নভে. 102013
 

ইররাহীম ইবন মূসা (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে এল। রাবী বলেনঃ ঘরের মধ্যে তখন বহু লোক ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)। তিনি (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ) বললেনঃ তোমরা লেখার সামগ্রী নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য নিয়ে যাব এমন জিনিস, যা ছাড়া তার পরে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। উমর (রাঃ) মন্তব্য করলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুবই কষ্টে রয়েছেন। তোমাদের কাছে তো কুরআন রয়েছেই, আল্লাহর এই কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এ সময় গৃহে অবস্হানকারীদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হল। এবং তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে গেল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, লেখার সামগ্রী তোমরা নিয়ে এসো। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের জন্য লিখে দিবেন এমন জিনিস যা ছারা তার পরে তোমরা পথহারা হবে না। আবার কারো কারো কর্তব্য ছিল উমর (রাঃ)-এর কথারই অনুরুপ। যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সামনে তাদের কথা কাটাকাটি এবং মতপার্থক্য বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও। বর্ণনাকারী উবায়দূল্লাহ বলেনঃ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলতেন, সমস্ত জটিলতার মূল উৎস। তা-ই, যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তার লেখার মাঝখানে অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছিল। অর্থাৎ তা কি তাদের মতবিরোধ ও কথা কাটাকাটি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৬৫

নভে. 102013
 

মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) উবায়দূল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ, তোমরা কিভাবে আহলে কিতাবদেরকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা কর? অথচ তোমাদের কিতাব (আল-কুরআন) তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর উপর সদ্য নাযিল হয়েছে, তা তোমরা পড়ছ। যা পূত-পবিত্র ও নির্ভেজাল। এই কিতাব তোমাদেরকে বলে দিচ্ছে, আহলে কিতাবগণ আল্লাহর কিতাবকে পরিবর্তন ও বিকৃত করে দিয়েছে। তারা স্বহস্তে কিতাব লিখে তা আল্লাহর কিতাব বলে ঘোষণা দিয়েছে, যাতে তার দ্বারা সামান্য সুবিধা লাভ করতে পারে। তোমাদের কাছে যে (কিতাব ও সুন্নাহর) ইল্‌ম রয়েছে তা কি তোমাদেরকে তাদের কাছে কোন মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে নিষেধ করছে না? আল্লাহর কসম! আমরা তো তাদের কাউকে দেখিনি কখনো তোমাদের উপর অবতীর্ণ কিতাবের বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করতে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৬০

নভে. 102013
 

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আহলে কিতাব হিব্রু ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলমানদের সামনে তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। (এই প্রেক্ষিতে) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আহলে কিতাবকে তোমরা সত্যবাদী মনে করো না এবং তাদেরকে মিথ্যাবাদীও ভেবো না। তোমরা বলে দাও, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা অবতীর্ন হয়েছে এর প্রতি শেষ পর্যন্ত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৫৯

নভে. 102013
 

আলী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের ধারনা আবূ হুরায়রা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদীস বর্ণনায় বাড়াবাড়ি করয়ে আল্লাহর কাছে একদিন আমাদেরকে হাযির হতে হবে। আমি ছিলাম একজন মিসকীন। খেয়ে না খেয়েই আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সান্নিধ্যে লেগে থাকতাম। মুহাজিরদেরকে বাজারের বেচাকেনা লিপ্ত রাখত। আর আনসারগণকে ব্যস্ত রাখত তাদের ধন দৌলতের ব্যবস্তাপনা। একদা আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত যে ব্যাক্তি স্বীয় চাদর বিছিয়ে তারপর তা গুটিয়ে নেবে, সে আমার কাছ থেকে শ্রুত বানী কোন দিন ভুলবে না। তখন আমি আমার গায়ের চাদরখানা বিছিয়ে দিলাম। সে সত্তার কসম, যিনি তাঁকে হকের সাথে প্রেরণ করেছেন। এরপর থেকে আমি তার কাছে যা শুনেছি, আর শুনিনি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৫২

