নভে. 222013
 

ইব্‌রাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহবিশিষ্ট ব্যাক্তি, তাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যেন ইয়ামান দেশীয় শানুআ গোত্রের একজন লোক, আর আমি ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেয়েছি। তিনি হলেন মাধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রং ছিল লাল। যেন তিনি এইমাত্র হাম্মাম থেকে বের হলেন। আর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর বংশধরদের মধ্যে তাঁর সাথে আমার চেহারায় মিল সবচেয়ে বেশী। তারপর আমার সামনে দু’টি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বোল্লেণ, এ দু’টির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি ফিত্‌রাত বা স্বভাব ও প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৫৬

নভে. 222013
 

হুদবা ইবনু খালিদ (রহঃ) মালিক ইবনু সা‘সাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিরাজ রাত্রির ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁদের কাছে এও বলেন, তিনি যখন পঞ্চম আকাশে এসে পৌছলেন, তখন হঠাৎ সেখানে হারূন আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাথে সাক্ষাৎ হল। জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ইনি হলেন, হারূন আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সালাম করুন। তখন আমি তাঁকে সালাম বললাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, মারহাবা পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) । সাবিত এবং আব্বাদ ইবনু আবূ আলী (রহঃ) আনাস (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনায় কাতাদা (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১৫৫

