নভে. 112013
 

আবদান ও মুহাম্মদ (রহঃ)……… উসামা ইব্‌ন যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কন্যা (যায়নাব) তাঁর খিদমতে লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মুমূর্ষ অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাকে ) সালাম দিবে এবং বলবে : আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাঁর কাছে সব কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কাজেই সে যেন সবর করে এবং সাওয়াবের আশায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আসেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সা’দ ইব্‌ন উবাদা, মু’আয ইব্‌ন জাবাল, উবাই ইব্‌ন কা’ব, যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রাঃ) এবং আরও কয়েক জন। তখন শিশুটিকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে তুলে দেওয়া হল। তখন তার জানো ছঠফট করছিল। রাবী বলেন, আমার ধারনা যে, তিনি এ বলে ছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (আওয়াজ হচ্ছিল)। আর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দু’ চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা’দ (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ! একি? তিনি বললেন : এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ পাক তাঁর বান্দার অন্তরে আমানত রেখেছেন। আর আল্লাহ পাক তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২০৯

নভে. 052013
 

উমর যেন হাফস (রহঃ) জারীর ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যাক্তি (সৃষ্টির প্রতি) দয়া করে না, (স্রষ্টার পক্ষ থেকে) তার প্রতি দয়া করা হবে না

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৮৮

নভে. 052013
 

আবূ নুআয়ম (রাঃ) নুমান ইবন বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তুমি মু-মিনদের পারস্পরিক দয়া ভালবাসা ও সহানূভূতি প্রদর্শনে একটি দেহের ন্যায় দেখতে পাবে। যখন দেহের একটি অঙ্গ রোগে আক্রান্ত হয় তখন শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রাত জাগে এবং জ্বরে অংশ গ্রহণ করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৮৬

নভে. 052013
 

ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ একদা একব্যাক্তি পথে হেঁটে যাচ্ছিল। তার তীব্র পিপাসা লাগে। সে একটি কুপ পেয়ে যায়। সে তাতে অবতরণ করলো এবং পানি পান করলো, তারপরে উঠে এলো। হঠাৎ দেখলো একটি কুকুর হাপাচ্ছে। পিপাসায় কাতর হয়ে কাদা চাটছে। লোকটি ভাবলো এ কুকুরটি পিপাসায় সেরুপ কষ্ট পাচ্ছে যেরুপ কষ্ট আমার হয়েছিল। তখন সে কুপে অবতরণ করলো এবং তার মোজার মধ্যে পানি ভরলো, তারপর মুখদিয়ে তা (কামড়িয়ে) ধরে উপরে উঠে এলো। তাহাপর সে কুকুরটিকে পানি পান করালো। আল্লাহ তাকে এর প্রতিদান দিলেন এবং তাকে মাফ করে দিলেন। সাহাবীগন জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -জন্তুর জন্যও কি আমাদের পূরষ্কার আছে? তিনি বললেনঃ হ্যা। প্রত্যেক দয়ার্ত হৃদয়ের অধিকারীদের জন্য পূরস্কার আছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৮৪

নভে. 052013
 

হাকাম ইবন নাফি- (হা) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) -কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ রহমত একশ ভাগে ভাগ করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগ তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। আর একভাগ নাযিল করেছেন। ঐ একভাগের কারনেই সৃষ্ট জগত একে অন্যের উপর দয়া করে। এমনকি ঘোড়া তার বাচ্চার উপর থেকে পা তুলে নেয় এ ভয়ে যে, সে ব্যথা পাবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৭৪

নভে. 052013
 

ইবন আবূ মারইয়াম (রহঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী (সাঃ) -এর নিকট কিছু সংখ্যক বন্দী আসে। বন্দীদের মধ্যে একজন মহিলা ছিল। তার স্তন দূধে পূর্ন ছিল। সে বন্দীদের মধ্যে কোন শিশু পেলে তাকে ধরে কোলে নিত এবং দুধ পান করাত। নাবী (সাঃ) আমাদের বলেনঃ তোমরা কি মনে করো এ মহিলা তার সন্তানকে আগুনে ফেলে দিতে পারে? আমরা বললামঃ না। ফেলার ক্ষমতা রাখলে সে কখনো করবে না। তারপর তিনি বলেনঃ এ মহিলাটি তার সন্তানের উপর যতটুকু দয়ালু, আল্লাহ তার বান্দার উপর তদাপেক্ষা অধিক দয়ালু।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৫৭৩

নভে. 032013
 

কুতাইবা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ যখন সৃষ্টি কার্য সমাধা করলেন, তখন তিনি তাঁর কিতাব লাওহে মাহফুজে লিখেন, যা আরশের কাছে তাঁর উপর বিদ্যমান। নিশ্চই আমার করুণা আমার ক্রোধের চেয়ে প্রবল।

 

সহীহ বুখারি   অধ্যায়ঃ    সৃষ্টির সূচনা    হাদিস নাম্বারঃ   ২৯৬৭

অক্টো. 122013
 

আবদান (রহঃ) আবূ মুসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (সাঃ) বলেছেনঃ এমন কেউই নেই যে কষ্টদায়ক বিষয়ে কিছু শোনার পর, সে ব্যাপারে আল্লাহর চেয়ে অধিক সবর করতে পারে। লোকেরা আল্লাহ তা’আলার সন্তান আছে বলে দাবি করে, অথচ এর পরেও তিনি তাদেরকে শান্তিতে রাখেন এবং রিযিক দান করেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৭৪

অক্টো. 122013
 

আবূ নুমান (রহঃ) উসামা ইবন যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক সময় আমরা নবী (সাঃ) -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় নবী (সাঃ) এর কোন-এক কন্যার পক্ষ থেকে একজন সংবাদবাহক এসে তাকে জানাল যে, তার কন্যার পূত্রের মৃত্যুযন্ত্রনা আরম্ভ হয়েছে। নবী (সাঃ) সংবাদবাককে বলে দিলেন, তুমি ফিরে যাও এবং তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ যা নিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি যা দিয়ে রেখেছেন সবেরই তিনি মালিক। তার কাছে প্রতিটি জিনিসের মেয়াদ সুনির্ধারিত। সুতরাং তাকে গিয়ে সবর করতে এবং প্রতিদানের আশা রাখতে বল। নবী (সাঃ) -এর কন্যা পূনরায় সংবাদ বাহককে পাঠালেন। সে এসে বলল, আপনাকে তার কাছে যাওয়ার জন্য তিনি কসম দিয়ে বলেছেন। এরপর নবী (সাঃ) যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তাঁর সঙ্গে সাদ ইবন উবাদা (রাঃ), মু’আয ইবন জাবাল (রাঃ)-ও দাড়িয়ে গেলেন। এরপর শিশুটিকে নবী (সাঃ) -এর কাছে দেওয়া হল। তখন শিশুটির শাস এমনভাবে ক্ষীণ হয়ে আসছিল, যেন তা একটি মশকে রয়েছে। তখন নবী (সাঃ) -এর চোখ সিক্ত হয়ে গেল। সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ) (এটা কি?)তিনি বললেনঃ এটিই রহমৎ দয়ামায়া, যা আল্লাহতার বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। বস্তুত আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যাবা দয়ার আল্লাহ তাদের প্রতিই দয়া প্রদর্শন করে থাকেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৭৩

অক্টো. 122013
 

মুহাম্মদ (রহঃ) জারীর ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তার প্রতি দয়া দেখান না, যে মানুষের প্রতি দয়া দেখায় না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৮৭২