নভে. 212013
 

মুহাম্মদ ইবনু ‘আর‘আরা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাকে ভোরের বায়ু (পুবালি বাতাস) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে আর আদ জাতিকে দাবুর বা পশ্চিমের (এক প্রকার মারাত্মক) বায়ু দ্বারা ধংস করা হয়েছে। ইবনু কাসীর (রহঃ) আবূ সাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আলী (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যাক্তির মাঝে বন্টন করে দিলেন। (১) আল-আকরা ইবনু হাবেস হান্‌যালী যিনি মাজাশেয়ী গোত্রের ছিলেন (২) উআইনা ইবনু বদর ফাযারী (৩) যায়েদ ত্বায়ী, যিনি বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন (৪) আলকামা ইবনু উলাসা আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেন। এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং বলতে লাগলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাজাদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি ত তাদেরকে (ইসলামের দিকে) আকৃষ্ট করার জন্য মনোরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যাক্তি সামনে এগিয়ে আসল, যার চোখ দু’টি কোটরাগত, গণ্ডুদ্বয় জুলে পড়া; কপাল উঁচু, ঘন দাঁড়ি এবং মাথা মোড়ানো ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মদ! আল্লাহকে ভয় করুন। তখন তিনি বললেন, আমিই যদি নাফরমানি করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন এক ব্যাক্তি তাঁর কাছে তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। (আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন) আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) বলে ধারণা করছি। কিন্তু নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নিষেধ করলেন। তারপর অভিযোগকারী লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন। এ ব্যাক্তির বংশ হতে বা এ ব্যাক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পরবে কিন্তু তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবেনা। দিন থেকে তারা এমনভাবে বেরিয়ে পড়বে যেমনি ধনুক থেকে তির বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে (মুসলিমদেরকে) হত্যা করবে আর মূর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা থেকে মুক্তি দেবে। আমি যদি তাদের নাগাল পেতাম তবে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যয় হত্যা করতাম।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১০৭

নভে. 212013
 

নাসর ইবনু আলী (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসউদ) (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকল কারীদের কিরাআতে ন্যায় তিলাওয়াত করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১০৫

নভে. 152013
 

মুহম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে , নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন : তুমি প্রতি মাসে তিন দিন সাওম (রোযা) পালন কর। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন , আমি এর চাইতে বেশী করার শক্তি রাখি। এভাবে তিনি বৃদ্ধির আবেদন করতে লাগলেন যে , অবশেষে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : একদিন সাওম (রোযা) পালন কর এবং একদিন ছেড়ে দাও এবং আরও বললেন : প্রতি মাসে (এক খতম)কুরআন পাঠ কর। তিনি বললেন আমি এর চেয়ে বেশী শক্তি রাখি। এভাবে বলতে লাগলেন , অবশেষে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : তাহলে তিন দিনে (পাঠ কর )।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সাওম বা রোজা হাদিস নাম্বারঃ ১৮৫৪

নভে. 122013
 

হুদবা ইবনু খালিদ (রহঃ) আবূ মূসা -আশ আরী (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কুরআন তিলাওয়াতকারী ঈমানদারের উদাহরণ উৎরুজ্জার (কমলালেবু) মত। এর স্বাদও উত্তম এবং ঘ্রানও হৃদয়গ্রাহী। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার উদাহরণ যেন খেজুর। এটি খেজুর স্বাদ বটে, তবে তার কোন সুঘ্রাণ নেই। কুরআন তিলাওয়াতকারী গুনাহগার ব্যাক্তিটি সুগন্ধি ঘামের তূল্য। এর ঘ্রাণ আছে বটে, তবে স্বাদে তিক্ত। আর যে অতি গুনাহগার হয়ে আবার কুরআনও তিলাওয়াত করে না সে মাকাল ফলের মত। এ ফল স্বাদেও তিক্ত এবং এর কোন সুঘ্রাণও নেই।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৫০