নভে. 212013
 

আবদান ও আহমাদ ইবনু সালিহ (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, (লাইলাতুল মি’রাজে) আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। তারপর জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবতরণ করলেন এবং আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। এরপর তিনি যমযমের পানি দ্বারা তা ধুইলেন। এরপর হিক্‌মত ও ঈমান (জ্ঞান ও বিশ্বাস) দ্বারা পরিপূর্ণ একখানা সোনার তশ্‌তরী নিয়ে আসেন এবং তা আমার বক্ষে দেলে দিলেন। তারপর আমার বক্ষকে পূর্বের ন্যায় মিলিয়ে দিলেন। এবার তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে আকাশের দিকে উঠিয়ে নিলেন। এরপর যখন দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে। পৌছলেন, তখন জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে? জবাব দিলেন, আমি জিব্‌রাঈল। দ্বাররক্ষী বললেন, আপনার সাথে কি আর কেউ আছেন? তিনি বললেন, আমার সাথে মুহাম্মদ আছেন। দ্বাররক্ষী জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? বললেন, হাঁ। তারপর দরজা খোলা হল। যখন আমরা আকাশের উপরে আহোরণ করলাম, হঠাৎ দেখলাম এক ব্যাক্তি যার ডানে একদল লোক আর তাঁর বামেও একদল লোক। যখন তিনি তাঁর ডান দিকে তাকান তখন হাসতে থাকেন আর যখন তাঁর বাম দিকে তাকান তখন কাঁদতে থাকেন। (তিনি আমাকে দেখে) বললেন, মারাহাবা! হে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিব্‌রাঈল! ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর তাঁর ডানের ও বামের এ লোকগুলো হল তাঁর সন্তান (আত্মাসমূহ) এদের মধ্যে ডানদিকের লোকগুলো হল জান্নাতী আর বামদিকের লোকগুলো হল জাহান্নামী। অতএব যখন তিনি ডান দিকে তাখান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁধেন। এরপর আমাকে নিয়ে জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলাইহি ওয়াসাল্লামরও উপরে উঠলেন। এমনকি দ্বিতীয় আকাশের দ্বারে এসে গেলেন। তখন তিনি এ আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন! দ্বাররক্ষী তাঁকে প্রথম আকাশের দ্বাররক্ষী যেরূপ বলেছিল, অনুরূপ বলল। তারপর তিনি দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, এরপর আবূ যার (রাঃ) উল্লেখ করেছেন যে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আকাশসমূহে ইদ্‌রীস, মূসা , ঈসা এবং ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তাঁদের কার অবস্তান কোন আকাশে তিনি আমার কাছে তা বর্ণনা করেন নি। তবে তিনি এটা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুনিয়ার নিকটর্তী আকাশে আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে এবং ষষ্ঠ আকাশে ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পেয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সহ) ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, তখন তিনি (ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেচিলেন, হে নেক নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং নেক ভাই! আপনাকে মারহাবা। (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল) জবাব দিলেন, ইনি ইদ্‌রীস আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এরপর মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, ইনি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)জবাব দিলেন, ইনি ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতঃপর ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললাম, মারহাবা। হে নেক নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং নেক সন্তান! আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? তিনি (জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, ইনি ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে ইবনু হাযম (রহঃ) জানিয়েছেন যে, ইবনু আব্বাস ও আবূ হাইয়্যা আনসারী (রাঃ) বলতেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এরপর জিব্‌রাঈল আমাকে উর্ব্ধে নিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত আমি একটা সমতল স্থানে গিয়ে পৌছলাম। সেখান থেকে কলমসমুহের খসখস শব্দ শুনছিলাম। ইবনু হাযম (রহঃ) এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তখন আল্লাহ আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায) ফরয করেছেন। এরপর আমি এ নির্দেশ নিয়ে ফিরে চললাম। যখন মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার রব আপনার উম্মতের উপর কি ফরয করেছেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায) ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন, পুনরায় আপনার রবের কাছে ফিরে যান (এবং তা কমাবার জন্য আবেদন করুন।)কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ্য থাকবে না। তখন ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার জন্য করলাম। তিনি তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি বললেন, আপনার রবের কাছে পুনরায় কমাবার আবেদন করুন এবং তিনি (নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) )পূর্বের অনুরূপ কথা এবার উল্লেখ করলেন। এবার তিনি (আল্লাহ) তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। এবার আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে আসলাম এবং তিনি পূর্বের মত বললেন। আমি তা করলাম। তখন আল্লাহ তার এক অংশ মাফ করে দিলেন। আমি পুনরায় মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে আসলাম এবং তাঁকে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট গিয়ে আরো কমাবার আরয করুন। কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ্য থাকবে না। আমি আবার ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার আবেদন করলাম। তিনি বললেন, এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (নামায) বাকী রইল। আর তা সাওয়াবের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায)-এর সমান হবে। আমার কথার পরিবর্তন হয় না। তারপর আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি এবারও বললেন, আপনার রবের কাছে গিয়ে আবেদন করুন। আমি বললাম, এবার আমার রবের সম্মুখীন হতে আমি লজ্জাবোধ করছি। এরপর জিব্‌রাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম চললেন এবং অবশেষে আমাকে সাথে করে সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। দেখলাম তা এমন অনুরূপ রঙে পরিপূর্ণ, যা বর্ণনা করার আমার ক্ষমতা আমার নেই। এরপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হল। দেখলাম এর ইট হচ্ছে মোতির তৈরি আর তার মাটি মিস্‌ক বা কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধযুক্ত।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১০৬

