নভে. 222013
 

উবাঈদুল্লাহ ইবনু মূসা অথবা ইবনু সালাম (রহঃ) উম্মে শারীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গিরগিট বা কাকলাশ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, ইব্‌রাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন তাতে এ গিরগিট ফুঁ দিয়েছিল।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১২১

নভে. 212013
 

মুহাম্মদ ইবনু ‘আর‘আরা (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমাকে ভোরের বায়ু (পুবালি বাতাস) দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে আর আদ জাতিকে দাবুর বা পশ্চিমের (এক প্রকার মারাত্মক) বায়ু দ্বারা ধংস করা হয়েছে। ইবনু কাসীর (রহঃ) আবূ সাইদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আলী (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যাক্তির মাঝে বন্টন করে দিলেন। (১) আল-আকরা ইবনু হাবেস হান্‌যালী যিনি মাজাশেয়ী গোত্রের ছিলেন (২) উআইনা ইবনু বদর ফাযারী (৩) যায়েদ ত্বায়ী, যিনি বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন (৪) আলকামা ইবনু উলাসা আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেন। এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং বলতে লাগলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাজাদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি ত তাদেরকে (ইসলামের দিকে) আকৃষ্ট করার জন্য মনোরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যাক্তি সামনে এগিয়ে আসল, যার চোখ দু’টি কোটরাগত, গণ্ডুদ্বয় জুলে পড়া; কপাল উঁচু, ঘন দাঁড়ি এবং মাথা মোড়ানো ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মদ! আল্লাহকে ভয় করুন। তখন তিনি বললেন, আমিই যদি নাফরমানি করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন এক ব্যাক্তি তাঁর কাছে তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। (আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন) আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) বলে ধারণা করছি। কিন্তু নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নিষেধ করলেন। তারপর অভিযোগকারী লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন। এ ব্যাক্তির বংশ হতে বা এ ব্যাক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পরবে কিন্তু তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবেনা। দিন থেকে তারা এমনভাবে বেরিয়ে পড়বে যেমনি ধনুক থেকে তির বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে (মুসলিমদেরকে) হত্যা করবে আর মূর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা থেকে মুক্তি দেবে। আমি যদি তাদের নাগাল পেতাম তবে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যয় হত্যা করতাম।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১০৭

নভে. 212013
 

উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আবদুল্লাহ‌ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কোন ব্যাক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে, তার এ খুনের পাপের একাংশ আদম আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর প্রথম ছেলের (কাবিলের) উপর বর্তায়। কারণ সেই সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন করেছে।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আম্বিয়া কিরাম (আঃ) হাদিস নাম্বারঃ ৩১০০

নভে. 212013
 

‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রাঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিরস্ত্রাণটি মাথা থেকে খোলার পর এক ব্যাক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইবনু খাতাল কাবার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ তাঁকে তোমরা হত্যা কর।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭২৭

নভে. 212013
 

ইসমাইল (রহঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সহধর্মীনি ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন, রাসুল কাঁকলাস কে ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন। কিন্তু একে হত্যা করার আদেশ দিতে আমি তাঁকে শুনিনি।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭১২

নভে. 212013
 

উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, মিনাতে পাহাড়ের কোন এক গুহায় আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে ছিলাম। এমতবস্থায় নাজিল হল তাঁর উপর রাওয়াল মুরসালাত (নামায)। তিনি সূরাটি তিলোয়াত করিছিলেন। আর আমি তাঁর পবিত্র মুখ থেকে গ্রহন করছিলাম। তাঁর মুখ (তিলোয়াতের ফলে)সিক্ত ছিল। এমতবস্থায় আমাদের সামনে একটি একটি সাপ লাফিয়ে পড়ল। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ একে মেরে ফেল। আমরা দৌড়িয়ে গেলে সাপটি চলে গেল। এরপর নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ রক্ষা পেল সাপটি তোমাদের অনিষ্ট থেকে যেমন তোমরা রক্ষা পেলে এর অনিষ্ট থেকে। আবূ আবদুল্লাহ [বুখারী (রহঃ)] বলেন, এ হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে মিনা হারাম শরীফের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা সাপ মারাকে দোষ মনে করতেন না।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭১১

নভে. 212013
 

‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ পাঁচ প্রকার প্রানী হত্যা করা মুহরিমের জন্য দূষনীয় নয়। ‘আদবুল্লাহ ইবনু দীনার ও মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সহধর্মীনীগনের একজন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ননা করেন যে মুহরিম ব্যাক্তি (নির্দিষ্ট) প্রানী হত্যা করতে পারবে। আসবাগ ইবনু ফারাজ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এর সুত্রে হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ননা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ পাঁচ প্রকার প্রানী হত্যা করাতে তাঁর কোন দোষ নেই। যেমনঃ কাক, চিল, ইদুর, বিচ্ছু ও পাগলা কুকুর।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭০৯

নভে. 172013
 

কাইস ইবনু হাফস (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যাক্তি কোন যিম্মিকে হত্যা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। আর জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দুরত্ব থেকে পাওয়া যাবে। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৪২

নভে. 172013
 

আবূল ইয়ামান ও মাহমুদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সাথে এক যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি ইসলামের দাবিদার এক ব্যাক্তিকে লক্ষ্য করে বললেন, এ ব্যাক্তি জাহান্নামী অথচ যখন যুদ্ধ শুরু হল, তখন সে লোকটি ভীষণ যুদ্ধ করল এবং আহত হল। তখন বলা হল, ইয়া রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! যে লোকটি সম্পর্কে আপনি বলেছিলেন, সে লোকটি জাহান্নামী। আজ সে ভীষণ যুদ্ধ করেছে এবং মারা গেছে। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সে জাহান্নামে গেছে। রাবী বলেন, একথার উপর কারো কারো অমত্মরে এ বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টির উপক্রম হয় হয় এবং সম্পর্কিত কথাবার্তায় রয়েছেন, এসময় সংবাদ এল যে, লোকটি মরে যায়নি বরং মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। যখন রাত্রি হল, সে আঘাতের কষ্টে ধৈর্যধারণ করতে পারল না এবং আত্মহত্যা করল। তখন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছানো হল, তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহ আকবার! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলার বান্দা এবং তাঁর রাসূল)। এরপ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিলাল (রাঃ)-কে আদেশ করলেন, তখন তিনি লোকদের মধ্যে ঘোষণা দিলেন য়ে, মুসলমান ব্যতীত কেউ বেহেশতে প্রবেশ করবে না। আর আল্লাহ তা‘আলা (কখনো কখনো) এই দ্বীনকে মন্দ লোকের দ্বারা সাহায্য করেন।

নভে. 172013
 

আহমদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) আবূ জুহাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর কোরআনে যা কিছু আছে তা ছাড়া আপনাদের নিকট ওহীর কোন কিছু আছে কি? তিনি বললেন, না, সে আল্লাহ তা‘আলার কসম! যিনি শস্যদানাকে বিদীর্ন করেন এবং প্রাণী সৃষ্টি করেন। আল্লাহ কুরআন সম্পর্কে মানুষকে যে জ্ঞান দান করেছেন এবং সহীফার মধ্যে যা রয়েছে, এ ছাড়া আমি আর কিছু জানিনা। আমি বললাম, এ সহীফাটিতে কি আছে? তিনি বললেন, ‘দায়ীতের বিধান, বন্দী মুক্ত করণ এবং কোন মুসলিমকে যেন কোন কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা না হয় (এ সম্পর্কিত নির্দেশ)। ’

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৮৩৩