অক্টো. 292013
 

বিশর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) -কে বলতে শুনেছি তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্ববান এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই শ্বাসক হলেন দায়িত্ববান, তার দায়িত্ব সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্ববান এবং তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের সম্পদের দায়িত্ববান, তার সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। গোলাম তার মালিকের ধন-সম্পদের দায়িত্ববান, তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেন যে, পুত্র তার পিতার সম্পদের দায়িত্ববান।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ অসিয়াত হাদিস নাম্বারঃ ২৫৬৪

অক্টো. 252013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) । আবূ হুমায়দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এক ব্যাক্তিকে রাজস্ব আদায়কারী নিযুক্ত করে পাঠালেন। সে কাজ শেষ করে তাঁর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! এটা আপনার জন্য আর এ জিনিসটি আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বললেনঃ তুমি তোমার মা-বাবার ঘরে বসে রইলে না কেন? তা হলে তোমার জন্য হাদিয়া পাঠাত কি না তা দেখতে পেতে? এরপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এশার ওয়াক্তের সালাত (নামায) দাড়িয়ে গেলেন এবং তাশাহুদ পাঠ করলেন ও আল্লাহ তা আলার যথোপযুক্ত প্রসংসা করলেন। এরপর বললেনঃ রাজস্ব আদায়কারীর অথবা কি হল? আমি তাকে নিযুক্ত করে পাঠালাম আর সে আমাদের কাছে এসে বলছে, এটা সরকারী রাজস্ব আর এ জিনিস আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। সে তার বাবা-মার ঘরে বসে রইল না কেন? তা হলে দেখত তার জন্য হাদিয়া দেওয়া হয় কি না? ঐ মহান সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদ -এর প্রাণ, তোমাদের মাঝে কেউ যদি কোন বস্তুতে সামান্যতম খিয়ানত করে, তা হলে কিয়ামতের দিন সে ঐ বস্তুটিকে তার কাঁধে বহন করা অবস্হায় আসবে। সে। বস্তুটি যদি উট হয় তা হলে উট আওয়াজ করতে থাকবে। যদি গরু হয় তবে হারা হারা করতে থাকবে। আর যদি বকরী হয় তরে বকরী আওয়াজ করতে থাকবে। আমি পৌছিয়ে দিলাম। রাবী আবূ হুমায়দ বলেনঃ এরপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তার হস্ত মুবারক এতটূকু উত্তোলন করলেন যে, আমরা তার দু-কালের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। আবূ হুমায়দ বলেনঃ এ কথাগুলো যায়িদ ইবন সাবিতও আমার সঙ্গে শুনেছে নাবী (সাঃ) থেকে। সুতরাং তোমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পার।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত হাদিস নাম্বারঃ ৬১৮১

অক্টো. 192013
 

আলী ইব্‌ন মাদানী (রহঃ) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন এক সময় রাসূল (সাঃ) এর জনৈকা বিবির কাছে ছিলেন। ঐ সময় উম্মুহাতুল মু’মিনীনের আর একজন একটি পাত্রে কিছু খাদ্য পাঠালেন। যে বিবির ঘরে নাবী (সাঃ) অবস্থান করছিলেন সে বিবির খাদেমের হাতে আঘাত করলেন। ফলে খাদ্যের পাত্রটি পড়ে ভেঙ্গে গেল। নাবী (সাঃ) পাত্রের ভাঙ্গা টুকরোগুলো কুড়িয়ে একত্রিত করলেন, তারপর খাদ্যগুলো কুড়িয়ে তাতে রাখলেন এবং বললেন, তোমাদের আম্মাজীর আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লেগেছে। তারপর তিনি খাদেমকে অপেক্ষা করতে বললেন এবং যে বিবির কাছে ছিলেন তাঁর কাছ থেকে একটি পাত্র নিয়ে যার পাত্র ভেঙ্গেছিল, তাকে পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন এবং ভাঙ্গা পাত্রটি যে ভেঙ্গেছিল তার কাছেই রাখলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বিয়ে-শাদী হাদিস নাম্বারঃ ৪৮৪৫

অক্টো. 182013
 

আবদান (রহঃ) হযরত ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। আমীর রক্ষক, একজন ব্যাক্তি তার পরিবারের লোকদের রক্ষক, একজন নারী তার স্বামীর গৃহের ও সন্তানদের রক্ষক। এ ব্যাপারে তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক, আর তোমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ অধীনস্ত লোকদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বিয়ে-শাদী হাদিস নাম্বারঃ ৪৮২১

