নভে. 052013
 

মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত যে মুআয ইবন জাবাল (রাঃ) নাবী (সাঃ) -এর সাথে সালাত (নামায) আদায় করতেন। পূনরায় তিনি নিজ কাওমের নিকট এসে তাদের তিনি সালাত (নামায) আদায় করতেন। একবার তিনি তাদের নিয়ে সালাত (নামায) সুরা বাকারা পড়লেন। তখন এক ব্যাক্তি; সালাত (নামায) সংক্ষেপ করতে চাইল। সুতরাং-সে (আলাদা হয়ে) সংক্ষেপে সালাত (নামায) আদায় করলেন। এ খবর মু’আয (রাঃ)-এর কাছ পৌছলে তিনি বললেনঃ সে মুনাফিক! লোকটীর কাছে এ খবর পৌছলে তিনি নাবী (সাঃ) -এর খেদমতে এসে বললঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমরা এমন এক কাওমের লোক, যারা নিজের হাতে কাজ করি, আর নিজের উট দিয়ে সেচের কাজ করি। মুআয (রাঃ) গত রাত্রে সূরা বাকারা দিয়ে সালাত (নামায) আদায় করতে আরম্ভ করলেন, তখন আমি সংক্ষেপে সালাত (নামায) আদায় করে নিলাম। এতে মু’আয (রাঃ) বললেন যে, আমি মুনাফিক। তখন নাবী (সাঃ) বললেনঃ হে মু’আয। তুমি কি (লোকদের) দ্বীনের প্রতি বিতৃঞ্চ করতে চাও? একথাটি তিনি তিন বার বললেন। পরে তিনি তাকে বললেনঃ তুমি ওয়াশ শামসি ওয়াদ দু-হা আর সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা এবং এর অনুরুপ ছোট সূরা পড়বে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৭৬

অক্টো. 262013
 

আবূ নু’আইম (রহঃ)…… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন। এতে আঘাত লেগে তাঁর ডান পাশের চামড়া ছিলে গেল। আমরা তাঁর রোগের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। ইতিমধ্যে সালাত (নামায)-এর সময় হলে তিনি বসে সালাত (নামায) আদায় করলেন। আমরাও বসে সালাত (নামায) আদায় করলাম। পরে তিনি বললেনঃ ইমাম তো নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণ করার জন্য। কাজেই তিনি তাক্বীর বললে, তোমরাও তাক্বীর বলবে, রুকূ’ করলে তোমরাও রুকূ’ করবে, তিনি মাথা উঠালে তোমরাও মাথা উঠাবে। তিনি যখন ছামিল্লাহু লিমান হামিদা বলে তখন তোমরা বলবে রাব্বানা ওয়ালাকল হামদ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৪৮

অক্টো. 262013
 

কুতাইবা ইবন সায়ীদ (রহঃ)……… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সাঃ) সূর্য ঢলে পড়ার আগে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুহরের সালাত (নামায) বিলম্বিত করতেন। তারপর অবতরণ করে দু’ সালাত (নামায) একসাথে আদায় করতেন। আর যদি সফর শুরু করার আগেই সূর্য ঢলে পড়তো তাহলে যুহ্‌রের সালাত (নামায) আদায় করে নিতেন। তারপর বাহনে আরোহণ করতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৪৬

অক্টো. 262013
 

হাস্সান ওয়াসেতী (রহঃ)……… আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) সূর্য ঢলে পড়ার আগে সফর শুরু করলে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত (পূর্ব পর্যন্ত)যুহ্‌র বিলম্বিত করতেন এবং উভয় সালাত (নামায) একত্রে আদায় করতেন। আর (সফর শুরু করার আগেই) সূর্য ঢলে গেলে যুহর আদায় করে নিতেন। এরপর (সফরের উদ্দেশ্যে) আরোহণ করতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৪৫

অক্টো. 262013
 

ইসহাক (রহঃ)… আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাঃ) সফরে এ দু’ সালাত (নামায) একত্রে আদায় করতেন অর্থাৎ মাগরিব ও ইশা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৪৪

অক্টো. 262013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ)…… আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) -কে দেখেছি যখন সফরে তাঁকে দ্রুত পথ অতিক্রম করতে হত, তখন মাগরিবের সালাত (নামায) এত বিলম্বিত করতেন যে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। সালিম (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) ও দ্রুত সফরকালে অনুরূপ করতেন। তখন ইকামতের পর মাগরিব তিন রাকা’আত আদায় করতেন এবং সালাম ফিরাতেন। তারপর অল্প সময় অপেক্ষা করেই ইশা-এর ইকামাত দিয়ে তা দু’রাকা’আত আদায় করে সালাম ফিরাতেন। এ দু’য়ের মাঝে কোন নফল সালাত (নামায) আদায় করতেন না এবং ইশার পরেও না। অবশেষে মধ্যরাতে (তাহাজ্জুদের জন্য) উঠতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৪৩

অক্টো. 262013
 

আলী ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ)……… ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) যখন দ্রুত সফর করতেন, তখন মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। ইব্বাহীম ইবন তাহমান (রহঃ)…… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সফরে দ্রুত চলার সময় রাসূল (সাঃ) যুহ্‌র ও আসরের সালাত (নামায) একত্রে আদায় করতেন আর মাগরিব ইশা একত্রে আদায় করতেন। আর হুসাইন (রহঃ)…… আনাস ইবন মলিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) সফরকালে মাগরিব ও ইশার সালাত (নামায) একত্রে আদায় করতেন এবং আলী ইবন মুবারকও হারব (রহঃ)… আনাস (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় হুসাইন (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন যে, রাসূল (সাঃ) একত্রে আদায় করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৪২

অক্টো. 262013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ)…… ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাঃ) (সফর) তাঁর বাহনের পিঠে এর গতিমুখী হয়ে মাথার ইশারা করে নফল সালাত (নামায) আদায় করতেন। আর ইবন উমর (রাঃ) ও তা করতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৪১

অক্টো. 262013
 

হাফস ইবন উমর (রহঃ)…… ইবন আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, উম্মে হানী (রাঃ) ব্যতিত অন্য কউ রাসূল (সাঃ) কে সালাতুয্ যুহা (পূর্বাহ্ন এর সালাত (নামায)) আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাদের জানাননি। তিনি (উম্মে হানী (রাঃ)) বলেন, রাসূল (সাঃ) মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর ঘরে গোসল করার পর আট রাকা’আত সালাত (নামায) আদায় করেছেন। আমি তাঁকে এর চাইতে সংক্ষিপ্ত কোন সালাত (নামায) আদায় করতে দেখিনি, তবে তিনি রুকূ’ ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায় করেছিলেন। লায়স (রহঃ) আমির (ইবন রাবীআ’) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (সাঃ) কে রাতের বেলা বাহনের পিঠে বাহনের গতিমুখী হয়ে নফল সালাত (নামায) আদায় করতে দেখেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৪০

অক্টো. 262013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ)……… হাফ্স ইবন আসিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবন উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূল (সাঃ) এর সহচর্যে থেকেছি, তিনি সফরে দু’ রাকা’আতের অধিক নফল আদায় করতেন না। আবূ বক্‌র, উমর ও উসমান (রাঃ)- এর রীতি ছিল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতে কসর করা হাদিস নাম্বারঃ ১০৩৯