নভে. 122013
 

আবদুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ (রহঃ) আনাস ইবনু সালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত! তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এক রাতে কাবার মসজিদ থেকে সফর করানো হল। বিবরণটি হচ্ছে, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে এ বিষয়ে ওহী প্রেরণের পুর্বে তার কাছে তিনজন ফেরেশতার একটি জামাআতে আসল ) অথচ তখন তিনি মসজিদুল হারামে ঘুমন্ত ছিলেন। এদের প্রথমজন বলল, -তিনি কে? মধ্যের জন বলল, তিনি এদের উত্তম ব্যাক্তি। সর্বশেষ জন বলল, তা হলে তাদের উত্তম ব্যাক্তিকেই নিয়ে চল। সে রাতটির ঘটনা এটুকুই। এ জন্য তিনি আর তাদেরকে দেখেননি। অবশেষে তারা অন্য এক রাতে আগমন করলেন যা তিনি অন্তর দ্বারা দেখছিলেন। তার চোখ ঘূমন্ত, অন্তর ঘূমায় না। অনুরুপ অন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গনেরও চোখ ঘুমিয়ে থাকে, অন্তর ঘুমায় না। এ রাতে তারা তার সাথে কোন কথা না বলে তাকে উঠিয়ে নিয়ে যমযম কুপের কাছে রাখলেন। জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সাথীদের থেকে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার গলার নিচ হতে বক্ষস্থল পর্যন্ত ছেদন করলেন এবং তার বক্ষ ও পেট থেকে সবকিছু নেড়েচেড়ে যমযমের পানি দ্বারা নিজ হাতে ধৌত করেন। সেগুলোকে পরিছন্ন করলেন, তারপর সেখানে একটি তশতরী আনা হয়। এবং তাতে ছিল একটি সোনার পাত্র যা পরিপূর্ণ ছিল ঈমান ও হিকমতে। তাঁর বক্ষ ও গলার রগগুলি এর দ্বারা পূর্ন করলেন। তারপর সেগুলো যখাস্থানে স্হাপন করে বন্ধ করে দিলেন। তারপর তাঁকে নিয়ে ফিরে আসমানের দিকে আরোহণ করলেন। আসমানের দরজাগুলো হতে একটি দরজাতে নাড়া দিলেন। ফলে আসমানবাসিগণ তাকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে? তিনি উত্তরে বললেনঃ জিবরাঈল। তারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেনঃ আমার সঙ্গে মুহাম্মাদ। জিজ্ঞাসা করলেন, তার কাছে কি দুত পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেনঃ হ্যা। তখন তারা বললেনঃ মারহাবান ওয়া আহলান (আপনাকে ধন্যবাদ, আপনি আপনজনের মধ্যে এসেছেন) শুভাগমনে আসমানবাসীরা খুবই আনন্দিত।

বস্তুত আল্লাহ তায়ালা যমীনে কি করতে চাচ্ছেন তা আসমানবাসীদেরকে না জানানো পর্যন্ত তারা জানতে পারে না। দুনিয়ার আসমানে তিনি আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পেলেন। জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে দেখিয়ে বললেনঃ তিনি আপনার পিতা, তাকে সালাম দিন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সালাম দিলেন। আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার সালামের উত্তর দিলেন। এবং বললেনঃ মারহাবান ওয়া আহলান হে আমার পুত্র। তুমি আমার কতইনা উত্তম পূত্র। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি প্রবাহমান নহর দুনিয়ার আসমানে অবলোকন করলেন। জিজ্ঞাসা করলেন, এ নহর দুটি কোন নহর হে জিবরাঈল! জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এ দুটি হলো নীল ও ফুরাতের মুল। এরপর জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে সঙ্গে নিয়ে এ আসমানে ঘুরে বেড়ালেন। তিনি আরো একটি নহর অবলোকন করলেন। এর ওপর প্রতিঠিত ছিল মোতি ও জাবারজাদের তৈরি একটি প্রাসাদ। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নহরে হাত মারলেন। তা ছিল অতি উন্নতমানের মিসক। তিনি বললেনঃ হে জিবরাঈল! এটি কি? জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হাউযে কাউসার। যা আপনার প্রতিপালক আপনার জন্য সংরক্ষিত করে রেখেছেন। তারপর তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে সঙ্গে করে দ্বিতীয় আসমানে গমন করলেন। প্রথম আসমানে অবস্হানরত ফেরেশতাগণ তাকে যা বলেছিলেন এখানেও তা বললেনঃ তারা জানতে চাইল, তিনি কে? তিনি বললেনঃ জিবরাঈল! তারা বললেনঃ আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেনঃ মুহাম্মাদ। তারা বললেনঃ তার কাছে কি দুত পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেনঃ হ্যা। তাঁরা বললেনঃ মারহাবান ওয়া আহলান। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সঙ্গে করে তিনি তৃতীয় আসমানের দিকে গমন করলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় আসমানে অবস্হানরত ফেরেশতারা যা বলেছিলেনঃ তৃতীয় আসমানের ফেরেশতাগণও তাই বললেন। তারপর তাকে সঙ্গে করে তিনি চতুর্থ আসমানের দিকে গমন করলেন। তারাও তাঁকে পুর্বের ন্যায়ই বললেন। তারপর তাঁকে নিয়ে তিনি পঞ্চম আসমানে গমন করলেন। তাঁরাও পূর্বের মতো বললেন। এরপর তিনি তাঁকে নিয়ে ষষ্ঠ আসমানের দিকে গমন করলেন। সেখানেও ফেরেশতারা পূর্বের মতই বললেন। সর্বশেষে তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে নিয়ে সপ্তম আসমানে গমন করলে সেখানেও ফেরেশতারা তাকে পূর্বের ফেরেশতাদের মতো বললেন। প্রত্যেক আসমানেই নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গণ রয়েছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে আমি সংরক্ষিত করেছি যে, দ্বিতীয় আসমানে ইদরীস (আলাইহি ওয়াসাল্লাম), চতূর্থ আসমানে হারুন (আলাইহি ওয়াসাল্লাম), পঞ্চম আসমানে অন্য একজন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) , যায় নাম আমি স্বরন রাখতে পারিনি। ষষ্ঠ আসমানে রয়েছেন ইবরাহীম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আল্লাহর সাথে বাক্যলাপের মর্যাদার কারণে মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আছেন সপ্তম আসমানে।

