নভে. 102013
 

খালিদ ইবন ইয়াযীদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রতি বছর জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে একবার কুরআন শরীফ দাওর করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ওফাত লাভ করেন সে বছর তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে দু’বার দাওর করেন। প্রতি বছর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমযানে দশ দিন ই’তিকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ওফাত লাব করেন সে বছর তিনি বিশ দিন ই’তিকাফ করেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৩২

নভে. 062013
 

আবূল ইয়ামান ও ইসমাঈল (রহঃ) আদী ইবন হুসায়ন (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) -এর স্ত্রী সাফিয়্যা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রামাযানের শেষ দশ দিনে মসজিদে ইতিকাফ থাকা অবস্থায় তিনি তার সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি রাতের প্রথম ভাগে কিছু সময় তার সঙ্গে কথাবার্তার পর ফিরে যাওয়ার জন্য দাড়ালেন। নাবী (সাঃ) তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে দাড়ালেন। অবশেষে যখন তিনি মসকিদেরই দরজার নিকট পৌছলেন, যা নাবী (সাঃ) -এর স্ত্রী উম্মে সালামার ঘরের নিকটে অবস্থিত। তখন তাদের পাশ দিয়ে আনসারের দু-জন লোক চলে গেলে, তারা উভয়েই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে সালাম দিল এবং নিজ পথে রওয়ানা হল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদের বললেনঃ ধীরে চল। তিনি সাফিয়্যা বিনত হুইয়াহ। তারা বললোঃ সুবহানাল্লাহ! ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! তাদের উভয়ের মনে তা গুরুত্বপূর্ন মনে হল। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্তে চলাচল করে থাকে। তাই আমার আশংকা হলো যে, সম্ভবত সে তোমাদের অন্তরে সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৮৬

অক্টো. 272013
 

মুহাম্মদ (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , রাসূল (সাঃ) রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন : তোমরা শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ কর।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তারাবীহর সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১৮৯৩

অক্টো. 092013
 

মূসা (রহঃ) আবূ সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবূ সায়ীদ খুদরী (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদের খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবূ সালাম (রাঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, লাইলাতুল কদর’ সম্পর্কে নবী (সাঃ) থেকে যা শুনেছেন, তা আমার কাছে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, রাসূল (সাঃ) রামযানের প্রথম দশ দিন ই’তিকাফ করলেন। আমারও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। জিবরাঈল (আঃ) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর তিনি মধ্যবর্তী দশ দিন ই’তিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ই’তিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরাঈল (আঃ) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। এরপর রামযানের বিশ তারিখ সকালে নবী (সাঃ) খুতবা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহর নবী (সাঃ) র সঙ্গে ই’তিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ই’তিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে লাইলাতুল কদর’ অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি। তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, এক খন্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নাবী (সাঃ) আমাদের নিয়ে সালাত (নামায) আদায় করলেন। এমন কি আমি রাসূল (সাঃ) এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাঁধার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে পরিণত হল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আযান হাদিস নাম্বারঃ ৭৭৬

অক্টো. 042013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) নাবী (সাঃ) -সহধর্মিনী সাফিয়্যা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে , একবার তিনি রমযানের শেষ দশকে মসজিদে রাসূল (সাঃ) -এর খিদমতে হাযির হন। তখন রাসূল (সাঃ) ইতিকাফরত ছিলেন। তিনি তাঁর সংগে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। তারপর ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ান। নাবী (সাঃ) তাঁকে পৌছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি (উম্মুল মুমিনীন ) উম্মে সালমা (রাঃ) -এর গৃহ সংলগ্ন মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌছলেন, তখন দুজন আনসারী সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁরা উভয়ে রাসূল (সাঃ) -কে সালাম করলেন। তাঁদের দুজনকে নাবী (সাঃ) বললেন :তোমরা দুজন থাম। ইনি তো (আমার স্ত্রী ) সাফিয়্যা বিনত হুযায়্যী। এত তাঁরা দু’জনে সুবহানাল্লাহ ইয়া রাসূল (সাঃ) বলে উঠলেন এবং তাঁরা বিব্রত বোধ করলেন। নাবী (সাঃ) বললেন : শয়তান মানুষের রক্ত শিরায় চলাচল করে। আমি আশংকা করলাম যে , সে তোমাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ই’তিকাফ হাদিস নাম্বারঃ ১৯০৭

অক্টো. 042013
 

‘আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) খেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) ইতিকাফ করার ইচ্ছা করলেন। এরপর যে স্থানে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করেছিলেন সেখানে এস কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন। (তাঁবুগুলো হল নাবী (সাঃ) -সহধর্মিণী) ‘আয়িশা (রাঃ) , হাফসা (রাঃ) ও যায়নাব (রাঃ) -এর তাঁবু। তখন তিনি বললেন : তোমরা কি এগুলো দিয়ে নেকী হাসিলের ধারণা কর? এরপর তিনি চলে গেলেন আর ইতিকাফ করলেন না। পরে শাওয়াল মাসে দশ দিনের ইতিকাফ করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ই’তিকাফ হাদিস নাম্বারঃ ১৯০৬

অক্টো. 042013
 

আবূন নু‘মান (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশকে নাবী (সাঃ) ইতিকাফ করতেন। আমি তাবু তৈরী করে দিতাম। তিনি ফজরের সালাত (নামায) আদায় করে তাতে প্রবেশ করতেন। (নাবী (সাঃ) -সহধর্মিণী)হাফসা (রাঃ) তাঁবু খাটাবার জন্য ‘আয়িশা (রাঃ) -এর কাছে অনুমিতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলে হাফসা (রাঃ) তাবুঁ খাটালেন। (নাবী (সাঃ) -সহধর্মীনি যয়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)) তা দেখে আরেকটি তাবুঁ তৈরি করলেন। সকালে নাবী (সাঃ) তাবুঁগুলো দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন এগুলো কি? তাকেঁ জানানো হলে তিনি বললেনঃ তোমরা কি মনে কর এগুলো দিয়ে নেকি হাসিল হবে? এ মাসে তিনি ইতকিাফ ত্যাগ করলেন এবং পরে শাওয়াল মাসে ১০ দিন (কাযা স্বরুপ) ইতিকাফ করেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ই’তিকাফ হাদিস নাম্বারঃ ১৯০৫

অক্টো. 042013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) ইবন (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত যে , ‘উমর (রাঃ) নাবী (সাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করেন যে , আমি জাহিলিয়্যা যুগে মসজিদুল হারামে এক রাত ইতিকাফ করার মানত করেছিলাম। তিনি (উত্তরে )বললেন : তোমার মানত পুরা কর।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ই’তিকাফ হাদিস নাম্বারঃ ১৯০৪

অক্টো. 042013
 

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , নাবী (সাঃ) আমার ঋতুবতী অবস্থায় আমার সংগে কাটাতেন এবং তিনি ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদ হতে তাঁর মাথা বের করে দিতেন। আমি ঋতুবতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ই’তিকাফ হাদিস নাম্বারঃ ১৯০৩

অক্টো. 042013
 

কুতায়বা (রহঃ) নাবী (সাঃ) সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , রাসূল (সাঃ) মসজিদে থাকাবস্থায় আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম এবং তিনি যখন ইতিকাফে থাকতেন তখন (প্রাকৃতিক ) প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ই’তিকাফ হাদিস নাম্বারঃ ১৯০২