাব বিনত জাহাশ (রাঃ) বলেনঃ আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! -আমাদের মাঝে সৎ লোকেরা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধরুংস হয়ে যাব? উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যা। যদি পাপাচার বেড়ে যায়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফিতনা হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৫০