নভে. 172013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি যেকোন একজন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে পিপিলীকা কামড় দেয়। তিনি পিপিলীকার সমস্ত আবাসটি জ্বালিয়ে দেয়ার আদেশ করেন এবং তা জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তালা তার প্রতি ওহী অবতীর্ণ করেন, তোমাকে একটি পিপিলীকা কামড় দিয়েছে আর তুমি আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারী জাতিকে জ্বালিয়ে দিয়েছ।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮১০

নভে. 122013
 

মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাকে যে বলবে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (ওহীর) কিছু জিনিস গোপন করেছেন। মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ, যে ব্যাক্তি তোমার কাছে বলে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওহীর কোন কিছু গোপন করেছেন, তাকে তুমি সত্যবাদী মনে করো না। মহান আল্লাহ বলেনঃ হে রাসুল! তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার কাছে যা অবতীর্ন হয়েছে, তা প্রচার কর (৫-৬৭)।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০২৩

নভে. 112013
 

উমর ইবন হাফস (রহঃ)……… ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ লাহাব লা’নাতুল্লাহি আলাইহি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে লক্ষ্য করে বললো, সারা দিনের জন্য তোমার ক্ষতি হোক! (তার এ কথার পরিপেক্ষিতে) অবতীর্ণ হয়: আবূ লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং সেও ধ্বংস হোক!

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১৩১২

নভে. 102013
 

আলী ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর এই আয়াতঃ বল, তিনি সক্ষম তোমাদের ঊধর্বদেশ থেকে শাস্তি প্রেরন করতে নাযিল হল, তখন তিনি বললেনঃ (হে আল্লাহ) আমি আপনার কাছে (এহেন আযাব থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করি (তারপর যখন নাযিল হল) অথবা তোমাদের পায়ের নিচে থেকে। তখনও তিনি বললেনঃ (হে আল্লাহ) আমি আপনার নিকট (এছেন আযাব থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করি। এরপর যখন অবতীর্ণ হলঃ অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং একদলকে অপর দলের সংঘর্ষের স্বাদ গ্রহন করাতে তখন তিনি বললেনঃ এ দুটি অপেক্ষাকৃত নরম অথবা বলেছেন সহজ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৮১৫

নভে. 102013
 

মুহাম্মাদ ইবন উবায়দ ইবন মায়মূন (রহঃ) ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে মদিনার এক শস্যক্ষেত্রে ছিলাম। তিনি একটি খেজুরের ডালে ভর দিয়ে হাটছিলেন। এ। সময় ইহুদীদের একটি দলের নিকট দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। তাদের কেউ বলল, তাকে রুহ (আত্না) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কর। আর কেউ বলল তাকে জিজ্ঞাসা করো না এতে তোমাদের অপছন্দনীয় উত্তর শুনতে হতে পারে। তারপর তারা তার কাছে উঠে গিয়ে বলল, হে আবূল কাসিম! আমাদের রুহ সম্পর্কে অবহিত করুন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুক্ষণ দাড়িয়ে তাকিয়ে রইলেন। আমি বুঝতে পারলাম, তাঁর কাছে ওহী নাযিল হলে, আমি তার থেকে একটু পিছু সরে দাঁড়ালাম। ওহী অবতরণ শেষ হল। তারপর তিনি বললেনঃ (মহান আল্লাহর বানী): তোমাকে তারা রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, রুহ আমার! প্রতিপালকের আদেশ (১৭- ৮৫)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারন হাদিস নাম্বারঃ ৬৭৯৯

নভে. 102013
 

ইস্‌মাঈল (রহঃ) আসলাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন এক সফরে রাতের বেলায় চলছিলেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তাঁর সাথে ছিলেন। তখন উমর (রাঃ) তাঁর কাছে কিছু জিজ্ঞেস করলেন; কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কোন উত্তর দিলেন না। তারপর আবার জিজ্ঞেস করলেন; কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না। পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এবারও তিনি কোন উত্তর দিলেন না। এমতাবস্থায়, উমর (রাঃ) নিজকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! তুমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে তিনবার প্রশ্ন করে কোন উত্তর পাওনি। উমর (রাঃ) বললেন, এরপর আমি আমার উটকে দ্রুত চালিয়ে সকলের আগে চলে গেলাম এবং আমি শঙ্কিত হলাম, না জানি আমার সম্পর্কে কুরআন অবতীর্ণ হয়। কিছুক্ষণ পর কেউ আমাকে ডাকছে, এমন আওয়োজ শুনতে পেলাম। আমি মনে আশংকা করলাম যে, হয়তো বা আমার সম্পর্কে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তখন আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকটে গেলাম এবং তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন আজ রাতে আমার কাছে এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে, যা আমার কাছে সূর্যালোক পতিত সকল স্থান হতেও উত্তম। এরপর তিনি পাঠ করলেন, “নিশ্চয় আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি”।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৪৪

