নভে. 132013
 

হযরত কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) হযরত আবূ হাযিম (রহঃ) থেকে বর্নিত, কিছু লোক সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) এর কাছে এসে মিম্বরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন আনসারী মহিলার [সাহল (রাঃ) যার নাম উল্লেখ করেছিলেন] কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, তোমার সূত্রধর গোলামকে বল, সে যেন আমার জন্য কাঠ দিয়ে একটি মিম্বর তৈরি করে দেয়। লোকদের সাথে কথা বলার সময় যার উপর আমি বসতে পারি। সেই মহিলা তার গোলামকে গাবা নামক স্থানের কাঠ দিয়ে মিম্বর বানানোর নির্দেশ দিলেন। তারপর গোলামটি তা নিয়ে এলো এবং সেই মহিলা এটি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তাঁর [রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ] নির্দেশক্রমে তা স্থাপন করা হল, পরে তার উপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপবেশন করলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯৬৪

নভে. 072013
 

কুতায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার যখন বিজয় হয়, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট হাদীয়া স্বরুপ একটি (ভুনা) বকরী-প্রেরিত হয়। এর মধ্যে ছিল বিষ। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ এখানে যত ইয়াহুদী আছে আমার কাছে তাদের জমায়েত কর। তার কাছে সবাইকে জমায়েত করা হলো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সন্মোধন করে বললেনঃ আমি তোমাদের নিকট একটি বিষয়ে জানতে চাই, তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে? তারা বললোঃ হ্যা, হে আবূল কাসিম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের পিতা কে? তারা বললো আমাদের পিতা অমুক। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা মিথ্যে বলেছ বরং তোমাদের পিতা অমুক। তারা বললোঃ আপনি সত্য বলেছেন ও সঠিক বলেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমি যদি তোমাদের নিকট আর একটি প্রশ্ন করি, তা হলে কি তোমরা সে ব্যাপারে আমাকে সত্য কথা বলবে? তারা বললো হা, হে আবূল কাসিম যদি আমরা মিথ্যে বলি তবে তো আপনি আমাদের মিথ্যা জেনে ফেলবেন, যেমনি ভাবে জেনেছেন আমাদের পিতার ব্যাপারে। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বললেন সাহাবী কারা? তারা বললো আমরা সেখানে অল্প দিনের জন্য থাকবে। তারপর আপনারা আমাদের স্থনাভিষিক্ত হবেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরাই সেখানে লাঞ্চিত হয়ে থাকো। আল্লাহর কসম! আমরা কখনও সেখানে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হবো না। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বলেন আমি যদি তোমাদের কাছে আর একটি বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে কি তোমরা সে ব্যাপারে আমার কাছে সত্য কথা বলবে? তারা বললো হা। তখন তিনি বললেন তোমরা কি এ বকরীর মধ্যে বিষ মিশ্রিত করেছ? তারা বলল: হা। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাদের এ কাজে উদ্ভুদ্ধ করেছে? তারা বললো। আমরা চেয়েছি! যদি আপনি (নভুওয়াতের দাবীতে) মিথ্যাবাদী হন, তবে আমরা আপনার থেকে মুক্তি পেয়ে যাব। আর যদি আপনি (সত্য) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হন, তবে এ বিষ আপনার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ চিকিৎসা হাদিস নাম্বারঃ ৫৩৬২

নভে. 052013
 

আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলতেনঃ হে মুসলিম মহিলাগণ। কোন প্রতিবেশী নারী যেন তার অপর প্রতিবেশী নারীকে (তার পাঠানো হাদিয়া ফেরত দিয়ে) হেয় প্রতিপন্ন না করে। যদিও তা বকরীর পায়ের ক্ষুর হোক না কেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৯২

নভে. 032013
 

হুমাইদী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেছেন, আমি আমার পূণ্যবান বান্দাদের জন্য এমন জিনিস তৈরী করে রেখেছি, যা কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং যার সম্পর্কে কোন মানুষের মনে ধারণাও জন্মেনি। তোমরা চাইলে এ আয়াতটি পাঠ করতে পার, কেউ জাননা , তাদের জন্য তাদের চোখ জুড়ানো কি জিনিস লুক্কায়িত রাখা হয়েছে। (সূরা ৩২: ১৩)

