নভে. 222013
 

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত ওহোদ পাহাড় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর দৃষ্টিগোচর হল। তিনি বললেন, এ পাহাড় আমাদের ভালবাসে আর আমরাও তাকে ভালবাসি। হে আল্লাহ! ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কাকে হরম ঘোষণা করছে আর আমি হরম ঘোষণা করছি এ পাহাড়ের উভয় পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানকে (মদিনাকে)। এ হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)-ও নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১২৮

নভে. 212013
 

‘উবায়দ ইবনু ইসমাইল (রহঃ) ’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় শুভাগ্মন করলে আবূ বকর ও বিলাল (রাঃ) জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আবূ বাকর (রাঃ) জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লে তিনি এ কবিতা অংশটি আবৃত্তি করতেনঃ ‘’প্রত্যেক ব্যাক্তিই তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ মৃত্যু তাঁর জূতার ফিতা চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। আর বিলাল (রাঃ) জ্বর উপশম হলে উচ্চস্বরে এ কবিতা অংশ আবৃত্তি করতেনঃ ‘’হায় , আমি যদি মক্কার প্রান্তরে একটি রাত কাটাতে পারতাম এমনভাবে যে, আমার চারদিকে থাকবে ইযখির এবং জালীল নামক ঘাস। মাজানো্না নামক ঝর্নার পানি কোন দিন পান করার সুযোগ পাব কি? শামা এবং তাফীল পাহাড় আবার প্রকাশিত হবে কি? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি শায়বা ইবনু রাবী’আ, ‘উতবা ইবনু রাবী’আ এবং উমায়্যা ইবনু খালফের প্রতি লা’নত বর্ষন কর; যেমনি ভাবে তাঁরা আমাদেরকে আমাদের মাতৃভূমি থেকে বের করে মহামারির দেশে ঠেলে দিয়েছে। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দু’আ করলেনঃ হে আল্লাহ! মদিনাকে আমাদের নিকট প্রিয় বানিয়ে দাও যেমন মক্কা আমাদের নিকট প্রিয় বা এর চেয়ে বেশী। হে আল্লাহ! আমাদের সা’ ও মুদে বরকত দান কর এবং মদিনাকে আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর বানিয়ে দাও। স্থানান্তরিত করে দাও জুহফাতে এর জ্বরের প্রকোপ বা মহামারীকে। ‘আয়িশা (রহঃ) বলেন, আমরা যখন মদিনা এসেছিলাম তখন তা ছিল আল্লাহর যমীনে সর্বাপেক্ষা অধিক মহামারীর স্থান। তিনি আরো বলেন, সে সময় মদিনায় বুথান নামক একটি ঝর্না ছিল যার থেকে বিকৃত বর্ণ বিকৃত স্বাদের পানি প্রবাহিত হত।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬৮

নভে. 212013
 

মূসা’দ্দাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমার ঘর ও মম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি হল জান্নাতের বাগানের একটি বাগান, আর আমার মিম্বরটি হল আমার হাউযের উপর অবস্থিত।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬৭

নভে. 212013
 

ইবনু সালাম (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, বনূ সালিমা গোত্রের লোকেরা মসজিদের নববীর নিকটে চলে যাওয়ার সংকল্প করল। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনাকে জনশূন্য করা অপছন্দ করলেন, তাই তিনি বললেন হে বনূ সালিমা! মসজিদে নববীর দিকে তোমাদের হাটার সওয়াব কি তোমরা হিসাব কর না? এরপর তাঁরা সেখানেই রয়ে গেল।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬৬

নভে. 212013
 

কুতায়বা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফর থেকে ফিরে আসার পথে যখন তিনি মদিনার প্রাচীর গুলোর দিকে তাকাতেন, তখন তিনি তাঁর উটকে দ্রুত চালাতেন আর তিনি অন্য কোন জন্তুর উপর থাকলে তাকেও দ্রুত চালিত করতেন, মদিনার ভালবাসার কারনে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬৫

নভে. 212013
 

সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে উহুদ যুদ্ধে যাতেয়া অরে তাঁর কতিপয় সাথী ফিরে আসলে একদল লোক বলতে লাগল, আমরা তাদেরকে হত্যা করব, আর অন্য দলটি বলতে লাগল, আনা, আমরা তাদেরকে হত্যা করব না। এ সময়ই (তোমাদের কি হল, তোমরা মুনাফিকদের সম্পর্কে দু’দল হয়ে পড়েছ?) আয়াতটি নাযিল হয়। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ মদিনা লোকদেরকে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে আগুন লোহার মরিচাকে দূর করে দেয়।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬৩

নভে. 212013
 

‘আমর ইবনু ‘আব্বাস (রহঃ) জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, একজন বেদুঈন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে ইসলামের উপর বায়’আত গ্রহন করলো। পরদিন সে জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে বলল , আমার (বাইয়’আত) ফিরিয়ে নিন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা প্রত্যাখান করলেন। এভাবে তিনবার হল। তারপর বললেনঃ মদিনা কামারের হাফরের মত, যা তাঁর আবর্জনা ও মরিচাকে দূরীভুত করে এবং খাঁটি ও নির্ভেজালকে পরিচ্ছন্ন করে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬২

নভে. 212013
 

ইবরাহীম ইবনু মুনযীর (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মক্কা ও মদিনা ব্যতীত এমন কোন শহর নেই যেখানে দাজ্জাল অনুপ্রবেশ করবে না। মক্কা এবং মদিনার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথেই ফিরিশতা গন সারিবদ্ধ ভাবে পাহারায় নিয়জিত থাকবে। এরপর মদিনা তাঁর অধিবাসীদেরকে তিন বার কেপে উঠবে। এভাবেই আল্লাহ তা’আলা সমস্ত কাফির এবং মুনাফিকদেরকে বের করে দেবেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬১

নভে. 212013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আবূ সা’ইদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সামনে দাজ্জাল সম্পর্কে এক দীর্ঘ হাদীস বর্ননা করেছেন। বর্নিত কথা সমূহের মাঝে তিনি এ কথাও বলেছিলেন যে, মদিনায় প্রবেশ পথে অনুপ্রবেশ অরা দাজ্জালের জন্য হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই সে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মদিনার নিকতবর্তী কোন একটি লোনা জমিতে অবতরন করবে। তখন তাঁর নিকট এক ব্যাক্তি যাবে যে উত্তম ব্যাক্তি হবে বা উত্তম মানুষের একজন হবে এবং সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমিই হলে সে দাজ্জাল যার সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের অবহিত করেছেন। দাজ্জাল বলবে, আমি যদি তাঁকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করি তাহলেও কি তোমরা আমার ব্যাপারে সন্দেহ করবে? তাঁরা বলবে, না। এরপর দাজ্জাল লোকটিকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করবে। জীবিত হয়েই লোকটি বলবে আল্লাহর শপথ! আজকের চেয়ে অধিক প্রত্যয় আমার আর কখনো ছিলনা। তারপর দাজ্জাল বলবে , আমি লোকটিকে হত্যা করে ফেলব। কিন্তু সে লোকটিকে আর হত্যা করতে সক্ষম হবে না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৬০

নভে. 212013
 

‘আব্দুল ‘আযীয ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্নিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মদিনার প্রবেশ পথসমূহে ফিরিশতা প্রহরায় নিয়োজিত থাকবে। তাই প্লেগ এবং দাজ্জাল মদিনায় প্রবেশ কতে পারবে না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭৫৯