নভে. 222013
 

আবূল ওয়ালিদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কোন বান্দার পক্ষেই এ কথা বলা শোভনীয় নয় যে, আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৭৬

নভে. 222013
 

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক ইয়াহূদী তার কিছু দ্রব্য সামগ্রী বিক্রির জন্য পেশ করছিল, তার বিনিময়ে তাঁকে এমন কিছু দেওয়া হল যা সে পছন্দ করল না। তখন সে বললো, না! সেই সত্তার কসম, যে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন। এ কথাটি একজন আনসারী (মুসলিম) শুনলেন, তুমি বলছো, সেই সত্তার কসম! যিনি মূসাকে মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করেছেন অথচ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে বিদ্যমান। তখন সে ইয়াহূদী লোকটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট গেলো এবং বললো, হে আবূল কাসিম। নিশ্চয়ই আমার জন্য নিরাপত্তা এবং আহাদ রয়েছে অর্থাৎ আমি একজন যিম্মি। অতএব অমুক ব্যাক্তির কি হল, কি কারণে সে আমার মুখে চড় মারলো? তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, কেন তুমি তার মুখে চড় মারলে? আনসারী ব্যাক্তি ঘটনাটি বর্ণনা করলো। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত হলেন। এমনকি তার চেহারায় টা প্রকাশ পেল। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণের মধ্যে কাউকে কারো উপর (অন্যকে হেয় করে) মর্যাদা দান করো না। কেননা কিয়ামতের দিন যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন আল্লাহ যাকে চাইবেন সে ব্যতিত আসমান ও যমীনের বাকী সবাই বেহুশ হয়ে যাবে। তারপর দ্বিতীয়বার তাতে ফুঁক দেওয়া হবে। তখন সর্বপ্রথম আমাকেই উঠানো হবে। তখনই আমি দেখতে পাব মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরশ ধরে রয়েছেন। আমি জানিনা, তূর পর্বতের ঘটনার দিন তিনি যে বেহুশ হয়েছিলেন, এটা কি তারই বিনিময়, না আমারই আগে তাঁকে উঠানো হয়েছে? আর আমি এ কথাও বলি না যে কোন ব্যাক্তি ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৭৫

নভে. 222013
 

হাফস ইবনু উমর (রহঃ) ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, কোন বান্দার জন্য এমন কথা বলা শোভনীয় নয় যে, নিশ্চয়ই আমি (মুহাম্মদ) ইউনুস ইবনু মাত্তা থেকে উত্তম। আর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে (ইউনুসকে) তাঁর পিতার দিকে সম্পর্কিত করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৭৪

নভে. 222013
 

মূসা’দ্দাদ (রহঃ) এবং আবূ নু‘আঈম (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে যে, আমি (মুহাম্মদ )ইউনুস আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উত্তম। মূসা’দ্দাদ (রহঃ) বাড়িয়ে বললেন, ইউনুস ইবনু মাত্তা।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৭৩

নভে. 222013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এলজন মুসলিম আর একজন ইয়াহূদী পরস্পরকে গালি দিল। মুসলিম ব্যাক্তি বললেন, সেই সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মদ –কে সমগ্র জগতের উপর মনোনীত করেছেন। কসম করার তিনি একথাটি বলেছেন। তখন ইয়াহূদী লোকটিও বলল, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে সমগ্র জাগতের উপর মনোনীত করেছেন। তখন সেই মুসলিম সাহাবী সে সময় তার হাত উঠিয়ে ইয়াহূদী লোকটিকে একটি চড় মারলেন। তখন সে ইয়াহূদী নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট গেল এবং ঐ ঘটনাটি অবহিত করলো জা তার ও মুসলিম সাহাবীর মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা আমাকে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর উপর উপর মর্যাদা দেখাতে যেওনা (কেননা কিয়ামতের দিন) সকল মানুষ বেহুশ হয়ে যাবে। আর আমিই সর্বপ্রথম হুশ ফিরে পাব। তখনই আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখব, তিনি আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন। আমি জানিনা, যারা বেহুশ হয়েছিল, তিনিও কি তাদের মধ্যে ছিলেন? তারপর আমার আগে তাঁর হুশ এসে গেসে? অথবা তিনি তাদেরই একজন, যাঁদেরকে আল্লাহ বেহুশ হওয়া থেকে বাদ দিয়েছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৬৯

