নভে. 112013
 

আদম রহ আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাহাবী একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাঁরা তার প্রশংসা করলেন। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়াজিব হয়ে গেল। একটু পরে তাঁরা অপর একটি জানাযা অতিক্রম করলেন। তখন তাঁরা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করলেন। (এবারও) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়াজিব হয়ে গেল। তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আরয করলেন, (ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! ) কি ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেন, এ (প্রথম) ব্যাক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর এ(দ্বিতীয়) ব্যাক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরা তো পৃথিবীর বুকে আল্লাহর সাক্ষী।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৮৩

নভে. 112013
 

ইয়াহইয়া ইবন বুকাইর রহ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (মুনাফিক সর্দার) আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ইবন সালূল১ মারা গেলে তার জানাযার সালাত (নামায)-এর জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আহবান করা হল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালাত (নামায) আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আপনি ইবন উবাই-এর জানাযার সালাত (নামায) আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার শানে এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে। এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুনে গুনে পুনরাবৃত্তি করলাম। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, উমর, সরে যাও! আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, আমাকে (তার সালাত (নামায) আদায় করার ব্যাপারে) ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তর বারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে তা হলে আমি অবশ্যই তার চাইতে অধিক বার মাফ চাইতাম। উমর (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তারা জানাযার সালাত (নামায) আদায় করেন এবং ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারাআতের এ দু’টি আয়াত নাযিল হল == তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত (নামায) আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে তারা ফাসিক। (সূরা তাওবা: ৮৪) রাবী বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সামনে আমার ঐ দিনের দু:সাহসিক আচরণ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ই সমধিক অবগত। ১ মুনাফিক সর্দার আবদুল্লাহ্‌র পিতার নাম ছিল উবাই, আর মাতার নাম ছিল সালূল। তাই তাকে ইব্‌ন সালূলও বলা হত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৮২

নভে. 112013
 

আবূল ইয়ামান রহ ………শু’আইব রহ থেকে বর্ণিত যে, ইবন শিহাব রহ বলেছেন, নবজাত শিশু মারা গেলে তাদের প্রত্যেকের জানাযার সালাত (নামায) আদায় করা হবে। যদিও সে কোন ভ্রষ্টা মায়ের সন্তানও হয়। এ কারণে যে, সে সন্তানটি ইসলামী ফিতরাত (তাওরাত) এর উপর জন্মলাভ করেছে। তার পিতামাত ইসলামের দাবীদার হোক বা বিশেষভাবে তার পিতা। যদিও তার মা ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন ধর্মের অনুসারী হয়। নবজাত শিশু স্বরবে কেঁদে থাকলে তার জানাযার সালাত (নামায) আদায় করা হবে। আর যে শিশু না কাদবে, তার জানাযার সালাত (নামায) আদায় করা হবে না। কেননা, সে অপূর্ণাংগ সন্তান। কারণ, আবূ হুরায়রা (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি নবজাতকই জন্মলাভ করে ফিতরাতের উপর। এরপর তা মা-বাপ তাকে ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজারী রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু নিখুত বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাদের মধ্যে কোন কানকাটা দেখতে পাও? (বরং মানুষেরাই তার নাক কান কেটে দিয়ে বা ছিদ্র করে তাকে বিকৃত করে থাকে। অনুরূপ ইসলামের ফিতরাতে ভূমিষ্ট সন্তানকে মা-বাপ তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও জীবন ধারায় প্রবাহিত করে ভ্রান্ত ধর্মী বানিয়ে ফেলে) পরে আবূ হুরায়রা (রাঃ) তিলাওয়াত করলেন-== আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের অনুসরণ কর যে ফিতরাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রূম: ৩০)

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৫৬

নভে. 112013
 

মুহাম্মদ ইব্‌ন বাশ্‌শার ও মুহাম্মদ ইব্‌ন কাসীর (রহঃ)…… তালহা ইব্‌ন আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন আউফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (আবদুল্লাহ্) ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ)-এর পিছনে জানাযার সালাত (নামায) আদায় করলাম। তাতে তিনি সূরা ফাতিহা তিলওয়াত করলেন এবং (সালাত (নামায) শেষে) বললেন, (আমি এমন করলাম) যাতে সবাই জানতে পারে যে, তা (সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা) জানাযার সালাত (নামায) সুন্নাত (একটি পদ্ধতি)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৫৪

নভে. 112013
 

মুহাম্মদ ইবন সিনান (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আবসিনিয়ার বাদশাহ) আসহামা-নাজাশীর জানাজা সালাত (নামায) আদায় করলেন, তাতে তিনি চার তকবীর বললেন। ইয়াজীদ ইবন হারুন ও আবদুস সামাদ (রহঃ) সালীম (রহঃ) থেকে ‘আসহামা’ শব্দ বর্ণনা করেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৫৩

নভে. 112013
 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন ইউসুফ (রহঃ)………… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আবিসিনিয়ার বাদশা) নাজাশীর মৃত্যুর দিন তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানালেন এবং সাহাবীগণকে নিয়ে জানাযার সালাত (নামায)-এর স্থানে চার তাকবীর আদায় করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৫২

নভে. 112013
 

ইমরান ইব্‌ন মায়সারা (রহঃ)…… সামুরা ইব্‌ন জুন্‌দার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর পিছনে আমি এমন এক মহিলার জানাযার সালাত (নামায) আদায় করেছিলাম, যে নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি মাঝ বরাবর দাড়িয়ে ছিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৫১

নভে. 112013
 

মূসাদ্দাদ (রহঃ)……… সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর পিছনে আমি এমন এক মহিলার জানাযার সালাত (নামায) আদায় করেছিলাম, যে নিফাস অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি তার মাঝ বরাবর দাড়িয়ে ছিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৫০

নভে. 112013
 

ইয়াহ্‌ইয়া ইব্‌ন বুকাইর (রহঃ)………… আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আবিসিনিয়ার বাদশাহ্‌) নাজাশীর মৃত্যুর দিনই আমাদের তার মৃত্যু সংবাদ জানান এবং ইরশাদ করেন : তোমরা তোমাদের ভাই-এর(নাজাশীর) জন্য ইস্তিগফার কর। আর ইব্‌ন শিহাব সায়ীদ ইব্‌ন মূসা য়্যাব (রহঃ) সূত্রে আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিয়ে মূসাল্লায় কাতার করলেন, এরপর চার তাক্‌বীর আদায় করেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৪৭

নভে. 112013
 

ইয়াকূব ইব্‌ন ইব্‌রাহীম (রহঃ)……… ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি কবরের কাছে তাশরীফ আনেন। সাহাবাগণ বললেন, এক গতরাতে দাফন করা হয়েছে। ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর পিছনে কাতার করে দাড়ালাম। এরপর তিনি তার জানাযার সালাত (নামায) আদায় করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২৪৬