নভে. 082013
 

আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে নয়তো নীরব থাকে। এবং যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০৩১

অক্টো. 302013
 

আদম ইবন আবূ ইয়াস (রহঃ) ‘আদী ইবন সাবিত (রহঃ) –এর নানা আবদুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) লুটতারাজ করতে এবং জীব’কে বিকলাঙ্গ করতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যুলম ও কিসাস হাদিস নাম্বারঃ ২৩১২

অক্টো. 182013
 

ইসহাক ইব’ন নসর (রহঃ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেন, যে আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সেযেন আপন প্রতিবেশীকে কষ্ট নাদেয়। আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টী করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করার।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বিয়ে-শাদী হাদিস নাম্বারঃ ৪৮০৭

অক্টো. 142013
 

‘আবদান (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ্ ইবন মাস’উদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূল (সাঃ) সিজদারত অবস্থায় ছিলেন। অন্য সূত্রে আহমদ ইবন ‘উসমান (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ্ ইবন মাস্’উদ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সাঃ) একবার বায়তুল্লাহ্‌র পাশে সালাত (নামায) আদায় করছিলেন এবং সেখানে আবূ জাহল ও আর সঙ্গীরা বসা ছিল। এমন সময় তাদের একজন অন্যজনকে বলে উঠল, ‘তোমাদের মধ্যে কে অমুক গোত্রের উটনীর নাড়ীভুঁড়ি এনে মুহাম্মদ যখন সিজদা করেন তখন তার পিঠের উপর রাকতে পারে?’ তখন কওমের বড় পাষন্ড (‘উকবা) তাড়াতাড়ি গিয়ে তা নিয়ে এল এবং তাঁর প্রতি নজর রাখল। রাসূল (সাঃ) যখন সিজদায় গেলেন, তখন সে তাঁর পিঠের উপর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। ইবন মাস’উদ (রাঃ) বলেন, আমি (এ দৃশ্য) দেখেছিলাম কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। হায়! আমার যদি কিছু প্রতিরোধ শক্তি থাকত! তিনি বলেন, তারা হাসতে লাগল এবং একে অন্যের উপর লুটিয়ে পড়তে লাগল। আর রাসূল (সাঃ) তখন সিজদায় থাকলেন, মাথা উঠালেন না। অবশেষে হযরত ফাতিমা (রাঃ) এলেন এবং সেটি তাঁর পিঠের উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর রাসূল (সাঃ) মাথা উঠিয়ে বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আপনি কুরায়শকে ধ্বংস করুন। এরূপ তিনবার বললেন। তিনি যখন তাদের বদ দু’আ করেন তখন তা তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা জনত যে, এ শহরে দু’আ কবূল হয়। এরপর তিনি নাম ধরে বললেনঃ ইয়া আল্লাহ্! আবূ জাহলকে ধ্বংস করুন। এবং ‘উতবা ইবন রাবী’আ, শায়বা ইবন রবী’আ, ওয়ালীদ ইবন ‘উতবা, উময়্যা ইবন খালাফ ও ‘উকবা ইবন মু’আইতকে ধ্বংস করুন। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম ব্যাক্তির নামও বলেছিলেন কিন্তু তিনি স্মরণ রাখতে পারেন নি। ইবন মাস’উদ (রাঃ) বলেনঃ সেই সত্তার কসম! যার হাতে আমার জানো, রাসূল (সাঃ) যাদের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, তাদের আমি বদরের কূপের মধ্যে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ উযূ হাদিস নাম্বারঃ ২৩৯

অক্টো. 132013
 

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রহঃ) যুবায়র ইবন আদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-এর নিকট গেলাম এবং হাজ্জাজের পক্ষ থেকে মানুষ যে নির্যাতন ভোগ করছে সে সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করলাম। তিনি বললেনঃ ধৈর্য ধারণ কর। কেননা, মহান প্রতিপালকের সহিত মিলিত হওয়ার পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যূর পুর্বে) তোমাদের উপর এমন কোন যুগ অতিবাহিত হবে না, যার পরবর্তী যুগ তার চেয়েও নিকৃষ্টতর নয়। তিনি বলেনঃ এ কথাটি আমি তোমাদের নবী (সাঃ) থেকে শ্রবণ করেছি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফিতনা হাদিস নাম্বারঃ ৬৫৮৮

অক্টো. 132013
 

মুআয ইবন ফাযাল (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, তোমরা রাস্তার উপর বসা ছেড়ে দাও। লোকজন বলল, এ ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই। কেননা, এটাই আমাদের উঠাবসার জায়গা এবং এখানেই আমরা কথাবার্তা বলে থাকি। তিনি বলেন, যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বলল, রাস্তার হক কি? তিনি বললেন, দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকা, সালামের জওয়াব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যুলম ও কিসাস হাদিস নাম্বারঃ ২৩০৩

অক্টো. 082013
 

ইবন আবূ মারইয়াম (রহঃ) আসমা বিনত্ আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী (সাঃ) একবার সালাতুল কুসূফ (সূর্য গ্রহণের সালাত (নামায)) আদায় করলেন। তিনি সালাত (নামায) দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর রুকূ’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। তারপর দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর আবার রুকূ’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ’তে থাকলেন। এরপর উঠলেন, পরে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। এরপর আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকূ’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ’তে দীর্ঘক্ষণ রুবূ’তে থাকলেন। এরপর রুকূ’ থেকে উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। তারপর উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। এরপর সালাত (নামায) শেষ করে ফিরে দাঁড়িয়ে বললেনঃ জান্নাত আমার খুবেই নিকটে এসে গিয়েছিল এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তা হলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, ইয়া রব! আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, একটি বিড়াল তাকে খামচাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ স্ত্রী লোকটির এমন অবস্থা কেন? ফিরিশতাগণ জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রী লোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে। নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, (ইবন আবূ মুলায়কা (রাঃ) বর্ণনা করেছিলেন, যাতে সে যমীনের পোকা মাকড় খেতে পারে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আযান হাদিস নাম্বারঃ ৭০৯

অক্টো. 062013
 

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার নাবী (সাঃ) বললেনঃ তোমরা রাসত্মায় বসা থেকে বিরত থাকো। তারা বললঃ ইয়া রাসূল (সাঃ) আমাদের রাসত্মায় বসা ছাড়া গত্যমত্মর নেই, আমরা সেখানে কথাবার্তা বলি। তিনি বললেনঃ যদি তোমাদের রাসত্মায় মজলিস করা ছাড়া উপায় না থাকে, তবে তোমরা রাসত্মায় হক আদায় করবে। তারা বলল ইয়া রাসূল (সাঃ) ! রাসত্মার দাবী কি? তিনি বললেন, তা হল চোখ অবনত রাখা, কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। সালামের জবাব দেওয়া এবং সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া আর অসৎকাজ থেকে নিষেদ করা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অনুমতি চাওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৯৬