নভে. 082013
 

মূসা ইবন ইসমাঈল (রহঃ) আব্দুল্লাহ ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসতিসকার (বৃষ্টির) সালাত (নামায)-এর উদ্দেশ্যে এ ঈদগাহে গমন করলেন এবং বৃষ্টির জন্য দুঁআ করলেন। তারপর কিবলামুখী হয়ে নিজের চাদরখানা উলটিয়ে গায়ে দিলেন।

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৫৯০৩

নভে. 052013
 

মুহাম্মাদ ইবন মাহবুব ও খালীফা (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি নাবী (সাঃ) -এর নিকট জুমুআর দিন মদিনায় এল, যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন। সে বললোঃ বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে আপনি বৃষ্টিপাতের জন্য আপনার রবের নিকট দুআ করুন। তখন আকাশের দিকে তাকালেন তখন আমরা আকাশে কোন মেঘ দেখছিলাম না। তখন তিনি বৃষ্টিপাতের জন্য দু আ করলেন। এ সময় মেঘ এসে মিলিত হতে লাগলো। তারপর এমন বৃষ্টিপাত হল যে, মদিনার খাল- নালাগুলো প্রবাহিত হতে লাগল এবং ক্রমাগত পরবর্তী জুমূআ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকল, মাঝে আর বিরতি হয়নি। পরবর্তী জুমুআয় যখন নাবী (সাঃ) খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন ঐ ব্যাক্তি অথবা অন্য এক ব্যাক্তি দাড়িয়ে বলল, আমরা তো ড়ুবে গেছি। আপনি আপনার রবের কাছে দু’আ করুন, যেন তিনি আমাদের উপর থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন। তখন তিনি হেসে দিলেন এবং দুবার অথবা তিন বার দুআ করলেন। ইয়া আল্লাহ! (বৃষ্টি) আশে পাশে নিয়ে যান, আমাদের উপর নয়। তখন মেঘপূঞ্জ দূর হয়ে গিয়ে মদিনার আশে-পাশে বর্ষণ করতে লাগল। আমাদের উপর আর বর্ষিত হলো না। এতে আল্লাহ তাঁর নাবী (সাঃ) -এর মুজিযা ও তার দুআ কবুল হওয়ার নিদর্শন দেখান।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ আচার ব্যবহার হাদিস নাম্বারঃ ৫৬৬৩

অক্টো. 282013
 

মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ গায়বের কুঞ্জি হল পাঁচটি, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেনা। ১ কেউ জানেনা যে, আগামী কাল কি ঘটবে। ২ কেউ জানেনা যে মায়ের গর্ভে কী আছে। ৩ কেউ জানেনা যে, আগামীকাল সে কী অর্জন করবে। ৪ কেউ জানেনা যে, সে কোথায় মারা যাবে। ৫ কেউ জানেনা যে, কখন বৃষ্টি হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বৃষ্টির জন্য দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৯৮২

অক্টো. 282013
 

ইসমাইল (রহঃ) যায়িদ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) রাতে বৃষ্টিপাতের পড়ে আমাদের নিয়ে হুদায়বিয়ায় ফজরের সালাত (নামায) আদায় করেন। তারপর নাবী (সাঃ) সালাম ফিরিয়ে লোকদের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমরা কি জানো, তোমাদের রব কি বলেছেন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল (সাঃ)ই ভালো জানেন। তিনি তখন বললেন, (আল্লাহ্‌ বলেছেন) আমার কিছু সংখ্যক বান্দা অবিশ্বাসী হয়ে গেল। যে ব্যাক্তি বলে, আল্লাহ্‌র ফযল ও রহমতে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, সে আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে ব্যাক্তি বলে, অমুক অমুক নক্ষত্র উদয়ের ফলে (বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে) সে ব্যাক্তি আমার প্রতি অবিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বৃষ্টির জন্য দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৯৮১

অক্টো. 282013
 

মুহাম্মদ ইবন মুসান্না (রহঃ) ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেন, হে আল্লাহ! আমাদের শামে (সিরিয়া) ও ইয়ামনে বরকত দান করুন। লোকেরা বলল, আমাদের নজদেও। নাবী (সাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের শামদেশে ও ইয়ামনে বরকত দান করুন। লোকেরা তখন বলল, আমাদের নজদেও। রাবী বলেন, নাবী (সাঃ) তখন বললেনঃ সেখানে তো রয়েছে ভুমিকম্প ও ফিতনা ফাসাদ আর শয়তানের শিং সেখান থেকেই বের হবে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বৃষ্টির জন্য দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৯৮০

