অক্টো. 312013
 

কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ইবরাহীম তামীমীয় পিতা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আলী (রাঃ) বলেছেনঃ কিতাবুল্লাহ ব্যতীত আমাদের আর কোন কিতাব তো নেই যা আমরা পাঠ করতে পারি। তবে এ লিপিখানা আছে। রাবী বলেনঃ এরপর তিনি তা বের করলেন। দেখা গেল যে, তাতে যখম ও উটের বয়স সংক্রান্ত কথা লিপিবদ্ধ আছে। বারী বলেনঃ তাতে আরও লিপিবদ্ধ ছিল যে, আইর থেকে নিয়ে অমূক স্থানের মধ্যবর্তী মদিনার হারাম। এখানে যে (ধর্মীয় ব্যাপারে) বিদআত করবে বা বিদআতকারীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহর ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা-আলা তার কোন ফরয আমল এবং কোন নফল কবুল করবেন না। যে ব্যাক্তি মনিরের অনুমতি ছাড়া কোন গোলামকে আশ্রয় প্রদান করে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সমস্ত মামুষের লানত। তার কোন ফরয বা নফল কিয়ামতের দিন কবুল করা হরে না। সমস্ত মুসলমানের জিম্মাই এক, একজন সাধারণ মুসলমান এর চেষ্টা করবে। যে ব্যাক্তি কোন মুসলমানের আশ্রয় প্রদানকে বাচনাল করে তার উপর আল্লাহর, ফেরেশতার এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন তার কোন ফরয ও নফল কবুল করা হবে না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ উত্তরাধিকার হাদিস নাম্বারঃ ৬২৯৯

অক্টো. 242013
 

মুআলা ইবন আস্বাদ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, নাবী (সাঃ) জনৈক বেদূঈনের কাছে গিয়েছিলেন! তার রোগের খোজ-খবর নেওয়ার জন্য। বর্ণনাকারী বলেনঃ আর নাবী (সাঃ) এর নিয়ম ছিল। তিনি যখন কোন রোগীকে দেখতে যেতেন তখন তাকে বলতেন কোন ক্ষতি নেই। ইনশাআল্লাহ তুমি তোমার গুনাহ থেকে পবিত্রতা লাভ করবে। তখন বেদুঈন বললঃ আপনি কি বলেছেন যে, এটা গুনাহ থেকে পবিত্র করে দেবে? কখনো নয়, বরং এটা এমন এক জ্বর যা এক অতি বৃদ্ধকে গরম করছে কিংবা সে বলেছিল উত্তপ্ত করছে, যা তাকে কবরস্থান দেখিয়ে ছাড়বে। নাবী (সাঃ) বললেনঃ হাঁ তবে তেমনই।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ রোগীদের বর্ণনা হাদিস নাম্বারঃ ৫২৫৪

অক্টো. 212013
 

আব্দুল্লাহ ইবন যুহাম্মাদ জুফী (রহঃ) উবাদা ইবন সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি একটি দলের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে বায়আত করেছি। তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের এ মর্মে বায়-আত করছি যে, তোমরা আল্লাহ তাআলার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, তোমাদের সন্তান হত্যা করবে না, সামনে বা পিছনে কোন অপবাদ করবে না, বিধিসম্মত কাজে আমার অবাধ্যতা করবে না, তোমাদের মধ্যে যে আপন অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়িত করবে তার বিনিময় আল্লাহ তা’আলার নিকট। আর যে এগুলো থেকে কিছু করে ফেলবে আর সে জন্য দুনিয়াতে যদি তার শাস্তি হয়ে যায়, তাহলে এটি হবে তার জন্য গুনাহর কাফফারা এবং গুনাহর পবিত্রতা। আর যার (দোষ) আল্লাহ তাআলা গোপন রেখেছেন তার মুকাবিলা আল্লাহ তাআলার সাথে। (আল্লাহ) ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আবূ আব্দুল্লাহ হিসাম বুখারী (রহঃ) বলেনঃ চোর যদি হাত কেটে দেয়ার পর তাওবা করে তরে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। অনুরুপভাবে শরীয়তের শাস্তি প্রাপ্ত প্রত্যেকটি লোকের ক্ষেত্রেই এ বিধান-প্রযোজ্য যখন সে তওবা করবে, তখন তার সাক্ষী গ্রহণযোগ্য হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শরীয়তের শাস্তি হাদিস নাম্বারঃ ৬৩৪৫

অক্টো. 132013
 

মালিক ইবন ইসমাঈল (রহঃ) যায়নাব বিরত জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (সাঃ) রক্তবর্ণ চেহারা নিয়ে নিদ্রা থেকে জাগলেন এবং বলতে লাগলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। অত্যাসন্ন এক দুর্যোগে আরব ধ্বংস হয়ে যাবে। ইয়াজুজ-মাজুজের (প্রতিরোধ) প্রাচীর আজ এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। সুফিয়ান নববই কিংবা একশতের রেখায় আঙ্গুল রেখে গিট বানিয়ে পরিমাণটুকু দেখালেন। জিজ্ঞাসা করা হল, আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাব অথচ আমাদের মধ্যে নেককার লোকও থাকবে? নবী (সাঃ) বললেনঃ হ্যা, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ফিতনা হাদিস নাম্বারঃ ৬৫৮১