নভে. 122013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রহঃ) ও আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারী (রহঃ) থেকে বর্নিত। তাঁরা উভয়ে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর জীবদ্দশায় আমি হিশাম ইবনু হাকীম (রাঃ)-কে (সালাত (নামায)) সূরায়ে ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি। আমি একাগ্রচিত্তে তাঁর তিলাওয়াত শুনছিলাম। তিনি এমন অনেকগুলো শব্দ তিলাওয়াত করছিলেন, যেগুলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তিলাওয়াত করাননি। এতে আমি তাঁকে সালাত (নামায)রত অবস্হায় ধরে ফেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সালাম ফেরানো পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধরলাম। তারপর আমি তার চাদর দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম আর বললাম, আমি তোমাকে যে সূরা পাঠ করতে শুনলাম, তা তোমাকে কে শিখিয়েছে? তিনি বললেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি বললাম, তুমি মিথ্যে বলেছ, তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, তবে তোমার কিরাআতের মত নয়। তারপর আমি তাঁকে টেনে টেনে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে নিয়ে চললাম। এরপর আমি বললাম, আমি শুনলাম একে ভিন্ন শব্দ দ্বারা সূরা ফুরকান পাঠ করতে, যা আপনি আমাকে শিখাননি। তিনি (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ) বললেনঃ আচ্ছা, তাকে ছেড়ে দাও। তুমি পড়, হে হিশাম! এরপর আমি যেরুপ কিরাআত শুনেছিলাম তিনি সেরুপ কিরাআত পড়লেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -বললেনঃ কুরআন অনুরুপই অবতীর্ন হয়েছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে উমর! তুমি পাঠ কর। আনি সেভাবে পড়লাম যেভাবে আমাকে শিখানো হয়েছিল। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এরুপই অবতীর্ণ হয়েছে। এ কুরআন সাত হরফের (পাঠ) নাযিল করা হয়েছে। অতএব যেভাবে সহজ হয় তা সেভাবে তোমরা পাঠ কর।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৪১

নভে. 122013
 

হাজ্জাজ ইবনু মিনহাল (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় গোপনে থাকতেন। আর তিনি উচ্চসূরে (তিলাওয়াত) করতেন। যখনা তা মুশরিকরা শুনল, তারা কুরআন ও এর বাহককে গালমন্দ করল। এরই প্রেক্ষিতে আল্লাহ তার নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জানিয়ে দিলেন। আপনি আপনার কুরআন উচ্চসূরেও পড়বেন না এবং খুব চুপে চুপেও পড়বেন না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৩৮

নভে. 122013
 

আবূ নূআয়ম (রহঃ) বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে এশার সালাত (নামায) ‘অত্তিনে অযযাইতুন’, পড়তে শুনেছি। তাঁর চেয়ে সুন্দর স্বর কিংবা তাঁর চেয়ে সুন্দর কিরাআত আর কারো থেকে আমি শুনিনি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৩৭

নভে. 122013
 

ইবরাহীম ইবনু হামযা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ উচ্চসূরে মধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াতকারী নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) র প্রতি যেরুপ সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন, অন্য কিছুর প্রতি সেরুপ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৩৫

নভে. 122013
 

আহমদ ইবনু আবূ সুরায়জ (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল আল মুযানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে তাঁর উটনীর উপর উপবিষ্ট অবস্থায় সূরা ফাৎহ কিংবা সুরা ফাতহের কিছু অংশ পড়তে দেখেছি। বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি তারজীসহ তা পাঠ করলেন। বর্ননাকারী বলেনঃ মুআবিয়া (রহঃ) ইবনুল মুগাফফালের কিরাআত নকল করে পড়ছিলেন। তিনি বললেনঃ যদি তোমাদের কাছে লোকজন ভিড় জমানোর আশংকা না হত, তবে আমিও তারজী করে ঠিক সেভাবে পাঠ করতাম, যেভাবে ইবনুল মুগাফফাল (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এয় কিরাআত নকল করে তারজী সহকারে পাঠ করেছিলেন। তারপর আমি মুআবিয়া (রাঃ)-কে বললাম, তার তারজী কিরুপ ছিল? তিনি বললেনঃ আ, আ, আ, তিনবার।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০৩২

নভে. 122013
 

কুতায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ দু টি বিষয় ছাড়া ঈর্ষা করা যায় না। -এক ব্যাক্তি হচ্ছে, আল্লাহ যাকে কুরআন দান করেছেন, আর সে দিবারাত্র তা তিলাওয়াত করে। অপর ব্যাক্তি বলে, এ লোকটিকে যা দেওয়া হয়েছে আমাকে যদি অনুরুপ দেওয়া হতো, তা হলে আমিও অনুরুপ করতাম, সে যেরুপ করছে। আরেক ব্যাক্তি হচ্ছে সে, যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। ফলে সে তা যখাযথভাবে ব্যয় করছে। তখন অপর ব্যাক্তি বলে- একে যা দেওয়া হয়েছে, আমাকেও যদি অনুরুপ দেওয়া হতো, আমিও তাই করতাম, সে যা করেছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০২০