সে সময় মূসা বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক। আমি তো ধারনা আমার ওপর কাউকে উচ্চমর্যাদা দান করা হবে। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে এত উদ্ধে আরোহণ করান হলো, যা সম্পর্কে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই জানেনা। অবশেষে তিনি সিদরাতুল মুনতাহায় আগমন করলেন। এখানে প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী হলেন। অতিনিকটবর্তীর ফলে তাঁদের মধ্যে দু, ধনূকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম। তখন আল্লাহ তার প্রতি ওহী পাঠালেন। অর্থাৎ তাঁর উম্মাতের উপর রাত ও দিনে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায) আদায়ের কথা ওহী যোগে পাঠানো হলো। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবতরণ করেন। আর মূসা র কাছে পৌছলে মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে আটকিয়ে বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রতিপালক আপনাকে কি নির্দেশ দিলেন? নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ রাত ও দিনে পঞ্চাশ বার সালাত (নামায) আদায়ের। তখন মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আপনার উম্মাত তা আদায়ে সম্মহম হবে না। সুতরাং আপনি ফিরে যান তাহলে আপনার প্রতিপালক আপনার এবং আপনার উম্মাতের থেকে এ আদেশটি সহজ করে দিবেন। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈলের দিকে এমনভাবে লক্ষ্য করলেন, যেন তিনি এ বিষয়ে তার থেকে পরামর্শ চাচ্ছিলেন। জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ হ্যা। আপনি চাইলে তা হতে পারে। তাই তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে নিয়ে প্রথমে আল্লাহর কাছে গেলেন। তারপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যথাস্থানে থেকে বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মাত এটি আদায়ে সক্ষম হবে না। তখন আল্লাহ দশ ওয়াক্ত সালাত (নামায) কমিয়ে দিলেন। এরপর মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ফিরে আসলে তিনি তাঁকে নামালেন। এভাবেই মূসা তাকে তাঁর প্রতিপালকের কাছে পাঠাতে থাকলেন। পরিশেষে পাচ ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকল। পাচ সংখ্যায়ও মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে থামিয়ে বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আমি আমার বনী ইসরাঈল কাওমের কাছে এর চেয়েও সামান্য কিছু পেতে চেয়েছি। তদুপরি তারা দুর্বল হয়েছে এবং পরিত্যাগ করেছেন অথচ আপনার উম্মাত দৈহিক, মানসিক, শারীরিক সৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতা সব দিকে আরো দূর্বল। সুতরাং আপনি আবার যান এবং আপনার প্রতিপালক থেকে নির্দেশটি আরো সহজ করে আনুন। প্রতিবারই নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরামর্শের জন্য জিবরাঈলের দিকে তাকাতেন। পঞ্চমবারেও জিবরাঈল তাঁকে নিয়ে গমন করলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ -হে আমার প্রতিপালক। আমার উম্মাতের শরীর, মন, শ্রবণশক্তি ও দেহ নিতান্তই দূর্বল। তাই নির্দেশটি আমাদের থেকে আরো সহজ করে দিন।