অক্টো. 132013
 

‘আবদুল ‘আযীয ইবন ‘আবদুল্লাহ আল-উওয়ায়সী (রহঃ) হুমরান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ‘উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে দেখেছেন যে, তিনি পানির পাত্র আনিয়ে উভয় হাতের তালুতে তিনবার ঢেলে তা ধুয়ে নিলেন। এরপর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে এবং দু’হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। এরপর মাথা মাসেহ করলেন। তারপর উভয় পা গিরা পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিলেন। পরে বললেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘যে ব্যাক্তি আমার মত এ রকম উযূ করবে, তারপর দু রাক‘আত সালাত (নামায) আদায় করবে, যাতে দুনিয়ার কোন খেয়াল করবে না, তার পেছনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ উযূ হাদিস নাম্বারঃ ১৬১

অক্টো. 112013
 

হযরত মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না, আলী ইবন আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদ ইবন কাছীর (রঃ) হযরত নু’মান ইবন বাশীর (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট, উভয়ের মাঝে বহু অস্পষ্ট বিষয় রয়েছে। যে ব্যাক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ পরিত্যাগ করে, সে ব্যাক্তি যে বিষয়ে গুনাহ হওয়া সুস্পষ্ট, সে বিষয়ে অধিকতর পরিত্যাগকারী হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যাক্তি গুনাহের সন্দেহযুক্ত কাজ করতে দু:সাহস করে, সে ব্যাক্তির সুস্পষ্ট গুনাহের কাজে পতিত হবার যথেষ্ট আশংকা রয়েছে। গুনাহসমূহ মহান আল্লাহ্ তা’আলার সংরক্ষিত এলাকা, যে জানোয়ার সংরক্ষিত এলাকার চার পাশে চরতে থাকে, তার ঐ সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ ক্রয় – বিক্রয় হাদিস নাম্বারঃ ১৯২৩

অক্টো. 072013
 

আবদুল্লাহ ইবন আবদুল ওয়াহহাব (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন হারিস (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক বৃষ্টির দিনে ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিচ্ছিলেন। মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ পর্যন্ত পৌছলো, তখন তিনি তাঁকে বললেন, ঘোষণা করে দাও যে, সালাত (নামায) যার যার আবাসে। এ শুনে লোকেরা একে অন্যের দিকে তাকাতে লাগল – যেন তারা বিষয়টিকে অপছন্দ করল। তিনি তাদের লক্ষ করে বললেন, মনে হয় তোমরা বিষয়টি অপছন্দ করছ। তবে, আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন অর্থাৎ রাসূল (সাঃ) তিনিই এরূপ করেছেন। একথা সত্য যে জুমু’আর সালাত (নামায) ওয়াজিব। তবে তোমাদের অসুবিধায় ফেলা আমি পছন্দ করি না। হাম্মাদ (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এ সূত্রে এরূপ উল্লেখ আছে, আমি তোমাদের গুনাহর অভিযোগে ফেলতে পছন্দ করি না যে, তোমরা হাঁটু পর্যন্ত কাদা মাড়িয়ে আসবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আযান হাদিস নাম্বারঃ ৬৩৫

অক্টো. 072013
 

ইসহাক ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আপন পরিবারের ব্যাপারে কসম করে এর উপর অটল থাকে সে সবচেয়ে বড় গোনাহগার, যা কাফফারা পূর্ন করে না।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত হাদিস নাম্বারঃ ৬১৭২

অক্টো. 072013
 

ইসহাক ইবন ইবরাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা (দুনিয়ায়) সর্বশেষ আগমনকারী আর কিয়ামতের দিন হব অগ্রগামী। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে কেউ আপন পরিজনের ব্যাপারে শপথকারী হলে আল্লাহর নিকট সে গুনাহগার হবে ঐ ব্যাক্তির তুলনায়, যে কাফফারা আদায় করে দেয় যা আল্লাহ তায়ালা অপরিহার্য করে দিয়েছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শপথ ও মানত হাদিস নাম্বারঃ ৬১৭১

অক্টো. 072013
 

আহমাদ ইবন ইউনুস (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) দুটি হাদীস বর্ননা করেছেন। একটি নাবী (সাঃ) থেকে আর অন্যটি তার নিজ থেকে। তিনি বলেন, ঈমানদার ব্যাক্তি তার গুনাহ গুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা পাহাড়ের নীচে বসা আছে, আর সে আশংকা করছে যে- সম্ভবত পাহাড়টা তার উপর ধসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ ব্যাক্তি তার গুনাহ গুলোকে মাছির মত মনে করে, যা তার নাকে বসে চলে যায়। এ কথাটি আবূ শিহাব নিজ নাকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন। তারপর (নাবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন) নাবী (সাঃ) বলেছেন: মনে কর কোন এক ব্যাক্তি (সফরের অবস্থায় বিশ্রামের জন্য) কোন এক স্থানে অবতরণ করলো, সেখানে প্রানেরও ভয় ছিল। তার সাথে তার সফরের বাহন ছিল। যার উপর তার খাদ্য ও পানীয় ছিল, সে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো এবং জেগে দেখলো তার বাহন চলে গেছে। তখন সে গরমে ও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো। রাবী বলেনঃ আল্লাহ যা চাইলেন তা হল। তখন সে বললো যে, আমি যে জায়গায় ছিলাম সেখানেই ফিরে যাই। এরপর সে নিজ স্থানে ফিরে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। তারপর জেগে দেখলো যে তার বাহনটি তার পাশে দাড়িয়ে আছে। তখন সে ব্যাক্তি যে পরিমাণ খুশী হলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার তাওবা করার কারণে এর চাইতেও অনেক বেশী খুশী হন। আবূ আওয়ানা ও জারীর আমাশ (রহঃ) থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৮৬৯