নভে. 132013
 

হযরত আবদান (রহঃ) হযরত জাবির (রাঃ) সূত্রে বর্নিত, (আমার পিতা) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু হারাম (রাঃ) ঋনী অবস্থায় মারা যান। পাওনাদারেরা যেন তাঁর কিছু ঋন ছেড়ে দেয়, এজন্য আমি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে সাহায্য চাইলাম। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কাছে কিছু ঋন ছেড়ে দিতে বললে, তারা তা করলনা। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, যাও, তোমার প্রত্যেক ধরনের খেজুরকে আলাদা আলাদা কর রাখ। আজওয়া আলাদা এবং আযকা যায়দ আলাদা করে রাখ। পরে আমাকে খবর দিও। [জাবির (রাঃ) বলেন] আমি তা করে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে খবর দিলাম। তিঁনি এসে খেজুরের (স্তুপ এর) উপরে বা তার মাঝখানে বসলেন। তারপর বললেন, পাওনাদারদের মেপে দাও। আমি তাদের মেপে দিতে লাগলাম, এমনকি তাদের পাওনা পুরোপুরী দিয়ে দিলাম। আর আমার খেজুর এরুপ থেকে গেল, যেন এ থেকে কিছুই কমেনি। ফিরাস (রহঃ) শা’বী (রহঃ) সূত্রে হযরত জাবির (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের এ পর্যন্ত মেপে দিতে থাকলেন যে, তাদের ঋন পরিশোধ করে দিলেন। হিশাম (রহঃ) ওহাব (রহঃ) সূত্রে জাবির (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন গাছ থেকে খেজুর কেটে নাও এবং পুরোপুরী আদায় করে দাও।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯৯৪

নভে. 132013
 

হযরত হিশাম ইবনু আম্মার (রহঃ) হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, জনৈক ব্যাবসায়ী ঋন দিত। কোন অভাবগ্রস্থকে দেখলে সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে মাফ করে দাও, হয়তো মহান আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের মাফ করে দিবেন। এর ফলে মহান আল্লাহ্ তা’আলা তাকে মাফ করে দেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯৪৮

অক্টো. 292013
 

মুহাম্মদ ইবন সাবিক (রহঃ) কিংবা ফযল ইবন ইয়াকুব (রহঃ) মুহাম্মদ ইবন সাবিক (রহঃ) এর মাধ্যমে জাবির ইবন আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার পিতাকে উহুদের যুদ্ধে শহীদ করা হয়। তিনি ছ’টি কন্যা সন্তান রেখে যান আর তাঁর উপর ঋণও রেখে যান। খেজুর কাটার সময় হলে আমি রাসূল (সাঃ) – এর কাছে এসে বললাম, ‘ইয়া রাসূল (সাঃ)! আপনি জানেন যে, পাওনাদাররা আপনাকে দেখে নিক। (হয়ত এতে তারা কিছু ঋণ ছেড়ে দিতে পারে) রাসূলল্লাহ (সাঃ) বললেন তুমি যাও। (খেজুর কেটে) এক এক রকম খেজুর এক এক স্থানে জমা কর। আমি তা-ই করলাম। এরপর তাঁকে অনুরোধ করে নিয়ে এলাম। লোকেরা (পাওনাদারা) যখন দেখল, তখন তারা আমার কাছে জোর তাগাদা কারতে লাগল। তিনি তাদের এরুপ করতে দেখে খেজুরের বড় স্তূপটির চারদিকে তিনবার ঘুরলেন, এরপর তার উপর বসে পড়লেন। তারপর বললেন, তোমার পাওনাদারদের ডাক। তিনি মেপে মেপে তাদের পাওনা আদায় করতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমার পিতার সমস্ত ঋণ আদায় করে দিলেন। আর আল্লাহর কসম, আমি এতেই সন্তুষ্ট যে, আমার পিতার ঋণ আল্লাহ পরিশোধ করে দেন এবং আমি আমার বোনদের কাছে একটি খেজুরও নিয়ে না ফিরি। কিন্তু আল্লাহর কসম! সমস্ত স্তূপই যেমন ছিল তেমন রয়ে গেল। আমি সেই স্তূপটির দিকে বিশেষ ভাবে তাকিয়ে ছিলাম, যার উপর রাসূল (সাঃ) বসে ছিলেন। মনে হল যে, তা থেকে একটি খেজুরও কমেনি। আবূ আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, এর অর্থ হল অর্থাৎ আমার কাছে জোর তাগাদা করতে লাগল। মহান আল্লাহর বাণীঃ ‘‘আমি তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্ধেষ জাগরুক রেখেছি। ’’ (৫: ১৪)

