নভে. 182013
 

আহমদ ইবনু উসমান ইবনু হাকীম (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (সাৎ) যখন উমরা করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি মক্কায়াসার অনুমতি চেয়ে মক্কার কাফিরদের নিকট দূত পাঠান। তারা শর্তরোপ করে যে, তিনি সেখানে তিন রাতের অধিক থাকবেন না এবং অস্দ্রকে কোষাবদ্ধ না করে প্রবেশ করবেন না। আর মক্কাবাসীদের কাউকে ইসলামের দাওয়াত দিবেন না। বারা (রাঃ) বলেন, এ সকল শর্ত আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) লেখা আরম্ভ করলেন এভং সিন্ধপত্রে লিখলেন, ‘‘এটা সে সন্ধিপত্র যার উপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ফায়সালা করেছেন। ’’ তখন কাফিররা বলে উঠল, ‘আমরা যদি এ কথা মেনে নিতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসূর, তবে তো আমরা আপনাকে বাঁধাঈ দিতাম না এবং আপনার হাতে বায়আত করে নিতাম। কাজেই এরূপ লিখুন, এটি সেই সন্ধিপত্র যার উপর মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ফায়সালা করেছেন। ’ তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর কসম! আমি মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ এবং আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল। বারা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লিখতেন না। তাই তিনি আলী (রাঃ)-কে বললেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (শব্দটি) মুছে ফেল। আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো তা মুছব না। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে আমাকে দেখিয়ে দাও। তখন আলী (রাঃ) তাঁকে সে স্থান দেখিয়ে দিলেন এভং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা নিজ হাতে তা মুছে ফেললেন। এরপর যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন এভং সেই দিনগুলি অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন তারা আলী (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, তোমার সঙ্গীকে বল, যেন তিনি চলে যান। আলী (রাঃ) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে তা বললেন। তিনি বললেন, টিক আছে। তারপর তিনি রওয়ানা হলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৬০

নভে. 182013
 

আহমদ ইবনু উসমান ইবনু হাকীম (রহঃ) বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন উমরা করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি মক্কায় আসার অনুমতি চেয়ে মক্কার কাফিরদের নিকট দূত পাঠান। তারা শর্তরোপ করে যে, তিনি সেখানে তিন রাতের অধিক থাকবেন না এবং অস্ত্রকে কোষাবদ্ধ না করে প্রবেশ করবেন না। আর মক্কাবাসীদের কাউকে ইসলামের দাওয়াত দিবেন না। বারা (রাঃ) বলেন, এ সকল শর্ত আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) লেখা আরম্ভ করলেন এবং সিন্ধপত্রে লিখলেন, ‘‘এটা সে সন্ধিপত্র যার উপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ফায়সালা করেছেন। ’’ তখন কাফিররা বলে উঠল, ‘আমরা যদি এ কথা মেনে নিতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসূর, তবে তো আমরা আপনাকে বাঁধাই দিতাম না এবং আপনার হাতে বায়আত করে নিতাম। কাজেই এরূপ লিখুন, এটি সেই সন্ধিপত্র যার উপর মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ ফায়সালা করেছেন। ’ তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহর কসম! আমি মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ এবং আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল। বারা (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লিখতেন না। তাই তিনি আলী (রাঃ)-কে বললেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (শব্দটি) মুছে ফেল। আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো তা মুছব না। তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে আমাকে দেখিয়ে দাও। তখন আলী (রাঃ) তাঁকে সে স্থান দেখিয়ে দিলেন এভং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা নিজ হাতে তা মুছে ফেললেন। এরপর যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন এভং সেই দিনগুলি অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন তারা আলী (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, তোমার সঙ্গীকে বল, যেন তিনি চলে যান। আলী (রাঃ) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে তা বললেন। তিনি বললেন, টিক আছে। তারপর তিনি রওয়ানা হলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৫৯

