নভে. 222013
 

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ তা’আলার বাণী আয়াতাংশের মধ্যে হবে, না হবে? (যাল হরফে তাশদীদ সহ পড়তে হবে না তাশদীদ ব্যাতিত)? হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন, (এখানে নয়, হবে) কেননা, তাঁদের কাওম তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। (উরওয়াহ (রহঃ) বলেন) আমি বললাম, মহান আল্লাহর কসম, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তাঁদের কাওম তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে, আর তাতো সন্দেহের বিষয় ছিল না। (কাজেই, এখানে হবে কিভাবে?) তখন হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন, হে উরাইয়্যাহ্‌! এ ব্যাপারে তাদের তো দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। (অর্থাৎ এখানে তিনি -কে অর্থে নিয়েছেন।)(উরওয়াহ্‌ (রহঃ) বলেন) আমি বললাম, সম্ভবতঃ এখানে হবে। হযরত আয়িশা (রাঃ) বললেন, মাআযাল্লাহ্‌ (আল্লাহর পানাহ্‌), রসূলগণ কখনও আল্লাহ্ সম্পর্কে এরূপ ধারণা করতেন না। (অর্থাৎ হলে অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ পাক রসূলগণের সাথে মিথ্যা বলেছেন। অথচ রসূলগণ কখনো এরূপ ধারণা করতে পারে না।)তবে এ আয়াত সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তারা রসূলগণের অনুযায়ী যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন এবং রসূলগণের বিশ্বাস করেছেন। তাঁদের উপর আযমায়েশ (ঈমানের পরীক্ষা) দীর্ঘায়িত হয়। তাঁদের প্রতি সাহায্য পৌছতে বিলম্ব হয়। অবশেষে রসূলগণ যখন তাঁদের কাওমের লোকদের মধ্যে যারা তাদেরকে মিথ্যা মনে করেছে, তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলেন এবং তাঁরা এ ধারণা করতে লাগলেন যে তাঁদের অনুসারীগণও তাঁদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করবেন, ঠিক এ সময়ই মহান আল্লাহর সাহায্য পৌছে গেল। শব্দটি -এর ওযনে এসেছে। থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে নিরাশ হয়ে গেসে। এর অর্থ- তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৫১

নভে. 112013
 

আবূ নু’আইম (রহঃ) মুগীরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি যে, আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারো প্রতি মিথ্যা আরোপ করার মত নয়। যে ব্যাক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন অবশ্যই তার ঠিকানা জাহান্নামে করে নেয়। (মুগীরা (রাঃ) আরও বলেছেন, ) আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে আরও বলতে শুনেছি, যে (মৃত) ব্যাক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর আযাব দেওয়া হবে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জানাযা হাদিস নাম্বারঃ ১২১৪

নভে. 092013
 

আলী ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি কি তোমাদের নিকৃষ্ট কবীরা গুনাহের বর্ণনা দিব না? সকলে বললেনঃ হ্যা ইয়া রাসুলারাহ! তখন তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে , আল্লাহব সঙ্গে অন্য কোন কিছুকে শরীক করা এবং মা বাপের অবাধ্যতা। মূসাদ্দাদ বিশরের এক সুত্রে অনুরুপ হাদীস বর্ননা করেছেন। তাতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেলান দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ হুশিয়ার হয়ে যাও! আর (সবচেয়ে বড় গুনাহ হল মিথ্যা কথা বলা। এ কথাটা তিনি বারবার বলতে থাকলেন অবশেষে আমরা বললাম: হায়! তিনি যদি থেমে যেতেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অনুমতি চাওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৫৮৩৯

নভে. 082013
 

মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রহঃ) আবূ মূসা আশয়ারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমি ও আমাকে যা দিয়ে আল্লাহ পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হলো এমন ব্যাক্তির মত, যে তার কওমের কাছে এসে বললো, আমি স্ব-চক্ষে শত্রু সেনাদলকে দেখেছি আর আমি স্পষ্ট সতর্ককারী। সূতরাং তোমরা সত্বর আজ রক্ষার ব্যবস্হা কর। অতঃপর একদল তার কথায় সাড়া দিয়ে শেষ রজনীতে নিরাপদ গন্তব্যে পৌছে বেঁচে গেল। এদিকে আরেক দল তাকে মিথ্যারোপ করে, যদ্দরুন তাদেরকে ভোর বেলায় শত্রুসেনা এসে সমূলে নিপাত করে দিল।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০৩৮

নভে. 062013
 

মুসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বললেনঃ নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা আমার নামে নাম রাখ। কিন্তু আমার কুনিয়াতে কারো কুনিয়াত রেখো না। আর যে ব্যাক্তি স্বপ্নে আমাকে দেখেছে, সে অবশ্যই আমাকে দেখেছে। শয়তান আমার আাকৃতি ধারন করতে পারে না। আর যে ব্যাক্তি ইচ্ছা করে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামেই তার বাসস্থান করে নেয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৬৪

নভে. 052013
 

মুসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) সাহল ইবন জুনদুব (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ আমি আজ রাতে (স্বপ্নে)! দু-জন লোককে দেখলাম। তারা বললোঃ আপনি যে লোকটির গাল চিরে ফেলতে দেখলেন, সে বড় মিথ্যাবাদী। সে এমন মিথ্যা বলত যে দুনিয়ার (লোক) আনাচে কানাচে তা ছড়িয়ে দিত। ফলে, কিয়ামত পর্যন্ত তার সাথে এরুপ ব্যবহার হতে থাকবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৬৬

নভে. 052013
 

ইবন সালাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি: যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে, আর যখন সে ওয়াদা করে, তখন তা ভঙ্গ করে আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন সে তাতে খিয়ানত করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৬৫

নভে. 052013
 

উসমান ইবন আবূ শায়বা (রহঃ) আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ সত্য নেকীর দিকে পরিচালিত করে আর নেকী জান্নাতের নিকে পৌছায়। আর মানুষ সত্যের উপর প্রতিষ্টিত থেকে অবশেষে সিদ্দীক-এর দরজা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়। পাপ তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। আর মানূষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহামিথ্যাবাদী রুপে সাব্যস্ত হয়ে যায়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৬৪

নভে. 052013
 

আহমদ ইবন ইউনুস (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মিথ্যা কথা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা আর মুর্খতা পরিত্যাগ করলো না আল্লাহর নিকট (সিয়ামের নামে) তার পানাহার ত্যাগের কোন প্রয়োজন নেই।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৩১

অক্টো. 312013
 

ইসহাক ইবন মনসুর (রহঃ) ও আমর (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ কবীরা গুনাহ সমুহের মধ্যে সবচাইতে বড় গুনাহ হচ্ছে আল্লাহর সাথে শরীক করা, প্রান সংহার করা, পিতা-মাতার অবাধ্য- হওয়া আর মিথ্যা বলা, অথবা বলেছেনঃ মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ রক্তপন হাদিস নাম্বারঃ ৬৪০৫