নভে. 102013
 

ইসহাক ইবন মানসুর (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নূহ (আঃ)-কে (আল্লাহর সমীপে) হাযির করে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি (দ্বীনের দাওয়াত) পৌছে দিয়েছ? তখন তিনি বলবেন, হ্যা। হে আমার পরওয়ারদিগার। এরপর তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমাদের কাছে নূহ (দাওয়াত) পৌছিয়েছে কি? তারা সবাই বলে উঠবে, আমাদের কাছে কোন ভীতি প্রদর্শকই (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও রাসুল) আসেনি। তখন নূহ (আঃ)-কে বলা হবে, তোমার (দাবির পক্ষে) কোন সাক্ষী আছে কি? তিনি বলবেন, মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মতগণই (আমার সাক্ষী)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ তোমাদেরকে তখন নিসে আসা হবে এবং তোমরা নূহ (আঃ)-এব পক্ষ্যে সাক্ষ্য দেবে। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ পাকের নিন্মোক্ত বানীঃ পাঠ করলেন এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে মধ্যমপন্হী উম্মাতে নির্ধারণ করেছেন। (অর্থ ভারসাম্যপূর্ণ) তাহলে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষী হতে পারবে আর রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন। জাফর ইবন আউন (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৪৮

নভে. 102013
 

কুতায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা মসজিদে নববীতে ছিলাম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইহুদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে এলাম। অবশেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষাগারে) পৌছলাম। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে দাড়িয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবুল কর, এতে তোমরা নিরাপদে থাকবে। ইহুদীরা বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম কবুল কর এবং শান্তিতে থাক। তারাও আবার বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে বললেনঃ আমি এরুপই ইচ্ছা রাখি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। পরিশেষে রাসুলুল্লাহ বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে উচ্ছেদ করে দিতে চাই। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের অস্থাবর সম্পত্তি আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। অন্যথায় জেনে রেখো যমীন আল্লাহ ও তার রাসুলের।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৪৭

নভে. 102013
 

আব্দুর রহমান ইবন মুবারাক (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সুত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি যুল হুলায়ফা নামক স্থানে রাতের শেষ প্রহরে অবস্হানকালে তাকে বলা হলো আপনি একটি বরকতময় স্থানে রয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৪৪

নভে. 102013
 

মুহাম্মাদ ইবন ইউসুফ (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মীকাত নির্ধারণ করেছেন নজদবাসীদের জন্য কারনকে সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহফাকে এবং মদিনাবাসীদের জন্য যুল হুলায়ফাকে ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি এগুলো (স্বয়ং) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি। আমার কাছে আরো সংবাদ পৌছেছে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ ইয়ামানবাসীদের মীকাত হচ্ছে ইয়ালামলাম এবং ইরাকের কথা উল্লেখ করা হলে ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ তখন তো ইরাক ছিল না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৪৩

নভে. 102013
 

সাঈদ ইবন রাবী (রহঃ) উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেনঃ আকীক নামক স্থানে অবস্হানকালে এক রাতে আমার পরওয়ারদিগারের নিকট থেকে একজন আগন্তুক (ফেরেশতা) আমার কাছে এলেন। তিন বললেনঃ এই বরকতময় প্রান্তরে সালাত (নামায) আদায় করুন এবং বলুন উমরা ও হাজ্জের (হজ্জ) নিয়ত করছি। এদিকে হারুন ইবন ইসমাঈল (রহঃ) বলেনঃ আলী (রাঃ) আমার কাছে হতের সাথে উমরার নিয়ত করুন শব্দ বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৪২

নভে. 102013
 

মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। তীব্র গমনের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ঘোড়াগুলোর প্রতিযোগিতার স্হান ছিল হাফয়া হতে সানীয়্যাতুল বিদা পর্যন্ত। আর প্রশিক্ষণ বিহীনগুলোর স্থান ছিল সানীয়্যাতূল বিদা হতে বনী বুরায়ক-এর মসজিদ-পর্যন্ত। আব্দুল্লাহও প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনকারীদের অন্তভুক্ত ছিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৩৬