নভে. 182013
 

ইয়াহইয়া ইবনু বুকাইর (রহঃ) আবূ সুফিয়ান ইবনু হারব ইবনু উমায়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, (রোমান সম্রাট) হিরাকল (হিরাক্লিয়াস) তাঁকে ডেকে পাঠালেন, কুরাইশদের সেই কাফেলাসহ যারা সিরিয়ায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। তা সে সময় যখন কুরাইশ কাফিরদের পরীক্ষায় আবূ সুফিয়ানের সাথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্ধি চুক্তি করেছিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ জিহাদ হাদিস নাম্বারঃ ২৯৫০

অক্টো. 212013
 

ইউসুফ ইবন মুসা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী (সাঃ) -এর যামানায় কোন চোরের হাত কাটা হত না। যদি সে একটি চামড়ার ঢাল বা সাধারণ ঢাল যার প্রতিটির মূল্যমান এর চেয়ে কমে কিছু চুরি করত। উকি (রহঃ) ও ইবন ইদ্রিস (রহঃ) উরওয়া (রহঃ) থেকে মুরসাল সুত্রে বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শরীয়তের শাস্তি হাদিস নাম্বারঃ ৬৩৩৮

অক্টো. 122013
 

বিশর ইব্‌ন খালিদ (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে, সে মুনাফিক অথবা যার মধ্যে, এ চারটি স্বভাবের কোন একটা থাকে, তার মধ্যেও মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে, যে পর্যন্ত না সে তা পরিত্যাগ করে। (১) সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, (২) যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে (৩) যখন চুক্তি করে তা লংঘন করে (৪) যখন ঝগড়া করে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ যুলম ও কিসাস হাদিস নাম্বারঃ ২২৯৭

অক্টো. 112013
 

আবদুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমাইয়া ইব্‌ন খালফের সঙ্গে এ মর্মে একটা চুক্তিনামা করলাম যে, সে মক্কায় আমার মাল-সামান হিফাযত করবে আর আমি মদীনায় তার মাল-সামান হিফাযত করব। যখন আমি চুক্তিনামায় আমার নামের শেষে ‘রাহমান’ শব্দটি উল্লেখ করলাম তখন সে বলল, আমি রাহমানকে চিনি না। জাহেলী যুগে তোমার যে নাম ছিল সেটা লিখ। তখন আমি তাতে আবদু আম্‌র লিখে দিলাম। বদর যুদ্ধের দিন যখন লোকজন ঘুমিয়ে পড়ল তখন আমি উমাইয়াকে রক্ষা করার জন্য একটি পাহাড়ের দিকে গেলাম। বিলাল (রাঃ) তাঁকে দেখে ফেললেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে আনসারীদের এক মজলিশে বললেন, এই যে উমাইয়া ইব্‌ন খাল্‌ফ। যদি উমাইয়া বেঁচে যায়, তবে আমার বেঁচে থাকায় লাভ নেই। তখন আনসারীদের এক দল তার সাথে আমাদের পিছে পিছে ছুটল। যখন আমার আশংকা হল যে, তারা আমাদের নিকট এসে পড়বে, তখন আমি উমাইয়ার পুত্রকে তাদের জন্য পিছনে রেখে এলাম, যাতে তাদের দৃষ্টি তার উপর পড়ে। তারা তাকে হত্যা করল। তারপরও তারা ক্ষান্ত হল না, তারা আমাদের পিছু ধাওয়া করল। উমাইয়া ছিল স্থুলদেহী। যখন আনসারীরা আমাদের কাছে পৌঁছে গেল, তখন আমি তাকে বললাম, বসে পড়। সে বসে পড়ল। আমি তাকে বাঁচানোর জন্য আমার দেহখানা তাকে আড়াল করে রাখলাম। কিন্তু তারা আমার নীচে দিয়ে তরবারি ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলল। তাদের একজনের তরবারির আঘাত আমার পায়েও লাগল। রাবী বলেন, ইব্‌ন আউফ (রাঃ) তাঁর পায়ের সে আঘাত আমাদেরকে দেখাতেন। আবূ আবদুল্লাহ্‌ (রহঃ) বলেন, ইউসুফ (রহঃ) সালিহ্‌ (রহঃ) থেকে এবং ইবরাহীম (রহঃ) তার পিতা থেকে রিওয়ায়াত শুনেছেন।

