নভে. 212013
 

আবূল ওয়ালিদ (রহঃ) ইবনু ইয়া’লা (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, একবার আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সঙ্গে ছিলাম। এমতবস্থায় হলুদ বা অনুরুপ রঙে চিহ্ন বিশিষ্ট জামা পরিহিত এক ব্যাক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট আসলেন। আর ‘উমর (রাঃ) আমাকে বললেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি যখন অহী নাযিল হয় সে মূহুর্তে তুমি কি তাঁকে দেখতে চাও? এরপর (ঐ সময়ে) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি অহী নাযিল হল। তারপর এ অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি (প্রশ্নকারীকে) বললেনঃ হাজ্জে (হজ্জ) তুমি যা কর ‘উমরাতেও তাই কর। এক ব্যাক্তি অন্য একজনের হাত কামড়িয়ে ধরলে তাঁর দু’টি দাত উৎপাটিত হয়ে যায়। এ সংক্রান্ত নালিশ তিনি বাতিল করে দেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭১৮

নভে. 212013
 

‘উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বারা’ (রাঃ) থেকে বর্নিত, তিনি বলেন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুল-কা’দা মাসে ‘উমরা আদায় করার নিয়তে রওয়ানা হলে মক্কাবাসী লোকেরা তাঁকে মক্কা প্রবেশ করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অবশেষে তিনি তাঁদের সাথে এই শর্তে চুক্তি করেন যে, সশস্ত্র অবস্থায় নয় বরং তলোয়ার কোষবদ্ধ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করবেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৭২৫

নভে. 212013
 

ইসমা’ঈল (রহঃ) নাফি’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, (মক্কা মুকার্‌রামায়) গোলযোগ চলাকালে ‘উমরার নিয়ত করে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) যখন মক্কার দিকে রওয়ানা হলেন, তখন বললেন, বায়তুল্লাহ থেকে যদি আমি বাধাপ্রাপ্ত হই তাহলে তাই করব যা করেছিলাম আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে। তাই তিনি ‘উমরার ইহরাম বাঁধাপ্রাপ্ত হই তাহলে তাই করব যা করেছিলাম আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে। তাই তিনি ‘উমরার ইহরাম বাঁধালেন। করাণ, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) – ও হুদায়বিয়ার বছর ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন। তারপর ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) নিজের ব্যাপারে ভেবেচিন্তে বললেন, উভয়টি তো একই রকম। আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার উপর ‘উমরার সাথে হাজ্জ (হজ্জ)কে ওয়াজিব করে নিলাম। তিনি উভয়টির জন্য একই তাওয়াফ করলেন এবং এটাই তাঁর পক্ষ থেকে যথেষ্ট মনে করেন, আর তিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে নিয়েছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৯৭

নভে. 212013
 

আহমদ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) সালিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনু ‘উমর (রাঃ) বলতেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সুন্নাতই কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয়? তোমাদের কেউ যদি হাজ্জ (হজ্জ) করতে বাধাপ্রাপ্ত হয় যে যেন (‘উমরার জন্য) বায়তুল্লাহর ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে তাওয়াফ করে সব কিছু থেকে হালাল হয়ে যায়। অবশেষে পরবর্তী বছর হাজ্জ (হজ্জ) আদায় করে নেয়। তখন সে কুরবানী করবে আর যদি কুরবানী দিতে না পারে তবে সিয়াম পালন করবে। ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৯৪

নভে. 212013
 

মুহাম্মদ (রহঃ) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (হুদায়বিয়াতে) বাধাপ্রাপ্ত হন। তাই তিনি মাথা কামিয়ে নেন। স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হন এবং প্রেরিত জানোয়ার কুরবানী করেন। অবশেষে পরবর্তী বছর ‘উমরা আদায় করেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৯৩

