নভে. 172013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে রাসত্মায় চলছিলাম। তখন তিনি মোটা পাড়ের নাজরানে প্রস্ত্তত চাঁদর পরিহিত ছিলেন। এক বেদুঈন তাঁকে পেয়ে খুব জোড়ে টেনে ধরল। অবশেষে আমি লক্ষ্য করলাম, তার জোড়ে টানার কারণে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাঁধে চাঁদরের পাড়ের দাগ বসে গেছে। তারপর বেদুঈন বলল, ‘আল্লাহর যে সম্পদ আপনার নিকট রয়েছে তা থেকে আমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিন। ’ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার দিকে তাকিয়ে একটি মুচকি হাসি দিলেন, আর তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯২৮

নভে. 172013
 

মুহাম্মদ ইবনু সিনান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের দানও করি না এবং তোমাদের বঞ্চিতও করি না। আমি তো কেবলবণ্টনকারী, যেভাবে আদিষ্ট হই, সেভাবে ব্যয় করি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৯৭

নভে. 172013
 

হিববান ইবনু মূসা (রহঃ) মু‘আবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন। আল্লাহই দানকারী আর আমি বণ্টনকারী। এ উম্মাত সর্বদা তাদের প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী থাকবে, আল্লাহর আদেশ (কিয়ামত) আসা পর্যন্ত আর তারা থাকবে বিজয়ী। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৯৬

নভে. 162013
 

মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কৃপন ও দানশীল ব্যাক্তির উদাহরণ এমন দু’ ব্যাক্তির ন্যয়, যারা লৌহ বর্ম পরিহিত। বর্ম দু‘টি এত আটসাঁট যে, তাদের উভয়ের হাত কব্জায় আবদ্ধ রয়েছে। দানশীল ব্যাক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে, তখন বর্মটি তার শরীরের উপর প্রসারিত হয়, এমনকি ত তার পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যাক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মের কড়াগুলো পরস্পর গলে গিয়ে তার শরীরকে আঁকড়ে ধরে এবং তার উভয় হাত কণ্ঠের সাথে লেগে যায়। তারপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) – কে বলতে শুনেছেন, সে হাত দু’টিকে প্রসারিত করতে চেষ্টা করে; কিন্তু প্রসারিত করতে পারে না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৭১৬

নভে. 152013
 

ইসমা‘ঈল (রহঃ)… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিদিন সকালে দু’জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধংস করে দিন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যাকাত হাদিস নাম্বারঃ ১৩৫৮

নভে. 152013
 

মূসা ইবনু ইসমা’ঈল (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ধন সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। রমযানে জিব্রাইল আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাঁর সাথে দেখা করতেন, তখন তিনি আরো অধিক দান করতেন। রমযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরাঈল তাঁর একবার সাক্ষাৎ করতেন। আর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কুরআন শোনাতেন। জিবরাঈল যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি রহমত প্রেরিত বায়ূর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সাওম বা রোজা হাদিস নাম্বারঃ ১৮৮১

নভে. 122013
 

ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে রাত ও দিনে ফেরেশতাগণ পালাক্রমে আগমন করেন। আর তারা একত্রিত হন আসর ও ফজরের সালাত (নামায)। তারপর যারা তোমাদের মাঝে রাত্রি যাপন করেছেন তারা উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি তোমাদের ব্যাপারে সবচাইতে অধিক জ্ঞাত; কেমন অবস্হায় আমার বান্দাদেরকে তোমরা ছেড়ে এসেছ? তারা তখন উত্তর দেবে, আমরা ওদেরকে সালাত (নামায)রত অবস্হায় রেখে এসেছি প্রথম গিয়েও আমরা ওদেরকে সালাত (নামায) পেয়েছিলাম। খালিদ ইবন মাখলাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি তার হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণও দান করে, আল্লাহ তা আলা তা তাঁর ডান হাত দ্বারা কবুল করেন। আর পবিত্র ও হালাল জিনিস ছাড়া আল্লাহর দিকে কোন কিছু আগমন করতে পারে না। তারপর এটি তার মালিকের জন্য নালন-পালন ও দেখাশোনা করতে থাকে, তোমরা যেমন ঘোড়ার বাচ্চাকে লালনপালন করতে থাক। পরিশেষে তা পাহাড়ের ন্যায় বিরাট আকার ধারণ করে। ওয়ারকা —- আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ দিকে পবিত্র জিনিস ছাড়া কোন কিছুই গমন করতে পারে না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯২৪

