অক্টো. 282013
 

আবূ নুআইম (রহঃ) আয়মান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বললাম, আমি উতবা ইবন আবূ লাহাবের গোলাম ছিলাম। সে মারা গেলে তার ছেলেরা আমার মালিক হল। আর তারা আমাকে ইবন আবূ আমর মাখযূমীর নিকট বিক্রি করল। ইবন আবূ আমর আমাকে আযদ করে দিরেন। কিন্তু উতবার ছেলেরা ওয়ালার শর্ত আরোপ করল। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, মুকাতাব থাকা অবস্থায় বারীরা (রাঃ) একবার তার কাছে এসে বললেন, আমাকে ক্রয় করে আযাদ করে দিন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, তাঁরা ওয়ালার শর্ত আরোপ ব্যতিরেকে আমাকে বিক্রি করবে না। তিনি বললেন, আমার তা প্রয়োজন নেই। নাবী (সাঃ) সে কথা শুনলেন, কিংবা তার কাছে এ সংবাদ পৌছল। তখন তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এ ব্যাপারে আলোচনা করলেন। আর ‘আয়িশা (রাঃ) বারীরা (রাঃ)-কে যা বলেছিলেন তাই জানালেন। তখন তিনি বললন, তুমি তাকে ক্রয় করে আযাদ করে দাও, আর তাদেরকে যত ইচ্ছা শর্ত আরোপ করতে দাও। পরে ‘আয়িশা (রাঃ) তাকে খরিদ করে আযাদ করে দিলেন এবং তার মালিকপক্ষ ওয়ালার শর্ত আরোপ করল। তখন নাবী (সাঃ) বললেন, ওয়ালা তারই থাকবে, যে আযাদ করে যদিও তার মালিক পক্ষ শত শর্ত আরোপ করে থাকে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ মুকাতাব হাদিস নাম্বারঃ ২৩৯৫

অক্টো. 282013
 

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ) আমরা বিনতে আবদুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, বারীরা (রাঃ) একবার উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে সাহায্য চাইতে আসলেন। তখন তিনি বললেন, তোমরা মালিক পক্ষ চাইলে আমি তাদের এক সাথেই তোমার মূল্য দিয়ে দিব এবং তোমাকে আযাদ করে দিব। বারীরা (রাঃ) মালিক পক্ষকে তা বললেন, কিন্তু জবাবে তারা বলল, তোমার ওয়ালা আমাদের থাকবে; এছাড়া আমরা সম্মত নই। (রাবী) মালিক (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, আমরা (রহঃ) ধারণা করেন যে, ‘আয়িশা (রাঃ) রাসূল (সাঃ) -এর কাছে তা উত্থাপন করেছিলেন, তখন রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন, তুমি তাকে খরিদ করে আযাদ করে দাও। কেননা, ওয়ালা তারই হবে, যে আযাদ করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ মুকাতাব হাদিস নাম্বারঃ ২৩৯৪

অক্টো. 282013
 

উবায়দ ইবন ইসমাঈল (রহঃ) ’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারীরা (রাঃ) এসে বললেন, আমি প্রতি বছর এক উকিয়া করে নয় উকিয়া আদায় করার শর্তে কিতাবাতের চুক্তি করেছে। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে সাহায্য করুন। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তোমার মালিক পক্ষ সম্মত হলে আমি উক্ত পরিমাণ এককালীন দান করে তোমাকে আযাদ করতে পারি এবং তোমার ওয়ালা হবে আমার জন্য। তিনি তার মালিকের কাছে গেলেন, তারা তার এ শর্ত মানতে অস্বীকার করল। তখন তিনি বললেন, বিষয়টি আমি তাদের কাছে উত্থাপন করেছিলাম, কিন্তু ওয়ালা তাদেরই হবে, এ শর্ত ছাড়া তারা মানতে অসম্মতি প্রকাশ করেছে। রাসূল (সাঃ) বিষয়টি শুনে এ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি ঘটনাটি তাঁকে খুলে বললাম। তখন তিনি বললেন, তাকে নিয়ে নাও এবং আযাদ করে দাও। ওয়ালা তাদের হবে এশর্ত মেনে নাও, (এতে কিছু আসে যায় না)। কেননা, যে আযাদ করবে, ওয়ালা তাদের হবে, এ শর্ত মেনে নাও, (এতে কিছু আসে যায় না। ) কেননা, যে আযাদ করবে, ওয়ালা তারই হবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূল (সাঃ) সাহাবীগণের সমাবেশে দাঁড়িযে আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন আর তোমাদের কিছু লোকের কি হল? এমন সব শর্ত তারা আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই। এমন কোন শর্ত শতবার আরোপ করলেও। কেননা আল্লাহর হুকুমই যথার্থ এবং আল্লাহর শর্তই নির্ভরযোগ্য। তোমাদের কিছু লোকের কি হল? তারা এমন কথা বলে যে, হে অমুক! তুমি আযাদ করে দাও, ওয়ালা (অভিভাবকত্ব) আমারই থাকবে। অথচ যে আযাদ করবে, সে-ই ওয়ালার অধিকারী হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ মুকাতাব হাদিস নাম্বারঃ ২৩৯৩

অক্টো. 282013
 

আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ (রহঃ)আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) আযাদ করার জন্য জনৈকা বাদীকে খরিদ করতে চাইলেন। কিন্তু তার মালিক পক্ষ বলল, এই শর্তে (আমরা সম্মত) যে, ওয়ালা আমাদেরই থাকবে। রাসূল (সাঃ) বললেন, এ শর্তারোপ যেন তোমাকে তা খরিদ করতে বিরত না রাখে। কেননা ওয়ালা তারই জন্য যে আযাদ করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ মুকাতাব হাদিস নাম্বারঃ ২৩৯২

অক্টো. 282013
 

কুতায়বা (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বারীরা (রাঃ) একবার তার মুকাতাবাতের ব্যাপারে সাহায্য চাইতে আসলেন। তখন পর্যন্ত তিনি মুকাতাবাতের অর্থ থেকে কিছুই আদায় করেন নি। ‘আয়িশা (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি তোমার মালিকের কাছে ফিরে যাও। তারা সম্মত হলে আমি তোমার মুকাতাবাতের প্রাপ্য কাছে পেশ করলেন। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল এবং বলল, তিনি যদি তোমাকে আযাদ করে সাওয়াব পেতে চান, তবে করতে পারেন। ওয়ালা আমাদেরই থাকবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর কাছে পেশ করেল তিনি বলেলেন, তুমি খরিদ করে আযাব করে দাও। কেননা যে আযাদ করবে, সেই ওয়ালার অধিকারী হবে। (রাবী) বলেন, তারপর রাসূল (সাঃ) (সাহাবীগণের সমাবেশে) দাঁড়িয়ে বললেন, মানুষের কি হল, এমন সব শর্ত তারা আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই। যে এমন কোন শর্থ আরোপ করবে, যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তা তার জন্য প্রযোজ্য হবে না; যদিও সে শতবার শর্তারোপ করে। কেননা আল্লাহর দেওয়া শর্তই সঠিক এবং নির্ভরযোগ্য।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ মুকাতাব হাদিস নাম্বারঃ ২৩৯১