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সৃষ্টির সূচনা হাদিস নাম্বারঃ ৩০১৭

নভে. 012013
 

আবূ নূআইম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে (কেউ তাকে খোশবু হাদিয়া দিলে) তিনি (সে) খোশবু ফিরিয়ে দিতেন না এবং বলতেন, নাবী (সাঃ) খোশবু প্রত্যাখ্যান করতেন না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পোষাক-পরিচ্ছদ হাদিস নাম্বারঃ ৫৫০৫

অক্টো. 312013
 

আবূ নুয়াঈম (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃ) অক্তিভাবকত্ব বিক্রয় এবং হেবা করতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ উত্তরাধিকার হাদিস নাম্বারঃ ৬৩০০

অক্টো. 242013
 

মালিক ইবন ইসমাঈল (রহঃ) উম্মুল ফাযল বিনত হারিস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে তিনি নাবী (সাঃ) এর কাছে এক পেয়ালা দুধ পাঠিয়ে ছিলেন। তখন নাবী (সাঃ) আরাফাতে বিকালে অবস্থান করছিলেন। তিনি নিজ হাতে পেয়ালাটি গ্রহন করেন এবং তা পান করেন। আবূন নাযর থেকে মালিক ( তাঁর উটেবু উগর আরোহী অবস্থায় ছিলেন) কথাটি বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পানীয় দ্রব্যসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫২১৬

অক্টো. 242013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরাররা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, বলেছেনঃ উত্তম সাদাকা হল উপহার হিসেবে প্রদত্ত দূধেল উঠনী কিংবা দূধেল বকরী। যা সকালে একটি পাত্র ভরে দেবে আর বিকালে আরেকটি পাত্র।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পানীয় দ্রব্যসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫২০৭

অক্টো. 212013
 

উবায়াদ ইবন ইস্মাঈল (রহঃ) আবূ হমায়দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) লুতাবিয়্যা নামে এক ব্যাক্তিকে বণী সুলায়ম গোত্রের যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করলেন। যখন সে ফিরে এলো তখন তিনি তার কাছ থেকে হিসাব-নিকাশ গ্রহণ করলেন। সে বলল, এগুলো আপনাদের মাল, আর এগুলো (আমাকে দেয়া) উপঢৌকন। তখন রাসূল (সাঃ) বললেনঃ যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে তোমার মা-বাবার ঘরে বসে থাকলে না কেন? সেখানেই তোমার কাছে উপঢৌকন এসে যেত। এরপর তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের কাউকে এমন কোন কাজে নিয়োগ করি, যার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে আল্লাহ্আমাকে মনোনীত করেছেন। কিন্তু সে কাজ সম্পাদন করে এসে বলে, এ হল তোমাদের মাল। আর এ হল আমাকে দেয়া উপঢৌকন। তাহলে সে কোন তার মা-বাবার ঘরেই বসে রইল না, সেখানে এমনিতেই তার কাছে তার উপঢৌকন এসে যেত? আল্লাহর কসম! তোমরা যে কেউ অবৈধভাবে কোন কিছু গ্রহণ করবে, সে কিয়ামতের দিন তা বয়ে নিয়ে আল্লাহর সামনে হাযির হবে। আমি তোমাদের কাউকে ভালভাবেই চনব যে, সে আল্লাহর কাছে হাজির হবে উট বহন করে, আর উট আওয়াজ দিতে থাকবে। অথবা গাভী বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। অথবা বকরি বহন করে, আর সেটা ডাকতে থাকবে। এরপর তিনি আপন হাতে দু’টি এতদূরে উত্তোলন করলেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমার চক্ষুযুগল সে অবস্থা অবলোকন করেছে এবং আমার কান শুনেছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কূটকৌশল হাদিস নাম্বারঃ ৬৫০৮

অক্টো. 212013
 

আবূ নু’আয়ম (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ হেবা করে আবার তাকে ফেরত নেয়া ব্যাক্তির তুলনা যেন এমন একটি কুকুর যে বমি করে তা আবার গলার্ধঃকরণ করে। এরূপ খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন আমাদের জন্য কিছুতেই ঠিক নয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কূটকৌশল হাদিস নাম্বারঃ ৬৫০৪