এরপর পরাক্রমশালী আল্লাহ বললেনঃ মুহাম্মাদ! নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি আপনার দরবারে হাযির, বাবার-হাযির। আল্লাহ বললেনঃ আমার বান্দার কোন প্রকার পরিবর্তন পরিবর্ধন হয় না। আমি তোমাদের উপর যা ফরয করেছি তা “উম্মুল কিতাব- তথা লাওহে মাহফুযে সংরক্ষিত আছে। প্রতিটি নেক আমলের দশটি নেকী রয়েছে। উম্মুল কিতাবে সালাত (নামায) পঞ্চাশ ওয়াক্তই লিপিবদ্ধ আছে। তবে আপনার ও আপনার উম্মাতের জন্য তা পাঁচ ওয়াক্ত করা হলো। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম)র কাছে প্রত্যাবর্তন করলে মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি ব্যবস্হা নিয়ে এসেছেন? নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ আমাদের জন্য – সহজ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি নেক আমলের বিনিময়ে দশটি সাওয়াব নির্ধারণ করেছেন। তখন মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে এর চাইতেও সামান্য জিনিসের প্রত্যাশ্য করছি। কিস্তু তারা তাও আদায় করেনি। আপনার প্রতিপালকের কাছে আপনি আবার ফিরে যান, যেন আরো একটু কমিয়ে দেন। এবার নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হে মূসা , আল্লাহর কসম! আমি আমার প্রতিপালকের কাছে বারবার গিয়েছি। আবার যেতে লজ্জাবোধ করছি, যেন তার সাথে মতান্তর করছি। এরপর মূসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ অবতরন করতে পারেন আল্লাহর নামে। এ সময় নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাগ্রত হয়ে দেখলেন, তিনি মসজিদে হারামে আছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ তাওহীদ প্রসঙ্গ হাদিস নাম্বারঃ ৭০০৯

নভে. 032013
 

মুহাম্মদ ইবন বাশশার ও খালীফা (রহঃ) নাবী (সাঃ) -এর চাচাতো ভাই ইবন আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাঃ) বলেন, মিরাজের রাত্রিতে আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখেছি। তিনি গোধুম বর্ণের পুরুষ ছিলেন; দেহের গঠন ছিল লম্বা। মাথার চুল ছিল কুঞ্চিত। যেন তিনি একজন শানুআ গোত্রের লোক। আমি ঈসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে দেখতে পাই। তিনি ছিলেন মধ্যম গঠনের লোক। তাঁর দেহ বর্ণ ছিল সাদা লালে মিশ্রিত। তিনি ছিলেন মধ্যম অবয়ব বিশিষ্ট। মাথার চুল ছিল অকুঞ্চিত। জাহান্নামের খাজাঞ্চি মালিক এবং দজ্জালকেও আমি দেখেছি। (সে রাতে) আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ) -কে বিশেষ করে যে সকল নিদর্শনাবলী দেখিছেন তন্মধ্যে এগুলোও ছিল। সুতরাং তাঁর সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে তুমি সন্দেহ পোষণ করবে না। আনাস ইবন আবূ বাকরা (রাঃ) নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, ফিরিশ্তাগণ মদিনাকে দাজ্জাল থেকে পাহারা দিয়ে রাখবেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সৃষ্টির সূচনা হাদিস নাম্বারঃ ৩০১২