নভে. 122013
 

ইয়াহইয়া ইবন কাযাআ ও ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা একজন মুসলমান ও একজন ইহুদি পরম্পর গালমন্দ করল। মুসলিম ব্যাক্তিটি বলল, সে মহান সত্তার কসম! যিনি জগতসমূহের ওপর মুহাম্মাদ -কে মনোনীত করেছেন। এরপর ইহিদীটিও বলল- সে মহান সত্তার কসম! যিনি জগতসমুহের ওপর মূসা (আঃ)-কে মনোনীত করেছেন। এরপরই মুসলিম লোকটি হাত উঠিয়ে ইছদীকে চপেটাঘাত করল। এই প্রেক্ষিতে ইহুদী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে গেল এবং তার ও মুসলিম ব্যাক্তির মধ্যে যা ঘটেছে তা জানাল। তারপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা আমাকে মূসার উপর প্রাধান্য দিও না। কেননা, সব মানুষ (শিঙ্গায় ফূৎকারে) বেহুশ হয়ে যাবে। তখন সর্ব প্রথম আমি হুশ ফিরে পাব। পেয়েই দেখব, মূসা (আঃ) আরশের একপাশ ধরে আছেন। অতএব আমি জানিনা, তিনি কি বেহুশ হয়ে আমার আগেই হুশ ফিরে পেয়ে গেলেন, নাকি তিনি তাঁদের অন্তভুক্ত, যাদেরকে আল্লাহ বেহুশ হওয়া থেকে মুক্ত রেখেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৬৯৬৪

নভে. 082013
 

আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দু-ব্যাক্তি পরস্পরে গালাগালি করল। একজন মুসলমান, অপরজন ইহুদী। মুসলমান বলল, শপথ ঐ মহান সত্তার, যিনি মুহাম্মাদ -কে জগতবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। ইহুদী বলল, শপথ ঐ মহান সত্তার, যিনি মূসা (আঃ)-কে জগতবাসীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। রাবী বলেনঃ এতে মুসলমান রাগাম্বিত হয়ে গেল এবং ইহুদীর মুখমণ্ডলে একটি চপেটাঘাত করে বসল। এরপর ইহুদী রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে গিয়ে তার মাঝে এবং মুসলমানের মাঝে যা ঘটেছিল এ সম্পর্কে তাকে অবহিত করল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)-এর ওপর প্রাধান্য দিও না। কেননা কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ বেহুশ হয়ে যাবে, আর আমিই হব সেই ব্যাক্তি যে সর্বপ্রথম হুশে আসব। হুশ হয়েই আমি দেখতে পাব যে মূসা (আঃ) আরশে আযীমের কিনারা ধরে আছেন। আমি জানিনা মূসা (আঃ) কি সেই লোক যিনি বেহুশ হবেন আর আমার পূর্বেই প্রকৃতিস্থ হয়ে যাবেন। নাকি তিনি সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন যাদেরকে আল্লাহ তাঁআলা বেহুশ হয়ে যাওয়া থেকে সতন্ত্র রেখেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০৭৩

নভে. 082013
 

ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (রহঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সহধর্মিনা আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্থাবস্হায় প্রায়ই এ কথা বলতেন যে, কোন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রই (জানো) কবয করা হয় না, যতক্ষন পর্যন্ত তাকে তাঁর জান্নাতের ঠিকানা না দেখানো হয়, আর তাকে (জীবন অথবা মৃত্যুর) অধিকার না দেওয়া হয়। সূতরাং যখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মৃত্যু কাল ঘনিয়ে এলো, এ সময় তার মাথা আমার রানের উপর ছিল, তখন কিছুক্ষণের জন্য তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ঁলেন। বেহুশ থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি তাঁর চোখ উপরের দিকে তুলে ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ “আল্লাহুম্মার রাফীকালআলা”- (অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ! আমি আমার পরম বন্ধুর সান্নিধ্যই পছন্দ করলাম)। আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, তখনই আমি (মনে মনে) বললাম যে, তিনি এখন আর আমাদেরকে পছন্দ করবেন না। আর আমি বুঝতে পারলাম যে, এটাই হতে সেই হাদীসের মর্ম, যা তিনি ইতিপূর্বে প্রায়ই বর্ণনা করতেন এবং এটাই ছিল তার শেষ কথা, যা তিনি বলেছেনঃ আমি আমার পরম বন্ধুর সান্নিধ্যই পছন্দ করলাম।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ কোমল হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ৬০৬৫

নভে. 062013
 

ইবন নুমায়র (রহঃ) ইসমাঈল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন আবূ আওফা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি নাবী (সাঃ) -এর পূত্র ইবরাহীম (রাঃ) কে দেখেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি তো ছোট বেলায়ই মারা গিয়েছেন। যদি নাবী (সাঃ) -এর পরে কোন নাবী (সাঃ) হওয়ার বিধান থাকত তবে তার পূত্র বেঁচে থাকতেন। কিন্ত তার পরে কোন নাবী (সাঃ) হবেন না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৭৬১

নভে. 052013
 

আদাম (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তি ঈমানের স্বাদ পাবে না, যতক্ষন না সে কোন মানুষকে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসবে, আর যতক্ষণ না সে যে কুফরী থেকে আল্লাহ তাকে উদ্ধার করেছেন, তার দিকে ফিরে যাওয়ার চাইতে আগুন নিক্ষিপ্ত হওয়াকে সর্যাধিক প্রিয় মনে করবে এবং যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসুল তার কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হবেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬১৫