নভে. 212013
 

‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আসমা (রহঃ) নাফি’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ও সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) উভয়ই তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ) বাহিনী ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, সে সময়ে তাঁরা উভয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ)-কে বুঝালেন। তাঁরা বললেন, এ বছর হাজ্জ (হজ্জ) না করলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। আমরা আশষ্কা করছি, আপনার ও বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বললেন, আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর সঙ্গে রওয়ানা হয়েছিলাম। কিন্তু বায়তুল্লাহর পথে কাফির কুরায়শরা আমাদের বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। তাই নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরবানীর পশু যবেহ করে মাথা মুড়িয়ে নিয়েছিলেন। এখন আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার নিজের জন্য ‘উমরা ওয়াজিব করে নিয়েছি। আল্লাহ চাহেন তো আমি এখন রওয়ানা হয়ে যাব। যদি আমার এবং বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা না আসে তাহলে আমি তাওয়াফ করে নিব। কিন্তু যদি আমার ও বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হয় তাহলে আমি তখনই সেরূপ করব যেরূপ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছিলেন আর আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তারপর তিনি যুল-হুলাইফা থেকে ‘উমরার ইহরাম বেধেঁ কিছুক্ষণ চললেন, এরপরে বললেন, হাজ্জ (হজ্জ) এবং ‘উমরার ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, নিশ্চয়ই আমি আমার ‘উমরার সাথে হাজ্জ (হজ্জ)ও নিজের জন্য ওয়াজিব করে নিলাম। তাই তিনি হাজ্জ (হজ্জ) ও ‘উমরা কোনটি থেকেই হালাল হননি। অবশেষে কুরবানী দিন কুরবানী করলেন এবং হালাল হলেন। তিনি বলতেন, আমরা হালাল হব না যতক্ষণ পর্যন্ত না মক্কায় প্রবেশ করে একটি তাওয়াফ করে নিই।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৯১

নভে. 212013
 

‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) নাফি’ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, হাঙ্গামা চলাকালে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) ‘উমরার নিয়ত করে মক্কায় রওয়ানা হওয়ার পর বললেন, বায়তুল্লাহর পথে বাধাগ্রস্ত হলে, তাই করব যা করেছিলাম আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে। তাই তিনি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -ও হুদায়বিয়ার বছর ‘উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৯০

নভে. 212013
 

‘আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোন জিহাদ, বা হাজ্জ (হজ্জ) অথবা ‘উমরা থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন তিনি প্রত্যেক উঁচু ভূমিতে তিনবার তাকবীর বলতেন এবং পর বলতেনঃ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। সর্বময় ক্ষমতা এবং সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী ও তাওবাকারী, ‘ইবাদতকারী, আমাদের প্রভুর উদ্দেশ্যে সিজদাকারী ও প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, নিজ বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল শত্রুদল্কে পরাজিত করেছেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৮০

নভে. 212013
 

আহমদ (রহঃ) আবূল আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ)-এর কন্যা আসমা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, যখনই আসমা (রাঃ) হাজ্জ (হজ্জ)ন এলাকা দিয়ে গমন করতেন তখনই তাঁকে বলতেন শুনেছেন আল্লাহ তাঁর রাসূল) -এর প্রতি রহমত নাযিল করুন, এ স্থানে আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর সঙ্গে অবতরণ করেছিলাম। তখন আমাদের বোঝা ছিল খুব অল্প, যানবাহন ছিল একেবারে নিগণ্য এবং সম্বল ছিল খুবই কম। আমি, আমার বোন ‘আয়িশা (রাঃ), যুবাইর (রাঃ) এবং অমুক অমুক ‘উমরা আদায় করলাম। তারপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করে আমরা সকলেই হালাল হয়ে গেলাম এবং সন্ধ্যাকালে হাজ্জের (হজ্জ) ইহ্‌রাম বাঁধলাম।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৭৯

নভে. 212013
 

হূমায়দী (রহঃ) ‘আমার ইবনু দীনার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘উমরার মাঝে বায়তুল্লাহর তাওয়াফের পর সাফা-মারওয়র তাওয়াফ না করে যে স্ত্রীর নিকট গমন করে, এমন ব্যাক্তি সম্পর্কে আমরা ইবনু ‘উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (মক্কায়) এসে বায়তুল্লাহ সাতবার তাওয়াফ করে মাকামে ইব্‌রাহীমের পাশে দু’রাক’আত সালাত (নামায) আদায় করেছেন। এরপর সাতবার সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’য়ী করেছেন। আর তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ তো রয়েছে আল্লাহর রাসূল -এর মাঝেই। (রাবী) ‘আমর ইবনু দীনার (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-কেও আমরা জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেছেন, সাফা-মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ না করা পর্যন্ত কেউ তার স্ত্রীর নিকট অবশ্যই যাবে না

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ হজ্ব (হাজ্জ) হাদিস নাম্বারঃ ১৬৭৭