নভে. 032013
 

হুদবা ইবন খালিত ও খলিফা (ইবন খাইয়াত) (রহঃ) মালিক ইবন সাসাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেন, আমি কাবা ঘরের নিকট নিদ্রা ও জাগরণ-এ দু’ অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। এরপর তিনি দু’ ব্যাক্তির মাঝে অপর এক ব্যাক্তি অর্থাৎ নিজের অবস্থা উল্লেখ করে বললেন, আমার নিকট স্বর্ণের একটি তশতরী নিয়ে আসা হল-যা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। তাপর আমার বুক থেকে পেটের নীচ পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হল। এরপর আমার পেটে যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলা হল। তারপর হিকমত ও ঈমান পরিপূর্ণ করা হল এবং আমার নিকট সাদা চতুষ্পদ জন্তু আনা হল, যা খচ্চর হতে ছোট আর গাধা থেকে বড় অর্থাৎ বুরাক। এরপর তাতে আরোহণ করে আমি জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? উত্তর দেওয়া হল মুহাম্মদ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে ধন্যবাদ, তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম।
তারপর আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে গেলাম। তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, পুত্র ও নাবী (সাঃ) ! তোমার প্রতি ধন্যবাদ। এরপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে গেলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ঈসা ও ইয়াহইয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট আসলাম। তাঁরা উভয়ে বললেন, ভাই ও নাবী (সাঃ) ! আপনার প্রতি ধন্যবাদ। তারপর আমরা তৃতীয় আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ইউসুফ আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট গেলাম। তাঁকোমি সালাম বললাম। তিনি বললেন, ভাই ও নাবী (সাঃ) ! আপনাকে ধন্যবাদ। এরপর আমরা চতুর্থ আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ইদ্রিস আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট গেলাম। আমি তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, ভাই ও নাবী (সাঃ) ! আপনাকে ধন্যবাদ। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমরা হারুন আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে গেলাম। আমি তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, ভাই ও নাবী (সাঃ) ! আপনাধেন্যবাদ। তারপর ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে গেলাম। আমি তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, ভাই ও নাবী (সাঃ) আপনাকে ধন্যবাদ।
তারপর আমি যখন তাঁর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বলেছেন, হে রব! এ ব্যাক্তি যে আমার পপপ্রেরিত, তাঁর উম্মাত আমার উম্মাতের চেয়ে অধিক পরিমাণে বেহেশতে যাবে। এরপর আমরা সপ্তম আকাশে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বললেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে গেলাম। আমি তাঁকে সালাম বললাম। তিনি বললেন, হে পুত্র ও নাবী (সাঃ) ! আপনাকে ধন্যবাদ। এরপর বায়তুল মায়মারকে আমার সামনে প্রকাশ করা হল। আমি জিবরাঈল আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এটি বায়তুল মামুর। প্রতিদিন এখানে সত্তর হাজার ফিরিশতা সালাত (নামায) আদায় করেন। এরা এখান থেকে একবার বের হলে দ্বিতীয় বার ফিরে আসে না। এটাই তাদের শেষ প্রবেশ। তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা দেখানো হল। দেখলাম, এর ফল যেন, হাজার নামক স্থানের মটকার ন্যায়। আর তার পাতা যেন হাতীর কান। তার মূল দেশে চারটি ঝরনা প্রবাহিত। ’ দু’টি অভ্যন্তরে আর দু’টি বাইরে। এ সম্পর্কে আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, অভ্যন্তরে দু’টি জান্নাতে অবস্থিত। আর বাইরের দু’টির একটি হল (ইরাকের) ফুরাত আর অপরটি হল (মিশরের) নীল নদ) তারপর আমি প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায) ফরয করা হয়। আমি তা গ্রহণ করে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে ফিরে এলাম। তিনি বললেন, কি করে এলেন? আমি বললাম, আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত (নামায) ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন, আমি আপনার চেয়ে মানুষ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত আছি। আমি বনী ইসরাঈলের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছি আর আপনার উম্মাত এত (সালাত (নামায) আদায়ে) সমর্থ হবে না। অতএব আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং তা কমানোর অনুরোধ করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তাঁর নিকট আবেদন করলাম। তিনি সালাত (নামায) চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। পুনরায় অনুরূপ ঘটল। আর সালাত (নামায)ও ত্রিশ ওয়াক্ত করে দেওয়া হল। পুনরায় অনুরূপ ঘটলে তিনি সালাত (নামায) বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার অনুরূপ হল। তিনি সালাত (নামায)কে দশ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপর আমি মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে আসলাম। তিনি পূর্বের ন্যায় বললেন, এবার আল্লাহ সালাত (নামায)কে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয করে দিলেন। আমি মূসার নিকট আসলাম। তিনি বললেন, কি করে আসলেন? আমি বললাম, আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয করে দিয়েছেন। এবারও তিনি পূর্বের ন্যায় বললেন, আমি বললাম, আমি তা মেনে নিয়েছে। তখন আওয়াজ এল, আমি আমার ফরয জারি করে দিয়েছি। আর আমার বান্দাদের থেকে হালকা করে দিয়েছে। আর আমি প্রতিটি পূণ্যের জন্য দশ গুন সওয়াব দিব। আর বায়তুল মামুর সম্পর্কে হাম্মাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণণা করেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ সৃষ্টির সূচনা হাদিস নাম্বারঃ ২৯৮০