সহীহ বুখার অধ্যায়ঃ ওয়াকালাত হাদিস নাম্বারঃ ২১৫৪

অক্টো. 112013
 

আবদুল আযীয ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রহঃ) আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমাইয়া ইব্‌ন খালফের সঙ্গে এ মর্মে একটা চুক্তিনামা করলাম যে, সে মক্কায় আমার মাল-সামান হিফাযত করবে আর আমি মদীনায় তার মাল-সামান হিফাযত করব। যখন আমি চুক্তিনামায় আমার নামের শেষে রাহমান’ শব্দটি উল্লেখ করলাম তখন সে বলল, আমি রাহমানকে চিনি না। জাহেলী যুগে তোমার যে নাম ছিল সেটা লিখ। তখন আমি তাতে আবদু আম্‌র লিখে দিলাম।

বদর যুদ্ধের দিন যখন লোকজন ঘুমিয়ে পড়ল তখন আমি উমাইয়াকে রক্ষা করার জন্য একটি পাহাড়ের দিকে গেলাম। বিলাল (রাঃ) তাঁকে দেখে ফেললেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে আনসারীদের এক মজলিশে বললেন, এই যে উমাইয়া ইব্‌ন খাল্‌ফ। যদি উমাইয়া বেঁচে যায়, তবে আমার বেঁচে থাকায় লাভ নেই। তখন আনসারীদের এক দল তার সাথে আমাদের পিছে পিছে ছুটল। যখন আমার আশংকা হল যে, তারা আমাদের নিকট এসে পড়বে, তখন আমি উমাইয়ার পুত্রকে তাদের জন্য পিছনে রেখে এলাম, যাতে তাদের দৃষ্টি তার উপর পড়ে। তারা তাকে হত্যা করল। তারপরও তারা ক্ষান্ত হল না, তারা আমাদের পিছু ধাওয়া করল। উমাইয়া ছিল স্থুলদেহী। যখন আনসারীরা আমাদের কাছে পৌঁছে গেল, তখন আমি তাকে বললাম, বসে পড়। সে বসে পড়ল। আমি তাকে বাঁচানোর জন্য আমার দেহখানা তাকে আড়াল করে রাখলাম। কিন্তু তারা আমার নীচে দিয়ে তরবারি ঢুকিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলল। তাদের একজনের তরবারির আঘাত আমার পায়েও লাগল। রাবী বলেন, ইব্‌ন আউফ (রাঃ) তাঁর পায়ের সে আঘাত আমাদেরকে দেখাতেন। আবূ আবদুল্লাহ্‌ (রহঃ) বলেন, ইউসুফ (রহঃ) সালিহ্‌ (রহঃ) থেকে এবং ইবরাহীম (রহঃ) তার পিতা থেকে রিওয়ায়াত শুনেছেন।

সহীহ বুখার অধ্যায়ঃ ওয়াকালাত হাদিস নাম্বারঃ ২১৫৪

অক্টো. 112013
 

মুহাম্মদ ইব্‌ন সাব্বাহ (রহঃ) আসিম (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্‌ন মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার নিকট কি এ হাদীস পৌঁছেছে যে নবী (সাঃ) বলেছেন, ইসলামে হিলফ (জাহেলী যুগের সহযোগিতা চুক্তি) নেই? তিনি বলেন, নবী (সাঃ) আমার ঘরে কুরায়শ এবং আনসারদের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন।

সহীহ বুখার অধ্যায়ঃ যামিন হওয়া হাদিস নাম্বারঃ ২১৪৭