নভে. 102013
 

ইয়াহইয়া ইবন কাযা’আ (রাঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কল্যাণের কাজে ছিলেন সবচেয়ে বেশি দানশীল, বিশেষ ভাবে রমযান মাসে। (তাঁর দানশীলতার কোন সীমা ছিল না) কেননা, রমযান মাসের শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক রাত্রে জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। যখন জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি কল্যানের ব্যাপারে প্রবহমান বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল হতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৩১

নভে. 082013
 

আল হাসন ইবনূর রাবী (রহঃ) যাহাদ ইবন ওহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূ যার (রাঃ) বলেন, একবার আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে মদিনার কংকরময় প্রান্তরে হেঁটে চলছিলাম। ইতোমধ্যে উহুদ আমাদের সামনে এল। তখন তিনি বললেনঃ হে আবূ যার! আমি বললাম, লাববাইকা, ইয়া রাসূসাল্লাহ! তিনি বললেনঃ আমার নিকট এ উহুদ পরিমাণ সোনা হোক, আর তা ঝণ পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে রেখে দেওয়া ব্যতীত একটি দীনারও তা থেকে আমার কাছে জমা খাকুক আর এ অবস্থায় তিন দিন অতিবাহত হোক তা আমাকে আনন্দিত করবে না। তবে যদি আমি তা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এভাবে তাকে ডান দিকে, বাম দিকে ও পেছনের দিকে বিতরণ করে দেই তা স্বতস্ত্র। এরপর তিনি চললেন। কিছুক্ষণ পর আবার বললেনঃ জেনে রেখো, প্রাচুর্যের অধিকারীরাই কিয়ামতের দিন স্বল্পাধিকরী হবে। অবশ্য যারা এভাবে, এভাবে, এভাবে ডানে, বামে ও পেছনে ব্যায় করবে, তারা এর ব্যাক্তিক্রম। কিন্তু এরকম লোক অতি অল্পই। তারপর আমাকে বললেনঃ তুমি এখানে থাক। আমি ফিরে না আসা পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করো। অতঃপর তিনি রাতের অন্ধকারে ঢলে গেলেন। এমনকি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। এরপর আমি একটা উচ্চ শব্দ শুনলাম। এতে আমি শংকিত হয়ে পড়লাম যে, সম্ভবত তিনি কোন শক্রর সাম্মুখীন হয়েছেন। এজন্য আমি তার কাছেই যেতে চাইলাম। কিন্তু তখনই আমার স্বরণ হলো যে, তিনি আমাকে বলে গিয়েছেন যে, আমি না আসা পর্যন্ত তুমি আর কোথাও যেয়ো না। তাই আমি সেদিকে আর গেলাম না। ইতোমধ্যে তিনি ফিরে এলেন। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমি একটা শব্দ শুনে তো শংকিত হয়ে পড়েছিলাম। বাকী ঘটনা বর্ণনা করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তুমি কি শব্দ শুনেছ? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বললেনঃ ইনি জিবরাঈল (আঃ) তিনি আমার কাছে এসে বললেনঃ আপনার উম্মাতের কেউ যদি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্হায় মৃত্যুবরণ করে, তবে সে জান্নাতে দাখিল হবে। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, যদি সে যিনা করে এবং যদি সে চুরি করে। তিনি বললেনঃ যদিও সে যিনা করে এবং যদিও চুরি করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০০০

নভে. 052013
 

ইমরান ইবন মায়সারা (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবদুল কায়সের প্রতিনিধি দল নাবী (সাঃ) -এর কাছে এলে তিনি বললেনঃ এই প্রতিনিধি দলের প্রতি -মারহাবা- যারা লাঞ্চিত ও লজ্জিত অবস্থায় আসে নি। তারা বলল: ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আমরা রাবিয়া কাওমের লোক। আমরা ও আপনার মধ্যখানে অবস্থান করছে “মুযার’ কাওম। এজন্য আমরা হারম মাস ছাড়া আপনার খেদমতে পৌছতে পারি না। সুতরাং আপনি আমাদের এমন কিছু চুড়ান্ত বিধি নিষেধ বাৎলিয়ে দেন যা অনুসরন করে আমরা জান্নাতে যেতে পারি এবং আমাদের পাচাতে যারা রয়েছে তাদের হেদায়েত দিতে পারি। তিনি বললেনঃ আমি চারটি (মেনে চলা) ও চারটি (হতে বিরত থাকার) নির্দেশ । তোমরা সালাত (নামায) কায়েম করবে, যাকাত দেবে। রামযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং গনীমতের মালের পঞ্চমাংশ দান করবো আর কদুর খোলে, সবুজ রং করা কলসে, খেজুর মূলের পাত্রে এবং আলকাতসা মাখানো পাত্রে পান করবে না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৪৩