অক্টো. 182013
 

আবূ নু’মান (রহঃ) হযরত আবদুল্লাহ ইব’ন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জি জ্ঞাসিত হবে। একজন শ্বাসক সে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন স্ত্রী তার স্বামীর গৃহের রক্ষক, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন গোলাম তার মনিবের সম্পদের রক্ষক, সে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব সাবধান, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমরা প্রত্যেকেই জিজ্ঞাসিত হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বিয়ে-শাদী হাদিস নাম্বারঃ ৪৮০৯

অক্টো. 132013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং নিজ অধীনস্তদের বিষয় সে জিজ্ঞাসিত হবে। ইমাম (শাসক) একজন দায়িত্বশীল। কাজেই আপন অধীনস্তদের বিষয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার অধীনস্তদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে, আর খাদিম তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী, কাজেই সে তার দায়িত্বাধীন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। (আবদুল্লাহ ইবন উমর রা ) বলেন, আমি নবী (সাঃ) থেকে এদের সম্পর্কে (নিশ্চিতভাবেই) শুনেচি। তবে আমার ধারণা; নবী (সাঃ) আরো বলেছেন, আর সন্তান তার পিতার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই তার দায়িত্বাদ্বীন বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। মোটকথা তোমাদের প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ গোলাম আযাদ করা হাদিস নাম্বারঃ ২৩৮৯

অক্টো. 132013
 

মুসাদ্দদ (রহঃ) আবদুল্লাহ (ইবন উমর রা ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্তদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। যেমন- জনগণের শাসক তাদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবার পরিজনদের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী স্বামীর ঘরের এবং তার সন্তানের দায়িত্বশীল, কাজেই সে তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। আর গোলাম আপন মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। কাজেই সে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। শোন! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। কাজেই প্রত্যেকেই আপন অধীনস্তদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ গোলাম আযাদ করা হাদিস নাম্বারঃ ২৩৮৬

অক্টো. 122013
 

বিশর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)—- ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি , তোমরা সকলেই রক্ষনাবেক্ষণকারী। লাইস (ইবন সা’দ (রাঃ) আরো অতিরিক্ত বলেন, (পরবর্তী রাবী) ইউনুস (রহঃ) বলেছেন, আমি একদিন ইবন শিহাব (রহঃ)-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা নামক স্থানে ছিলাম। তখন রুযাইক (ইবন হুকায়ম (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-এর নিকট লিখলেন, আপনি কি মনে করেন, আমি কি (এখানে) জুমু’আর সালাত (নামায) আদায় করব? রুযাইক (রহঃ) তখন সেখানে তাঁর জমির কৃষি কাজের তত্ত্বাবধান করতেন। সেখানে একদল সুদানী ও অন্যান্য লোক বাস করত। রুযাইক (রহঃ) সে সময় আইলা শহরের (আমীর) ছিলেন। ইবন শিহাব (রহঃ) তাঁকে জুমু’আ কায়িম করার নির্দেশ দিয়ে লিখেছিলেন এবং আমি তাঁকে এ নির্দেশ দিতে শুনলাম। সালিম (রহঃ) তার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, তোমরা সকলেই রক্ষনাবেক্ষণকারী এবং তোমাদের প্রত্যেককেই অধীনস্থদের (দায়িত্ব) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইমাম** একজন দায়িত্বশীল ব্যাক্তি, তাঁকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুস তার পরিবার বর্গের অভিভাবক, তাকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। নারী তার স্বামীগৃহের কর্ত্রী , তাকে তাঁর অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। খাদেম তার মনিবের ধন-সম্পদের রক্ষক, তাকেও তার মনিবের ধন-সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইবন উমর (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয়, রাসূল (সাঃ) আরো বলেছেনঃ পুত্র তার পিতার ধন-সম্পদের রক্ষক এবং এগুলো সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। তোমরা সবাই রক্ষনাবেক্ষণকারী এবং সবাইকেই তাদের অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।

**‘ইমাম’ শব্দ বলতে রাষ্ট্রের কর্ণধার, যে কোন কাজের তত্ত্বাবধায়ক, ব্যবস্থাপক ও সালাত (নামায)-এর ইমাম অর্থে ব্যবহৃত হয়।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জুমু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৮৪৯