অক্টো. 242013
 

আবূ আসিম (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দুধপান করেছেন এরপর তিনি কুলি করেছেন এবং বলেছেন এর মধ্যে তৈলাক্ততা আছে। ইবরাহীম ইবন তাহমান (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ আমার কাছে -সিদরাতুল মুনতাহা’ তুলে ধরা হল। তখন দেখলাম চারটি নহর। দুঁটি নহর হল যাহেরী আর দুটি নহর হল বাতেনী। যাহেরী দুটি হল নীল ও ফোরাত। আর বাতেনী দুটি হল, জান্নাতের দুটি নহর। আমার সামনে তিনটি পেয়ালা পেশ করা হল একটি পেয়ালার মধ্যে আছে দুধ, একটি পেয়ালার মধ্যে আছে মধূ আর একটি পেয়ালার মধ্যে আছে শরাব। আমি দুধের পেয়ালাটি গ্রহন করলাম এবং পান করলাম। তখন আমাকে বলা হল, আপনি এবং আপনার উম্মত স্বভাবজাত জিনিস লাভ করেছেন। তবে তারা তিনটি পেয়ালার কথা উল্লেখ করেননি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পানীয় দ্রব্যসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫২০৮

অক্টো. 242013
 

আবদান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনা যে রাতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে ভ্রমণ করানো হয় (মিরাজের রাতে), সে রাতে তাঁর সামনে শেষ করা হয়েছিল দুধের একটি পেয়ালা এবং শরারের একটি পেয়ালা।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ পানীয় দ্রব্যসমূহ হাদিস নাম্বারঃ ৫২০২

অক্টো. 042013
 

ইসহাক ইব্‌ন ইবরাহীম (র) —— আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ প্রথমত সালাত দুই রাক’আত করে ফরয হয়েছিল। পরে সফরের সালাত পূর্ববৎ রাখা হয় এবং আবাসে সালাত পূর্ণ করা হয়।

সুনানে নাসাঈ অধ্যায়ঃ সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৪৫৪

অক্টো. 042013
 

সুলায়মান ইব্‌ন দাঊদ (র) ——— আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, সালাত মক্কায় ফরয হয়েছে। দু’জন ফেরেশতা রাসূলুল্লাহ্‌ (সঃ)-এর নিকট আসেন। ফেরেশতাদ্বয় তাঁকে নিয়ে যমযমের নিকট যান। তারা তাঁর পেট বিদীর্ণ করেন এবং তাঁর ভেতরের বস্তু বের করে স্বর্ণের পাত্রে রাখেন ও যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করেন। তারপর তাঁর মধ্যে ইলম ও হিকমত পূর্ণ করে দেন।

সুনানে নাসাঈ অধ্যায়ঃ সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৪৫৩