নভে. 172013
 

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন খায়বার বিজিত হয়, তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে একটি (ভুনা) বকরী হাদীয়া দেওয়া হয়; যাতে বিষ ছিল। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশ দিলেন যে, এখানে যত ইয়াহূদী আছে, সকলকে একত্রিত কর্ তাদের সকলকে তাঁর সামনে একত্রিত করা হল। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের একটি প্রশ্ন করব। তোমরা কি আমাকে তার সত্য উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, সত্য উত্তর দিব, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের পিতা কে? তারা বলল, অমুক। ’ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তোমরা মিথ্যা বলেচ, বরং তোমাদের পিতা অমুক। ’ তারা বলল, ‘আপনিই সত্য বলেছেন। ’ তখন তিনি বললেন, ‘আমি যদি তোমাদের একটি প্রশ্ন করি, তোমরা কি তার সঠিক উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, দিব, হে আবূল কাসিম!আর যদি আমরা মিথ্যা বলি, তবে আপনি আমাদের মিথ্যা ধরে ফেলবেন, যেমন আমাদের পিতা সম্পর্কে আমাদের মিথ্যা ধরে ফেলেছেন। ’ তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কারা দোযখবাসী?’ তারা বলল, আমরা তথায় অল্প কিছু দিন অবস্থান করব, তারপর আপনারা (মুসলিমরা) আমাদের পেছনে সেখানে থেকে যাবেন। ’ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সাৎ) বললেন, ‘দুর হও, তোমরাই তথাই থাকবে। আল্লাহর কসম। আমরা কখনো কখনো তাতে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হব না। ’ তারপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘আমি যদি তোমাদের একটি প্রশ্ন করি, তোমরা কি তার সঠিক উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হোবুল কাসিম!’ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি এ বকরীটিতে বিষ মিশিয়েছ?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ। ’ তিনি বললেন, ‘কিসে তোমাদের এ কাজে উদ্বদ্ধ করল?’ তারা বলল, ‘আমরা চেয়েছী আপনি যদি মিথ্যাবাদী হন, তবে আমরা আপনার থেকে স্বস্তি লাভ করব আর আপনি যদি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হন তবে তা আপনার কোন ক্ষতি করবে না। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৪৫

নভে. 172013
 

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে নববীতে বসা ছিলাম। এ সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং বললেন, তোমরা ইয়াহূদীদের নিকট চল। আমরা চললাম এবং তাদের তাওরাত পাঠকেন্দ্রে পৌঁছলাম। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের উদ্ধেশ্যে বললেন, তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবে আর জেনে রাখ, সমগ্র পৃথিবী আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল) -এর। আমি ইচ্ছা করেছি, আমি তোমাদের এ দেশ থেকে নির্বাসন করব। যদি তোমাদের কেউ তাদের মালের বিনিময়ে কিছু পায়, তবে সে যেন তা বিক্রি করে ফেলে। আর জেনে রাখ, সমগ্র পৃথিবী আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল) -এর।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৪৩

নভে. 172013
 

কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) সাহল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বর যুদ্ধেও দিন বলেন, আগামীকাল আমি এমন এক ব্যাক্তির হাতে পতাকা দিব, যার হাতে আল্লাহ তালা বিজয় দান করবেন। সে আল্লাহ তালা ও তাঁর রাসূল) -কে ভালবাসে, আর আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল) তাকে ভালবাসেন। লোকেরা এ চিন্তায় সারা রাত কাটিয়ে দেয়, কাকে এ পতাকা দেওয়া হয়? আর পর দিন সকালে প্রত্যেকেই তা পাওয়ার আকাঙ্খা পোষণ করে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আলী কোথায়? বলা হল, তাঁর চোখে অসুখ। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর চোখে আপন মুখের লালা লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দুয়া করলেন। তাতে তিনি আরোগ্য লাভ করলেন। যেন আদৌ তাঁর চোখে কোন রোগই ছিল না। তারপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাতে পতাকা দিলেন। আলী (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাদের সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ চালিয়ে যাব যতক্ষণ না তারা আমাদের মত হয়ে যায়। তিনি (রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘তুমি স্বভাবিকভাবে অগ্রসর হয়ে তাদের আঙ্গিনায় অবতরণ কর। তারপর তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান কর এবং ইসলাম গ্রহণ করার পর তাদের জন্য যা অপরিহার্য তা তাদেরকে জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাআলা যদি তোমার মাধ্যমে এক ব্যাক্তিকে হেদায়েত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লালবর্ণের উটের মালিক হওয়া অপেক্ষা উত্তম।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮০১

নভে. 102013
 

মূসাদ্দাদ (রহঃ) আবূ-মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ বন্দীদের মুক্ত কর, আর দাওয়াতকারীর দাওয়াত কবুল কর।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহকাম হাদিস নাম্বারঃ ৬৬৮৫

