নভে. 072013
 

আলী ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্‌ (রহঃ) ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে আট রাকা’আত একত্রে যুহ্‌র ও আসরের এবং সাত রাকা’আত একত্রে মাগরিব-ইশার আদায় করেছি। (তাই সে ক্ষেত্রে যুহ্‌র ও মাগরিবের পর সুন্নাত আদায় হয় নি। ) আমর (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আবূশ শা’সা! আমার ধারনা, তিনি যুহ্‌র শেষ ওয়াক্তে এবং আসর প্রথম ওয়াক্তে আর ইশা প্রথম ওয়াক্তে ও মাগরিব শেষ ওয়াক্তে আদায় করেছিলেন। তিনি বলেছেন, আমিও তাই মনে করি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাহাজ্জুদ বা রাতের সালাত হাদিস নাম্বারঃ ১১০৪

নভে. 032013
 

মুহাম্মদ (ইবন সালাম) (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যখন সূর্যের এক কিনারা উদিত হবে, তখন তা পরিস্কারভাবে উদিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত (নামায) আদায় করা বন্ধ রাখ। আবার যখন সূর্যের এক কিনারা অস্ত যাবে তখন তা সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা সালাত (নামায) আদায় করা বন্ধ রাখ। আর তোমরা সূর্যদয়ের সময়কে এবং সূর্যাস্তের সময়কে তোমাদের সালাত (নামায)-এর জন্য নির্ধারিত করো না। কেননা, তা শয়তানের দু’শিং-এর মাঝখান দিয়ে উদিত হয়। বর্ণণাকারী বলেন, হিশাম (রহঃ) কি ‘শয়তান’ বলছেন না ‘আশ-শয়তান’ বলেছেন তা আমি জানিনা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সৃষ্টির সূচনা হাদিস নাম্বারঃ ৩০৪৪

অক্টো. 232013
 

হাফসা ইবন উমর (রহঃ) আবূ বারযা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) এমন সময় ফজরের সালাত (নামায) আদায় করতেন, যখন আমাদের একজন তার পার্শ্ববর্তী আপরজনকে চিনতে পারত। আর এ সালাত (নামায) তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং যুহরের সালাত (নামায) আদায় করতেন যখন সূর্য পশিম দিকে ঢলে পড়ত। তিনি আসরের সালাত (নামায) আদায় করতেন এমন সময় যে, আমাদের কেউ মদিনার শেষ প্রান্তে পৌছে আবার ফিরে আসতে পারত, তখনও সূর্য সতেজ থাকত। রাবী বলেন, মাগরিব সম্পর্কে তিনি [ আবূ বারযা (রা ] কী বলেছিলেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর ইশার সালাত (নামায) রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে তিনি কোনরূপ দ্বিধাবোধ করতেন না। তারপর রাবী বলেন, রাতের অর্ধাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে অসুবিধা বোধ করতেন না। আর মু’আয (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, শু’বা (রহঃ) বলেছেন, পরে আবূল মিনহালের (রহঃ) সংগে সাক্ষাত হয়েছিল, সে সময় তিনি বলেছেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বলম্বন করতে অসুবিধা বোধ করতেন না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫১৪