নভে. 102013
 

হাফস ইবন উমর (রহঃ) কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সময় কে কে কুরআন সংগ্রহ করেছেন? তিনি বললেন, চারজন এবং তাঁরা চারজনই ছিলেন আনসারী সাহাবী। তাঁরা হলেনঃ উরায় ইবন কা’ব (রাঃ), মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ), যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) এবং আু যায়দ (রাঃ)। (অন্য সনদে) ফাদল (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে অনুরূপ করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬৩৭

নভে. 102013
 

আদম (রহঃ) ইব্‌ন মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সূরা বনী ইসরাঈল, সূরা কাহ্‌ফ, সূরা মরিয়ম, সূরা তাহা এবং সূরা আম্বিয়া সম্পর্কে বলতেন যে, এগুলো হচ্ছে সূরা সমূহের মাঝে উন্নত এবং এগুলো ইসলামের প্রাথমিক যুগে অবতীর্ণ হয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬২৮

নভে. 102013
 

ইব্‌রাহীম ইব্‌ন মূসা (রহঃ) ইউসুফ ইব্‌ন মাহিক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ইরাকী ব্যাক্তি এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলঃ কোন ধরনের কাফন শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আফসোস তোমার প্রতি! এতে তোমার কি ক্ষতি? তারপর লোকটি বলল, হে উম্মুল মু’মিনীন! আমাকে আপনি আপনার কুরআন শরীফের কপি দেখান। তিনি বললেন, কেন? লোকটি বলল, এ তারতীবে কুরআন শরীফকে বিন্যাস্ত করার জন্য। কারণ লোকেরা তাকে অবিন্যাস্তভাবে পাঠ করে। আয়িশা (রাঃ) বললেন, তোমরা এর যে অংশই আগে পাঠ কর না কেন, এতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। মুফাস্‌সাল সূরা সমূহের মাঝে প্রথমত ঐ সূরাগুলো অবতীর্ণ হয়েছে। যার মধ্যে জান্নাত ও জাহান্নামের উল্লেখ রয়েছে। তারপর যখন লোকেরা দলে দলে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিণ হতে লাগল তখন হালাল-হারামের বিভিন্ন সম্বলিত সূরাগুলো নাযিল হয়েছে। যদি সূচনাতেই এ আয়াত নাযিল হত যে, তোমরা মদ পান করো না, তাহলে লোকেরা বলত, আমরা কখনো মদপান ত্যাগ করব না। যদি শুরুতেই নাযিল হতো তোমরা ব্যভিচার করো না, তাহলে তারা বলত আমরা কখনো অবৈধ যৌনাচার বর্জন করব না। আমি যখন খেলাধুলার বয়সী একজন বালিকা তখন মক্কায় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি নিম্নলিখিত আয়াতগুলো নাযিল হলঃ #### মানে, ‍অধিকন্তু কিয়ামত তাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর”। বিধান সম্বলিত সূরা বাকার ও সূরা নিসা আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে থাকাকালীন অবস্থায় নাযিল হয়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আয়িশা (রাঃ) তাঁর কাছে সংরক্ষিত কুরআনের কপি বের করলেন এবং সূরা সমূহ লেখালেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬২৭

নভে. 102013
 

সাঈদ ইব্‌ন উফায়র (রহঃ) ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে একভাবে কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আমি তাকে অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করতে লাগলাম এবং পুনঃ পুনঃ অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অব্যাহতভাবে অনুরোধ করতে থাকলে তিনি আমার জন্য পাঠ পদ্ধতি বাড়িয়ে যেতে লাগলেন। অবশেষে তিনি সাত উপ (আঞ্চলিক) ভাষায় তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফাজায়ীলুল কুরআন হাদিস নাম্বারঃ ৪৬২৫