নভে. 062013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি পর্দা (আয়াত নাযিল হওয়া) সম্পর্কে সর্বাধিক অবহিত। এ ব্যাপারে উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করতেন। যায়নাব বিনত জাহশের সঙ্গে নববিবাহিত হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -এর ভোর হল। তিনি মদিনায় তাকে বিবাহ করেছিলেন। ওঠার পর তিনি লোকজনকে খাওয়ার জন্য দাওয়াত করলেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বসে ছিলেন। (আহারের পর) অনেক লোক চলে যাওয়ার পরও কিছু লোক তাঁর সাথে বসে থাকলো। অবশেষে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) উঠে গেলেন আমিও তার সাথে সাথে গেলাম। তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর হুজরার দরজায় পৌছলেন। তারপর ভাবলেন লোকেরা হয়তো চলে গেছে। আমিও তার সাথে ফিরে আসলাম। (এসে দেখলাম) তারা স্বস্থানে বসেই রয়েছে। তিনি পুনরায় ফিরে গেলেন। আমিও তার সঙ্গে পূনয়রায় ফিরে গেলাম। এমন কি তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর গৃহের দরজা পর্যন্ত-পৌছে আবার ফিরে আসলেন। আমিও তার সঙ্গে ফিরে আসলাম। এবার (দেখলাম) তারা উঠে গেছে। তারপর তিনি আমার ও তার মাঝে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। তখন পর্দার আয়াত নাযিল হলো।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহার সংক্রান্ত হাদিস নাম্বারঃ ৫০৭০

নভে. 062013
 

মুহাম্মদ ইবন ইউসূফ (রহঃ) আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ, আবূ শুআয়ব নামক আনসার গোত্রের এক ব্যাক্তির এক কসাই গোলাম ছিল। সে তাকে বললো আমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত কর, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -কে দাওয়াত করতে চাই। পাঁচজনের মধ্যে তিনি হবেন একজন। তারপর সে নাবী (সাঃ) -কে দাওয়াত করল। তিনি ছিলেন পাচ জনের অন্যতম। তখন এক ব্যাক্তি তাদের পিছে পিছে আসতে লাগল। নাবী (সাঃ) বললেনঃ তুমি তো আমাকে আমাদের পাচ জনের পঞ্চম ব্যাক্তি হিসাবে দাওয়াত দিয়েছ। এ লোকটা আমাদের পিছে পিছে এসেছে। তুমি ইচ্ছা করলে তাকে অনুমতি দিতে পার আর ইচ্ছা করলে বাদও দিতে পার। সে বললো আমি বরং তাকে অনুমতি দিচ্ছি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আহার সংক্রান্ত হাদিস নাম্বারঃ ৫০৪০

নভে. 062013
 

সুলায়মান ইবন হারব (রহঃ) বারা ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃ) আমাদের সাতটি কাজের আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। রোগীর দেখাশোনা করতে, জানাযার সঙ্গে যেতে, হাচিদাতার জবাব দিতে, দাওয়াত গ্রহণ করতে, সালামের জবাব দিতে, মানূষের সাহায্য করতে এবং কসম পূরা করতে আমাদের আদেশ দিয়েছেন। আর সোনার আংটি অথবা বালা ব্যবহার করতে, সাধারণ রেশমী কাপড় পরতে, মিহিন রেশমী কাপড়, রেশমী যিন ব্যবহার করতে, কাসীই ব্যবহার করতে এবং রৌপ্য পাত্র ব্যবহার করতে আমাদের নিষেধ করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৮৯

নভে. 012013
 

আদাম (রহঃ) বারা ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, নাবী (সাঃ) আমাদের সাতটি জিনিস থের্কে নিষেধ করেছেন: স্বর্ণের আংটি বা তিনি বলেছেন। স্বর্নের বলয়, মিহি রেশম, মোটা রেশম ও রেশম মিশ্রিত কাপড় রেশম এর তৈরী লাল রঙের পেলান বা হাওদা, রেশম মিশ্রিত কিসসী কাপড় ও রুপার পাত্র আর আমাদের সাতটি কাজের আদেশ করেছেনঃ রোগীর শশ্রুষা, জানাযার পেছনে চলা, হাচির উত্তর দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, দাওয়াত, গ্রহন করা, কসমকারীর কসম পূরনে সাহায্য করা এবং মাযলূম ব্যাক্তির সাহায্য করা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পোষাক-পরিচ্ছদ হাদিস নাম্বারঃ ৫৪৪৪

অক্টো. 302013
 

সাঈদ ইব্‌ন রাবী (রহঃ) বারা ইব্‌ন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে সাতটি বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তারপর তিনি উল্লেখ করেলেন, পীড়িতের খোঁজখবর নেওয়া, জানাযার অনুসরণ করা, হাঁচির জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ্‌ বলা, সালামের জওয়াব দেওয়া, মাজলুমকে সাহায্য করা, আহবানকারীর প্রতি সাড়া দেওয়া, কসমকারীকে দায়িত্ব মুক্ত করা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যুলম ও কিসাস হাদিস নাম্বারঃ ২২৮৩

অক্টো. 242013
 

ইবন ইসমাঈল (রহঃ) বারা ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের সাতটি জিনিসের হুকুম দিয়েছেন এবং সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের হুকুম দিয়েছেনঃ রোগীর সেবা করতে, জানাযার পেছনে যেতে, তিনি দানকারীর জবাব দিতে দাওয়াতকারীর দাওয়াত গ্রহন করতে বেশী বেশী সালাম দিতে, মাযলুমের সাহায্য করতে এবং কসম ঠিক রাখার সুযোগ কবে দিতে। আর আমাদের তিনি নিষেধ করেছেন: স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে, কিংবা তিনি বলেছেন রুপার পাত্রে পানি পান করতে মায়াসির অর্থাৎ এক জাতীয় নরম ও মসৃণ রেশমী কাপড় কাসসী অর্থাৎ রেশম মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করতে এবং পাতলা কিংবা মোটা এবং অলংকার খচিত রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পানীয় দ্রব্যসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫২৩৩