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৯০

অক্টো. 282013
 

আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) কা‘ব ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল (সাঃ) -এর যমানায় একবার তিনি ইবন আবূ হাদরাদের কাছে মসজিদে পাওনা উণের তাগাদা করলেন এতে উবয়ের আওয়াজ চড়ে গেল। এমনকি রাসূল (সাঃ) তাঁর ঘর থেকেই আওয়াজ শুনতে পেলেন। তখন রাসূল (সাঃ) হুজরার পর্দা সরিয়ে তাদের কাছে এলেন আর কা‘ব ইবন মালিক (রাঃ)-কে ডাকলেন এবং বললেন, হে কা‘ব! কা‘ব (রাঃ) বললেন, আমি হাযির ইয়া রাসূরুল্লাহ! রাবী বলেন, তিনি হাতে ইশারা করলেন, অর্ধেক মওকুফ করে দাও। কা‘ব (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূল (সাঃ)! আমি তাই করলাম। তারপর রাসূল (সাঃ) )ইবনে আবূ হাদরাদকে) বললেন, ‘যাও, তার ঋণ পরিশোধ করে দাও। ’

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সন্ধি হাদিস নাম্বারঃ ২৫২৯

অক্টো. 282013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রাঃ)জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতার মৃত্যু হল, আর তার কিছু ঋণ ছিল। আমি তার উণের বিনিময়ে পাওনাদারদের খেজুর নেওয়ার প্রস্তাব দিলাম। তাতে ঋণ পরিশোধ হবে না বলে তারা তা নিতে অস্বীকার করল। আমি তখন নাবী (সাঃ) -এর কাছে এসে এ বিষয়ে তাঁর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, খেজুর পেড়ে মাছায় রেখে রাসূল (সাঃ) কে খবর দিও। (যথা সময়ে) তিনি এলেন এবং তাঁর সঙ্গে আবূ বকর ও উমর (রাঃ)-ও ছিলেন। তিনি কেজুর স্ত্তপের পার্শ্বে বসলেন এবং বরকতের দু‘আ করলেন। পরে বললেন, তোমার পাওনাদারদের ডাক এবং তাদের প্রাপ্য পরিশোধ করে দাও। তারপর আমার পিতার পাওণাদারদের কেউ এমন ছিল না যার ঋণ পরিশোধ করিনি। এরপরও (আমার কাছে) তার ওয়াসক খেজুর উদ্বৃত্ত রয়ে গেল। সাত ওয়াসক মিশ্র খেজুর আর ছয় ওয়াছক নিম্নমানের খেজুর কিংবা ছয় ওয়াসক মিশ্র ও সাত ওয়াসক নিম্নমানের খেজুর। তারপর আমি রাসূল (সাঃ) -এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত (নামায) আদায় করলাম এবং তাঁকে তা বললাম। তিনি হাসলেন এবং বললেন, আবূ বকর ও উমরের কাছে গিয়ে তা বল। ’ তাঁরা বললেন, ‘আমরা আগেই জানতাম যে, যখন রাসূল (সাঃ) যা করার তা করেছেন, তখন অবশ্য এরূপই হবে। ’ হিশাম (রহঃ) ওয়াহাব (রহঃ)-এর মাধ্যমে জাবির (রাঃ) থেকে (বর্ণনায়) আসরের সালাত (নামায)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি আবূ বকর (রাঃ) এবং রাসূল (সাঃ) -এর হাসার কথা উল্লেখ করেন নি। তিনি বর্ণনা করেছেন, (জাবির (রাঃ) বলেচেন) আমার পিতা তার যিম্মায় ত্রিশ ওয়াসক ঋণ রেখে মার গিয়েছেন। ইবন ইসহাক (রহঃ) ওয়াহাব (রহঃ)-এর মাধ্যমে জাবির (রাঃ) থেকে যোহরের সালাত (নামায)-এর কথা উল্লেখ করেছেন। ** এক ওয়াসক প্রায় ছয় মণ।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সন্ধি হাদিস নাম্বারঃ ২৫২৮

