অক্টো. 032013
 

মুসাদ্দাদ (রহঃ)—- আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) (একদিন) ফজরের সালাত (নামায) অন্ধকার থাকতে আদায় করলেন। এরপর সাওয়ারীতে আরোহণ করলেন এবং বললেনঃ আল্লাহু আকবর, খায়বার ধ্বংস হোক! যখন আমরা কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃত দের প্রভাত হয় কতই না মন্দ! তখন তারা (ইয়াহূদীরা) বের হয়ে গলির মধ্যে দৌড়াতে লাগল এবং বলতে লাগল, মুহাম্মাদ ও তাঁর খামীস এসে গেছে। বর্ণনাকারী বলেন, খামীস হচ্ছে , সৈন্য–সামন্ত। পরে রাসূল (সাঃ) তাদের উপর জয়লাভ করেন। তিনি যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং নারী-শিশুদের বন্দী করলেন। তখন সাফিয়্যা প্রথমত দিহইয়া কালবীর এবং পরে রাসূল (সাঃ) -এর অংশে পড়ল। তারপর তিনি তাঁকে বিয়ে করেন এবং তাঁর মুক্তিদানকে মাহররূপে গণ্য করেন। আবদুল আযীয (রহঃ) সাবিত (রাঃ)-এর কাছে জানতে চাইলেন, তাঁকে কি মাহর দেওয়া হয়েছিল, তা কি আপনি রাসূল (সাঃ) -কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন? তিনি বললেন, তাঁর মুক্তিই তাঁর মাহর, আর মুচকি হাসলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শত্রুভীতি অবস্থায় সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৯০০

অক্টো. 032013
 

আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)—- ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) আহযাব যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পথে আমাদেরকে বললেন, বনূ কুরাইযা এলাকায় পৌছার আগে কেউ যেন আসরের সালাত (নামায) আদায় না করে। কিন্তু অনেকের পথিমধ্যেই আসরের সময় হয়ে গেল, তখন তাদের কেউ কেউ বললেন, আমরা সালাত (নামায) আদায় করে নেব, আমাদের নিষেধ করার এ উদ্দেশ্য ছিল না (বরং উদ্দেশ্য ছিল তাড়াতাড়ি যাওয়া)। নাবী (সাঃ) -এর নিকট এ কথা উল্লেখ করা হলে, তিনি তাঁদের কারোর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন নি।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শত্রুভীতি অবস্থায় সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৮৯৯

অক্টো. 032013
 

ইয়াহইয়া (ইবন জাফর) (রহঃ)—- জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দক যুদ্ধের দিন উমর (রাঃ) কুরাইশ গোত্রের কাফিরদের মন্দ বলতে বলতে আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূল (সাঃ) ! সূর্য প্রায় ডুবে যাচ্ছে, অথচ আসরের সালাত (নামায) আদায় করতে পারিনি। তখন নাবী (সাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমিও তা এখনও আদায় করতে পারিনি। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি মদীনার বুতহান উপত্যকায় নেমে উযূ করলেন এবং সূর্য ডুবে যাওয়ার পর আসরের সালাত (নামায) আদায় করলেন, এরপর মাগরিবের সালাত (নামায) আদায় করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শত্রুভীতি অবস্থায় সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৮৯৮

অক্টো. 032013
 

হাইওয়া ইবন শুরুাইহ (রহঃ)—- ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) সালাত (নামায) দাঁড়ালেন এবং সাহাবীগণ তাঁর পিছনে (ইক্তিদা করে) দাঁড়ালেন। তিনি তাকবীর বললেন, তাঁরাও তাকবীর বললেন, তিনি রুকু করলেন, তারাও তাঁর সঙ্গে রুকু করলেন। এরপর তিনি সিজদা করলেন এবং তারাও তাঁর সঙ্গে সিজদা করলেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় রাকা’আতের জন্য দাঁড়ালেন , তখন যারা তাঁর সঙ্গে সিজদা করছিলেন তারা উঠে দাঁড়ালেন এবং তাদের ভাইদের পাহারা দিতে লাগলেন। তখন অপর দলটি এসে তাঁর সঙ্গে রুকু করলেন। এভাবে সকলেই সালাত (নামায) অংশগ্রহণ করলেন। অথচ একদল অপর দলকে পাহারাও দিলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শত্রুভীতি অবস্থায় সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৮৯৭

অক্টো. 032013
 

সায়ীদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ)—-নাফি (রহঃ) সূত্রে ইবন উমর (রাঃ) থেকে মুজাহিদ (রহঃ) –এর বর্ণনার মত উল্লেখ করেছেন যে, সৈন্যরা যখন পরস্পর (শত্রুমিত্র) মিলিত হয়ে যায়, তখন দাঁড়িয়ে সালাত (নামায) আদায় করবে। ইবন উমর (রাঃ) নাবী (সাঃ) থেকে আরো বলেছেন যে, যদি সৈন্যদের অবস্থা এর চেয়ে গুরুতর হয়ে যায়, তা হলে দাঁড়ানো অবস্থায় এবং আরোহী অবস্থায় সালাত (নামায) আদায় করবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শত্রুভীতি অবস্থায় সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৮৯৬

অক্টো. 032013
 

আবূ ইয়ামান (রহঃ)— শু’আইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যুহরী (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নাবী (সাঃ) কি সালাত (নামায) আদায় করতেন অর্থাৎ খাওফের সালাত (নামায)? তিনি বললেন, আমাকে সালিম(রহঃ) জানিয়েছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূল (সাঃ) -এর সঙ্গে নাজদ এলাকায় যুদ্ধ করেছিলাম। সেখানে আমরা শত্রুর মুখোমুখী কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম। তারপর রাসূল (সাঃ) আমাদের নিয়ে সালাত (নামায) আদায় করলেন। একদল তাঁর সঙ্গে সালাত (নামায) দাঁড়ালেন এবং অন্য একটি দল শত্রুর প্রতি মুখোমুখী অবস্থান করলেন। রাসূল (সাঃ) তাঁর সঙ্গে যারা ছিলেন তাঁদের নিয়ে রুকু ও দু’টি সিজদা করলেন। এরপর এ দলটি যারা সালাত (নামায) আদায় করেনি, তাঁদের স্থানে চলে গেলেন এবং তাঁরা রাসূল (সাঃ) -এর পিছনে এগিয়ে এলেন, তখন রাসূল (সাঃ) তাঁদের সঙ্গে এক রুকু ও দু’টি সিজদা করলেন এবং পরে সালাম ফিরালেন। এরপর তাঁদের প্রত্যেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজে নিজে একটি রুকু ও দু’টি সিজদা {সহ সালাত (নামায)} শেষ করলেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ শত্রুভীতি অবস্থায় সালাত হাদিস নাম্বারঃ ৮৯৫