অক্টো. 282013
 

আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ কিয়ামত কায়েম হবে না, যে পর্যন্ত না ইল্‌ম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অধিক পরিমাণে ভুমিকম্প হবে, সময় সংকুচিত হয়ে আসবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। (হারজ অর্থ খুনখারাবী) তোমাদের সম্পদ এত বৃদ্ধি পাবে যে, উপচে পড়বে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বৃষ্টির জন্য দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৯৭৯

অক্টো. 282013
 

মুসলিম ইবন ইব্রাহীম (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত নাবী (সাঃ) বলেন, আমাকে পূবালী হাওয়া দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। আর আদ জাতিকে পশ্চিমা বায়ু দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বৃষ্টির জন্য দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৯৭৮

অক্টো. 282013
 

সাঈদ ইবন আবূ মারয়াম (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন প্রচণ্ড বেগে বায়ু প্রবাহিত হতো তখন নাবী (সাঃ) এর চেহারায় তার প্রতিক্রিয়া দেখা দিত। (অর্থাৎ চেহারায় আতঙ্কের চিহ্ন ফুটে উঠত)।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বৃষ্টির জন্য দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৯৭৭

অক্টো. 282013
 

মুহাম্মদ ইবন মুকাতিল (রহঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) এর যুগে একবার লোকেরা অনাবৃষ্টিতে পতিত হল। সে সময় রাসূল (সাঃ) একবার মিম্বারে দাঁড়িয়ে জুমু’আর খুৎবা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুঈন দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূল (সাঃ)! (অনাবৃষ্টিতে) ধন সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজন ক্ষুদার্থ। আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, তিনি যেন আমাদের বৃষ্টি ডান করেন। তখন রাসূল (সাঃ) (দু’আর জন্য) তাঁর দু’হাত তুললেন। সে সময় আকাশে একখণ্ড মেঘও ছিলনা। বর্ণনাকারী বলেন, হঠাত পাহাড়ের মত বহু মেঘ একত্রিত হল। রাসূল (সাঃ) মিম্বার থেকে অবতরনের পূর্বে বৃষ্টি শুরু হল। এমনকি আমি দেখলাম, নাবী (সাঃ) এর দাঁড়ি মুবারক বেয়ে বৃষ্টির পানি ঝরছে। বর্ণনাকারী আরো বলেন সেদিন, তার পরের দিন, তার পরবর্তী দিন এবং পরবর্তী জুমু’আ পর্যন্ত বৃষ্টি হল। তারপর সে বেদুঈন, বা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূল (সাঃ)! (অতি বৃষ্টিতে) ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেল, সম্পদ ডুবে গেল, আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দোয়া করুন। রাসূল (সাঃ) তখন তাঁর দু’হাত তুলে বললেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। এরপর তিনি হাত দিয়ে আকাশের যে দিকে ইঙ্গিত করলেন, সে দিকের মেঘ কেটে গেল। এতে সমগ্র মদিনার আকাশ মেঘ মুক্ত চালের মত হয়ে গেল এবং কানাত উপত্যকায় একমাস ধরে বৃষ্টি প্রবাহিত হতে থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন যে অঞ্চল থেকে লোক আসত, কেবল এ অতিবৃষ্টির কথাই বলাবলি করত।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বৃষ্টির জন্য দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৯৭৬

অক্টো. 282013
 

মুহাম্মদ ইবন মুকাতিল (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বৃষ্টি দেখলে বলতেন, হে আল্লাহ! মুষলধারায় কল্যাণকর বৃষ্টি দাও। কাসিম ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) উবায়দুল্লাহ সূত্রে তাঁর বর্ণনায় আবদুল্লাহ (রহঃ) এর অনুসরণ করেছেন এবং উকাইল ও আওযায়ী (রহঃ) নাফি (রহঃ) থেকে তা বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারি অধ্যায়ঃ বৃষ্টির জন্য দু’আ হাদিস নাম্বারঃ ৯৭৫