অক্টো. 232013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আনাস ইবন্ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সূয ঢলে পড়লে রাসূল (সাঃ) বেরিয়ে এলেন এবং যুহরের সালাত (নামায) আদায় করলেন। তারপর মিম্বরে দাঁড়িয়ে কিয়ামত সম্বন্ধে আলোচনা করেন এবং বলেন যে, কিয়ামতে বহু ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটবে। এরপর তিনি বলেন, আমাকে কেউ কোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে করতে পারে। আমি যতক্ষন এ বৈঠকে আছি, এর মধ্যে তোমরা আমাকে যা কিছু জিজ্ঞাসা করবে আমি তা জানিয়ে দিব। এ শুনে লোকেরা খুব কাঁদতে শুরু করল। আর তিনি বলতে থাকলেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর, আমাকে প্রশ্ন কর। এ সময় আব্দুল্লাহ্ ইবন হুযাইফা সাহমী (রাঃ) দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার পিতা কে? রাসূল (সাঃ) বললেন, তোমার পিতা ‘হুযাইফা’। এরপর তিনি অনেকবার বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর। তখন হযরত উমর (রাঃ) নতজানু হয়ে বসে বললেন, “আমরা আল্লাহ্ কে প্রতিপালক হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মদ – কে নাবী (সাঃ) হিসাবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট। এরপর রাসূল (সাঃ) নীরব থাকলেন। কিছুক্ষণ পর বললেনঃ এক্ষুনি এ দেওয়ালের পাশে জান্নাত ও জাহান্নাম আমার সামনে তুলে ধরা হয়েছিল; এত উত্তম ও এত নিকৃষ্টের মত কিছু আমি আর দেখিনি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫১৩

অক্টো. 232013
 

আদম ইবন আবূ ইয়াস (রহঃ) আবূ যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূল (সাঃ) – এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুয়াজ্জিন যুহরের আযান দিতে চেয়েছিল। তখন নাবী (সাঃ) বললেনঃ গরম কমতে দাও। কিছুক্ষন পর আবার মুয়াজ্জিন আযান দিতে চাইলে নাবী (সাঃ) (পুনরায়) বললেনঃ গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (সালাত (নামায) আদায়ে) এত বিলম্ব করলেন যে, আমার টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। তারপর নাবী (সাঃ) বললেনঃ গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। কাজেই গরম প্রচন্ড হলে উত্তাপ কমার পর সালাত (নামায) আদায় করো। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, হাদীসে — শব্দটি — ঝুঁকে পড়া, গড়িয়ে পড়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫১২

অক্টো. 232013
 

উমর ইবন হাফ্স (রহঃ) আবূ সায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যুহরের সালাত (নামায) গরম কমলে আদায় কর। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। সুফিয়ান, ইয়াহ্ইয়া এবং আবূ আওয়ানা (রহঃ) আ’মাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫১১

অক্টো. 232013
 

আলী ইবন আবদুল্লাহ্‌ মাদ্বীনী (রহঃ) আবূ হূরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ যখন গরম বৃদ্ধি পায় তখন তোমরা তা কমে এলে (যুহরের) সালাত (নামায) আদায় করো। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ। (তারপর তিনি বলেন), জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে এ বলে নালিশ করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে আল্লাহ্তা’আলা তাকে দু’টি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি শীতকালে আর একটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দু’টি হল, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচণ্ঠ উত্তাপ এবং শীতকালে যে প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভব কর তাই।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫১০

অক্টো. 232013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশ্‌শার (রহঃ) আবূ যার্র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) – এর মুয়াজ্জিন আযান দিলে তিনি বললেনঃ ঠান্ডা হতে দাও। অথবা তিনি বললেন, অপেক্ষা কর, অপেক্ষা কর। তিনি আরও বলেন, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের ফলেই সৃষ্টি হয়। কাজেই গরম যখন বেড়ে যায় তখন গরম কমলেই সালাত (নামায) আদায় করবে। এমনকি (বিলম্ব করতে করতে বেলা এতটুকু গড়িয়ে গিয়েছিল যে) আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫০৯

অক্টো. 232013
 

আয়্যূব ইবন সুলাইমান (রহঃ) আবূ হুরায়রা ও আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যখন গরমের প্রচণ্ডতা বৃদ্ধি পায়, তখন গরম কমলে সালাত (নামায) আদায় করবে। কেননা, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫০৮

অক্টো. 132013
 

মুসলিম ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) আবূ মালীহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা হযরত বুরাইদা (রাঃ) – এর সঙ্গে ছিলাম। দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই বুরাইদা (রাঃ) বলেন, শীঘ্র আসরের সালাত (নামায) আদায় করে নাও। কারণ রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আসরের সালাত (নামায) ছেড়ে দেয় তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সালাতের ওয়াক্তসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫২৬