অক্টো. 282013
 

ইয়াহইয়া ইবন বুকাইর (রহঃ) কাব ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবন আবূ হায়দার আল-আসলামীর কাছে তার কিছু মাল পাওনা ছিল। রাবী বলেন, একবার সাক্ষাত পেয়ে তিনি তাকে ধরলেন, এমনকি তাদের আওয়াজ চড়ে গেল। নাবী (সাঃ) তাদের কাছে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি যেন হাতের ইশারায় বলছিলেন, অর্ধেক (নাও)। তারপর তিনি তার পাওনার অর্ধেক নিলেন আর অর্ধেক ছেড়ে (মাফ করে) দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সন্ধি হাদিস নাম্বারঃ ২৫২৫

অক্টো. 282013
 

ইসমাঈল ইবন আবী ওয়াইস (রহঃ)আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) একবার দরজায় বিবাদের আওয়াজ শুনতে পেলেন; দুজন তাদের আওয়াজ উচ্চ করছিল। একজন আরেকজনের কাছে ঋণের কিছু মাফ করে দেওয়ার এবং সহানুভূতি দেখানোর (কিছু সময় দেওয়ার) অনুরোধ করছিল। আর অপর ব্যাক্তি বলছিল, ‘না আল্লাহর কসম! আমি তা করব না। ’ রাসূল (সাঃ) বের হযে তাদের কাছে এলেন এবং বললেন, সৎ কাজ করবে না বলে যে আল্লাহর নামে কসম করেছে, সে লোকটি কোথায়? সে বলল, ‘ইয়া রাসূল (সাঃ)! আমি। সে যা চাইবে তার জন্য তা-ই হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সন্ধি হাদিস নাম্বারঃ ২৫২৪

অক্টো. 282013
 

খাল্লাদ ইব্‌ন ইয়াহ্‌ইয়া (রহঃ) জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) এর কাছে আসলাম। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। মিসআর (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেন, তা ছিল চাশতের ওয়াক্‌ত। তিনি বললেন, দু’রাকাআত সালাত (নামায) আদায় কর। তাঁর কাছে আমার কিছু ঋণ প্রাপ্য ছিল। তিনি বললেন, দু’রাকাআত সালাত (নামায) আদায় করলেন এবং পাওনার চাইতেও বেশী দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ঋন গ্রহন হাদিস নাম্বারঃ ২২৩৬

অক্টো. 282013
 

আবূ নুআঈম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) এর যিস্মায় একজন লোকের এক নির্দিষ্ট বয়সের উট ঋণ ছিল। লোকটি তাঁর নিকট সেটির তাগাদা করতে আসল। তিনি সাহাবীদের বললেন, তাকে একটি উট দিয়ে দাও। তাঁরা সে বয়সের উট তালাশ করলেন। কিন্তু তার চাইতে বেশী বয়সের উট ছাড়া পাওয়া গেলো না। তিনি বললেন, সেটি তাকে দিয়ে দাও। লোকটি বলল, আপনি আমাকে পূর্ণ হক দিয়েছেন, আল্লাহ আপনার পূর্ণ বদলা দিন। রাসূল (সাঃ) বললেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম লোক সেই, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ঋন গ্রহন হাদিস নাম্বারঃ ২২৩৫

অক্টো. 282013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, একজন লোক রাসূল (সাঃ) – এর নিকট তার (প্রাপ্য) উটের তাগাদা দিতে আসে। রাসূল (সাঃ) সাহাবীদের বললেন, তাকে একটি উট দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, তার চাইতে উত্তম বয়সের উটই পাচ্ছি। লোকটি বললো, আপনি আমাকে পূর্ণ হক দিয়েছেন, আল্লাহ আপনাকে যেন পূর্ণ হক দেন। রাসূল (সাঃ) বললেন, তাকে সেটি দিয়ে দাও। কেননা মানুষের মধ্যে সেই উত্তর, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ঋন গ্রহন হাদিস নাম্বারঃ ২২৩৪